উল্টো দূরবিন: পর্ব ২৭

শহর পেরিয়ে…

চাঁদপাড়ার দাদুর বাড়ির কথা বলতে গিয়ে এধার ওধার চলে গেলাম। চাঁদপাড়ায় অনেক কিছু দেখেছিলাম, যা ওই বয়সে আমাকে আশ্চর্য করেছিল। খেজুর গাছ চেঁচে দিলে ওই গাছের গা থেকে যে মিষ্টি রস বের হয়, তা আমি আগে কখনও ভাবতেও পারিনি। একজন এসে হাঁড়ি ঝুলিয়ে দিত গাছে, সেই হাঁড়িতে গাছের শরীরের ভিতরে ঢুকিয়ে দেওয়া বাঁশের নলি বেয়ে ফোঁটা-ফোঁটা রস পড়ছে হাঁড়িতে। ভোরবেলা পাখিরা সেই রস খাবার জন্য নলির গায়ে কিম্বা হাড়ির কোণায় বসে নানা রকমের কায়দায় রস খাচ্ছে। ওখানে কিছু পাখির নাম জানলাম। একটা হলুদ রঙের পাখির নাম, ইষ্টিকুটুম বুলবুলি পাখি আসত, মাথায় ঝুঁটি সাদাকালো পাখিটার নাম দোয়েল, ছোটোবেলায় ছড়া শোনাতো মা, ‘আয়রে পাখি লেজ ঝোলা’ সেই লেজঝোলা ফিঙে আসতো রস খেতে, আরেকটা পাখির নাম বাইন্যা বউ। দিদিমা বলেছিলেন। হলদে রং। এখন জানি, ওটার নাম বেনে বউ কী সুন্দর নাম। বউ কথা কও নামে একটা ধূসর পাখিও আসত। ডাক শুনলে মনে হত যেন ছড়ার ছন্দে বলছে, ‘বউ কথা কও’।

বর্ষাকালে জুতো হাতে নিয়ে হাঁটা ছিল সার্কাসের খেলার মতো!
পড়ুন: ‘উল্টো দূরবিন‘ পর্ব ২৬…

শৈলা ছিল আমারই বয়সি প্রায়। চাঁদপাড়ার দাদুর ছোট ছেলে। চাঁদপাড়া দাদুর দুই ছেলে, সুখময়, শান্তিময়। ওরা সম্পর্কে আমার কাকা। ছোট ছেলে শৈলা। আমার চেয়ে মাস ছয়েকের বড় হলেও, শৈলাকে কখনও কাকা ডাকিনি। আমার বন্ধুই ছিল দুই ভাইয়ের বয়সের তফাৎ ১৪-১৫ বছর। আমার বয়স যখন ১০, সুখময়কাকুর বয়স তখন ২৫। এই সুখময়কাকু চাঁদ পড়ার স্কুল থেকেই দু’বারের চেষ্টায় ম্যাট্রিক পাস করেছিল এখন যাকে বলে মাধ্যমিক। তারপর সেই জাহ্নবী চক্রবর্তী হলেন উদ্ধারকর্তা। কাকে বলেকয়ে উড়িষ্যাতে বালেশ্বরের কাছাকাছি কোন এক পাথর খাদানে একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। চাঁদপাড়ার বাড়ির চালাটা ছিল শনের। শন গাছ খড়ের চেয়ে শক্ত। চাঁদপাড়ায় অনেক শনের বন ছিল। শনের ভিতরে খরগোশের দৌড়াদৌড়ি দেখেছি। আবার খরগোশের খোঁজে রাতের বেলায় শেয়ালও আসত। শিয়াল আমি দেখিনি, কিন্তু কুকুরের তুমুল চিৎকারের বুঝতাম, শেয়ার এসেছে। ঘরের চালা শনের এবং দেয়াল ছিল বাঁশের। একদিকে দেয়াল ছিল মাটির। দেয়ালে কুলুঙ্গি ছিল দুটো। মাঝখানে খোপ। ঘরের চালের তলায় ছিল মাচা। অনেক জিনিসপত্র মাথায় উঠানো থাকত আর দলিলপত্র রিফিউজি সার্টিফিকেট অন্যান্য দরকারি কাগজপত্র একটা টিনের তরঙ্গে রাখা থাকত। ঘরটা বড় ছিল বেশ। ওই ঘরেই একটা আলাদা মাচা ছিল, যেখানে বস্তায় ভরা ধান রাখা থাকতো, ডাল রাখা থাকত। পাশেই ছিল একফালি ঢেঁকি ঘর। ওখানে ঢেঁকি থাকত, ওখানে দিদিমা ঢেঁকিতে ‘পাড়া দিত’। আরেকজন গর্তের মধ্যে ধান ঢোকাত, ঢেঁকিতে চাল কোটা হলে, গর্ত থেকে কুড়িয়ে নিত।  তারপর কুলোয় চালতে হতো কুলোয় চালবার নানা কায়দা আছে। প্রথমে ভাঙা ধানগুলো আলাদা হয়ে যেত, এগুলোকে বলত, ‘কুঁড়ো’। জ্বালানির কাজে লাগতো তারপর আলাদা করা খুদ, মানে ভেঙে যাওয়া চাল। খুদগুলো এবং চালগুলোর আলাদা করে নেওয়া হত। যে-মহিলা সাহায্যকারীণী হিসেবে কাজ করত, সে পেত কিছুটা চাল এবং কিছুটা খুদ। আমরা খুদের ফেনা ভাত খেতাম খুব আনন্দ করে। চালগুলো ছিল একটু লালচে, চালের গায়ে যে হালকা লাল আবরণ থাকে, ধানকলে সেই আবরণটা বের করে নেয়া হয়। এবং চালকে মেশিনে পালিশ করা হয়। ওই লাল আবরণ থেকেই রাইস ব্রান অয়েল তৈরি হয়। এইসব এখন জানি। তখন লাল মোটা চালই আয়েশ করে খেতাম। 

