কবি-বাউল সংবাদ
রবীন্দ্রনাথ যাঁদের মাথায়, কাঁধে, পিঠে হাত রেখেছেন, আমার বাবা ছাড়া সেইরকম যে-কজন মানুষকে আমি চিনি বা বলা ভাল চিনতাম (কারণ কেউই আর বেঁচে নেই), তাঁদের একজন কাশেম মোল্লা। তিনি অবশ্য আমার বাবা মৃণাল রঞ্জন গুপ্তর মতো শান্তিনিকেতনের ছাত্র ছিলেন না, তিনি ছিলেন জমিদার রবীন্দ্রনাথের অনুগত প্রজা।
বর্ষার ভরা পদ্মার তীরে দুষ্টু ছেলের দল খেলা করতে গিয়ে অবাক বিস্ময়ে দেখত, বোটে বসে একমনে কী যেন লিখে চলেন জমিদারবাবু। দু’একবার পাড়ে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে কথা বলেছেন, এটুকু মনে করতে পেরেছিলেন একশো পেরনো মানুষটি। কাশেম মোল্লার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল শিলাইদহে, ঠাকুর পরিবারের কুঠিবাড়ি থেকে খানিকটা দূরে গ্রামের ভেতর। সেটা ২০০৭ সালের কথা। ট্রাভেল শোয়ে সে-বার বাংলাদেশে শ্যুটিং চলছে। পাব না জেনেই খুঁজছিলাম এমন কাউকে যিনি রবীন্দ্রনাথকে দেখেছেন। হাল ছেড়ে দেওয়ার মুহূর্তে দেখা মিলল ১০৩ বছরের বৃদ্ধের। মাটির বাড়ির দাওয়ায় হাঁটু মুড়ে ‘দ’ হয়ে বসেছিলেন কাশেম চাচা। আমার প্রশ্ন শুনে মেঘলা আকাশের দিকে আঁশফলের মত ঘোলাটে চোখ তুলে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন, তারপর স্পষ্ট গলায় বললেন, ‘দেখসি তো।’ আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল, পদ্মার উতল হাওয়ায় ভেসে এল ‘ওরে, দে খুলে দে, পাল তুলে দে, যা হয় হবে বাঁচি মরি/ এবার তোর মরা গাঙে বান এসেছে, জয় মা বলে ভাসা তরী’-র মতো গান না হয় লেখা গেল পদ্মার বুকে ভেসে, কিন্তু অবাক হয়েছিলাম জেনে যে, আশ্বিনের ঝড়ে চলনবিলে যখন নৌকা টলোমলো, মাঝি ভয়ে ইষ্টনাম জপছে, রবীন্দ্রনাথ সেই অবস্থায় লিখছেন, ‘তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা, তুমি আমার সাধের সাধনা।’
কোল্ডড্রিংক দিয়ে পুজো দেওয়া হয় পৃথিবীর এই শহরে!
পড়ুন: ডেটলাইন পর্ব ৫২…
কলকাতা থেকে কুষ্টিয়া, মাত্র ২৪০ কিলোমিটার। আর কুষ্টিয়া শহর থেকে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি ১৭ কিলোমিটার। বললাম যত সহজে, যাওয়াটা যে তত সহজ নয়, বলা বাহুল্য। পাশের বাড়ি হলেও বিদেশ তো বটে। তবে বাংলাদেশ বলতেই ঢাকা, এপারের বাঙালির এই ট্যাবুটা সরিয়ে রাখলে শিলাইদহ সফর অসম্ভব মনে নাও হতে পারে। আমার মনে হয়েছে, বেশ কয়েকটি কারণে রবীন্দ্র-জীবনে শিলাইদহের গুরুত্ব অন্য অনেক বিখ্যাত জায়গার থেকে বেশি। সবুজ ক্ষেত, দিগন্তবিস্তৃত মাঠ, বিশেষ করে নদীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানোর সুযোগ তাঁর প্রকৃতির প্রতি ভালবাসাকে তীব্র করেছিল। আদ্যন্ত নাগরিক রবীন্দ্রনাথ পরবর্তীকালে শান্তিনিকেতনকে ‘সব হতে আপন’ ভাবার ভিত তৈরি হয়েছিল শিলাইদহেই। গ্রামের সিধে সরল মানুষগুলো তাঁর চোখ খুলে দিয়েছিল। তাই খাজনার খাতায় জমিদার রবীন্দ্রনাথ প্রায়ই লিখতেন