“আমার বিষয়বস্তু: ‘ঈশ্বর’”
বাংলা সাহিত্যের স্বয়ম্ভূ-স্বর অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তর কবিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বহু গুণীজন অত্যন্ত মূল্যবান আলোচনা করেছেন বিভিন্ন সময়ে, বিস্তৃত করেছেন বাংলা কবিতার নিষ্ঠ পাঠকের জন্য, এই কবির সৃষ্টিকে বোঝার পরিসর। পাঁচের দশকের অন্যতম শক্তিশালী এই কবির কবিতা পড়তে গিয়ে আশ্চর্য হতে হয় তাঁর ঈশ্বরদর্শনের অভিনবত্বর মুখোমুখি হয়ে! আমার কবিতাপাঠের অত্যন্ত স্বল্প অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে এই কবি তাঁর কবিতায় কতরকম অভাবনীয় এবং অপ্রত্যাশিত উপায়ে ঈশ্বরের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত এবং বিযুক্ত করেছেন, সেই দিকেই সামান্য আলোকপাত করার চেষ্টা করব।
অলোকরঞ্জনের ঈশ্বরচিন্তা প্রচলিত অর্থে কতখানি ‘ঐশ্বরিক’— তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ তৈরি হতে পারে তাঁর কবিতা পড়েই। এ-বিষয়ে ভিন্নমত থাকতেই পারে যদিও। যে কবিতায় এই পঙক্তি, “আমার বিষয়বস্তু: ‘ঈশ্বর’”— সেই কবিতারই পরবর্তী অংশে পাওয়া যাচ্ছে—
“…তাই ভাবি, ‘ঈশ্বর’ বললেই ক্ষণে ক্ষণে
বিদ্যুতের মহিমায় অনীশ্বর নরকের গলি
হঠাৎ ফুটে বেরোয়, শয়তানের ললাটে ত্রিবলি,” (‘রক্তাক্ত ঝরোখা’)
এই ক’টি লাইন পড়ামাত্র নানা প্রশ্ন ভিড় করে আসে মাথায়। চিন্তার বিচিত্র অনুকূল ও প্রতিকূল স্রোতের মধ্য দিয়ে সাঁতরাতে-সাঁতরাতে মনে পড়ে, ষোড়শ শতকের মেটাফিজিক্যাল কবি জন ডানের ‘হোলি সনেটস’ সিরিজের ১৪ নম্বর কবিতার কথা, যেখানে পাঠক পাচ্ছেন ঈশ্বরের প্রায় একইরকম রূপ—
‘But am betrothed unto your enemy:
Divorce me, untie or break that knot again,
Take me to you, imprison me, for I,
Except you enthrall me, never shall be free,
Nor ever chaste, except you ravish me.”

ঠিক যেভাবে ‘ঈশ্বর’ শব্দের পিছু-পিছু এসেছে ‘নরকের গলি’ এবং ‘শয়তানের ললাটে ত্রিবলি’-র মতো বিপরীত এবং বিস্ময়কর অনুষঙ্গ— একইভাবে আমরা ডানের কবিতায় পাই কবির সঙ্গে ঈশ্বরের এক নারকীয়, সহিংস সম্পর্ক। ঈশ্বর— যিনি দয়াময়, পবিত্র স্বর্গোদ্যানের বাসিন্দা, সেই ঈশ্বরের নাম উচ্চারণের সঙ্গে-সঙ্গে কবির সামনে খুলে যায় নরকের অলিগলি এবং আবির্ভূত হন শয়তান। কবি দেখেন, শয়তানের কপালে ত্রিবলি। অর্থাৎ কাম, নারীশরীরের প্রতি লিপ্সাকেই কি কবি দেখাতে চাইছেন শয়তানের আবির্ভাব হিসেবে? প্রশ্ন জাগে। কারণ এই ঈশ্বরের শত্রু, অর্থাৎ শয়তানের সঙ্গে আবার বাগদান হয়েছে অন্য এক কবির। জন ডান বলছেন, ঈশ্বর যদি শয়তানের সঙ্গে সম্পর্কে আবদ্ধ হওয়ার কারণে কবিকে শাস্তি দেন, তাহলেও তিনি কখনও আর নিজের পবিত্র এবং নিষ্কলুষ সত্তাকে ফিরে পাবেন না। ঈশ্বর কবিকে মন্ত্রমুগ্ধ এবং বিমোহিত করলেও শয়তানের প্রভাব থেকে কবি কোনওদিনই মুক্ত হতে পারবেন না। অলোকরঞ্জনের কবিতার ক্ষেত্রেও আমরা ঈশ্বরের সঙ্গে শয়তানের প্রত্যক্ষ সংযোগ দেখতে পাচ্ছি, যার অর্থ এমন হতে পারে যে, হয়তো কবি ঈশ্বরকে প্রচলিত ধ্যানধারণার বাইরে গিয়ে এমন এক অস্তিত্ব হিসেবে দেখেছেন, যেখানে দেবতার দেবমহিমা প্রশ্নাতীত নয়, যেখানে ঈশ্বরই হতে পারেন নরকের পথে যাত্রার মূল কান্ডারি।
এই চিন্তাসূত্র ধরে মনে পড়তে বাধ্য মিল্টনের ‘Paradise Lost’ এবং ক্রিস্টোফার মার্লোর ‘ডক্টর ফাউস্টাস’। ঈশ্বরকে শয়তানের সঙ্গে সংযুক্ত করার এই চিন্তা অতি আধুনিক এবং বর্তমান সমাজ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক নয় কি? ঈশ্বরতুষ্টির নামে, ধর্মের দোহাই দিয়ে যে অনাচার, নারকীয় কার্যকলাপ দিনের পর দিন মানুষকে করে তুলেছে আসলে শয়তানেরই অনুগামী, সেখানে ঈশ্বর তো প্রকট হচ্ছেন না দুষ্টের দমন করতে! কোথায় দেবতার কল্যাণময় রূপ, কোথায় তাঁর পাপহরণকারী ঐশ্বরিক শক্তি?
