যুদ্ধের খরচ মেটাতে যৌনতার হাত ধরতে হতে পারে? ক্রমাগত যুদ্ধের খরচ জোগাতে গিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে ইউক্রেন। এবার যুদ্ধের খরচ মেটাতে গিয়ে নীল ছবিকে আইনি আওতায় আনার কথা ভাবছে জেলেনস্কির দেশ। নীল ছবি থেকে কর আদায় করে সেই অর্থ দেশের সামরিক কাজে ব্যবহারের চিন্তাভাবনা শুরু করেছে ইউক্রেন।
রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকেই ইউক্রেন অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা। অস্ত্র, গোলাবারুদ, সেনাবাহিনী এবং বিশেষ করে ড্রোনের মতো আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম কিনতে রাষ্ট্রকে নিয়মিত বিপুল টাকা খরচ করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে সরকারি বাজেটের ঘাটতি। ফলে বিদেশি সাহায্যের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তর থেকেও যতটা সম্ভব রাজস্ব সংগ্রহের চেষ্টা করছে কিয়েভ। আর সেই জায়গাতেই হঠাৎ সামনে এসেছে এমন একটি অর্থনৈতিক ক্ষেত্র, যা শুনলে প্রথমে অবাক লাগতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের অনলাইন কনটেন্টের ব্যবসাকে করের আওতায় আনার ভাবনাচিন্তা শুরু করে ইউক্রেন। ইউক্রেনে ‘ওনলি ফ্যানস’ (OnlyFans)-এর মতো প্ল্যাটফর্মে বহু মানুষ ইতিমধ্যেই অ্যাডাল্ট কনটেন্ট তৈরি করে আয় করছে।
২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭,৯০০ ইউক্রেনীয় ওনলি ফ্যানস প্ল্যাটফর্ম থেকে মোট ১৩১ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করেছিলেন। শিল্পটি কাগজে-কলমে পুরোপুরি স্বীকৃত না হলেও এর অর্থনৈতিক অস্তিত্ব যথেষ্ট বড়। সমস্যাটা তৈরি হয়েছে আইন ও অর্থনীতির মধ্যে বিরোধ থেকে। ইউক্রেনের আইনে পর্নোগ্রাফি সঙ্গে যুক্ত কাজ এখনও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় একজন ক্রিয়েটরের পক্ষে নিজের আয় স্বচ্ছভাবে ঘোষণা করে তার ওপর কর দেওয়া সহজ নয়। সরকারও একদিকে কর আদায় করতে চাইছে, অন্যদিকে একই শিল্প ফৌজদারি আইনের আওতায় রয়েছে বহুকাল ধরেই। যুদ্ধের সময়ে যখন প্রতিটি অতিরিক্ত রাজস্ব গুরুত্বপূর্ণ, তখন এই ব্যবস্থাকে বদলানোর দাবি জোরালো হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনের সংসদে সম্মত প্রাপ্তবয়স্কদের পর্নোগ্রাফিকে অপরাধের আওতা থেকে সরিয়ে কর ও নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক কাঠামোর মধ্যে আনার প্রস্তাব এসেছে। এর অন্যতম প্রবক্তা ওদেশের বিরোধী দলনেতা ইয়োরাস্লাভ জেলেজনিয়াক। হিসেবমাফিক, এই শিল্পকে নিয়মিত অর্থনীতির মধ্যে এনে কর আদায় করা গেলে বছরে প্রায় ২৫ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত রাজস্ব পাওয়া যেতে পারে। জেলেজনিয়াকের হিসেব অনুযায়ী, এই অর্থ দিয়ে প্রায় ৩০ হাজার সামরিক ড্রোন কেনা সম্ভব।
বিনোদনের নির্ধারিত সৌন্দর্যের মাপকাঠিই কি শেষ কথা বলবে? লিখছেন সৈয়দ তৌসিফ আহমেদ…
তবে ইউক্রেনের এই সিদ্ধান্তকে বুঝতে হলে আগে বুঝে নিতে হবে, যে শিল্পকে এতদিন সমাজের অন্ধকার কোণে ঠেলে রাখা হয়েছে, তার অর্থনৈতিক পরিসর ঠিক কতটা বিশাল। ইন্টারনেটের হাত ধরে পর্নোগ্রাফি এখন আর কয়েকটি প্রযোজনা সংস্থার ব্যবসা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে লক্ষ-লক্ষ নির্মাতা, কোটি-কোটি দর্শক এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, জাপান থেকে শুরু করে লাতিন আমেরিকার একাধিক দেশ, বিশ্বের প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই কোনও না কোনওভাবে তৈরি হয়েছে