
দেখা-না দেখার জগৎ
‘স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলা তথা সমগ্র ভারতে, গণেশ পাইন একজন অবিস্মরণীয় শিল্পী। ছয়ের দশক পরবর্তী চিত্রকলায়, তাঁর প্রধান অবদান এই যে— ছবিতে তিনি ঐতিহ্য অন্বিত একদেশীয় আত্মপরিচয় সন্ধান করেছিলেন।’

‘স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলা তথা সমগ্র ভারতে, গণেশ পাইন একজন অবিস্মরণীয় শিল্পী। ছয়ের দশক পরবর্তী চিত্রকলায়, তাঁর প্রধান অবদান এই যে— ছবিতে তিনি ঐতিহ্য অন্বিত একদেশীয় আত্মপরিচয় সন্ধান করেছিলেন।’

ভাঙন-প্রবণতা ও প্রতিবাদী চেতনাই হয়ে উঠেছে তাঁর সৃজনের উৎস। সেই উদ্দামতা থেকেই তিনি বারবার ভেঙেছেন। বিংশ শতকের প্রথম তিনটি দশকে আধুনিক ও আধুনিকতাবাদী পাশ্চাত্য শিল্পের আঙ্গিকগত বিপ্লবে পিকাসোর যে অবদান, এর সমান্তরাল কোনও কিছু ইউরোপে বা সারা বিশ্বে ঘটেছে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।

‘‘গ্রন্থের শিরোনাম ‘পটে লিখা’, তার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যঞ্জনাময় সাব-টাইটেল— ‘রূপ, অরূপ আর স্মৃতির কথন’, লেখক মনসিজ মজুমদার। গ্রন্থনাম আর গ্রন্থকার একত্রে এই বইয়ের অন্দরমহল জুড়ে মুহূর্তে বিপুল আগ্রহ তৈরি করে দিল। সে বইখানা নিয়েই আজ দু’-চার কথা, না একে গম্ভীর শব্দবন্ধে গ্রন্থসমালোচনা কখনওই বলা চলে না। এ যেন চায়ের পেয়ালা হাতে শিল্পিত অবসর যাপন।’’

‘‘এই প্রদর্শনীতে পুরাণ ও বিভিন্ন দেবদেবীর ছবিসমূহ যেমন এসেছে, তেমনই এসেছে লোকসংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদানও। টেম্পেরা মাধম্যে অঙ্কিত ‘কালীনাচ’ শীর্ষক ছবিটির এঁর অন্যতম উদাহরণ; এই ছবিতে বিভিন্ন জনমানসের সমাগমে বহুরূপী সেজে কালীকথার প্রদর্শন হচ্ছে। এছাড়াও প্রদর্শিত হয়েছে ‘বর বরণে’ শীর্ষক ছবি।’’

‘‘প্রদর্শনীর নাম ‘ক্রাফট অফ কমিক্স’। ভারত জুড়ে, সমসাময়িক কমিক্স শিল্পীরা তাঁদের সৃষ্টি ও ভাবনা তুলে ধরার জন্য কী কী পদ্ধতি অবলম্বন করছেন বা কীভাবে নিজেদের দর্শকের কাছে পৌঁছতে পারছেন, সেটাই দেখার চেষ্টা। অর্থাৎ, এই প্রদর্শনীতে দর্শকরা শুধু বিভিন্ন সমসাময়িক শিল্পীর কাজ দেখতে পারবেন, তা-ই নয়— তাঁদের সৃজনশীল প্রক্রিয়াটাও নিজেদের মতো করে বুঝে নিতে পারবেন।’’

‘ক্ষুধার আর একটি রেখাচিত্র তিনি এঁকেছিলেন ৬.৪.১৯৪৬ তারিখে। মাঝখানে শীর্ণ নদী। ওপাশে বনে পিকনিক করছে ধনী ও সম্ভ্রান্ত ছেলেমেয়েরা। এপারে কয়েকটি ক্ষুধার্ত শিশু করুণ শরীরে তাকিয়ে আছে সেদিকে। এই হলেন নন্দলাল, যিনি আদর্শ ও বাস্তবকে মিলিয়েছিলেন তাঁর শিল্পযাত্রায়।’

‘কলকাতার আরেকটা ব্যাপার হল, ওখানে সবার সাথে খুব ভালোভাবে মেশা যায়। তাই আমি ওখানে যাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই ক্যালকাটান হয়ে গেছিলাম। কফি হাউসের, দেশপ্রিয় পার্কের, সুতৃপ্তির কথা এখনও মনে পড়ে। দশটা বছর ছিলাম, প্রায় প্রতিদিনই এসব জায়গায় যেতাম। ওখানকার মূল স্রোতে মিশে গেছিলাম।’ সাক্ষাৎকার। মনু পারেখ

‘ছবিটি উল্লম্বভাবে তিনটি স্তরকে স্পর্শ করে আছে। প্রথমটি মাটি বা জমি। তারই সম্প্রসারণে জনতা এবং দেবীমূর্তি। অন্ধকার থেকে আলোর বৃত্ত এবং অবয়বের স্পষ্টতা। তারপর, আধো আলো-আঁধারিতে দ্বিতল-ত্রিতল বাড়ি এবং বারান্দায় দাঁড়ানো নারীমূর্তি। তারপর, তৃতীয় স্তরে চাঁদ-সহ আকাশ।’

‘জামকুড়ি মল্ল রাজবাড়ির মতোই বিষ্ণুপুর রাজপরিবার ও কুচিয়াখোল রাজপরিবারেও দুর্গাপুজো নবমীর মধ্যরাতে সবার অগোচরে এই মহামারী পটপূজা হয়। এই পুজো ঘিরে রয়েছে নানা ধরনের লৌকিক বিশ্বাস। যেমন সকলেই মনে করেন, জনসমক্ষে এই পুজো দেখলে মৃত্যু নেমে আসে।’

‘যে যাই বলুক, এই কালোর দোকান যেন শান্তিনিকেতনের কফি হাউস। কিংবা হয়তো তার কিছু বেশিই। কত যে বিশিষ্ট মানুষজন এখানে এসেছেন, এই আড্ডায় মজে চা-শিঙাড়া গ্রহণ করেননি, এমন মানুষের হদিশ পাওয়া মুশকিল। এমনকী, আশ্রমের উৎসব-অনুষ্ঠান উপলক্ষে খাবার তৈরিতে কালোর দোকানের নামই মনে আসত সকলের আগে।’

‘অবনীন্দ্রনাথ তাঁকে একঘেয়েমির কথা বলেন; বলেন পশু-পাখি আঁকার কথা। সুনয়নী আঁকলেন ঘোড়া। এমন ঘোড়া, যা দেখে আমিনা আহমেদ করের মনে হয় মার্ক শাগালের কথা। ওঁর কাজ দেখে তাঁর মনে হয়, প্রাচ্যের শিল্পী Chien Hsuan-এর ‘Boneless’ শৈলীর কথা।’

‘জয়নুল আবেদিন নেই, তাঁর আঁকা চিত্রমালা রয়েছে। ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে। রয়েছে অনাহার, বিপর্যয়, শ্রমের শোষণ, ক্রমে ধ্বংস হয়ে চলা নৈসর্গিক রূপ আর, সামাজিক দুঃসময়।’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.