
সংবাদ মূলত কাব্য : পর্ব ৩৮
“তখন দুপুর দেড়টা, চান করিনি, খাইনি। সত্যদা বললেন, ছাড়ো তো..। বাগবাজারে ‘যুগান্তর’ অফিসে যেতে হবে, অমিতাভ চৌধুরী তোমাকে নিয়ে যেতে বলেছেন। সুনীলদা বললেন, আমি তোমার বাড়িতে বলে দেব।”

“তখন দুপুর দেড়টা, চান করিনি, খাইনি। সত্যদা বললেন, ছাড়ো তো..। বাগবাজারে ‘যুগান্তর’ অফিসে যেতে হবে, অমিতাভ চৌধুরী তোমাকে নিয়ে যেতে বলেছেন। সুনীলদা বললেন, আমি তোমার বাড়িতে বলে দেব।”

‘বাইরের জগৎ তখন বদলাতে শুরু করে দিয়েছিল, জনসমাজের লাল টুকটুকে স্বপ্নটি যেন মিলিয়ে যেতে শুরু করে দিয়েছিল; পরিস্থিতির কাছে মানুষ যেন ধীরে-ধীরে আত্মসমর্পণকে মেনে নিচ্ছিল— মনে হয়েছিল আমার।’

‘চিঠি এসেছিল একটা। চন্দননগর থেকে ওই পত্রলেখক কী করে যেন জেনেছিলেন আমি কাছেই শ্রীরামপুরে থাকি। গিয়েছিলাম। বৃদ্ধ পত্রলেখক, তাঁর স্ত্রী জানিয়েছিলেন, মাধো সিংয়ের গুরুদেব সন্ন্যাসীর সঙ্গে তাঁদের নিখোঁজ পর্বতারোহী ছেলের মুখের বড় মিল।’

‘‘মরিচঝাঁপির ঘটনা যখন ঘটে, তখন আমি সবে ‘পরিবর্তন’ পত্রিকায় যোগ দিযেছি। এর বছরদেড়েক বাদে ১৯৮০-র শেষে আমি যখন চম্বল যাই, তখন রায়পুরে নেমে মানা-র শরণার্থী শিবিরে যাই, আশপাশের অঞ্চলেও দিনতিনেক ঘুরি, মরিচঝাঁপি থেকে উৎখাত হওয়া উদ্বাস্তুদের হাল দেখতে। মানা-র উদ্বাস্তু পল্লিতে আমি দেখেছি নবজাতক শিশু কোলে মা-কে।’’

‘প্রতিহিংসার আগুনে তখন দপ-দপ করছিলেন ফুলন। বাবা মুস্তাকিনের সহযোগিতায় এরপর ফুলন গড়ে ফেলেছিলেন মস্ত দল। চম্বলে শুরু হয়ে গিয়েছিল ঠাকুর বনাম পিছড়ি বর্গের মহা টক্কর।’

‘আমি টুকটাক কথা চালাতে লাগলাম। কী নাম, কোথায় বাড়ি। দেখলাম, নাম পরিচয় দিতে কারও-কারও অস্বস্তি রয়েছে। কথা না বাড়িয়ে কলকাতা সম্পর্কে ওদের কৌতূহলের জবাব দিতে লাগলাম। তখনই জানলাম, মালখান সিংকে ওরা দদ্দা বলে ডাকেন। দদ্দা মানে বড়ভাই।’

১৯৮০-র ডিসেম্বরে আমরা যখন চম্বলে পৌঁছেছিলাম, তখন ঠাকুরদের গ্রামে গণধর্ষিতা ফুলন প্রতিহিংসার আগুনে দপদপ জ্বলছেন, বদলা নেওয়ার ছক কষছেন। আর অগুনতি খুনখারাপি সেরে মালখান সিংয়ের ক্রোধ নির্বাপিত হয়েছে, সারেন্ডারের উপায় খুঁজছেন।

“৫০টি খুনের মামলা ছিল প্রাক্তন বাগিসর্দার অধুনা জাদুকর চম্বল সরকারের বিরুদ্ধে। অপহরণের মামলা শতাধিক। ‘এত অস্ত্রশস্ত্র, আধুনিক অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র কোথা থেকে পান আপনারা?’ প্রশ্ন করলাম। হেসে, অকপটে মাধো বললেন, ‘সেনাবাহিনীতে আমাদের দোস্তরা আছেন।… ”

‘পুতলির আসল নাম গোহরবানু। মায়ের কাছে নাচ শিখেছিল গোহরবানু আর তাঁর বোন তারাবানু। কিশোরী বয়সে গোহরবানু যখন নর্তকী হিসেবে গ্রামশহরে প্রশংসিত হল, পুতুলের মতো দেখতে বলে গ্রামবাসীরা তাঁর নাম দিল ‘পুতলি’।’

‘পায়ে পুলিশের গুলি, আহত অবস্থায় ধরা পড়ার পর তহশিলদার সিং নিজের পরিচয় গোপন করেছিলেন। সাজা কমানোর জন্য তিনি যে মান সিংয়ের ছেলে, পুলিশকে তা জানাননি, পুলিশের কাছে তাঁর কোনও ছবিও ছিল না। দলের লোকেরাও বিষয়টি গোপন রেখেছিল। তহশিলদারের পরিচিতি নিয়ে মামলা সুপ্রিম কোর্ট অবধি গড়িয়েছিল।’

“কুয়োর ওপাশে ব্রাহ্মণ পরিবারটির অনেকে কৌতূহলী উঁকিঝুঁকি দিচ্ছিলেন আমাদের দেখে। বিশেষত বালক, কিশোররা। সম্ভবত, এরা তলফিরামের নাতিপুতি। ‘আইয়ে আইয়ে’ বলে মুন্নারাই ডেকে এনে বসাল ওদের। ছয়ের দশকে বিনোবা ভাবে এসে রাজপুত ঠাকুর আর ব্রাহ্মণ পরিবারটির মিটমাট ঘটিয়ে দিয়েছেন। এদিনও আমার সামনেই মুন্না সিং রাঠোর আর দৌলতরাম করমর্দন করল।”

‘‘অট্টালিকার মাথায় ময়ূর, ঝূপড়ি ঘরের চালে ময়ূর। নীল-বেগনি ময়ূরের ইতিউতি সংখ্যায় অল্প গাঢ় খয়েরি, যেন হতশ্রী ময়ূরও দেখেছি। তবে ওই নীল বেগনির বর্ণময় ময়ূর, আহা কী সুন্দর! ‘ময়ূর, বুঝি-বা কোনও সূ্র্যাস্তে জন্মেছো।’’’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.