চাঁদপাড়া দিদিমার গায়ের রঙ ছিল বেশ কালো, ঠোঁট পুরু। বেশ লম্বা, পেশিবহুল চেহারা। অনেক পরে সুনীল গাঙ্গুলির ‘দ্বারভাঙা জেলার রমণী’ কবিতাটায় মোষ তাড়ানোর লাইনটা মনে পড়ে একবার ওই দিদিমার মূর্তিটা মনে পড়ে গিয়েছিল। আমার আর কোনো দিদিমার চেহারা ও-রকম পেশিবহুল ছিল না। খুব শক্তি ছিল গায়ে, অনায়াসে জাঁতা ঘুরাতেন। ওদের সেই মাটির ঘরের সামনে একটা বারান্দা ছিল, দাওয়াও বলা যায়। মাটির। ওখানে একটা কাঠের চেয়ার ছিল, একটা মাদুর এবং জলচৌকি ছিল। শৈলার লেখাপড়া ওখানেই। ওই বারান্দাতেই দিদিমা জাঁতায় ডাল ভাঙতেন, জমিতে খেসারির ডাল এবং মুসুরির ডাল হত। উঠানের একপাশে ছিল রান্নাঘর, ঘর থেকে বেরিয়ে উঠানে ১২-১৪ পা পেরিয়ে রান্নাঘর। রান্নাঘরে পাটকাঠির বেড়া শনের চাল এবং মাটির মেঝে। মাটির মেঝে জুড়ে মাটির উনুন। এই উনুনের জ্বালানি হল খুঁজে আনা শুকনো ডালপালা, ধানের কুঁড়ো, শুকনো পাতা এবং কাঠের টুকরো। জঙ্গল ছিল না, তাই শুকনো ডালপালা বেশি পাওয়া যেত না। তাই কাঠ কিনতে হত, এ-জন্য যতটা সম্ভব অন্যান্য জ্বালানি ব্যবহার করা হত। আমি আর শৈলা জ্বালানি খুঁজতে যেতাম। রাস্তার ধারের গাছে নাগালের মধ্যে ডালপালা পেলে ভেঙে নিতাম। রাস্তার ধারে বাবুই পাখির বাসা পেয়েছিলাম। আমার ইচ্ছে হয়েছিল, বাড়ি নিয়ে যাই। দিদিমা বলেছিলেন, তোদের তো কয়লায় রান্না হয়। এটা কী হবে? জ্বালানিই হয়েছিল। ঢেঁকি ঘরের পাশে ছিল গোয়াল ঘর, ওখানে গরু থাকত।

