উল্টো দূরবিন: পর্ব ১৭

Representative Image

ধন্যি বাগবাজার

এইসব স্টিমারেই সন্তোষের মা দেশে যেত। শুনতাম, ওদের দেশ ছিল সুন্দরবনে। সন্তোষের মা আমাদের বাড়িতে বাসন মাজার কাজ করত। শুনতাম, সুন্দরবনে বাঘ আছে। ওই স্টিমারের ‘ভোঁ’ শব্দকে মনে-মনে বাঘের ডাক ভাবতাম। এই খালে নৌকায় আসত সুন্দরবনের এঁটেল মাটি; এই মাটি, ঠেলায় বোঝাই হয়ে চলে যেত কুমোরটুলি। মূর্তি গড়ার জন্য এই মাটি ভাল। খড়ও আসত নৌকা বোঝাই। গঙ্গা থেকে যেখানে এই খালটা বেরিয়েছে, ওখানে একটা পুল আছে, ব্রিজ। ওই পুলের উপর দিয়ে রেললাইন চলে গেছে। আসলে খিদিরপুর বন্দর থেকে রেললাইন পেতেছিল ব্রিটিশরা। গঙ্গার ধার দিয়ে এই রেললাইন চলে যায়, বড়বাজার, শোভাবাজার, বেলগাছিয়া, চিৎপুর রেলইয়ার্ড হয়ে শিয়ালদহের কাছাকাছি। বন্দরের ধারে-ধারে গড়ে উঠেছিল, প্রচুর গুদাম। এই রেললাইন দিয়ে মালগাড়ি চলাচল করত। সিংগেল লাইন ছিল। আপ এবং ডাউন মালগাড়ি নিয়ন্ত্রণের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা ছিল। কন্ট্রোলরুম ছিল। মালগাড়িগুলি খাল পার হয়ে পূবদিকে ঘুরে চিৎপুর রেলইয়ার্ডের দিকে যেত। এ-জন্য ব্রিজ ছিল। কিন্তু ব্রিজের উপর দিয়ে রেললাইন। কিন্তু খালে বড়-বড় স্টিমার বা জলযান ঢুকতে গেলে, ব্রিজ একটা বাধা, তাই ব্রিজটাকে একটু উপরে তুলতে হত। এর জন্য যান্ত্রিক ব্যবস্থা ছিল। আমরা অবাক হয়ে দেখতাম— ব্রিজটার পাটাতন, রেললাইন সমেত উপরে উঠে যাচ্ছে। একটা বড় স্টিমার মাস্তুল ও চিমনি সমেত খালে ঢুকে যাওয়ার পর ব্রিজের পাটাতনটা আবার ধীরে-ধীরে নীচে নেমে যাচ্ছে, আবার, রেল লাইনটাও এক্কেবারে সেট করে যাচ্ছে।

ক্রমশ গঙ্গার গভীরতা কমে যেতে লাগল। বড়-বড় জাহাজ আসা কমতে লাগল, বিদ্যাধরী নদীটাও শুকতে লাগল, খালটাও মজে যেতে থাকল। স্টিমার চলাচল এক্কেবারে বন্ধ হয়ে গেল, ১৯৬৫-৬৬ সাল থেকেই। আর কলকাতা বন্দর ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ার জন্য, মাল আদান-প্রদান কমে যেতে লাগল। এইসব গুদামগুলি অব্যবহৃত হতে থাকল। গ্যালিফ স্ট্রিটের এরকম দুটো অব্যবহৃত গুদাম ভেঙে, একটা আবাসন তৈরি হল এই সময়ে। বেশ কিছু অধ্যাপক এইখানে বসবাস করতে শুরু করেছিলেন, তাই আমরা বলতাম প্রফেসর্‌স কোয়ার্টার। ‘ইডেন উদ্যান থেকে বলছি’ মানেই অজয় বসু। ‘সপাটে ছক্কা… বল এখন আকাশে।’… ‘ওই ওই নামছে গ্যালারিতে। নিশ্চয়ই শুনতে পাচ্ছেন আনন্দ উচ্ছ্বাস…’ অধ্যাপক অজয় বসু এখানেই থাকতেন। এই প্রফেসর্‌স কোয়ার্টারের পেছনের দিকে রয়েছে ‘পঞ্চাননতলা’, এখানকার একটি বামুনবাড়ি-সংলগ্ন মন্দির। মন্দিরে পঞ্চানন ঠাকুর রয়েছেন। লাল রঙের মুখ। ছোটবেলায় দেখতাম, প্রতি সোমবার এই মন্দিরের সামনের ছোট্ট উঠোনে বেশ ভিড়, বাচ্চাদের নিয়ে বসে আছে মা ঠাকুর্মারা। পরে জেনেছি পঞ্চানন বাবা শিশুদের রক্ষা করে না। আমাদের বস্তির লোকেরা পাঁচু ঠাকুরের থান বলে। সোমবারে নাকি পাঁচু ঠাকুর বেশি জাগ্রত হন।