কবিতা। শিলাইদহের অখণ্ড অবকাশে ‘গীতাঞ্জলি’র ইংরেজি অনুবাদে মন দিয়েছিলেন কবি। দাম্পত্য জীবনেও খানিকটা রঙ লাগিয়েছিল পদ্মাপারের কুঠিবাড়ি। স্ত্রী মৃণালিনীকে ‘ভাই ছুটি’ সম্বোধন করে অনেক চিঠি লিখেছিলেন রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহ থেকে। ‘আজ সকালে বিছানা থেকে উঠেই দেখি পাংশুবর্ণ মেঘের ভারে আকাশ অন্ধকার এবং অবনত — আহা, রোজকার দাম্পত্যের একঘেয়েমি থেকে বেরিয়ে এসে কী মন ভাল করে দেওয়া সংলাপ মৃণালিনীর জোড়াসাঁকোর ভরা সংসারে এলোমেলো বাদলা হাওয়া। তবে ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে যত চিঠি লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহ-সাজাদপুর-পতিসর থেকে, তেমন আর কারোকে নয়। শিলাইদহ নামক বাংলার এক অখ্যাত গ্রামকে কতটা ভালবেসেছিলেন রবীন্দ্রনাথ, জানতে গেলে ‘ছিন্নপত্র’ পড়তে হবে। ‘অনেকখানি আকাশ আলো নিস্তব্ধতা এবং করুণতায় পরিপূর্ণ।’ কবির টানে নাকি পদ্মার টানে, রবিবাবুর বিখ্যাত বন্ধুরা প্রায়ই অতিথি হতেন কুঠিবাড়িতে। জগদীশচন্দ্র বসু থেকে দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রবি ঠাকুরের সোনার তরীতে মন ভাল করা দিন কাটিয়েছেন।
শেলি সাহেবের দহ থেকে নাম হল শিলাইদহ। গড়াই নদী আর পদ্মার সঙ্গমে তৈরি হয়েছিল দহ আর তার পাশেই ছিল নীলকর শেলি সাহেবের কুঠি। রবীন্দ্রনাথের পিতামহ দ্বারকানাথ ঠাকুর উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন শিলাইদহের জমিদারি। রবীন্দ্রনাথ এখানে প্রথম পা রাখেন ১৮৮৯ সালে। তবে ১৮৯১ থেকে ১৯০১ এই দশ বছরে ঘনঘন এসেছেন তিনি জমিদারি দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়ে। আর যত এসেছেন, জড়িয়ে পড়েছেন এক অন্য জীবনে। একসময়ে পদ্মা কুঠিবাড়ির পাশ দিয়ে বইত, কিন্তু বহুকাল হল সরে গেছে বেশ খানিকটা দূরে। তবে পদ্মাকে কাছে ধরে রাখার ইচ্ছেতেই সম্ভবত কুঠিবাড়ির পাঁচিল ঢেউখেলানো। আম-জাম-কাঁঠালের ছায়াঘেরা, দু’টি পুকুর সমেত দোতলা জমিদারবাড়ি বেশ যত্ন করে রেখেছে বাংলাদেশ সরকার। আমবাগানেই দেখা হল দৃষ্টিহীন বাবা আর তার অন্ধের যষ্টি ছেলের সঙ্গে। রবিঠাকুরের গান গেয়ে ট্যুরিস্টদের খুশি করলে দু’চার টাকা মেলে। আশ্চর্য হয়েছিলাম উচ্চারণ আর গায়কী দেখে। পুকুরপাড়ে বসে গান ধরলেন বাবা, ‘যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে’, কী আকুতি তাঁর গলায়। আর বছর চোদ্দর কিশোর বাগানে ঘুরে-ঘুরে গাইছিল, ‘ভেঙে মোর ঘরের চাবি, নিয়ে যাবি কে আমারে’ — আহা! কচি গলায় ‘বুঝি গো রাত পোহালো, বুঝি ওই রবির আলো/ আভাসে দেখা দিল গগন পারে’ মনে হল নবীন রবি সত্যিই দেখা দেবে ওই বারান্দায়।