এই শিল্পের বাজার। পুরনো স্টুডিওভিত্তিক ছবির পাশাপাশি এখন এই অর্থনীতির বড় অংশ তৈরি হচ্ছে সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক ওয়েবসাইট, সরাসরি দর্শকের কাছে ছবি ও ভিডিয়ো বিক্রি এবং ব্যক্তিগত নির্মাতাদের তৈরি কনটেন্ট থেকে। ‘ওনলি ফ্যানস’ -এর উত্থান সেই বদলেরই সবচেয়ে বড় উদাহরণ। অর্থাৎ, পর্নোগ্রাফি এখন শুধু যৌনতার বাজার নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল অর্থনীতি, যেখানে একজন মানুষ নিজের ঘর থেকে কনটেন্ট তৈরি করে সরাসরি বিশ্বের অন্য প্রান্তের দর্শকের কাছ থেকে টাকা পেতে পারেন।
ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফির বাজার গোপন কোনও জগত নয়। বহুদিন ধরে তা আইনের একটি ধূসর অঞ্চলের ভেতরেই বেড়ে উঠেছে। দেশের আইনে পর্নোগ্রাফি তৈরি ও ছড়ানোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিধান থাকলেও ইন্টারনেটের বিস্তার এবং বিদেশি মঞ্চের দৌলতে এই ব্যবসাকে পুরোপুরি আটকে রাখা সম্ভব হয়নি। ‘ওনলি ফ্যানস’-এর মতো মঞ্চে ইউক্রেনীয় নির্মাতারা সরাসরি ছবি ও ভিডিও বিক্রি করছেন, দর্শকদের কাছ থেকে সাবস্ক্রিপশনের টাকা পাচ্ছেন; কেউ আবার ওয়েবক্যাম বা ব্যক্তিগত অনলাইন পরিষেবার মাধ্যমে আয় করছেন। ফলে একদিকে ব্যবসাটি আইনের চোখে অপরাধের ঝুঁকি বহন করছে, অন্যদিকে সেই ব্যবসা থেকেই তৈরি হচ্ছে বিপুল অর্থ এবং করযোগ্য আয়। এই দ্বন্দ্বের একটি বড় উদাহরণও রয়েছে, ২০২৪ সালে খারকিভ অঞ্চলের এক ‘ওনলি ফ্যানস’ নির্মাতা কয়েক বছরের আয় হিসেবে ৪০ লক্ষ ডলারের বেশি ঘোষণা করে প্রায় ২ কোটি ৪ লক্ষ ইউক্রেনিয় কর জমা দিয়েছিলেন। অর্থাৎ, রাষ্ট্র তাঁর আয়ের ওপর কর নিচ্ছে, অথচ যে ধরনের কাজ থেকে সেই আয় এসেছে, তার কিছু অংশই আবার ফৌজদারি আইনের আওতায় পড়তে পারে। এর ফলে নির্মাতাদের একাংশকে পুলিশের তদন্ত, মামলার মুখেও পড়তে হয়েছে। ২০২৩ সালে শিশু পর্নোগ্রাফির মামলা বাদ দিয়েই পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত প্রায় ৭০০টি ফৌজদারি মামলা খোলা হয়েছিল; ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা আরও বেড়ে ১,৪০০-র বেশি হয়েছে বলে ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ফলে ইউক্রেনের পর্নোগ্রাফি বাজারকে শুধু ‘অবৈধ ব্যবসা’ বললে ছবিটা সম্পূর্ণ হয় না, এটি এমন এক অর্থনীতি, যেখানে কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে, বিদেশি মঞ্চে বিক্রি হচ্ছে, কোটি-কোটি টাকা ঘুরছে, সরকার সেই আয়ের করও চাইছে, অথচ একইসঙ্গে সেই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষ আইনি শাস্তির আশঙ্কায় থাকছেন।
বিশ্বের পর্নোগ্রাফি শিল্পের মানচিত্রে সবচেয়ে বড় উৎপাদক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের নাম সামনে আসে; বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফার্নান্দো ভ্যালি একসময় বিশ্বের প্রধান প্রাপ্তবয়স্ক চলচ্চিত্র নির্মাণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল। পুরনো শিল্পের পাশাপাশি এখন যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইন সাবস্ক্রিপশন, ব্যক্তিগত কনটেন্ট এবং সরাসরি দর্শকের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার ব্যবসাও বিশাল আকার নিয়েছে। এর পরে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ব্রাজিল, ফ্রান্স, রাশিয়া, কানাডা, ইতালি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, তুরস্ক, পোল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া অনলাইন পর্নোগ্রাফি উৎপাদন বা সরবরাহের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য দেশ হিসেবে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উঠে আসে; একটি বহুল উদ্ধৃত অনলাইন বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৪.