ফুটপাথের ওপর চাপাকল, সেখান থেকে বেরত গঙ্গার জল! পড়ুন: উল্টো দূরবিন পর্ব ১৬…

পঞ্চানন তলার সামনেই একটা ছোট মাঠ, ওখানে ছোটদের ফুটবল প্রতিযোগিতা হত। চার-দশ, পাঁচ চ্যাম্পিয়নশিপ। চার দশ মানে, যে-সব বালকগুলোর হাইট চার ফুট ১০ ইঞ্চি বা তার কম, কেবলমাত্র তারাই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। বাগবাজার-শোভাবাজার-আহিরীটোলা-ফড়িয়াপুকুর, এমনকী গৌরীবাড়ি, গড়পার থেকেও এখানে নাম লেখাত। এইসব পাড়াগুলোতে একজন যাদুদা, বুড়োদা, বঙ্কাদা ধরনের খেলা-পাগল লোক থাকত। যারা এইসব খেলা-টেলাগুলো পরিচালনা করত; ওরা ঠিক দু-একজন সঙ্গী জুটিয়ে নিত, যারা ক্লাবগুলোর নাম এন্ট্রি করত, শিডিউল বানাত, রেফারি ঠিক করত, ফিতে দিয়ে খেলোয়াড়দের মাপত ভাল করে। লক্ষ করে নিতে হত— প্যান্টের ভিতর গোপনে কোনও দড়ি বাঁধা আছে কি না। পেটে টাইট করে বেল্ট বেঁধে শরীরটাকে সংকুচিত করলে, উচ্চতা আধাইঞ্চি একইঞ্চি কমে যেত। তাই লম্বা হয়ে যাওয়া বালকেরা এই কৌশল করত, আবার এই কৌশল শেখাতো পাড়ার দাদারাই। আমি খেলাধুলায় কখনওই দর ছিলাম না, তাই পায়ে বল নাচাবার চেষ্টা করেছি কত! পারতাম না। আমাকে গোলকিপারে খেলানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। খুব কায়দা করে দু-পা ফাঁক করে, দু-হাত দু-পাশে রেখে, গোলপোস্টের সামনে দাঁড়াতাম, কে জানে কীভাবে দু-পায়ের ফাঁক দিয়ে দু-হাতের উপর দিয়ে গোলে ঢুকে যেত বল। সেই পঞ্চাননতলা আজও আছে, মন্দিরও আছে। সোমবারের ভিড় অনেক কমে গেলেও, আছে। পাঁচ-সাতজন বাচ্চার মা, বাচ্চাকে নিয়ে আসে এখনও। বস্তিগুলো আছে তো। কিন্তু পঞ্চাননতলার মাঠটা অনেকদিন হল নেই, ওখানে ফ্ল্যাট হয়েছে। ওখানেই একটা ফ্ল্যাটে থাকতেন শিল্পী অশোক মুখোপাধ্যায়, বাগবাজার মাল্টিপারপাস গার্লস স্কুলের বিখ্যাত প্রধান শিক্ষিকা অনিমা মুখোপাধ্যায়।

