
উল্টো দূরবিন: পর্ব ২৫
‘আমার মায়ের নিজের মা ছিল না, মাতৃহারা হয়েছিলেন শৈশবে। আমার মা তখন দাদামশায়ের আরেক-ভাই, মানে মায়ের কাকার বাড়িতে বড় হন। আমার দাদামশাই আবার বিয়ে করেন, উনি মায়ের সৎ মা।’

‘আমার মায়ের নিজের মা ছিল না, মাতৃহারা হয়েছিলেন শৈশবে। আমার মা তখন দাদামশায়ের আরেক-ভাই, মানে মায়ের কাকার বাড়িতে বড় হন। আমার দাদামশাই আবার বিয়ে করেন, উনি মায়ের সৎ মা।’

বন্ধুদের সঙ্গে হঠাৎ একদিন বেড়িয়ে পড়া শান্তিনিকেতনের উদ্দেশে। এই হঠাৎ ছুটির মেজাজেই এই গানটি তৈরি। কোনও পরিকল্পনা ছাড়া আচমকা বেড়াতে যাওয়ার আনন্দই এই গানের নেপথ্যের আসল গল্প।

‘উড়ন্ত সে-সীমা থেকে আরও কিছু দূরে গেলে টিলা।/ নীচে যে-শহর, তা আসলে আংটি। শয়তানের হাতে।/ আলো ও শব্দের মধ্যে যুবতীরা সহজ টাকিলা…/ নেশার নিকষ ডানা, উড়ে যাবে কাল, সুপ্রভাতে।’

‘ওই চারচৌকো ঘরই আমাদের রংমহল হয়ে উঠল। মজলিসের জন্যে যে বৈভব লাগে না, লাগে ভালবাসা, সেটা ভাগ্যিস আমরা ওই বয়সেই বুঝতে পেরেছিলাম!’

‘কালীঘাট গেলে, অল্প বয়স থেকেই আমি মৃত্যুর খবর পাই। কাউকে চিনি, কাউকে শত চেষ্টা করেও মনে করতে পারি না। তবে একটা ব্যাপারে আমি নিশ্চিত— গলির যে-সব ছেলেমেয়েরা ছেলেবেলায় আমার সঙ্গীসাথী ছিল, তারা কেউই বেঁচে নেই। চল্লিশ পর্যন্ত ওদের কোটা। ওরা বুড়ো বা বুড়ি হয় না।’

নীলাব্জ বলল, ‘আগে মানুষ মারা গেলে দুটো ছবি থাকত, কয়েকটা চিঠি থাকত। এখন মানুষ মারা গেলে চার টেরাবাইট ডেটা পড়ে থাকে। তবু মানুষটাই থাকে না। তুমি ভয় পাচ্ছ কারণ তুমি ভাবছ ডেটা নেই মানে তুমি নেই। কিন্তু তুমি তোমার ডেটা নও।’

‘‘আদৌ যে বড় হয়ে কিছু একটা হতে হয় সকলকে, সেটাই জানা নেই তখন। অনেকেই আঁকার খাতা দেখে বলছেন, ‘এ নির্ঘাত আঁকিয়ে হবে, মিলিয়ে নিও!’ কিন্তু সেসবও আমার মাথায় নেই। আঁকছি তো অনাবিল আনন্দ পাচ্ছি বলে, কিছু হওয়ার জন্য তো নয়।’’

কালীঘাট কালীমন্দিরের চত্বরে এলেই আপনি প্রথম দিকে ফুলের গন্ধ পাবেন। সকালবেলা এলে ফুলের পাশাপাশি দুধ মেরে ক্ষীর করা পেঁড়ার গন্ধও মুখে জল এনে দিতে পারে। এবার পায়ে পায়ে মন্দিরের ভেতর ঢুকুন, সেখানে ফুলের গন্ধের সঙ্গে মিশবে ধূপধুনো।

‘জলে ভাসত ট্রামের হলুদ টিকিট, লক্ষ্মীবিলাস তেলের কাগজের বাক্স, ঢোল কোম্পানির মলমের চ্যাপ্টা কৌটো। নন্দলাল বসু স্ট্রিটে ছিল, জজের বাড়ি। জজসাহেবকে কখনও দেখিনি আমি, কিন্তু ছোট্ট গাড়ি-বারান্দাওয়ালা বাড়িটাকে সবাই বলত জজের বাড়ি।’

‘পরিক্রমা শেষ হলে মন ফেরে বিছানার কাছে/ শরীর তখন ঘুমে অচেতন। শিয়রে ঘড়িটি/ সাক্ষী থাকে ভ্রমণের, কাঁটা জ্বলে মুহূর্তের আঁচে…/ প্রতিটি মৃত্যুই জেনো নতুন ঘুমের জন্মতিথি।’

‘তবে গঙ্গার জল সরবরাহের ভূগর্ভের পাইপ-লাইনের অস্তিত্ব এখনও দেখা যায়। মহাজতি সদনের পিছনের গলিগুলোতে, কারবালা ট্যাঙ্ক লেনে, মানিকতলা অঞ্চলে চোখে পড়েছে।’

‘চিন্টুও এমন একটা কিছু খুঁজছিল— যাতে সে সত্যিকার হিরো হবে। এমনিতে যেখানে খেলা সংক্রান্ত যা গোলমাল হত, আমরা মার-ই খেতাম। কোথাও তেমনভাবে মার দিয়ে আসতে পারতাম না। কেউ আরও মারতে পারে ভেবে শরণাপন্ন হতাম বাঘাদার। পরে আমাদের অস্ত্র এল, টুকরে। আমাদের আর ভয় নেই।’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.