ছোট্ট ভ্রূণ যতই হাত-পা ছুঁড়ে বলুক, ‘না, আমি যাব না, কিছুতেই যাব না পৃথিবীতে’, তবু, জীবন অবধারিত! যতই শুক্রাণু চিৎকার করে বলুক— ‘আমি ডিম্বাণুর মুখ দেখব না, আমাদের ঝগড়া;’ তাও জন্মাতেই হবে। কিন্তু, জন্মানোর পর, জীবনের অভিজ্ঞতা আপনাকে বাধ্য করবে, কোনও একটা পর্যায়ে এই প্রশ্ন করতে— কেন জন্মালাম? জন্ম তো অ্যামিবারও হয়, তাই জন্মের মূল্য প্রায় নেই বললেই চলে, যতক্ষণ না আপনি ক্ষমতাকে তুষ্ট করে, একজন কেউকেটা হয়ে উঠছেন।
কিন্তু, উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে আছে অবধারিত মৃত্যু, যে আপনাকে সত্যিকারের বেঁচে থাকার উৎসাহ দেবে। মৃত্যুই বলবে, জীবন কত সুন্দর একটা অভ্যেস। কারণ মরার পরই তো বাঁচার শুরু। কৃপণ দুর্মুখ ব্যবসায়ীও মরে যাওয়ার পর, মানুষের কাছে— ‘লোকটা ভাল ছিল’ হয়ে যায়। মানুষকে লাথি মেরে, কাককে খেতে দেওয়া পরিত্রাতা হয়ে যায়। প্রবাদ কি আর এমনিতে তৈরি হয়!
আরও পড়ুন: মৃত্যুকে ক্ষতিপূরণের চাদর দিয়ে ঢেকে দেওয়া নতুন কিছু নয়! লিখছেন শঙ্খদীপ ভট্টাচার্য…
‘ছদ্মবেশী’ সিনেমায় ড্রাইভার-বেশী জহর রায় বলেছিলেন, ‘মরা হাতির দাম লাখ রুপেয়া আছে, জিন্দা হাতির দাম কুছু নাহি।’ পর্দায় বিকাশ রায় এ-কথা শুনে, প্রবল বিরক্ত, পর্যুদস্ত। আমাদের অবস্থা খানিকটা এখন তাই। কারণ এখন বিষয়টা তো আর শুধু সংলাপে সীমাবদ্ধ নেই। নিশ্চিন্ত ব্রহ্মের মতো স্থানু, অস্থানু, টিকটক— সর্বত্র ছড়িয়েছে। ব্যাপারটা আগে যে ছিল না, এমনটা কিন্তু নয়। ভ্যান গঘ একটাও ছবি বিক্রি হয় না বলে, ভাই থিওর কাছে নিয়মিত ঘ্যানঘ্যান করেছেন আমৃত্যু। এডগার অ্যালান পো যখন লিখছেন, ‘And all I loved, I loved alone,’ সে-অভিজ্ঞতা একা বেঞ্চে বসে কুঁকড়ে যাওয়া মৃত্যুর চেয়ে কিছু কম ছিল না। ফ্যাটফ্যাটে চোখ-ঝলসানো সাদা মৃত্যু। ‘ধার’ আর ‘মদ’-কেন্দ্রিক গল্পে, যখন ঋত্বিক ঘটক অপরিহার্য উপাদান হয়ে ওঠেন, তখন আমার সরল মন জানতে চায়— ঋত্বিক অ্যানার্কিস্ট হলে লাভ আসলে কার? জীবনানন্দের উপেক্ষার ইতিহাস বন্দনায় কাদের মুনাফা বেশি? মৃত শিল্পীদের বঞ্চনার ইতিহাসে, বাজারে ঠিক কত কেজি দরে স্বীকৃতি বিক্রি হয় বিক্রেতার?