৫২%, যুক্তরাজ্য ৫.৪৯ %, জার্মানি ৪.৯০%, ব্রাজিল ৪.৮০% এবং ফ্রান্স ও রাশিয়া প্রায় ৪% করে দেখানো হয়েছিল। যদিও এগুলি সরকারি হিসাব নয় এবং উৎসভেদে সংখ্যার যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
ইউরোপের মধ্যে চেক প্রজাতন্ত্র ও হাঙ্গেরি আবার জনসংখ্যার তুলনায় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনকেন্দ্র; প্রাগ ও বুদাপেস্টে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক প্রযোজকদের জন্য প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট তৈরি হয়ে আসছে। তবে এই শিল্পের আইনি অবস্থান সর্বত্র এক নয়। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, ব্রাজিল, কানাডা ও চেক প্রজাতন্ত্রে সম্মত প্রাপ্তবয়স্কদের পর্নোগ্রাফি সাধারণভাবে বৈধ হলেও অশ্লীলতা, যৌন হিংসা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশাধিকার, জোরপূর্বক বা সম্মতিবিহীন কনটেন্ট নিয়ে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে; জাপানেও প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদনের বিশাল বাজার রয়েছে, কিন্তু সেখানে অশ্লীলতা-সংক্রান্ত আলাদা বিধিনিষেধ রয়েছে।অন্যদিকে চিন, এশিয়ার একাধিক দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশে পর্নোগ্রাফির উৎপাদন ও বাণিজ্যিক বিতরণ নিষিদ্ধ এবং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত, যদিও ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ব্যবহার চলে।
ফলে পৃথিবীর এই শিল্পের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্যটি এখানেই, কোথাও এটি করযোগ্য ও নিয়ন্ত্রিত একটি বৈধ ব্যবসা, কোথাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, আবার কোথাও আইনত নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবে বিশাল অনলাইন অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। ইউক্রেনের বর্তমান বিতর্কটি এই তৃতীয় অবস্থারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। দেশে প্রাপ্তবয়স্ক পর্নোগ্রাফি এখনও অপরাধের আওতায় থাকলেও ২০২৩ সালে প্রায় ৭,৯০০ ইউক্রেনীয় ‘ওনলি ফ্যানস’ নির্মাতা ১৩১ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছিলেন। অর্থাৎ, নিষেধাজ্ঞা বাজারটিকে মুছে দিতে পারেনি, বরং তাকে আইনের ধূসর অঞ্চলে ঠেলে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, চেক প্রজাতন্ত্র-সহ বহু দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিপূর্ণ পর্নোগ্রাফি ধীরে-ধীরে বৈধ বা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। কখনও ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের যুক্তিতে, কখনও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনে, আবার কখনও শিল্পটিকে নিয়ন্ত্রণ ও করব্যবস্থার মধ্যে আনার উদ্দেশ্যে। কিন্তু যুদ্ধের সরাসরি প্রয়োজনকে সামনে রেখে এই শিল্পকে বৈধ করার নজির কার্যত চোখে পড়ে না।