
অলিগলির কালীঘাট : পর্ব ১৮
‘আমাদের বড্ড কাছাকাছি। জায়গাটা ঠিক কোথায়, চিন্টু বলেনি। বুঝে নিয়েছে। ঠিক হল, মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধেই চিন্টু যাবে সেই সিনেমার পরিচালকের বাড়ি। ও, রুমি অ্যালবাম নিয়ে এসেছে। আমি আর চিন্টু উঠে পড়েছি গঙ্গারামের রিকশায়।’

‘আমাদের বড্ড কাছাকাছি। জায়গাটা ঠিক কোথায়, চিন্টু বলেনি। বুঝে নিয়েছে। ঠিক হল, মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধেই চিন্টু যাবে সেই সিনেমার পরিচালকের বাড়ি। ও, রুমি অ্যালবাম নিয়ে এসেছে। আমি আর চিন্টু উঠে পড়েছি গঙ্গারামের রিকশায়।’

‘তবে গঙ্গার জল সরবরাহের ভূগর্ভের পাইপ-লাইনের অস্তিত্ব এখনও দেখা যায়। মহাজতি সদনের পিছনের গলিগুলোতে, কারবালা ট্যাঙ্ক লেনে, মানিকতলা অঞ্চলে চোখে পড়েছে।’

‘তাঁর লেখার মধ্যে পাঠকেরা পেয়েছিলেন দার্শনিকের অন্তর্দৃষ্টি। লিও তলস্তয় বা ফিয়োদর দস্তভয়েস্কির লেখার পাশাপাশিই তাঁর লেখায় তাঁরা পেলেন নৈতিকতা, বিশ্বাস, আর মানুষের জীবনের অর্থের অনবরত সন্ধান।’

‘বউদি বাপের বাড়ি গেল। মহিলাদের মুখে পোয়াতি কথাটা শুনেছিলাম শৈশব থেকেই। মানেটাও বুঝতাম। পুরুষ গুরুজনরা বলত গর্ভবতী, দাদু বলতেন অন্তরাবর্তী। কিছুদিন পর বউদি ফিরল কোলে বাচ্চা নিয়ে। ছেলে হয়েছিল। পিসেমশাই নাম রাখলেন সুজিত।’

সুবিমল বসাকের প্রয়াণের পর, তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তাড়া-তাড়া চিঠি। সামান্য কয়েকটি ইতিপূর্বে প্রকাশিত হলেও, অধিকাংশই ছিল অপ্রকাশিত। অপ্রকাশিত চিঠির সেই ভাণ্ডারের আজ শেষ পর্ব। এই পর্বে সৈয়দ মুজতবা আলী, মণীশ ঘটক, মৈত্রেয়ী দেবী ও অশোক মিত্র।

‘কী সৃষ্টিশীল জীবন! অপূর্ব এক ফ্রেমকাহিনি! কলকাতাকে চিনেছেন মনে-প্রাণে, একাগ্রভাবে। বহু বিখ্যাত মানুষ ওঁর সঙ্গে কলকাতা ঘুরেছেন, সে-কথা বহুল আলোচিত। স্ট্রিট-ফটোগ্রাফিতে তো ওঁর তুলনা নেই বললেই চলে।’

‘যে-অঙ্কগুলি আমি পারি না, ভাল ছেলেদের কাছে সে-সব জলভাত। জ্যামিতির যে-এক্সট্রা গুলো স্যর করাচ্ছেন, সে-সব আমার আয়ত্তের বাইরে। আমি লজ্জা পেতে লাগলাম। আমি ব্যাকবেঞ্চার হতে-হতে, লাস্টবেঞ্চার হয়ে গেলাম।’

‘‘আমরা বিরুদ্ধ স্বর শুনলেই খড়্গহস্ত এবং সবসময়ে মুঠোর মধ্যে স্মার্টফোন নিয়ে জোড়হস্ত। কারোর কথা শোনার সময় নেই, আলোচনা করার সময় নেই, কিন্তু প্রচুর ‘অপনিয়ন’ আছে আমাদের, যা অনেক ক্ষেত্রেই আমার মনে হয় ‘রিল’ থেকে ধার করা, ‘রিয়েলিটি’-র বড় অভাব।’’

‘‘কুয়াশা ছাড়া আর যে-রহস্য সান ফ্রান্সিসকোতে ট্যুরিস্টদের অবাক করে দেয়, তা হল যখন-তখন কনকনে ঠান্ডা হাওয়ার দাপট। এটা নিয়েও বেশ গর্বিত এখানকার মানুষ। এটা নাকি প্রাকৃতিক এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থা। যাকে পরিবেশ বিজ্ঞানের ভাষায় ‘চিমনি এফেক্ট’ বলা হয়। কুয়াশার নেপথ্যে যে কারণ, এর পিছনেও তাই।’’

‘মাল্টিপ্লেক্স এল, সিঙ্গেল থিয়েটার আস্তে-আস্তে কমতে আরম্ভ করল। মাল্টিপ্লেক্স-সংস্কৃতি আমেরিকা-তেই প্রথম শুরু হয়েছিল, কারণ ওরা দেখল লোকজন সিনেমাহল-বিমুখ হয়ে পড়ছে ক্রমাগত। রেস্টুরেন্ট-জামাকাপড়— এসবের মধ্যে সিনেমাহল নিয়ে এলে নাকি, লোকের দেখার সম্ভবনা বেড়ে যায়।’

‘‘১৯২২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি এল্মহার্স্ট রথীন্দ্রনাথ-সহ কয়েকজনকে নিয়ে ঘুরে গেলেন সুরুল। ফিরে এসে শান্তিনিকেতন বাড়ির দোতলায় রবীন্দ্রনাথের উপস্থিতিতে শুরু হল পরিকল্পনা। সাহেব আর দেরি করতে চান না। অতএব, পরদিন ৬ ফেব্রুয়ারিই শুরু হয়ে গেল সুরুলের ‘স্কুল অফ এগ্রিকালচার’-এর কাজ।’’

‘১৯৩৬-এর শুরু থেকেই হাসান শাহিদ সুরাবর্দিকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় বুধমণ্ডলীতে। মনে রাখতে হবে, যামিনী রায় তখনও সে-আড্ডার সক্রিয় সদস্য নন, যদিও তাঁর অনুপস্থিতিতেই উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার আড্ডায় তাঁকে নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চলেছে দিনের পর দিন— প্রধানত সুধীন্দ্রনাথ ও সুরাবর্দির আগ্রহেই।’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.