কুঠিবাড়ির ভেতরে সাজানো গুটিকয়েক জিনিসকে টেগোর মেমোরিয়াল মিউজিয়াম বলা যায় কি না জানি না, তবে যেটুকু আছে, বেশ যত্নে রাখা। আসলে একাত্তরের আগে পরাধীন পূর্ব পাকিস্তানে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন শাসকদের কাছে ব্রাত্য। নববর্ষের ভোরে ঢাকার রমনা ময়দানে ছায়ানট-এর ‘এসো হে বৈশাখ’ গাওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছিল পাক সরকার। তাই স্বাভাবিকভাবেই কবিগুরুর স্মৃতি রক্ষার কোনও সরকারি উদ্যোগ ছিল না। সেই সুযোগে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি তো বটেই, সাজাদপুর আর পতিসরে ঠাকুর পরিবারের দুই কাছারি বাড়ি থেকেও লুঠ হয়ে গেছে দামি আসবাব, বাসন, অবহেলায় নষ্ট হয়েছে দুর্মূল্য নথিপত্র। তবু যে শিলাইদহে রয়ে গেছে খেরো খাতায় জমিদার রবীন্দ্রনাথের লেখা খাজনার হিসেব, উল্টোপিঠে হঠাৎ হাওয়ায় ভেসে আসা কবিতার কয়েকটি লাইন, চিঠিপত্র, লোহার সিন্দুক, খাট, তা বাঙালির অনেক ভাগ্য। এরকম একটি চিঠিতে কবির নিজের হাতের লেখায় ইংরেজি জন্ম তারিখ রয়েছে ৭ মে। অথচ পরবর্তীকালে খুব কমবারই রবীন্দ্রজয়ন্তী পড়েছে ৭ মে। রবীন্দ্রনাথ কেমন জমিদার ছিলেন তা বোঝা যায় তাঁর লেখায় ‘তুমি জমি কিনিতেই ব্যস্ত, জগতের জমিদারী বাড়াইতে মন দাও না কেন? তুমি ত মস্ত ধনী, তোমার অপেক্ষা একজন কবি ধনী কেন?’
কুঠিবাড়িতে আর আছে আশ্চর্য একটি জিনিস, বিশাল লন মোয়ার, গায়ে খোদাই করা তৈরির সাল— ১৮৩০। সম্ভবত স্বভাব শৌখিন, সাহেবিয়ানায় অভ্যস্ত, বিলেতের রাজা-রাণীর বিশেষ বন্ধু প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর এটি আনিয়েছিলেন বিদেশ থেকে, শিলাইদহের বিরাট বাগানের ঘাস ছাঁটার জন্য। দোতলার বারান্দায় রাখা পদ্মা বোটটি অবশ্য আসল নয়, রেপ্লিকা। কুঠিবাড়ির এক কর্মী জানালেন, পদ্মার বুকে রবীন্দ্রনাথের বহু কালজয়ী সৃষ্টির সাক্ষী পদ্মা বোট বহুকাল আগেই চুরি হয়ে গেছে। সেটি কেটে একজন নাকি খাট বানিয়ে ফেলেছে, সেই খবরও পাওয়া গেছিল। এর সত্যতা যাচাই করার সুযোগ অবশ্য আমার হয়নি। তবে এই অঞ্চলে চালু অন্য যে গালগল্পটা একশো শতাংশ মিথ্যে, তা হল, কুষ্টিয়ার লালন ফকিরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের দেখা হয়েছিল। এমনকী রবীন্দ্র বিরোধিতার আমলে এও রটানো হয়েছিল যে, লালনের গানের খাতা চুরি করেছিলেন কবিগুরু। প্রথমত, ১৮৯০ সালে মৃত্যু হয় লালন ফকিরের এবং দ্বিতীয়ত, লালন ছিলেন নিরক্ষর, তাঁর অসাধারণ সৃষ্টির সবটাই ধরা আছে শিষ্য পরম্পরায় স্মৃতিতে। শুধু এটুকু ঠিক যে, লালনের প্রভাব রবীন্দ্রনাথের বাউলাঙ্গের গানে পড়েছিল।
দোতলার বারান্দায় রাখা পদ্মা বোটটি অবশ্য আসল নয়, রেপ্লিকা। কুঠিবাড়ির এক কর্মী জানালেন, পদ্মার বুকে রবীন্দ্রনাথের বহু কালজয়ী সৃষ্টির সাক্ষী পদ্মা বোট বহুকাল আগেই চুরি হয়ে গেছে। সেটি কেটে একজন নাকি খাট বানিয়ে ফেলেছে, সেই খবরও পাওয়া গেছিল। এর সত্যতা যাচাই করার সুযোগ অবশ্য আমার হয়নি। তবে এই অঞ্চলে চালু অন্য যে গালগল্পটা একশো শতাংশ মিথ্যে, তা হল, কুষ্টিয়ার লালন ফকিরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের দেখা হয়েছিল।