এমনকী, সত্যজিৎ রায়ের ক্ষেত্রেও এ-কথা খাটে। কেরিয়ারের মধ্যগগনে, ‘সোনার কেল্লা’ নির্মাণের সময়ে, যে-পরিচালকের প্রযোজক নিখোঁজ হয়ে শুটিং শুরু হয় না, তাকে ঢাল বানিয়ে এই যে অমর-চিত্রকথা, তা দেখে উনি নিশ্চিত রোমাঞ্চিত হতেন। ওঁদের মৃত্যু যে আসলে দেশ ও দশের, সর্বোপরি নব্যশিল্পী, ভ্লগার আর ব্যবসায়ীদের জন্য এতটা লাভদায়ী হতে পারে, তা ওঁরা জীবদ্দশাতেও টের পাননি। এহেন সাফল্যে, ওঁদের কাছে গণ-আত্মহনন বিন্দুমাত্র আশ্চর্যর বিষয় হত না।
আসলে, শিল্পীরা তো মরে ‘উপেক্ষা’য়। আর উপেক্ষা এ-সভ্যতার নিয়মিত অভ্যাস। শারীরিক মৃত্যুর অনেক আগেই, উপেক্ষা আর অবহেলায় শিল্পীরা খুন হয় প্রতিনিয়ত। নিজের শিল্পের ব্যর্থতার দায়ভারে, শিল্পী আত্মহনন করে। রোজ। মরা হাতির শরীরে তখন ব্যবসায়ীদের অধিকার। নখ, চুল, ব্যক্তিগত চিঠি, ফেলে দেওয়া লেখা, ছবি, অপ্রকাশিত বাণী, অবৈধ সন্তান, সব বিক্রি হয় নিক্তি মেপে। কিছু বাদ পড়ে না, রবীন্দ্রনাথের দাড়িও না।
সম্প্রতি, আমার এক দীর্ঘদিনের বন্ধুবিয়োগ হয়েছে। লেখক, অভিনেতা, গুণী শিল্পী। গুণের মূল্য আক্ষরিক অর্থে সবচেয়ে বেশি যেখানে সে পেয়েছে, সেটা টেলিভিশনের সেট। একটা সময়ে নিয়মিত কাজের অভাবে নিজের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। লেখালিখির পরিমাণ বাড়িয়ে ফেলেছে নিজেকে প্রকাশের তাগিদে। ভাল অভিনেতা, অথচ সিনেমার সংখ্যা ক্রমশ কমছে, কিংবা চরিত্রের দৈর্ঘ্য। নিজেকে যথাযথ প্রকাশ না করতে পারার যন্ত্রণা, বয়ে বেড়িয়েছে দীর্ঘকাল। ছবি বানাতে চেয়েছিল, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সত্যি সিনেমা। প্রযোজক শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে আসেন। বাকি প্রযোজকরা গুরুত্বই দেননি সেভাবে। যাত্রা করেছে দু-তিন সিজন, অর্থের জন্য। সম্প্রতি নাটক লিখে তাতেও অভিনয় শুরু করেছিল। শুধু আর শুধুই নিজের শিল্পীটাকে খেতে দেওয়ার তাগিদে। শিল্পীর খিদে তো আর বিরিয়ানি ভরাতে পারে না। চাই কাজ, নিজেকে প্রকাশ করার সর্বগ্রাসী কাজ।
দুর্ঘটনায় ওর শারীরিক মৃত্যু হয়। কিন্তু আমি জানি, আমি চিনি, ও নিজের প্রতিদিনের আত্মহনন লুকিয়ে রাখত। হাসিতে-কথায়-লেখায়— যেভাবে আমরা লুকিয়ে রাখি। বাঁচি, আবার একইসঙ্গে মরি। রোজ, প্রতিদিন। অবহেলায়। ও কিন্তু এত কিছু হতে চায়নি। অভিনেতা হতে চেয়েছিল, নায়ক হতে চেয়েছিল, গ্ল্যাডিয়েটরের রাসেল ক্রো হতে চেয়েছিল, খালি হাতে বাঘের সঙ্গে লড়াইয়ের অভিনয় করতে চেয়েছিল। আমি সে আদ্যন্ত রোমান্টিক ছেলেটাকে চিনি, যে আমায় বলেছিল, কোনওদিন বিয়ে করবে না, কারণ প্রেমিকাকে দাঁত মাজতে দেখার দৃশ্য সে সহ্য করতে পারবে না। জন লেনন যাদের ড্রিমার বলেছিলেন, ও তাদেরই একজন। আমি জানি। ওর শরীরী মৃত্যুর পর এই বিগ বসের যুগে, ক্যামেরাই যে সবচেয়ে মহার্ঘ্য সম্পদ, টের পেলাম।
