
চোখ-কান খোলা : পর্ব ৩৬
এ-বছর জুন মাসের ২০ তারিখ, স্পেনের বার্সেলোনার ঐতিহাসিক অঞ্চল, প্লাসানোভা ও বার্সেলোনার ক্যাথিড্রাল-সংলগ্ন অঞ্চলে ঘটল— ‘বোমবার্ডমেন্ট অফ পোয়েম্স’। হেলিকপ্টার থেকে প্রায় এক লক্ষ কবিতা ছড়িয়ে দেওয়া হয় শহরের আকাশে।

এ-বছর জুন মাসের ২০ তারিখ, স্পেনের বার্সেলোনার ঐতিহাসিক অঞ্চল, প্লাসানোভা ও বার্সেলোনার ক্যাথিড্রাল-সংলগ্ন অঞ্চলে ঘটল— ‘বোমবার্ডমেন্ট অফ পোয়েম্স’। হেলিকপ্টার থেকে প্রায় এক লক্ষ কবিতা ছড়িয়ে দেওয়া হয় শহরের আকাশে।

তাঁর ক্রাউডওয়ার্ক থেকে ভেসে আসা এই মন্তব্যগুলো শুনে প্রণীত মোরেও দন্তবিকশিত করে হাসাহাসি করেছেন। অন্যায় রসিকতা যে করে, এবং সেই রসিকতায় যে হাসে, ভাইরাল হলে উভয়েই ফাঁসে— এখানে কারও কিছু করার নেই।

ডিম ছুড়ে প্রতিবাদ করা, যা ‘এগিং’ নামে পরিচিত, তার ইতিহাস সুদীর্ঘ। শোনা যায়, প্রাচীন রোম এর আঁতুড়। সেখানে রাজপরিবারের সদস্য থেকে থিয়েটারের অভিনেতা— পচা ডিমের হাত থেকে নিস্তার মেলেনি কারুরই। পরবর্তীতে এই ধারা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ডিম ছোড়ার উদ্দেশ্য ঠিক কী?

‘পালাবদলের পরে-পরেই পুলিশ প্রশাসন অতি-তৎপর হয়ে আটকে দিচ্ছিল যাবতীয় মাটির লরি। ফলে, মাটি এসে পৌঁছচ্ছিল না কুমোরটুলিতে। বায়না নেওয়াও বন্ধ রেখেছিলেন কারিগররা। কারণ, বায়না নিলেই সময়ে মূর্তি গড়ার তাগিদ থাকবে। মাটির এই অভাবনীয় সংকটে প্রতিমা গড়া চলবে কী করে?’

‘‘কবিতা লিখে আমরা ঠিক কী চাই? দ্বিতীয়ত, কোন মুহূর্তে মনে আসে একটা লেখা প্রকাশ করা উচিত? তৃতীয়ত, ঠিক কোন কারণে একটা লেখাকে ‘কবিতা’ বলব? চতুর্থত, সোশ্যাল মিডিয়ায় কবিতা প্রকাশ করলে কি বাড়তি কিছু মানসিক তৃপ্তি ঘটে? এবং পঞ্চমত, কেউ-কেউ নয়, সকলেই কবি?’’

‘‘একসঙ্গে বৃহৎ পরিমাণ কাজ করার জন্য, ডেটা-সেন্টার/সার্ভারগুলি প্রচুর পরিমাণে তাপ উৎপন্ন করে। এই তাপকে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে, সার্ভারগুলি বিকল হয়ে যাওয়ার প্রভূত সম্ভবনা। তাই, সার্ভারগুলিকে ঠান্ডা করার জন্য, ব্যবহার করা হয় অত্যাধুনিক ‘কুলিং সিস্টেম’, যার একটা বড় অংশ নির্ভর করে জলের উপর।’’

‘বন্যপ্রাণী শিকার নিষিদ্ধ হয় ১৯৭২ সালে। বন্ধ হয় রাইফেল নিয়ে জঙ্গলে আনাগোনাও। তবে আজ, এই একুশ শতকে, রাইফেলের পরিবর্তে মানুষ হাতে তুলে নিয়েছে বড় লেন্সের ক্যামেরা। প্রাণে না মারলেও, বন্যপ্রাণীদের মানসিক স্বাস্থ্যকে আর কবেই-বা গুরুত্ব দিয়েছে মানুষ?’

‘একজন সাধারণ নাগরিক কি চাইবেন জেলের মধ্যে বসে কম্বল-ধোলাইয়ের মতো মার খেতে? নিশ্চয়ই নয়! আরও যা-যা অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হতে হয় একজন বন্দিকে, তা একজন সাধারণ নাগরিকের সঙ্গে হলে কি তিনি হাসিমুখে মেনে নেবেন, শুধু ‘অভিজ্ঞতা’র খাতিরে?’

নিউজপ্রিন্টের দাম বাড়ছে, ১৯৭৮-এর বন্যায় ভেসে যাওয়া শহর আবার উঠে আসছে জলের তলা থেকে। এই কলকাতা, ছবির শেষে চড়কের বাঁশে চড়া ছেলেটি বলে ওঠে, ‘কালকাতা কভি খতম নেহি হোতা।’ এই শহরেই বস্তি উচ্ছেদ, এই শহরেই দুর্গাপুজোর রংমশাল।

‘ন’মাসে-ছ’মাসে একটা করে গণআন্দোলনের ঢেউ উঠলে কর্পোরেট অফিসফেরত পাবে না গিয়ে অবস্থান বা অনশনে যাবে, গম্ভীর মুখে স্লোগানে গলা মেলাবে, ছুটির দিন বা রোববারে মিছিল হলে পা-ও মিলিয়ে নেবে। তারপর বসন্ত যাবে, কোকিলও যাবে।’

অন্যের অধীনে উচ্চপদে কাজ করার চেয়ে, রাকেশ চেয়েছিল জীবনে স্বাধীনভাবে কিছু করতে। তাই সে কোনও কাজ করতেই দ্বিধা করবে না— এমন ভাবনাই ছিল তার। প্রতিটা কাজকেই সে মনে করেছে সম্মানজনক। গৌরবময়। সে যেমন ফুড ডেলিভারির কাজ করেছে, তেমনই জিমে সহকারী হয়ে মেঝে পরিষ্কার করার কাজও করেছে।

সমাজবিজ্ঞানীরা অনেক দিন ধরেই একটি কথা বলে আসছেন— সমাজে যখন প্রত্যাশা দ্রুত বাড়ে, কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণের পথ সংকুচিত হয়, তখন তৈরি হয় ‘ফ্রাসট্রেশন অ্যাগ্রেশন লুপ’। অর্থাৎ, অপূর্ণতা জমে রাগে, আর সেই রাগ বেরয় হিংসা হয়ে। এই তত্ত্ব বইয়ের পাতায় ছিল। এখন তা প্রকাশ্যে মস্তানি করছে।
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.