দিদিমার নিজেই দুধ দোয়াতে পারত। রাত্তিরে এরকম ঢেঁকি ছাটা চালের ভাত, বাড়ির গরুর দুধ এবং বাড়ির কলা, গাছের পাকা কলা মেখে, কাঁসার বাটিতে সত্যিকারে কব্জি ঢুবিয়ে খাওয়া। আহা! ওদের সেই বেড়ার ঘরের একদিকে রান্নার জায়গা, বাকি দুই দিক উন্মুক্ত দক্ষিণে চাষের জমি, তারপর বিল।

চাষের জমিতে কোনও রাস্তা নেই, আলের উপর দিয়ে হেঁটে যেতে হয়। ধান চাষ হত। সে-সময়ে হাইব্রিড ধানের প্রচলন হয়নি, ধান গাছগুলি লম্বা হত সাড়ে তিন-চার ফুট। বাতাস বইলে সবুজের উপর একটা আশ্চর্য ঢেউ দেখতাম। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘এমন ধানের উপর ঢেউ খেলে যায় বাতাস কাহার দেশে’ কথাটার চিত্ররূপ দেখতে পেতাম। শীতের আগে ধান কাটা হয়ে গেলে, যতদূর চোখ যায় ব্রাশের মতো সারা মাঠ জুড়ে ধান গাছের গোড়া। শুকিয়ে হলুদ। পাখির পাল নেমে আসে, মাটিতে পড়ে থাকা ধান খুঁটে-খুঁটে খাবার জন্য।

শীতকালে বিলের জল শুকিয়ে যেত, প্রচুর শোলা দেখতে পেতাম। যে-শোলা দিয়ে বিয়ের মুকুট হয়, প্রতিমার সাজ হয়। শোলা হল এক ধরনের জলজলতার কান্ড, যা জলের উপর ভেসে থাকে। শোনার বাইরেটা বাদামি খরখরে, ভিতরটা ধবধবে সাদা এবং নরম। বিলের মধ্যে বক নেমে আসত, কিছু জলজ পোকামাকড় তখনও নরম কাদার ভিতর থেকে যেত। কিছু ছেলেপেলে কেউ দেখেছিলাম, সারা গায়ে কাদা মেখে পাঁকাল মাছ খুঁজে যাচ্ছে। পাঁকের মধ্যে সেঁধিয়ে থাকে বলেই এই মাছের নাম পাঁকাল। এই মাছেরা হয়তো এখানেই মরে যায়, প্রচুর মরা ঝিনুকও পাওয়া যেত। মুক্তোর মতো এই ঝিনুকের তৈরি গয়না হয়। ফ্যাশনবতি মেয়েরা এইসব পরে। পরে জেনেছি। ঝিনুক ছিল আমাদের চামচ। দুধ জ্বাল দেওয়া হত লোহার কড়াইতে। দুধ পরিবেশন হয়ে গেলে কড়াইয়ের গায়ে শুক সর লেগে থাকত। ঝিনুক দিয়ে চেঁচে আমাদের খেতে দিত। এর নাম চাঁচি। আহা কী দারুণ ঝিনুক দিয় কড়াই চাঁচার শব্দটা আর পাব না কখনও।