রাজনীতিবিদ থেকে নব্য অভিনেতা, সবাই কী চমৎকার এ-মৃত্যুকে মঞ্চ বানিয়ে, শোক উল্লাসকে আত্মপ্রচারের হাতিয়ার করে তুললেন। জীবিত অবস্থায় যে হাতির মূল্য ছিল, ‘কুছু নাহি’, মৃত্যুর পর তার দাঁত, হাড়গোড়, চামড়া সব বিক্রি হতে লাগল, তাদেরই চোখের জলে, যারা এ-যাবৎ বলে গিয়েছেন, ‘ওকে দিয়ে হবে না, ওকে কাজে নিও না।’ কে নেই সে তালিকায়? প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা, অভিনেত্রী? প্রত্যেকেই এই মৃত্যুর ফ্ল্যাশবাল্বের সবটুকু আলো শুষে নিতে চেয়েছেন, নিজের ড্রয়িংরুমে ঝাড়বাতির ঔজ্জ্বল্য বাড়াবেন বলে। ওহ কী নিষ্ঠুর! মৃত্যু নাকি সব ভুলিয়ে দেয়। ভেদাভেদ। মৃত্যু তো মনে করিয়ে দেয় পাওনাগণ্ডা, কাজ। ওকে ঘিরে এই যে জনজোয়ার, প্রতিবাদ, বিপ্লব, সে কি ওর শিল্পীসত্তা রক্ষার জন্য, না কি, ব্যক্তিগত লাভের আখের আরও স্পষ্ট আলোতে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য?
জীবিত, জনৈক অভিনেতা, অভিনব পদ্ধতিতে নিজের মৃত্যু প্রচার করছেন। অভিনেত্রী, শোকসভায় নিজের পলিটিক্যাল আক্রমণের ব্যঙ্গোক্তির হুল ফোটাচ্ছেন, পরিচালক-প্রযোজকরা দুঃখে পাথর হয়ে যাচ্ছেন। সবাই বাইট দিচ্ছেন নানারকম। ন্যারেটিভের নায়ক বানিয়ে ভিলেন খোঁজা চলছে। ডাইনি শিকার হবে! আর সবই হচ্ছে ক্যামেরার সামনে। আড়ালে যে যার জীবনে, ব্যস্ততায়, কাজে, অকাজে, ধান্দাবাজিতে।
অরুণোদয়ের অনুপস্থিতি, শুধু সেই গুটিকয়েক মানুষের জীবনে শূন্যতা তৈরি করে গেল, যাদের সঙ্গে ওর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। বহুদিন। ভাল-মন্দে, খারাপে, ঝগড়ায়। তারা ক্যামেরার সামনে কাঁদেনি। কারণ তারা কাঁদতে দেখেছে ওকে। তারা শিল্পীর মৃত্যু দেখেছে, শিল্পের মৃত্যু দেখেছে। তারা মৃত্যু-উৎসবে ফেরেনি। আজও ফিরবে না। তারা জানে, তোর মৃত্যু মিছিলে এত ভিড় দেখলে, হাসতে-হাসতে বলতিস, ‘শালা, মরে তো ভালই হল। আমার এত ভক্ত জানলে শুটিংয়েই যেতাম না। এদের থেকে ইএমআই আর সংসার-খরচের টাকাটা নিয়ে নিতাম। বাবলু (সহকারী ও চালক), মাঝখান থেকে কাগজে ছবিটবি বেরিয়ে পাড়ায় হিরো হয়ে গেলি, হ্যাঁ!’
