১
ক্লান্তি এসে গেলে আমি তাকিয়ে থাকি দেওয়ালের দিকে
আমাদের সেই রং-ওঠা হরিদ্রাভ
দেওয়ালটা, আহা…
তাকানোর সময়ে হাঁ করে থাকি, মুখের ভিতরে
কিছু ঢুকে গেলেও হাঁ বন্ধ হওয়ার না—
চোখের পলক ফেলার সময় থাকে না তখন
চোখ থেকে হাইপাওয়ারের আমার চশমাটাও খুলে
পড়ে যায় নীচে, নীচ থেকে ঝুপ করে
এক জলের শব্দ আসে, তাহলে কি আমি জলের উপর
বসে আছি…
আমি জলের উপর ওপাশ ফিরি, আর তলিয়ে
যেতে-যেতে ভাবি, ঠিক একটু পরেই চশমার দেখা পাব—
২
কখনও-কখনও সাইকেল নিয়ে চক্কর কেটে আসতে ইচ্ছা হয়
বেল বাজাতে ইচ্ছে করে না
তুমি কি ইরেজার দিয়ে চলন্ত সাইকেলের সামনের
চাকাটা মুছে দিচ্ছ
কোরো না এমন— এমন করে না
তুমি শুনছ না কিন্তু, আমি রিং রিং রিরিং করে
বাতাস কাঁপিয়ে চিৎকার করে উঠলেও
কাজ তো হল না— একচক্র যান নিয়ে অবশেষে ফিরে আসতেই হল এই দেড়শো বছরের
পুরনো বাড়িতে
অতঃপর আমার দুঃখ-বাতাস— ঝাপট কাটল, তাতে বেডকভারটা উড়তেই
দেখা গেল, সেপিয়া কোলবালিশের পাশে
সাইকেলের সেই উধাও চাকাটা ওই তো আলগোছে নিদ্রালোকিত
৩
এই রাস্তা ধরে হেঁটে-হেঁটে কোথায় যেতে হবে বলো
চারদিকে বড়-বড় হ্যাজাক জ্বলছে
আমার হাতের ছায়া সানগ্লাসের ফিচার নকল
করছে
এক ধরনের তাচ্ছিল্য নিয়ে সে মেতে আছে
সামনে কি পাহাড় রয়েছে
না কি নদী
না কি সেই বউদি, যার হাজব্যান্ড মার্চেন্ট
নেভিতে, বছরে এক বার ফেরে
বা ফেরে না
না কি সেই বাঘ, যে অন্য বাঘেদের
গলায় হাড় ফুটলে বার করে দিতে
সিদ্ধহস্ত
হাঁটতে-হাঁটতে ঘমঘম করে মোবাইলটা
বেজে উঠল আমার
যা আসলে অ্যালার্ম, বেদনার হরমোন এইবার
নিঃসরিত হবে
৪
আমি খুব ভোরে উঠে পড়বই কাল
তার পর ব্যালকনি থেকে তাকাব আকাশের দিকে
কিছুক্ষণ আলো দেখে নিয়ে
প্রাতঃকৃত্য ও দু’চারটে যোগাসন, দশ-বারোবার এক-দুই
এক-দুই-তিন
করে ‘র’ দার্জিলিং চা খাব দুটো বিস্কুট ভিজিয়ে
তার পর…
নিউজ পেপার পড়তে-পড়তে ঢলে পড়ব…
না, না, এর মানে মৃত্যু নয়,
কিছুক্ষণ পরই আমি জেগে উঠব, আর ব্রেকফাস্ট—
দুটো পাঁউরুটি মাখন লাগিয়ে, হাফ বয়েল ডিম আর
একটা কলা, এক বাটি স্যুপ সহযোগে—
তার পর কলিংবেলটা বাজবে
দরজা খুলেই, ‘কে আপনি…’ ‘আরে আপনি কে…’
‘আমি কে সেটা পরে বলব, আগে বলুন আমার বাড়িতে
আপনি কী করছেন…’ ‘আপনার বাড়ি, মানে… এটা তো আমার…
কী বলছেন… মানেটা কী…’
‘দু’দিন অফিসের ট্যুরে ছিলাম, আর তাতেই দেখছি…’