শিলাইদহ গেলে রবীন্দ্রনাথ ছাড়া আর যাঁর জন্য মন উচাটন হবে, তিনি লালন ফকির। একটু দূরেই ছেউড়িয়া গ্রামে সেই আরশিনগর, লালন সাঁইয়ের আখড়া। এখানে আছে লালনের মাজার। সেই সমাধিস্থল ঘিরেই তৈরি হয়েছে মিউজিয়াম। এখনও প্রতিদিন বাউল-ফকিরের দল এখানে গানবাজনা করেন, আধ্যাত্মিক আলোচনাও হয়। যদিও সরকারি সংগ্রহশালা হিসেবে ঝকঝকে হলেও, লালনের ব্যবহৃত দু’চারটি জিনিস ছাড়া আর কোথাও পুরনো কিছু অবশিষ্ট নেই। তবে আছে জ্যোতিরীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা পেন্সিল পোরট্রেট, লালন ফকিরের একমাত্র ছবি। রবীন্দ্রনাথের জ্যোতিদাদা সেটি এঁকেছিলেন ১৮৮৯ সালে, পদ্মার বুকে নৌকায় বসে। এবং লালন স্বয়ং ছিলেন সামনে লাইভ মডেল হিসেবে। রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে লালনের দেখা না হলেও, ঠাকুর পরিবারের অনেকের সঙ্গেই পরিচয় ছিল জমিদারির প্রজা লালন সাঁইয়ের। গানও শোনাতেন তাঁদের মাঝেসাঝে।

১০০ বছরের ওপর বাঁচলেও লালনের জীবন বা ধর্ম সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। সেই উনিশ শতকে যে নিরক্ষর মানুষটি লিখতে পারেন, ‘এমন সমাজ কবে গো সৃজন হবে। যেদিন হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান/জাতি গোত্র নাহি রবে’, তিনি হিন্দু না মুসলমান সেই প্রশ্ন করাই মূর্খামি। গাইড অবশ্য খুব বিশ্বাসযোগ্যভাবে পাশের কালীগঙ্গা নদী দেখিয়ে গল্প শোনাবে, তীর্থে বেরিয়ে গুটিবসন্তে ঘোরতর অসুস্থ লালনকে মৃত ভেবে বন্ধুরা নদীতে ভাসিয়ে দেয়। মৃতপ্রায় লালন এই নদীতে ভেসে এলে তাঁকে উদ্ধার করেন মলম শাহ আর তাঁর স্ত্রী মতিজান, সেবা করে সুস্থ করে তোলেন। লালন তাঁর কাছে দীক্ষা নিয়ে ছেউড়িয়াতেই সংসার পাতেন। পরে শিষ্য হন সিরাজ সাঁইয়ের। এইসব গল্পের পিছনে সত্যি খোঁজার বদ অভ্যেস আমি ছেড়ে দিয়েছি অনেক দিন। তাই ঠিক করলাম নৌকো ভাড়া করে কালীগঙ্গা নদীতে বাউল গান শ্যুট করব। নৌকো মানে বৈঠা বাওয়া ডিঙি। ভরা নদীতে সেই টলোমলো তরীতে আমি, ক্যামেরাম্যান, মাঝি, দু’জন বাউল আর গাইড, ভারটা যে বেশি, উত্তেজনায় মনেই পড়েনি। সবে রেকর্ড করতে শুরু করেছি, ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়’ কানে এল পাড় থেকে শ্যুটিং দেখতে আসা লোকজন চিৎকার করছে। আমি বিরক্ত হয়ে রেকর্ডিং বন্ধ করে বললাম, ‘একটু চুপ করতে বল মাঝিভাই।’ গাইড কাঁচুমাচু মুখে বলল, ‘নৌকাডুবি অইব। ফিরতে বলে ওরা।’ সে কী! এরা সবাই তো সাঁতরে উঠে যাবে পাড়ে। আমার এবং ক্যামেরার সলিল সমাধি ঘটবে। কী অসম্ভব আতঙ্ক নিয়ে যে তীরে ফিরলাম, বলার নয়। এরপরও অবশ্য আমার শিক্ষা হয়নি। এই বাংলাদেশেই আরও অন্তত দু’বার নদীতে ডুবুডুবু হওয়া থেকে বেঁচেছি। এই শিলাইদহে বসেই রবি ঠাকুর লিখেছিলেন, ‘ঘাটে বাঁধা দিন গেল রে/ মুখ দেখাবি কেমন করে। ওরে, দে খুলে দে, পাল তুলে দে, যা হয় হবে বাঁচি মরি।’




