
উল্টো দূরবিন: পর্ব ৩৩
“নবীন সেনের ‘পলাশীর যুদ্ধ’ থেকে, মাইকেল মধুসূদনের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ থেকে আওড়াতেন। রবীন্দ্রনাথকে খুব একটা পছন্দ করতেন না। বলতেন, ‘রবিবাবুর কবিতায় অশ্লীলতা দোষ আছে।’”

“নবীন সেনের ‘পলাশীর যুদ্ধ’ থেকে, মাইকেল মধুসূদনের ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ থেকে আওড়াতেন। রবীন্দ্রনাথকে খুব একটা পছন্দ করতেন না। বলতেন, ‘রবিবাবুর কবিতায় অশ্লীলতা দোষ আছে।’”

‘দাদুর কাছে পাটিগণিত করার মজাই ছিল আলাদা। কঠিন-কঠিন অঙ্কগুলো যখন উত্তরে মিলত না, দাদু টেনে নস্যি নিতেন আর-একবার। ‘র, র! উত্তর মিলতেই হইব! অঙ্ক না হইয়া যাইব কই?’ আবার নতুন করে ভাবতে বসতেন, আবার নতুন করে করতেন।’

‘এক মাঝরাতে খবর পেলাম, পিন্টুদা আর নেই। শরীর নিয়ে ভুগছিল অনেকদিনই, শেষমেশ লড়াই থামল। আমার ছোটবেলার অনেকখানি অংশ সেদিন ওই আগুনেই পুড়ে গেছিল। তার ছাই এখনও উড়ছে বাতাসে, তাকে আর সারাই করা যাবে না।’

আমার দাদুর খুব বেশি ছবি নেই। পিসেমশাইয়ের কাছ থেকে পাওয়া কোডাক বক্স ক্যামেরায় দু’চারটে ছবি উঠিয়েছিলাম, দাদুর বৃদ্ধ বয়সে। সেই সব ছবির চিহ্নমাত্র নেই। দাদুর ছবি আমার স্মৃতিতেই আছে। আমার স্মৃতিলুপ্তির পর, বা আমার নিজের লুপ্তির পর, দাদুর কোনও ছবি থাকবে না।

‘মোহিনী ঠাকুর একটু-আধটু কংগ্রেস করতেন। গান্ধীটুপি ছিল। মোহিনী ঠাকুরের ছোট ছেলে জিজ্ঞাসা করল, গান্ধীটুপি মাথায় দিলে কি হবে? পুরোহিত মহা ফাঁপরে। কে একজন বললেন, মুকুট হইল গিয়া লোকাচার। মুকুট পরিধান তো শাস্ত্রে নাই!’

‘ওই বিল থেকে একটা মায়াবি জলজগন্ধ পাওয়া যেত, কিছু কচুরিপানা, যা পুরোটা শুকায়নি, এর উপর দিয়ে হাঁটলে হালকা ফটাস শব্দ হত। শব্দ-চিত্র-গন্ধময় সুখস্মৃতি।’

মামু চলে গেছেন, সে-ও বছর চোদ্দ হল। বাবা-মা-ও নেই আর। আমার মধ্যে থেকে আঁকার ইচ্ছের মতো ওঁরাও একে-একে মিলিয়ে গেছেন। তবু, আজও কখনও যখন লেক গার্ডেন্সের বাড়িটায় যাই, গানের ঘরে ঢুকি, একবার অন্তত চোখ তুলে দেওয়ালে টাঙানো নিজেরই আঁকা ওই ছবিটার দিকে তাকাই।

‘নীলগঞ্জের অনেক স্মৃতি ভিড় করে আসছে, অধিকাংশই গন্ধ নির্ভর। সার-সার গরুদের সমবেত গন্ধ, দুধ দোয়াবার বালতি বালতি দুধের গন্ধ, ডাঁই করা গোবরের গন্ধ, সবই আলাদা রকম।’

‘ঠাকুর্মা মেয়ে সন্তানদের তুলনায় ছেলে সন্তানদের বেশি খাতির করছেন। নাতনিদের চেয়ে নাতিদের খাতির বেশি! এটা তো সবসময়েই দেখেছি। মাছের লেজাটা, ছোট টুকরোগুলো সব মেয়েদের। টানাটানির সংসার হলেও, আম আসত ঝুড়ি ভরা, পচা-টচা দাগি আমগুলো মেয়েদের।’

‘‘পুরনো বই কিনলে, প্রথম কাজটি ছিল, পুরনো মালিকের নামটি নিষ্ঠুরভাবে ধ্বংস করা। একটা কাগজে, নিজের নামটি লিখে, আঠা দিয়ে কাগজটি সাঁটিয়ে দেওয়া। পুরনো বইয়ে যদি এই ধরনের ‘নাম-খেলা’ হয়েই থাকে, সেগুলো তো কাটা যায় না, বইটা নোংরা হয়ে যাবে।’’

‘‘আদৌ যে বড় হয়ে কিছু একটা হতে হয় সকলকে, সেটাই জানা নেই তখন। অনেকেই আঁকার খাতা দেখে বলছেন, ‘এ নির্ঘাত আঁকিয়ে হবে, মিলিয়ে নিও!’ কিন্তু সেসবও আমার মাথায় নেই। আঁকছি তো অনাবিল আনন্দ পাচ্ছি বলে, কিছু হওয়ার জন্য তো নয়।’’

বাচ্চাদের মোবাইলের প্রকোপ থেকে বাঁচাতে বাউন্সার নিয়োগ? তৈরি হচ্ছে নতুন চাকরির সম্ভাবনা। ছোটরা যাতে মোবাইলে মজে না থাকে, তার জন্য প্রহরী নিয়োগ করা হচ্ছে, কিন্তু বাউন্সাররা যদি মোবাইলে মন দেয়, তাহলে?
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.