আমাকে ভরতি করা হয়েছিল, মহারাজা কাশিমবাজার ইস্কুলে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে নন্দলাল বসু স্ট্রিট দিয়ে যেতাম। বর্ষাকালে ওই গলিতে জল জমত, কখনও হাঁটু অবধি জল উঠত। খুবই মজা হত। তখন জলে পলিথিন ভাসত না, কেয়াপাতার নৌকো না হোক, কাগজ ভাঁজ করে তৈরি করা— দু-চারটে নৌকা তো আমিও ভাসিয়েছি। এককেজি ডালডার টিন ভাসলেও, বেশিক্ষণ ভাসতে পারত না।  কৌটো অভাবী মানুষ তো কম ছিল না, ওরা তুলে নিত।

জলে ভাসত ট্রামের হলুদ টিকিট, লক্ষ্মীবিলাস তেলের কাগজের বাক্স, ঢোল কোম্পানির মলমের চ্যাপ্টা কৌটো। নন্দলাল বসু স্ট্রিটে ছিল, জজের বাড়ি। জজসাহেবকে কখনও দেখিনি আমি, কিন্তু ছোট্ট গাড়ি-বারান্দাওয়ালা বাড়িটাকে সবাই বলত জজের বাড়ি। জজের বাড়ির সামনে রোয়াকে, একটা ফুচকাওয়ালা বসত, দাঁড়িয়ে নয়, বসে বিক্রি করত। উল্টোদিকেই পঞ্চাদার তেলেভাজার দোকান; এই পঞ্চাদাই ছিল এলাকার প্রাচীনতম হালুইকর বা রান্নার ঠাকুর। জজের বাড়ির পর, ডানদিকে রাধাকান্ত ঠাকুর লেন; কেন জানি না, গলিটা ছিল পাথরে বাঁধানো। ওই গলিতেই ছিল একটা কয়লার দোকান, অন্ধকার একটা ঘর, কয়লা কালো-আঁধার কালো, ওই ঘর ভরতি আঁধারে একটা বাল্ব ঝুলত। আর ঝুলত, একটা মস্ত দাঁড়িপাল্লা। ওখানে কয়লা কিনতে যেতাম, সামনে মাপানো হত। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে দাঁড়িপাল্লার কাঁটা দেখে নিতে হত। দাদু এমনটাই শিখিয়েছিলেন। কয়লা নিয়ে দোকানের কুলি যেত বাড়িতে। ঠাকুর রাধাকান্ত লেন শেষ হলে, মুখার্জি পাড়া। দুর্গাচরণ মুখার্জি স্ট্রিট। শুরুতেই লাল সিমেন্টের লম্বা রকওয়ালা পরপর তিনটে বাড়ি। এগুলো ছিল প্রথম যুগের ফ্ল্যাট বাড়ি। যদিও প্রত্যেক বাড়িতেই উঠোন ছিল, এবং তার ভিতরটার গঠন ফ্ল্যাট বাড়ির মতো হলেও, পুরোপুরি ফ্ল্যাট হতে পারেনি। এই রকের এক জায়গায় দাবার আসর বসত। লম্বা রোয়াকের দু-তিনটে ভাগে ভিন্ন ঠেক, এরপর জোড়া-শিবমন্দির, তারপর হরি সাহার বাড়ি।