জীবিত, জনৈক অভিনেতা, অভিনব পদ্ধতিতে নিজের মৃত্যু প্রচার করছেন। অভিনেত্রী, শোকসভায় নিজের পলিটিক্যাল আক্রমণের ব্যঙ্গোক্তির হুল ফোটাচ্ছেন, পরিচালক-প্রযোজকরা দুঃখে পাথর হয়ে যাচ্ছেন। সবাই বাইট দিচ্ছেন নানারকম। ন্যারেটিভের নায়ক বানিয়ে ভিলেন খোঁজা চলছে। ডাইনি শিকার হবে!
সম্প্রতি পরিচালক অনীকদা আত্মহনন করেছেন। শারীরিকভাবে। শিল্পীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। জীবন বেছে নেওয়ার অধিকার পাননি। কোন দেশে, কোন রাজ্যে, কোন পরিবারে জন্মাবেন, তা বেছে নেওয়ার সুযোগ পাননি। মৃত্যু-সিদ্ধান্তটা ভবিতব্যের হাতে না ছেড়ে দিয়ে, নিজে বেছে নিয়েছেন। এভাবেই চিনি অনীকদাকে। সাহসী লোক। ‘ডিজরাপ্টর’। শিল্পী মাত্রেই সে ডিজরাপ্ট করবে, সেটাই স্বাভাবিক। নিজের মৃত্যু বেছে নিয়ে, জীবন নিয়ে আদেখলামোতে সেই ডিজরাপশনটাই করলেন।
এবার তাকে নিয়ে উৎসব শুরু হয়েছে। আনন্দ-নবঘন উৎসব। বেশ কিছু বছর ধরে অসুস্থ অনীকদা। শেষ ছবি ‘যত কাণ্ড কলকাতায়’-এর শুটিং ফ্লোরে পর্যন্ত উপস্থিত থাকতে পারেননি, এতটাই অসুস্থ। সহকারী পরিচালককে দিয়ে কাজ শেষ করতে হয়েছে। শারীরিকভাবে ভগ্নদশা। ব্যক্তিগত জীবন, কর্মক্ষেত্র বিপর্যস্ত। সাহায্যের কোনও প্রতিশ্রুতি বা নিশ্চিন্ততা নেই। বিগত সরকারের সঙ্গে প্রতিদিনের লড়াই। রোজকার লড়াইয়ে জুঝতে-জুঝতে শিল্পী কি বেঁচে ছিল? কিন্তু আজ বাঁচানো হবে, কারণ ওঁর শরীরী মৃত্যু হয়েছে। তাই নন্দনে ছবির রেট্রোস্পেকটিভ, সোশ্যাল মিডিয়াতে উপচে পড়া শ্রদ্ধার্ঘ্য, ভিড়, ঢল, বক্তব্য, ফুল, স্তুতি।
কিন্তু অনীকদার কী যায় আসে? আপনার আসে। আপনাদের আসে। মৃত্যুকে সিঁড়ি বানিয়ে, নিজেকে উঁচু অলিন্দে প্রবেশের রাস্তা খোঁজার। মূলধারার মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে না হয় না-ই লেখার ভার বাড়ালাম। অভিনেত্রীদের বিকিনির বিবরণ থেকে সইফ আলির ছেলে দুপুরে কী খেল, আর বাকিটায় যার যত বক্তিমে, তার সামনে তত মাইক। শব্দ ব্রহ্ম। মৃত্যু-উৎসবে সেই ব্রহ্ম, ব্রহ্মতালুতে ঘা দিচ্ছে ক্রমাগত।
কেউ ফিরুক না ফিরুক, নেতাজিরও ফেরার দরকার নেই, অনীকদা ফিরুন। একবার ফিরুন, বেশি না, দশ মিনিটের জন্য। আমি চিনি বদরাগী, মেজাজি, স্পষ্টবাদী, উত্তেজিত লোকটাকে। বাটাম নিয়ে নন্দন চত্বরে তাড়া করবে সবকটা বজ্জাত নন্দনকে।