আমাদের কলকাতাতেও তো গরুর দুধই আনা হত।। তবে গোয়ালাদের দুধে এত ভাল চাঁচি হত না। চাঁদপাড়ার গরু ছিল ঘাস খাওয়া গরুম প্রচুর চাঁচি হত। ওই বিলে বর্ষাকালে যাওয়া সম্ভব ছিল না, কারণ প্রচুর কাদা। ওই বিলে নাকি প্রচুর মাছ ছিল। কখনো ওখানকার মাছ এনে শৈলাদের বাড়িতে বিক্রি করেছে। কত রকমের মাছ— শিঙি, সোল, ল্যাঠা, পাঁকাল, কই, চ্যালা… তখন কী এত রকমের মাছের নাম জানতাম নাকি? মাটির হাঁড়িতে কিলবিল করা মাছগুলো যেন দিদিমার আনন্দের অংশ। কয়েকদিন ধরে রাখা থাকত। ফ্রিজ তো সারা চাঁদ পাড়াতেই হয়তো কারও বাড়িতেই ছিল না।  রান্না হয়ে গেলে জ্বাল দিয়ে-জ্বাল দিয়ে রেখে দেওয়া হত। মাছের নানা রকম পদ হত। এর মধ্যে বিশেষ ব্যাপার ছিল কলাপাতায় মুড়ে পাতুড়ি। বাঙালরা মাছের টক খাওয়াটা বোধ হয় পছন্দ করত না। কারণ জানি না। গেঁড়ি, গুগলি, ঝিনুক তো পাওয়া যেত প্রচুর। কিন্তু এসব খাওয়া হত না একেবারেই। অনেক পরে বর্ধমান জেলায় কর্মসূত্রে গিয়ে গেঁড়িগুগলি খেয়েছিলাম।

ওই বিল থেকে একটা মায়াবি জলজগন্ধ পাওয়া যেত, কিছু কচুরিপানা, যা পুরোটা শুকায়নি, এর উপর দিয়ে হাঁটলে হালকা ফটাস শব্দ হত। শব্দ-চিত্র-গন্ধময় সুখস্মৃতি। চাঁদপাড়া গিয়েছি গরমের ছুটিতে, শীতে, পুজোর ছুটিতেও কখনও। পুজোর ছুটিতে গিয়ে বেশ কয়েকবার বাড়ির উঠোন থেকে দূরের মাঠে আলোর খেলা দেখেছি। ফুস করে আলোর একটা বল উঠে গেল। একটু নাচতে লাগল। কখনও-বা দু’তিনটে আলোর বল। কয়েক সেকেন্ড এরকম আলোর খেলা দু’তিন মিনিট ধরে চলেছে। দিদিমা বলত, ‘বিলের ভূত, তবে ওরা ভাল ভূত, কারও ক্ষতি করে না।’ দাদু বলতেন, ভূতপ্রেত নয়, অন্য কোনও বৈজ্ঞানিক কারণ আছে, যা আমি জানি না। আরও পরে জেনেছিলাম, একে বলে আলেয়া। পচে যাওয়া জলজ জৈব থেকে মিথেন গ্যাস তৈরি হয়। ওই মিথেন গ্যাস আর অক্সিজেনের কারসাজিতে ওই আলো।

শৈলা আমারই বয়সি। সে-দিনও ফোনে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আলেয়া কি আর দেখিস রে শৈলা? ও বলেছিল, আলেয়া? ভূতের সেই খেলা? ভাল মনে করালি… বহুদিন দেখিনা রে… জিজ্ঞাসা করেছিলাম, বিলটা আছে আর? ও বলে বিল যাবে কোথায়? তবে বিল অবধি রাস্তা হয়ে গেছে, ভ্যান যায়। ওখানে আরও কিছুটা গভীর করা হয়েছে। মাছ চাষ হয়। জিজ্ঞাসা করি,  কো-অপারেটিভ? ও বলে না-না অঞ্চল প্রধানের এক ভায়রাভাই আর…

