
শুধু কবিতার জন্য: পর্ব ৫৩
‘পরিক্রমা শেষ হলে মন ফেরে বিছানার কাছে/ শরীর তখন ঘুমে অচেতন। শিয়রে ঘড়িটি/ সাক্ষী থাকে ভ্রমণের, কাঁটা জ্বলে মুহূর্তের আঁচে…/ প্রতিটি মৃত্যুই জেনো নতুন ঘুমের জন্মতিথি।’

‘পরিক্রমা শেষ হলে মন ফেরে বিছানার কাছে/ শরীর তখন ঘুমে অচেতন। শিয়রে ঘড়িটি/ সাক্ষী থাকে ভ্রমণের, কাঁটা জ্বলে মুহূর্তের আঁচে…/ প্রতিটি মৃত্যুই জেনো নতুন ঘুমের জন্মতিথি।’

‘সে-রাতে, যতদূর মনে পড়ছে, উস্তাদ আশিস খানের সরোদের সঙ্গে বাজাবেন উস্তাদ জাকির হুসেন। জাকিরজি-কে ততদিনে বেশ কিছু আসরে সামনে ব’সে শোনার সৌভাগ্য হয়েছে, আশিস খানের বাজনা তখনও শুনিনি। এই দু’জন জোট বাঁধলে ধুন্ধুমার কাণ্ড হবেই নির্ঘাত! তাই ছাড়ার কোনও প্রশ্নই নেই।’

‘ভাস্কর স্যার ও-পথে কখনও যাননি। তাঁর মোক্ষম অস্ত্র ছিল একটিই। শ্লেষ। পড়া না পারলে, ভুলভাল উত্তর দিলে, বা হোমটাস্ক না করে এলে বকুনি বা মারধর, কোনওটাই তাঁর ধরন ছিল না। বরং এমন একখানি বাক্যবাণ ছুড়ে দিতেন, শুনে মনে হত এর চেয়ে নিল ডাউন করিয়ে রাখলে ভাল হত।’

‘যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে পাখিগুলি বেঁচে ফিরে আসে।/ বইয়ের দোকানগুলি ধূলিসাৎ, চূর্ণ লাইব্রেরি…/ রুটির পুরনো গন্ধ লেগে আছে দেওয়ালে ও ঘাসে/ কত ধ্বংস পার হয়ে এ-শহর ফের পাখিদেরই।’

‘ছায়া লেগে কেটে যায় তোমাদের আলোচনাগুলি।/ পাড়ার বকেয়া সন্ধে মিটিয়ে দিয়েছে স্বাতীলেখা—/ যে-ধারণা আবছায়া, তুমি তাকে ডেকেছ গোধূলি।/ এই ছোট ভালবাসা তোমারই ভ্রান্তির কাছে শেখা।’

‘সেই প্রবাদে আজও ওড়ে ফুলকি ও হেমন্ত/ আর কিছুদিন আগেও কত রঙিন ছিল মন তোর—/ রোজ একখানা মোমবাতি তোর হাতের পাতায় জ্বালতিস।’ নতুন কবিতা।

‘জ্যোতিউজল বিড়ালী এক পাড়ামনিব,/ ডানা পোড়ায় সারাটা রাত চাঁদের পায়ে/ ক্ষতের প্রিয় বন্ধু জোটে সজল জিভ/ জ্যোৎস্নাকে সে তলব করে চুরির দায়ে।’

ছেলেবেলায় যা টিভি-র পর্দায় দেখে সহমর্মিতা অনুভব করতাম, তা-ই যখন ম্যানহাটান শহরের ব্রডওয়ে থিয়েটারে দেখি, তার অন্য রোমাঞ্চ। ‘দূরপাল্লা’র এই পর্বে রইল ব্রডওয়ে থিয়েটারে বসে ‘দ্য লায়ন কিং’ দেখার গল্প…

বাংলা কবিতার পাঠকদের কাছে তিনি খুব একটা পরিচিত নন। আটের দশকের কবি তিনি, অকালপ্রয়াত। এ-যাবৎ একটাই কাব্যগ্রন্থ তাঁর, ‘একটি তারার তিমির’। ‘কবির সঙ্গে দেখা’র এই পর্বে রইল কবি অচ্যুত মণ্ডলের কবিতা..

‘তোমারও ঘুমের রং কফির মতোই নীল কড়া ও কাফের/ যেমন নাটক ছিল পাড়ার মলিন স্টেজে ছোটকাকাদের/ তেমনই তোমার মন দুটো ছোট হাততালি জড়িয়ে ঘুমোয়/ বিরহ রাহুল দেব গুলজার হয়ে এসে পাশ ফিরে শোয়’

‘আমিও ঢাকের কাঠি থেকে হাত সরিয়ে নিয়েছি অনেকদিন হল। মনে-মনে কত কী বিসর্জন দিতে হল এই ক’বছরে, আর কানে-কানে শুনতে পেলাম সেই ম্লান ঢাকের বাদ্যি, সে আর বলার না। বিষণ্ণতা আসলে এক শেষ-না-হতে-চাওয়া পূজা পর্যায়, আর দূর থেকে ভেসে আসা ঢাকের আওয়াজ আসলে হেমন্তকালের ডাক।’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.