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, যুদ্ধের খরচ মেটানোর জন্য কোনও দেশ সরাসরি পর্নোগ্রাফিকে বৈধ করেছে এমন স্পষ্ট ও নথিভুক্ত নজির খুব একটা নেই; এই কারণেই ইউক্রেনের বর্তমান উদ্যোগটি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। ডেনমার্কে ১৯৬৯ সালের ১ জুলাই ছবি ও চলচ্চিত্রের পর্নোগ্রাফির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়; কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুদ্ধের অর্থ জোগাড়ের কোনও সম্পর্ক ছিল না। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, চেক প্রজাতন্ত্র-সহ বহু দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিপূর্ণ পর্নোগ্রাফি ধীরে-ধীরে বৈধ বা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে। কখনও ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের যুক্তিতে, কখনও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনে, আবার কখনও শিল্পটিকে নিয়ন্ত্রণ ও করব্যবস্থার মধ্যে আনার উদ্দেশ্যে। কিন্তু যুদ্ধের সরাসরি প্রয়োজনকে সামনে রেখে এই শিল্পকে বৈধ করার নজির কার্যত চোখে পড়ে না। সেই জায়গাতেই ইউক্রেনের বর্তমান উদ্যোগ ব্যতিক্রমী। রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধের মধ্যে দেশটি প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিতে তৈরি পর্নোগ্রাফিকে অপরাধের আওতা থেকে সরিয়ে করব্যবস্থার মধ্যে আনার কথা ভাবছে।
যদি ইউক্রেন শেষ পর্যন্ত যুদ্ধের অর্থ জোগাড়ের যুক্তিতে প্রাপ্তবয়স্কদের পর্নোগ্রাফিকে করযোগ্য ও নিয়ন্ত্রিত শিল্পে পরিণত করে, তার প্রভাব শুধু ইউক্রেনের মধ্যে আটকে থাকার সম্ভাবনা নেই; কারণ প্রথমবারের মতো কোনও যুদ্ধরত রাষ্ট্র যদি দেখাতে পারে যে নিষিদ্ধ বা ধূসর অঞ্চলে থাকা যৌন-অর্থনীতিকে বৈধ করে সরাসরি রাষ্ট্রীয় রাজস্ব তৈরি করা যায়, অন্য দেশগুলিও নিজেদের বিশাল অনলাইন যৌন-বাজারকে নতুন চোখে দেখতে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশে লক্ষ-লক্ষ মানুষ বিদেশি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট তৈরি করে আয় করেন, সেখানে সরকার ভাবতে পারে, এই অর্থ বিদেশি সংস্থার হাতে বা অনানুষ্ঠানিক বাজারে না রেখে করের আওতায় আনা যায় কি না। এর ফলে বিশ্বজুড়ে যৌনতা এবং অর্থনীতির সম্পর্কটি আরও প্রকাশ্য হয়ে উঠতে পারে। পর্নোগ্রাফি শুধু সামাজিক বা নৈতিক বিতর্কের বিষয় না থেকে কর, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা ও ডিজিটাল বাণিজ্যের অংশ হয়ে উঠতে পারে।
,আবার এর একটি অন্ধকার দিকও রয়েছে। বৈধ বাজার বড় হলে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলির ব্যবসা বাড়তে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ছবি চুরি, সম্মতিবিহীন কনটেন্ট, অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষা, মানবপাচার ও যৌনশোষণ ঠেকাতে দেশগুলিকে আরও কঠোর আন্তর্জাতিক নিয়ম তৈরি করতে হতে পারে। আর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনটি হতে পারে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক। যুদ্ধের খরচ মেটাতে যদি কোনও রাষ্ট্র মানুষের যৌনতা থেকে কর আদায়ের পথ বেছে নেয় এবং সেটি কার্যকর প্রমাণিত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা অন্য রাষ্ট্রগুলিও নিজেদের নিষিদ্ধ বা অনানুষ্ঠানিক যৌন-অর্থনীতিকে রাজস্বের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে বিবেচনা করতে পারে। ফলে, ইউক্রেনের ঘটনা শুধু পর্ন বৈধ করার গল্প নয়; এটি যুদ্ধ, রাষ্ট্রীয় রাজস্ব, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের সীমারেখা এই চারটি ক্ষেত্রকে একই জায়গায় এনে দাঁড় করানো এক নতুন বৈশ্বিক প্রশ্ন।


