
উল্টো দূরবিন: পর্ব ১৬
‘তবে গঙ্গার জল সরবরাহের ভূগর্ভের পাইপ-লাইনের অস্তিত্ব এখনও দেখা যায়। মহাজতি সদনের পিছনের গলিগুলোতে, কারবালা ট্যাঙ্ক লেনে, মানিকতলা অঞ্চলে চোখে পড়েছে।’

‘তবে গঙ্গার জল সরবরাহের ভূগর্ভের পাইপ-লাইনের অস্তিত্ব এখনও দেখা যায়। মহাজতি সদনের পিছনের গলিগুলোতে, কারবালা ট্যাঙ্ক লেনে, মানিকতলা অঞ্চলে চোখে পড়েছে।’

‘বউদি বাপের বাড়ি গেল। মহিলাদের মুখে পোয়াতি কথাটা শুনেছিলাম শৈশব থেকেই। মানেটাও বুঝতাম। পুরুষ গুরুজনরা বলত গর্ভবতী, দাদু বলতেন অন্তরাবর্তী। কিছুদিন পর বউদি ফিরল কোলে বাচ্চা নিয়ে। ছেলে হয়েছিল। পিসেমশাই নাম রাখলেন সুজিত।’

‘চিন্টুও এমন একটা কিছু খুঁজছিল— যাতে সে সত্যিকার হিরো হবে। এমনিতে যেখানে খেলা সংক্রান্ত যা গোলমাল হত, আমরা মার-ই খেতাম। কোথাও তেমনভাবে মার দিয়ে আসতে পারতাম না। কেউ আরও মারতে পারে ভেবে শরণাপন্ন হতাম বাঘাদার। পরে আমাদের অস্ত্র এল, টুকরে। আমাদের আর ভয় নেই।’

‘সে-রাতে, যতদূর মনে পড়ছে, উস্তাদ আশিস খানের সরোদের সঙ্গে বাজাবেন উস্তাদ জাকির হুসেন। জাকিরজি-কে ততদিনে বেশ কিছু আসরে সামনে ব’সে শোনার সৌভাগ্য হয়েছে, আশিস খানের বাজনা তখনও শুনিনি। এই দু’জন জোট বাঁধলে ধুন্ধুমার কাণ্ড হবেই নির্ঘাত! তাই ছাড়ার কোনও প্রশ্নই নেই।’

‘কুকুরটা তখন ঠিক এ-দিকটা ছিল না, ও-দিকে চড়তে গিয়েছিল। বলতে-বলতে সবাই হইহই করে উঠল— আসছে, আসছে। কুকুরটা টিউবওয়েলের সামনে এবার বেচাকাকার মুখোমুখি। বেচাকাকা ঘাবড়াল না। চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকল। কুকুরটা এগিয়ে আসছে— এবার বেচাকাকাও এগিয়ে যাচ্ছে।’

‘যে-অঙ্কগুলি আমি পারি না, ভাল ছেলেদের কাছে সে-সব জলভাত। জ্যামিতির যে-এক্সট্রা গুলো স্যর করাচ্ছেন, সে-সব আমার আয়ত্তের বাইরে। আমি লজ্জা পেতে লাগলাম। আমি ব্যাকবেঞ্চার হতে-হতে, লাস্টবেঞ্চার হয়ে গেলাম।’

আমাদের বাংলা নতুন বছরের নড়াচড়া শুনি আগে থেকেই, যখন দেখি মোটা শিব, পটকা শিব, ভোটকা শিব, খেঁচা শিবরা সেজেগুজে বেরিয়ে পড়েছে। সবাই যাবে নকুলেশ্বর তলায়। বাবার কাছে গাজন হবে। কালীঘাটে সারা বছর কালীর চেলাদের বড় বাড়ন্ত। এই ক’টাদিন গেঁজুড়ে নন্দী-ভৃঙ্গিরা দখল করে।

‘মাল্টিপ্লেক্স এল, সিঙ্গেল থিয়েটার আস্তে-আস্তে কমতে আরম্ভ করল। মাল্টিপ্লেক্স-সংস্কৃতি আমেরিকা-তেই প্রথম শুরু হয়েছিল, কারণ ওরা দেখল লোকজন সিনেমাহল-বিমুখ হয়ে পড়ছে ক্রমাগত। রেস্টুরেন্ট-জামাকাপড়— এসবের মধ্যে সিনেমাহল নিয়ে এলে নাকি, লোকের দেখার সম্ভবনা বেড়ে যায়।’

‘বড়পিসেমশাই ঘরের ছাগলদের নিয়ে যেতেন হিসি করাতে। বাচ্চাদের হিসি করানোর সময়ে মায়েরা যেমন জিভে শিস্ধ্বনির মতো এক ধরনের আওয়াজ করে, যে-আওয়াজটা অক্ষর সাজিয়ে বলা যাবে না, তেমন আওয়াজই করতেন এবং আশ্চর্য— ছাগলেরা হিসিও করত।’

“কালীঘাট বাজারের সামনের রাস্তার ওপর হত গড়মিল সংঘের পুজো। আমাদের নিজেদের মধ্যে তেমন গড়মিল ছিল না। সংঘের নাম হয়েছিল ‘গড়মিল’ সিনেমা থেকে। পরে সেই পুজো ফরওয়ার্ড ক্লাবের দিকে চলে গিয়েছিল। তখন সেখানে ছিল কালীঘাট ফাঁড়ি। এখন সেটাই থানা। বেশ বড় কালীপুজো।”

আমার এক বন্ধুর বাড়ি ছিল গঙ্গার ঘাট-লাগোয়া পাড়ায়। একতলা বাড়ি। ওদের চৌকির পায়া ছিল লম্বা লম্বা। বছরে বেশ কয়েকবার ভরা কোটালের জলের থেকে বাঁচতে ওদের ঘরসংসার উঠত চৌকির ওপর।

‘ওঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে, আমি খুব তোতলাতাম। হ্যাঁ, বলা হয়নি, আমি খুব ছোটবেলায় তোতলা ছিলাম। এতে আমার একটা সুবিধা ছিল, স্কুলে স্যারেরা পড়া ধরতেন না। কলেজে ঢুকে একটু এসএফআই করতাম, বক্তৃতাও দিতাম, তখনই তোতলামিটা চলে যায়।’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.