কয়েকটি কবিতা
১
আমার পশ্চিমদিকে ঘুমের দোকান খুলে যায়।
স্বপ্নের বয়ামগুলি একে-একে চূর্ণ, ভাসমান…
এই মায়াবিপণন, দেখা যাক, কী গ্রাহক পায়—
আপাতত সূর্যাস্তে ছাই হয় বণিকের গান।
২
এই অবসাদগুচ্ছ আমাদের সহনাগরিক।
মুক্তির খাতিরে তারা উড্ডীন বেলুন খুঁজে মরে।
একজন দাঁড়িয়ে থাকে আগুনের ঘূর্ণি হাতে ঠিক,
ভয়ের কিছুটা আগে। সাহসের দু’কদম পরে।
৩
তুমি তো রাখোনি মনে দুঃখও যে একটি পরিষেবা।
মাঝে মাঝে নিতে হয় শিরা, দু’চোখে, মুঠো ভ’রে।
নিঃস্ব বালিকার ডানা মোমের আগুনে জ্বলা-নেভা…
বিষাদের গ্রন্থিগুলি খুলে গেছে, আমার শহরে।
৪
তদুপরি ভালবাসা এ-বাগানে ফোয়ারার মতো।
মনে রাখা ভাল, তার সঙ্গিনীটি পাথরের পরি।
প্রস্তরের ইতিহাসে যত বৃষ্টি আঘাতসম্মত,
আমরা ভ্রমণকারী, সেই জলে পুণ্যস্নান করি।
৫
অন্ধকার হয়ে গেছে, এত কালি সমুদ্রে মিশেছে।
আকাশে বিদ্যুৎরেখা, সভ্যতার শিরা-উপশিরা…
এমন হিংসা শেষে একটিমাত্র পাখি শুধু বেঁচে।
তার মধ্যে জেগে উঠছে খুন-হওয়া সমস্ত পাখিরা!
৬
সে তরলমতি, তাই তুমি পানপাত্র মেলে ধরো।
ভাঙা কাচে বিঁধে থাকা বন্ধনসুষমা কী যে পাখি!
এখানে মলিন দামে বিক্রি করা হয় অবসরও।
পানশালা থেকে আমি কিছু ভালবাসা দূরে থাকি।
৭
কী কঠিন কাজ এই অভিসন্ধি জলরং করা!
কত নামী আঁকিয়ের হাত ভেসে গেছে এইভাবে…
আমি তবু ঝরনাদের কাছে ডাকি, কে কত অধরা
আমার হাতের ছবি ছাপা আছে, জলের কিতাবে।
৮
আমার অর্ধেক সন্ধে গেছে এই দরিয়াবিলাপে।
বাকি যে-অর্ধেক, তাকে জেলের নৌকায় তুলে নিল।
কে আকাশ প্রকাশক, আজও একই মরা সূর্য ছাপে…
প্রচ্ছদে মানিয়ে যায় ধ্বংসরঙা মৃত্যুর মিছিলও।




