কয়েকটি কবিতা
১
আমাদের পরিবার ফুটে থাকে বাগানের কাছে।
তামাম ফুলের গন্ধে পাড়াপড়শি জড়ো হয় রোজ…
এ বলে, ‘খবর এল?’, সে বলে, ‘দুপুরে কী কী আছে?’
এমন উদ্বাস্তু হাত, জল পায় গোলাপি কাগজ।
২
উড়ন্ত সে-সীমা থেকে আরও কিছু দূরে গেলে টিলা।
নীচে যে-শহর, তা আসলে আংটি। শয়তানের হাতে।
আলো ও শব্দের মধ্যে যুবতীরা সহজ টাকিলা…
নেশার নিকষ ডানা, উড়ে যাবে কাল, সুপ্রভাতে।
৩
নীরবতা ভাঁজ ক’রে রুমাল বানায় যে-কিশোরী,
যার মা অন্ধ ও যার বাবা মাছ ধরতে দূরে যান…
আমি তার নীল হাত আজ মনে-মনে কাছে এনে ধরি।
দুঃখ যে মরেনি এই পৃথিবীতে, সে তার প্রমাণ।
৪
হে মনস্কামনা, তুমি কত দূরে গেলে চিঠি হবে?
স্মরণে সুগন্ধ লিখে পাঠাবে কবুতরের দ্বারা?
এবার আলোও কম, আমাদের বিষাদ উৎসবে—
সে যেন উত্তর লেখে। তুমি দাও, আঙুল পাহারা!
৫
আনাগোনা গুনি আর জানাত না সে বুঝি আমায়
কখন চৌকাঠ উড়ে আকাশে হয়েছে উল্কাপাত…
দরজা খুলে ভেসে গেছে ছায়াপথে, বাড়ি চূর্ণপ্রায়
আমাদের ভালবাসা মহাকাশে আবছায়ারাত!
৬
তিরিশ বছর পর তোমাদের দেখা হল আজ।
তুমি, ও তোমার আয়না। যাকে বিক্রি করেছিলে কবে…
বাণিজ্যের ধুলো লেগে কিছু ঝাপসা, অতীত কোলাজ।
বাজারে দাঁড়াও তবু, জেনো, আজ বোঝাপড়া হবে।
৭
তড়িৎ নামের শান্তি শিরায় খেলেছে মারাত্মক!
ঝলসে পারা হয়ে গেছে চলাচল, সমস্ত রক্তের।
এরকম স্পর্শ লেগে যদি আমি ছাইকাটা ছক—
তুমিও দাবার চালে বৃষ্টি হয়ে নেমে এসো ফের…
৮
সামান্য জলের ভঙ্গি, তাকে তুমি ঝরনা ব’লে ডাকো।
নেহাত পাথররাশি, তাকে নাম দিয়েছ পর্বত।
আমাকে করে না পার, তোমার প্রশংসাময় সাঁকো…
ঘুমোলে যে-শব্দ শুনি, সে কি শুধু অপছন্দস্রোত?


