
হিয়া টুপটাপ জিয়া নস্টাল : পর্ব ৫০
‘ওই চারচৌকো ঘরই আমাদের রংমহল হয়ে উঠল। মজলিসের জন্যে যে বৈভব লাগে না, লাগে ভালবাসা, সেটা ভাগ্যিস আমরা ওই বয়সেই বুঝতে পেরেছিলাম!’

‘ওই চারচৌকো ঘরই আমাদের রংমহল হয়ে উঠল। মজলিসের জন্যে যে বৈভব লাগে না, লাগে ভালবাসা, সেটা ভাগ্যিস আমরা ওই বয়সেই বুঝতে পেরেছিলাম!’

‘‘বাবা নিজে স্কুলের শিক্ষক হয়েও, এটা বুঝতে পারলেন না যে— বেশি ভালর দঙ্গলে, আমি হারিয়ে যেতে পারি! ‘অতি বেশি ভাল’র দলে, আমার মতো ‘অত ভাল নয়’, মোটেই পাত্তা পাবো না।’’

‘আজ থেকে কয়েক বছর পর কি এরকম অঙ্ক আসতে পারে যে, কোন ক্ষমতাশালী মানুষ, চাকরির বিনিময়ে এত টাকা ঘুষ নেন। সেই ঘুষের টাকা থেকে, শতকরা এত এখানে, শতকরা এত ওখানে কাটমানি দিতে হয়। এতজন যদি চাকরি পায়, ক্ষমতাশালীর পকেটে কত টাকা আসবে?’

‘কালীঘাট গেলে, অল্প বয়স থেকেই আমি মৃত্যুর খবর পাই। কাউকে চিনি, কাউকে শত চেষ্টা করেও মনে করতে পারি না। তবে একটা ব্যাপারে আমি নিশ্চিত— গলির যে-সব ছেলেমেয়েরা ছেলেবেলায় আমার সঙ্গীসাথী ছিল, তারা কেউই বেঁচে নেই। চল্লিশ পর্যন্ত ওদের কোটা। ওরা বুড়ো বা বুড়ি হয় না।’

‘পালাবদলের পরে-পরেই পুলিশ প্রশাসন অতি-তৎপর হয়ে আটকে দিচ্ছিল যাবতীয় মাটির লরি। ফলে, মাটি এসে পৌঁছচ্ছিল না কুমোরটুলিতে। বায়না নেওয়াও বন্ধ রেখেছিলেন কারিগররা। কারণ, বায়না নিলেই সময়ে মূর্তি গড়ার তাগিদ থাকবে। মাটির এই অভাবনীয় সংকটে প্রতিমা গড়া চলবে কী করে?’

‘আমাদের স্কুলব্যাগ বলে কিছু ছিল না। বইপত্র নিতাম হাতে। আমার বাবার আমলে নাকি একটা চটের ব্যাগে ভরে একটা বসার আসন, স্লেট, খড়ি বই নিয়ে পাঠশালায় যেতে হত। এই চটের ব্যাগটাকে বলা হত, দপ্তর।’

‘বাগবাজারের বসু বাড়িটা বড় বিখ্যাত। বিরাট-বিরাট থামওয়ালা বাড়ি, বাড়ির লাগোয়া জমি অনেকটা। ওই মাঠ এখন আর নেই। বাগবাজার মাল্টিপারপাস গার্লস স্কুল হয়েছে। যখন স্কুল হয়নি, মাঠ, ওই মাঠে নেতাজি জয়ন্তীতে অনুষ্ঠান হত।’

কালীঘাট কালীমন্দিরের চত্বরে এলেই আপনি প্রথম দিকে ফুলের গন্ধ পাবেন। সকালবেলা এলে ফুলের পাশাপাশি দুধ মেরে ক্ষীর করা পেঁড়ার গন্ধও মুখে জল এনে দিতে পারে। এবার পায়ে পায়ে মন্দিরের ভেতর ঢুকুন, সেখানে ফুলের গন্ধের সঙ্গে মিশবে ধূপধুনো।

‘জলে ভাসত ট্রামের হলুদ টিকিট, লক্ষ্মীবিলাস তেলের কাগজের বাক্স, ঢোল কোম্পানির মলমের চ্যাপ্টা কৌটো। নন্দলাল বসু স্ট্রিটে ছিল, জজের বাড়ি। জজসাহেবকে কখনও দেখিনি আমি, কিন্তু ছোট্ট গাড়ি-বারান্দাওয়ালা বাড়িটাকে সবাই বলত জজের বাড়ি।’

নিউজপ্রিন্টের দাম বাড়ছে, ১৯৭৮-এর বন্যায় ভেসে যাওয়া শহর আবার উঠে আসছে জলের তলা থেকে। এই কলকাতা, ছবির শেষে চড়কের বাঁশে চড়া ছেলেটি বলে ওঠে, ‘কালকাতা কভি খতম নেহি হোতা।’ এই শহরেই বস্তি উচ্ছেদ, এই শহরেই দুর্গাপুজোর রংমশাল।

‘আমাদের বড্ড কাছাকাছি। জায়গাটা ঠিক কোথায়, চিন্টু বলেনি। বুঝে নিয়েছে। ঠিক হল, মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধেই চিন্টু যাবে সেই সিনেমার পরিচালকের বাড়ি। ও, রুমি অ্যালবাম নিয়ে এসেছে। আমি আর চিন্টু উঠে পড়েছি গঙ্গারামের রিকশায়।’

‘তবে গঙ্গার জল সরবরাহের ভূগর্ভের পাইপ-লাইনের অস্তিত্ব এখনও দেখা যায়। মহাজতি সদনের পিছনের গলিগুলোতে, কারবালা ট্যাঙ্ক লেনে, মানিকতলা অঞ্চলে চোখে পড়েছে।’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.