
ভোট-বঙ্গের রঙ্গ-রস
‘পরিবর্তন কীভাবে আসবে, চুপিসাড়ে না সরবে, তা বলবে পরিবেশ-পরিস্থিতি এবং সময়; রায় দেবেন জনতা। তবে পরিবর্তন বা প্রত্যাবর্তনের বার্তা শুনতে পায় দেওয়াল। কেননা দেওয়ালেরও কান আছে। ততদিন আমরা চোখ খোলা রাখি দেওয়ালে-দেওয়ালে।’

‘পরিবর্তন কীভাবে আসবে, চুপিসাড়ে না সরবে, তা বলবে পরিবেশ-পরিস্থিতি এবং সময়; রায় দেবেন জনতা। তবে পরিবর্তন বা প্রত্যাবর্তনের বার্তা শুনতে পায় দেওয়াল। কেননা দেওয়ালেরও কান আছে। ততদিন আমরা চোখ খোলা রাখি দেওয়ালে-দেওয়ালে।’

“শ্রোতা থেকে শ্রোতৃমণ্ডলীর মধ্যে প্রবল সাড়া জাগিয়ে, ‘দেবীং দুর্গতিহারিণীম’ বিশেষ অনুষ্ঠানটি ২৩ সেপ্টেম্বর, মহালয়ার ভোরে, চারটে থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত প্রচারিত হল। প্রথমে গুঞ্জন, তারপর বেলা বাড়তেই তা বিক্ষোভের আকার নিল। গঙ্গার ঘাটে তর্পণে আসা লোকজনরা অসন্তুষ্ট।”

‘এইরকম কত সহস্র দেবদেবী পানের পিকের মুখে ভাবলেশহীন মুখে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন তার ইয়ত্তা নেই। পিক প্রতিরোধের প্রহরায় নিযুক্ত দেবদেবীরা যে সর্বত্র নিজেদের উজ্জ্বল ভাব বজায় রাখতে পেরেছেন তা নয়। অনেক অবাধ্য পান-প্রিয় বে ভক্তরা বেসামাল ভাবে দেবদেবীর গায়েও এঁকে দিয়েছেন লাল রঙের উলকি-ঝুলকি।’

‘চাষের ক্ষেত্রটিতে রবীন্দ্রনাথ যে বরাবর খুব সফল হয়েছেন, তা নয়। কিন্তু তাঁর পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেমে থাকেনি। ব্যর্থতাকেও শিক্ষার অঙ্গরূপে ধরে নিয়েই তিনি এগিয়েছেন আজীবন। এখানেই তাঁর স্বাতন্ত্র্য।’

‘রাস্তাঘাটের বাঁকে বাঁকে ফেরিওয়ালার ডাক কমে এসেছে। অন্যদিকে ট্রেনে বাসে ও ফুটপাতে হরেকরকম হকারদের হাঁকডাক বেড়েই চলেছে। যদিও ট্রেনে হকারি আজকের নয়, সম্ভবত ট্রেনের আরম্ভকাল থেকেই এই বিক্রেতারা আছেন।’

অষ্টাদশ শতকে শুভঙ্কর ছাপাখানার আনুকূল্য পাননি। তিনি ছিলেন বিশুদ্ধ মানসাঙ্ক প্রণেতা। সাধারণ মানুষ তার নিজের প্রয়োজনে ‘শুভঙ্করের আর্যা’কে মনে রেখে বংশ-পরম্পরায় জিইয়ে রেখেছে।

‘এ তো নির্মল বাংলা বা স্বচ্ছ ভারতের ক্যামেরাবন্দিত ঘটাপটার দেখনদারি ঝাটপাট নয়, রুটিন পরিচ্ছন্নতা। সমাজ, সংসার, পরিবেশ, পরিজন সম্পর্কে শিশুর বোধের জাগরণ ঘটানোর পাঠ তো ‘সহজ পাঠ’-এর পাতায়-পাতায়।’

‘ভোটের প্রার্থীরা ভিখারির মতো ঘুরছেন ট্রেনে-বাসে, খেতে-খামারে, চায়ের দোকানে, পাড়ার আড্ডায়, এমনকী গেরস্থের রান্নাঘরেও তাঁরা ঢুকে পড়ছেন। মুখভরা হাসি আর গালভরা প্রতিশ্রুতিতে প্রমাণের আপ্রাণ প্রচেষ্টা, ‘আমি তোমাদেরই লোক’।’

‘শুধু কি তাই, আয়ুর্বেদশাস্ত্রে আছে— ‘ঘৃতং রসায়নং স্বাদু চক্ষুষ্যং বহ্নিদীপম/শীতবীর্য্যং বিষালক্ষীপাপপিত্তানিলাপহম।’ অর্থাৎ, ঘিয়ের মধুর রস চোখের পক্ষে হিতকর, বীর্যের শীতলতার সহায়ক। এ হল বিষ, অলক্ষ্মী, পাপ, পিত্ত, বায়ুনাশক।’

‘বিয়ের যোগসূত্রে মঙ্গলসূত্র নিয়ে কাটাছেঁড়ার তুলনায় বিবাহিত নারীর সিঁথিতে সিঁদুর নিয়ে আলোচনা হয়েছে বেশি। প্রগতিশীলরা প্রশ্ন তুলেছেন, নারীবাদীরা একে পুরুষের দখলদারিত্বের প্রমাণ হিসেবে প্রভূত দিকচিহ্ন দাখিল করে একে স্ত্রীজাতির লজ্জাচিহ্ন হিসেবে দাগিয়েছেন।’

‘সাবানের সঙ্গে সিনে-সুন্দরীদের সোহাগের সম্পর্ক স্থাপনের শুরুটা হয়েছিল লাক্স টয়লেট সাবান গায়ে মেখে। সময়কাল ১৯২৯, লাক্স সাবানের প্রথম তারকা-সুন্দরী লীলা চিতনিস। তখন লাক্স সাবানের দাম দু’আনা। যদিও লাক্সের পথ চলা তারও তিন দশক আগে।’

‘সেই যে স্বদেশি যুগে ও হুজুগে রবীন্দ্রনাথ এক ইঙ্গবঙ্গ পার্টিতে বিধি ভেঙে ধুতি-চাদর পরে গেলেন, সে নিয়ে প্রথম দিকে নীচু স্বরে সমালোচনা হলেও পরবর্তীতে সেই ‘ন্যাশনাল ড্রেস’ কংগ্রেসের পোশাক হয়ে গেল।’ কবির ফ্যাশন।
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.