Memory সম্বন্ধে খুঁজে পাওয়া লেখাগুলি

Representative Image
জয়ন্ত দে

অলিগলির কালীঘাট: শেষ পর্ব

‘কালীঘাট গেলে, অল্প বয়স থেকেই আমি মৃত্যুর খবর পাই। কাউকে চিনি, কাউকে শত চেষ্টা করেও মনে করতে পারি না। তবে একটা ব্যাপারে আমি নিশ্চিত— গলির যে-সব ছেলেমেয়েরা ছেলেবেলায় আমার সঙ্গীসাথী ছিল, তারা কেউই বেঁচে নেই। চল্লিশ পর্যন্ত ওদের কোটা। ওরা বুড়ো বা বুড়ি হয় না।’

অনুপম রায়

নীলা-নীলাব্জ : পর্ব ২৬

নীলাব্জ বলল, ‘আগে মানুষ মারা গেলে দুটো ছবি থাকত, কয়েকটা চিঠি থাকত। এখন মানুষ মারা গেলে চার টেরাবাইট ডেটা পড়ে থাকে। তবু মানুষটাই থাকে না। তুমি ভয় পাচ্ছ কারণ তুমি ভাবছ ডেটা নেই মানে তুমি নেই। কিন্তু তুমি তোমার ডেটা নও।’

শ্রীজাত

হিয়া টুপটাপ জিয়া নস্টাল : পর্ব ৪৯

‘‘আদৌ যে বড় হয়ে কিছু একটা হতে হয় সকলকে, সেটাই জানা নেই তখন। অনেকেই আঁকার খাতা দেখে বলছেন, ‘এ নির্ঘাত আঁকিয়ে হবে, মিলিয়ে নিও!’ কিন্তু সেসবও আমার মাথায় নেই। আঁকছি তো অনাবিল আনন্দ পাচ্ছি বলে, কিছু হওয়ার জন্য তো নয়।’’

জয়ন্ত দে

অলিগলির কালীঘাট : পর্ব ১৯

কালীঘাট কালীমন্দিরের চত্বরে এলেই আপনি প্রথম দিকে ফুলের গন্ধ পাবেন। সকালবেলা এলে ফুলের পাশাপাশি দুধ মেরে ক্ষীর করা পেঁড়ার গন্ধও মুখে জল এনে দিতে পারে। এবার পায়ে পায়ে মন্দিরের ভেতর ঢুকুন, সেখানে ফুলের গন্ধের সঙ্গে মিশবে ধূপধুনো।

Representative Image
স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন: পর্ব ১৭

‘জলে ভাসত ট্রামের হলুদ টিকিট, লক্ষ্মীবিলাস তেলের কাগজের বাক্স, ঢোল কোম্পানির মলমের চ্যাপ্টা কৌটো। নন্দলাল বসু স্ট্রিটে ছিল, জজের বাড়ি। জজসাহেবকে কখনও দেখিনি আমি, কিন্তু ছোট্ট গাড়ি-বারান্দাওয়ালা বাড়িটাকে সবাই বলত জজের বাড়ি।’

শ্রীজাত

শুধু কবিতার জন্য: পর্ব ৫৩

‘পরিক্রমা শেষ হলে মন ফেরে বিছানার কাছে/ শরীর তখন ঘুমে অচেতন। শিয়রে ঘড়িটি/ সাক্ষী থাকে ভ্রমণের, কাঁটা জ্বলে মুহূর্তের আঁচে…/ প্রতিটি মৃত্যুই জেনো নতুন ঘুমের জন্মতিথি।’

স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন: পর্ব ১৬

‘তবে গঙ্গার জল সরবরাহের ভূগর্ভের পাইপ-লাইনের অস্তিত্ব এখনও দেখা যায়। মহাজতি সদনের পিছনের গলিগুলোতে, কারবালা ট্যাঙ্ক লেনে, মানিকতলা অঞ্চলে চোখে পড়েছে।’

জয়ন্ত দে

অলিগলির কালীঘাট : পর্ব ১৭

‘চিন্টুও এমন একটা কিছু খুঁজছিল— যাতে সে সত্যিকার হিরো হবে। এমনিতে যেখানে খেলা সংক্রান্ত যা গোলমাল হত, আমরা মার-ই খেতাম। কোথাও তেমনভাবে মার দিয়ে আসতে পারতাম না। কেউ আরও মারতে পারে ভেবে শরণাপন্ন হতাম বাঘাদার। পরে আমাদের অস্ত্র এল, টুকরে। আমাদের আর ভয় নেই।’

জয়ন্ত দে

অলিগলির কালীঘাট : পর্ব ১৬

‘কুকুরটা তখন ঠিক এ-দিকটা ছিল না, ও-দিকে চড়তে গিয়েছিল। বলতে-বলতে সবাই হইহই করে উঠল— আসছে, আসছে। কুকুরটা টিউবওয়েলের সামনে এবার বেচাকাকার মুখোমুখি। বেচাকাকা ঘাবড়াল না। চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকল। কুকুরটা এগিয়ে আসছে— এবার বেচাকাকাও এগিয়ে যাচ্ছে।’

Representative Image
স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন: পর্ব ১৩

‘বড়পিসেমশাই ঘরের ছাগলদের নিয়ে যেতেন হিসি করাতে। বাচ্চাদের হিসি করানোর সময়ে মায়েরা যেমন জিভে শিস্‌ধ্বনির মতো এক ধরনের আওয়াজ করে,  যে-আওয়াজটা অক্ষর সাজিয়ে বলা যাবে না, তেমন আওয়াজই করতেন এবং আশ্চর্য— ছাগলেরা হিসিও করত।’

Representative Image
স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন: পর্ব ১২

‘আমাদের ঘরে মাখন আসত না কখনও। কাকামণি ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পর চাকরি পেল, তখন রবিবার করে মাংস হত। ঠাকুর্মা কাকামণিকে দিয়ে মাখন আনিয়েছিল। আমাদের ঘরে মাখনের টিন এল। গরম ভাতে আলুসেদ্ধ আর মাখন। নিজেদের মাখন। কিন্তু কাকামণি তো পৃথিবীতেই রইল না।’

শ্রীজাত

শুধু কবিতার জন্য: পর্ব ৫২

‘যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে পাখিগুলি বেঁচে ফিরে আসে।/ বইয়ের দোকানগুলি ধূলিসাৎ, চূর্ণ লাইব্রেরি…/ রুটির পুরনো গন্ধ লেগে আছে দেওয়ালে ও ঘাসে/ কত ধ্বংস পার হয়ে এ-শহর ফের পাখিদেরই।’