ভাবুন, ভ্যান গঘ ফিরে এসে দেখলেন, তার অরিজিনাল ছবির দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের এতটাই বাইরে যে, টি-শার্টে আঁকা হয়ে তা বিক্রি হয়। লাভক্র্যাফ্ট জানলেন, তার নামে লেখার ঘরানা তৈরি হয়েছে— লাভক্র্যাফ্টিয়ান! তার লেখার ভারী নাম হয়েছে কসমিক হরর! সন্দীপন পড়লেন, তার লেখা নিয়ে থিসিস পেপার হচ্ছে! সুনীলকে বাদ দিয়ে! এডগার অ্যালান পো এখন এতটাই বিখ্যাত যে, শুধু তার নামের ভারেই সিনেমা, সিরিজ অনুমোদন পেয়ে যায়।
কিন্তু আনন্দসংবাদ এটাই, এঁদের কেউ ফিরবেন না। আর তাদের মৃতদেহের ওপর আমরা উৎসব করব। মৃতদেহকে ছোট-ছোট টুকরো করে, আগুনে ঝলসে, নিজের আর পরিবারের উদর পূর্ণ করব। টাটকা মাংস। ঝলসানো। শিল্পী মরলে তাই ভয় হয় আজকাল। সন্দীপনের ভাষায়, মৃত্যু-শিক্ষায় আমি শিক্ষিত নই। কিন্তু এখন ভয় পাই, তার পরবর্তীটা ভেবে। আমাদের মাংস কে কে খাবে? আমার মাংস কে কে খাবে? কী কী মশলা মাখিয়ে? অরুণোদয়ের মৃত্যুর পর একটা লেখা লিখেছিলাম, সেটা এ-লেখাতে প্রাসঙ্গিক, তাই জুড়ে দিলাম—

মৃতদের জন্য কোনও শোক প্রকাশ করা চলে না—
ও জানে না,
কোন স্লোগানে তুমি ওকে গর্বিত করেছ,
কোন স্লোগানে অপমানিত।
তোমার রচিত বীরগাথা, বরমালা, প্রশংসার স্তুতি,
নিন্দে কিম্বা খিস্তি—
সবই অপ্রয়োজনীয় কাঁচ ঢাকা গাড়ির বাইরে।
মৃতফুলে ঢাকা শরীর—
শুধুই শরীর।
তোমার যাবতীয় প্রতিজ্ঞা, প্রতিশ্রুতি কিম্বা প্রলাপ—
সবই অবান্তর, অহেতুক শ্মশানে।
কারণ, বেঁচে থাকা আর মরে যাওয়ার মধ্যে একটা মস্ত পার্থক্য আছে;
টের পাওয়ার।
তুমি যে মূর্তি গড়েছ প্রচারের
তা তোমারই রইল,
প্রয়োজনে ব্যবহার কোরো;
সাজিয়ে রেখো লাইব্রেরি কিম্বা যাদুঘরে।
মৃত্যু যদি কারুর বেঁচে থাকায় আলো দেয়,
তবে সে মৃত্যুর অরুণোদয় হোক।
শরীরের শুন্যস্থান শব্দে ভরাট হয় না,
শুন্যতা একটা বোধ।
ব্যর্থ প্রেমিকেরা
ক্রশের মতন
ঘাড়ে বয়ে চলে যাপনে।
কাঠের আগুন তাকে পোড়ায় না,
কবরের মাটি তাকে চাপা দেয় না।
তুমি তো প্রতিদিন হেমলক দিয়েছ গ্লাসে-
কথায়, ভাবনায়, অবহেলায়,
স্তুতিতে কিংবা বিশ্বাসঘাতকতায়।
তাই শিল্পী রোজ একবার মরেছে কোথাও।
এবার তুমি তোমার যাবতীয় অস্ত্রে শান দিয়ে রাখো—
ভাষাতেও,
নিশ্চিন্তে যুদ্ধঘোষনা করতে পারো—
কিম্বা স্তোত্রপাঠ।
কারণ
মৃতদের কোনও অভিমান নেই।
মৃতদেহের কোনো বিজ্ঞাপন নেই।



