
শুধু কবিতার জন্য: পর্ব ৫৫
‘তদুপরি ভালবাসা এ-বাগানে ফোয়ারার মতো।/ মনে রাখা ভাল, তার সঙ্গিনীটি পাথরের পরি।/ প্রস্তরের ইতিহাসে যত বৃষ্টি আঘাতসম্মত,/
আমরা ভ্রমণকারী, সেই জলে পুণ্যস্নান করি।’

‘তদুপরি ভালবাসা এ-বাগানে ফোয়ারার মতো।/ মনে রাখা ভাল, তার সঙ্গিনীটি পাথরের পরি।/ প্রস্তরের ইতিহাসে যত বৃষ্টি আঘাতসম্মত,/
আমরা ভ্রমণকারী, সেই জলে পুণ্যস্নান করি।’

‘তুমি শুনছ না কিন্তু, আমি রিং রিং রিরিং করে/ বাতাস কাঁপিয়ে চিৎকার করে উঠলেও/ কাজ তো হল না— একচক্র যান নিয়ে অবশেষে ফিরে আসতেই হল এই দেড়শো বছরের/ পুরনো বাড়িতে’

‘উড়ন্ত সে-সীমা থেকে আরও কিছু দূরে গেলে টিলা।/ নীচে যে-শহর, তা আসলে আংটি। শয়তানের হাতে।/ আলো ও শব্দের মধ্যে যুবতীরা সহজ টাকিলা…/ নেশার নিকষ ডানা, উড়ে যাবে কাল, সুপ্রভাতে।’

বাংলা কবিতার এক অবিস্মরণীয় স্বর, কবি পিনাকী ঠাকুর। তাঁকে অকালে হারিয়েছে বাংলা-কবিতা জগত। কিন্তু এমনই দৃপ্ত তাঁর স্বর, পাঠক হিসেবে বারবার ফিরে আসতে হয় তাঁর কবিতার কাছে!

‘পরিক্রমা শেষ হলে মন ফেরে বিছানার কাছে/ শরীর তখন ঘুমে অচেতন। শিয়রে ঘড়িটি/ সাক্ষী থাকে ভ্রমণের, কাঁটা জ্বলে মুহূর্তের আঁচে…/ প্রতিটি মৃত্যুই জেনো নতুন ঘুমের জন্মতিথি।’

কাকে বলে অনুবাদ? কবিতার অনুবাদের ক্ষেত্রে সেই সংজ্ঞা কেমন হয়? মূল কবির থেকে অনুবাদকের সত্তাই কি বড় হয়ে ওঠে?
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের নিরলস প্রয়াসে আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছিল রুশ কবিতার অনুবাদ। এবারের পর্বে, সুনীল-অনুদিত রুশ কবিতা…

‘যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে পাখিগুলি বেঁচে ফিরে আসে।/ বইয়ের দোকানগুলি ধূলিসাৎ, চূর্ণ লাইব্রেরি…/ রুটির পুরনো গন্ধ লেগে আছে দেওয়ালে ও ঘাসে/ কত ধ্বংস পার হয়ে এ-শহর ফের পাখিদেরই।’

কথায় বলে, কবি তাঁর লেখায় সময়ের চিহ্ন ধরে রাখেন। এই সময়-ই, শব্দের উপর ভর করে, এগিয় চলে যুগ-যুগ ধরে। পৌলমী সেনগুপ্তর কবিতা তেমনভাবেই নয়ের দশকের প্রতিচ্ছবি ধরে রাখে।

২০২৫ সালের সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারের জন্য বাংলা থেকে নির্বাচিত কবি প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। ফিরে দেখা শ্রীজাত-র কণ্ঠে তাঁর কবিতাপাঠ…

‘ছায়া লেগে কেটে যায় তোমাদের আলোচনাগুলি।/ পাড়ার বকেয়া সন্ধে মিটিয়ে দিয়েছে স্বাতীলেখা—/ যে-ধারণা আবছায়া, তুমি তাকে ডেকেছ গোধূলি।/ এই ছোট ভালবাসা তোমারই ভ্রান্তির কাছে শেখা।’

‘পুতলির আসল নাম গোহরবানু। মায়ের কাছে নাচ শিখেছিল গোহরবানু আর তাঁর বোন তারাবানু। কিশোরী বয়সে গোহরবানু যখন নর্তকী হিসেবে গ্রামশহরে প্রশংসিত হল, পুতুলের মতো দেখতে বলে গ্রামবাসীরা তাঁর নাম দিল ‘পুতলি’।’

কবিতার ভাষ্য, প্রকাশ, মায়া, লীলা— বারবার ফিরে এসেছে তাঁর শব্দে। দূরপাল্লার এই পর্বে, আবারও ফিরে দেখা, শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা, যেখানে রয়েছে সর্বগ্রাসী চেতনা, যা এড়ানো যায় না, যা মুক্তি দেয় না, নিয়ে যায়— অনন্ত কাব্যমায়ার স্রোতে…
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.