হরি সাহার বাড়িতে, রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ আছে। মস্ত বড় ঝুলন হত, ওদের ঝুলন দেখতে ভিড় হত খুব। ঢুকতেই দু-ধারে দুটো বিরাট মূর্তি, একদিকে তাড়কাবধ, অন্যদিকে বকাসুর বধ, কিংবা শ্রীকৃষ্ণের গোবর্ধন ধারণ। সামনের মন্দিরের সামনেই রাধাকৃষ্ণ ঝুলছে, দোলনাটা নিজে-নিজেই দুলছে, কেউ দোলাচ্ছে না, আমি জানতাম, ওসব ‘ইলেকট্রিকি দ্বারা’ হচ্ছে। কারণ, পাঁচি পাগলি রাস্তায় বলতে-বলতে যেত, ‘হরি সাহার বাড়ির ঝুলন, সব ইলেকট্রিকিতে হচ্ছে, পাপ হচ্ছে, সব পাপ হচ্ছে!’ ওখানে রামের হাতে বিরাট ধনু, একবার উঠাচ্ছে, একবার নামাচ্ছে; উপরে লেখা ‘হরধনু ভঙ্গ’। শ্রীচৈতন্যদেব সঙ্গী-সাথী নিয়ে, সব হাতগুলো একবার উঠেছে, একবার নামছে। উপরে লেখা, ‘শ্রী শ্রী চৈতন্যদেবের নগর সংকীর্তন’। সবই পুতুলে, পুতুলের হাত-পা নড়ছে, সবই ইলেকট্রিকিতে। দাদু বলেছিলেন, ইলেকট্রিক দ্বারা। উঠোনটার চারিদিকে, এরকম ২০-২২টা খোপে-খোপে গল্প, শ্রীকৃষ্ণের জন্ম, ‘গোপালের ননীচুরি’, ‘হিরণ্যকশিপু বধ’, ‘শ্রীচৈতন্যের গৃহত্যাগ’, ‘জগাই-মাধাইয়ের পরিবর্তন’— এইসব। ফেরার সময়ে আবার ‘তাড়কা বধ’-এর সামনে দাঁড়াতাম। খুব টানত তাড়কা। কী বিরাট স্তন! এত বড়?

ঠাকুর রাধাকান্ত লেন শেষ হলে, মুখার্জি পাড়া। দুর্গাচরণ মুখার্জি স্ট্রিট। শুরুতেই লাল সিমেন্টের লম্বা রকওয়ালা পরপর তিনটে বাড়ি। এগুলো ছিল প্রথম যুগের ফ্ল্যাট বাড়ি। যদিও প্রত্যেক বাড়িতেই উঠোন ছিল, এবং রাত ভিতরটার গঠন ফ্ল্যাট বাড়ির মতো হলেও, পুরোপুরি ফ্ল্যাট হতে পারেনি। এই রকের এক জায়গায় দাবার আসর বসত।

হরি সাহাড় বাড়ি পার হলে, স্বাধীন মিষ্টান্ন ভাণ্ডার। শীতকালে ওই দোকানের সামনে বিকেলের দিকে কী সুঘ্রাণ! ফুলকপি-শিঙাড়া ভাজা হত, আর-একটু এগিয়ে, ডানদিকে উদ্বোধন লেন। সারদা মা, এই বাড়িতে দীর্ঘদিন থেকেছেন। ওই বাড়ি থেকে এই রাস্তা দিয়ে গঙ্গার ঘাটে যেতেন। চিৎপুর রোড পার হলেই তো ঘাট। এই ঘাটে স্নান করতে আসতেন হয়তো সাহাবাড়ির বউমাও। স্নান করতে এসেছেন, মা সারদা জিজ্ঞাসা করেছেন, ‘কী গো, তোমার শাশুড়িঠাকুরন ভাল আছেন তো? কতদিন আসেন না!’ বস্তির বাচ্চা ছেলেগুলোকে বলেছেন, ‘বেশি দূরে গিয়ে দাপাদাপি করিসনি বাছারা! জোয়ার এয়েচে, খুব সোত, উঠে আয়…’