ওদের এখন দোতলা পাকা বাড়ি, সুখময়কাকুর দুই ছেলের দুটো মোটরসাইকেল। শৈলার নিজের কোনও সংসার নেই, আমি আবার সেই বেড়ার ঘরেই ফিরে যাই। শীতকালে বাঁশের বেড়ার ফাঁক দিয়ে কী কনকনে ঠান্ডা হাওয়া ঢুকত। দিদিমার ছিল অনেক কাঁথা, কম্বল একটাও না।  কাঁথাগুলির মধ্যে আশ্চর্য এক গন্ধ। কাঁথাগুলি বেশিরভাগই দেশের বাড়ি থেকে নিয়ে আসা, এর মধ্যে পূর্বপুরুষ পূর্ব নারীদের গায়ের গন্ধ দুটো বা তিনটে কাঁথা জড়াতাম। তাতেও শীত লাগত, আমি আর শৈলা পাশাপাশি শুতাম। শীতের জন্য দু’জনে জড়াজড়ি করে শুতাম। তলপেটের দিকটা শরীরের অন্য অংশের তুলনায় গরম। আমার এবং শৈলার হাত একে অন্যের তলপেটের দিকে চলে যেত হাফ প্যান্টের ভিতর দিয়ে। নুনু ঘাঁটাঘাঁটি হত। পরদিন সকালে এই নিয়ে নিজেরা কোনও কথাবার্তাই বলতাম না।

শৈলা আমারই বয়সি। সে-দিনও ফোনে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আলেয়া কি আর দেখিস রে শৈলা? ও বলেছিল, আলেয়া? ভূতের সেই খেলা? ভাল মনে করালি… বহুদিন দেখিনা রে… জিজ্ঞাসা করেছিলাম, বিলটা আছে আর? ও বলে বিল যাবে কোথায়? তবে বিল অবধি রাস্তা হয়ে গেছে, ভ্যান যায়। ওখানে আরও কিছুটা গভীর করা হয়েছে।

চাঁদপাড়ায় হাট তো সপ্তাহে দু’দিন। শনি আর মঙ্গলবার। ওদের বাড়ি থেকে দু’আড়াই কিলোমিটার দূর। শৈলাদের পাড়া থেকে স্টেশন, স্টেশন পেরুলে সেগুন গাছের সারি। সাহেবরা নাকি লাগিয়েছিল। কচি সেগুন পাতা হাতে কচলালে একটা লাল রঙ হয়, সেটা ছিল আমার বাল্যকালের আবিষ্কার। এরপর লাইন দিয়ে যাওয়া। তলায় একটা সোঁতা। দুই লাইনের মাঝখানে লোহার পাত। কয়েকটা পাত নেই। সাবধানে যেতে হয়। ওটা একটা থ্রিল। অ্যাডভেঞ্চার সেগুনবাগান পেরুলেই ওই অ্যাডভেঞ্চারের জন্য ছিল আমার অপেক্ষা। ওই কালভার্ট পেরোলেই রেললাইন থেকে নীচের দিকে নেমে গেছে একটা কাঁচা রাস্তা। দু’ধারে বড়-বড় ঘাস জঙ্গল, কয়েকটা শিশু গাছ। বিরাট আকৃতি। এবার যশোর রোডের দিকে ঘুরেছে। পর পর বেশ কয়েকটা পাটের গুদাম। হাট আরম্ভ। একটা তেলেভাজার দোকান। বিরাট-বিরাট ফুলুরির মাথায় হাঁসের ডিমের একফালি। এর নাম অ্যাটম বোম। একটা অ্যাটম বোম তো খাওয়া চাই। দু’পয়সা। তারপর একে-একে শুরু হল— সবজি বাজার, মাছ বাজার, মশলাপাতির বাজার, যেহেতু সপ্তাহে দু’বার মাত্র হাটবার, তাই বাজারটা বেশিই করতে হত।  আলু, লাউ, শীতকাল হলে মূলো-কপি ইত্যাদি। পেঁয়াজ নিতে হত না, কারণ পেঁয়াজ খাওয়া হত না। ব্যাগ বেশ ভারী হয়ে যেত। বেশ তো দু’জনেই বয়ে নিয়ে যেতে পারতাম। মাছ খুব কিছু কিনতাম না, এক বেলা বা দু’বেলার মাছ কিনতে বলত। আমি আর ক’দিন থাকতাম… অন্য সময়ে কখনও দাদু নিজেই আসতো শৈলার সঙ্গে নইলে শৈলার পাড়ার বন্ধুরা তো ছিলই….