ক্ষীরোদপ্রসাদের বাড়ি আর মায়ের বাড়ি এমন কাছাকাছি যে, হয়তো ক্ষীরোদপ্রসাদের বাড়িতে ইলিশমাছ ভাজা হলে, সারদা মা গন্ধ পেতেন। হয়তো গিরিশ ঘোষের বাড়ির ইলিশের গন্ধ নিবেদিতার বাড়ি যেত। ওই যে রাস্তাটা বোস পাড়া লেন, কী সোনায় মোড়া রাস্তা। রূপকথার রাস্তা। এই রাস্তাতেই থাকতেন ভগিনী নিবেদিতা। একটু এগিয়ে গেলেই বিখ্যাত সেন বাড়ি, এখানে থাকতেন বিখ্যাত সমাজতাত্ত্বিক এবং নৃতত্ত্ববিদ নির্মল কুমার বসু। নিবেদিতার বাড়ি থেকে একটু এগিয়ে গেলে গিরিশ ঘোষের বাড়ি। তখন তো সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ ছিল না, একটা পাড়া ছিল, ওই পাড়ার বাড়িগুলো ভেঙে, রাস্তাটা তৈরি হয়েছিল। গিরিশ ঘোষের মূল বাড়িটাও ভাঙা হয়েছিল, কিন্তু মানুষের প্রতিবাদে সেই জায়গাতেই একটা ছোট করে বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়। গিরিশ ঘোষের বাড়ি ছাড়ালেই নবীন ময়রার বাড়ি। এই বোস পাড়াতেই থাকতেন, বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য। তিনিই বাণীকুমার, আকাশবাণীর অন্যতম স্রষ্টা। তবে গিরিশবাবুদের যুগের অনেক পরে। তবে গিরিশযুগেই ছিলেন বলরাম বসু। শ্রীরামকৃষ্ণের একজন প্রধান শিষ্য।

বাগবাজারেই এককালে ছিল পক্ষীর দল, সেই ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে। ওদের পাঁচালি খেউড়ের দল ছিল। এই দলের ছেলেরা নানারকম পাখির সাজ নিয়ে আসরে নামতো। একই সময়ে বাগবাজারে রাজ করেছেন গোপাল উড়ে। টপ্পাসম্রাট নিধুবাবুও এই এলাকারই মানুষ, পক্ষীদের ঠেক ঠিক কোথায় ছিল, জানবার জন্য অনেক চেষ্টা করেছি পরবর্তীতে, কেউ বলেছেন দুর্গাচরণ মুখার্জির বাড়ির পাশেই ছিল ওদের ঠেক। প্রমাণ পাইনি, সম্ভবত ওদের আবাসভূমি সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ খেয়ে নিয়েছে। পরে রাস্তাটার চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ নাম হল। বাগবাজার থেকে একটু কুমোরটুলির দিকে এগোলেই, মদনমোহন তলা। বাবু গোবিন্দরাম মিত্রর বাড়ি ছিল এখানেই। ছিল সে-যুগের বিখ্যাত ব্ল্যাক প্যাগোডা। ১৬৫ ফুট উঁচু, পরবর্তীতে অক্টারলোনি মনুমেন্ট, আরও পরে যেটা শহীদ মিনার, এতটা উঁচু নয়। ১৮৩০ সালে এক সাহেব এই মন্দিরের একটা ছবি এঁকেছিলেন, সেটা বেশ ভাঙা। গোবিন্দরাম মিত্র এই মন্দিরটা তৈরি করিয়েছিলেন ১৭৩০ সালে, ১৭৩৭ সালের ভূমিকম্প এবং ঘূর্ণি ঝড়ে মন্দিরটির খুব ক্ষতি হয়। সিপাহী বিদ্রোহের আগেই এটা সম্পূর্ণ ধ্বসে যায়। বাগবাজারে বিখ্যাত দুর্গা পূজার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন স্বদেশীরা। সুভাষ বস যুক্ত ছিলেন। পাশেই বাগবাজার তরুণ ব্যায়াম সমিতি। এটা ছিল আদিতে বিপ্লবীদের দেহচর্চার আখড়া, ভারতের প্রথম কোষগ্রন্থ বা এনসাইক্লোপিডিয়া, যেটা বাংলা ভাষায় তৈরি করেছিলেন নগেন্দ্রনাথ বসু। তার বাসভবনের রাস্তাটার নামটাই অভিনব। বিশ্বকোষ লেন।