‘গিলোটিনে আলপনা’ কাব্যগ্রন্থের ‘দ্ব্যর্থ-আলো’ কবিতাটি শুরু হচ্ছে এইভাবে—
‘ঈশ্বরের অন্তর্বাস খুলে
তারা দেখব তারা দেখব আমি’
এই কবিতাতেই খানিক পরে আবার পাঠক পাবেন—
‘কোপার্নিকাস যাই বলুন না কেন
ঈশ্বরের অন্তর্বাস ছিঁড়ে
তিনশো রকম সূর্য দেখব আমি’
এই কবিতায় যে বিস্ময়-উদ্দীপক দৃশ্য নির্মাণ করেছেন অলোকরঞ্জন, তা যেমন একরকম এই সীমাহীন ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিপ্রক্রিয়ার প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ, তেমনই আবার সৃষ্টিকর্তার একচ্ছত্র ক্ষমতাধারণের দর্পচূর্ণ করে দৈবশক্তির ওপর মানুষের ইচ্ছের জোর খাটানোর এক সুচতুর কৌশল। মানুষ নিজের ইচ্ছেয় ছিঁড়ে ফেলতে চাইছে ঈশ্বরের অন্তর্বাস। এই ঈশ্বর নারী না পুরুষ, তা আমরা জানি না, কিন্তু একজন মানুষ ঈশ্বরকে একরকম ধর্ষণ করে দেখতে চাইছে, তাঁর শরীরে লুকোনো আছে কী কী গ্রহ-তারা? এই প্রসঙ্গে মনে পড়ছে মার্কিন কবি অ্যানি সেক্সটন তাঁর ‘The Fierceness of Female’ কবিতায় লিখছেন—
‘I raise my pelvis to God
so that it may know the truth of how
flowers smash through the long winter.’

অলোকরঞ্জনের কবিতার মূল ভাবের এক ভিন্ন প্রকাশ পাঠক দেখতে পাবেন এই কবিতায়। আগের কবিতায় এক পুরুষ কবি ঈশ্বরের অন্তর্বাস খুলে তাঁর শরীর-রহস্য উন্মুক্ত করতে চান আর অন্যদিকে এক নারী কবি নিজের কোমর উত্থিত করে নিজের যোনি মেলে ধরছেন ঈশ্বরের সামনে, যাতে তাঁর শরীর বুঝতে পারে কীভাবে তুষারপাতে ধ্বংস হয় ফুলের দেহ, অর্থাৎ কীভাবে ঈশ্বর ধর্ষণ করেন নারীশরীরকে। ঈশ্বরের নারীধর্ষণ করার দৃষ্টান্ত গ্রিক পুরাণের বিভিন্ন কাহিনি-তে বারবারই আমরা পেয়েছি। দেবতা জিউস নানারকম কৌশল অবলম্বন করে ইউরোপা, লেডা, লো এবং আরও অনেক নারীর সঙ্গে যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হয়েছেন। একই ঘটনা আমরা দেখি পোসেইডন-মেডুসা বা অ্যাপোলো-কাসান্দ্রার ক্ষেত্রেও। এই ধারাকে সম্পূর্ণ উলটে দিয়ে অলোকরঞ্জনের কবিতায় ঈশ্বর হন ধর্ষিত, আবার সেক্সটনের কবিতায় সেই ঈশ্বরই ধর্ষক!
‘শরীর ফুরিয়ে গেলে’ কবিতায় দেখা যাচ্ছে ঈশ্বরের বন্ধুরূপ—
‘দুই পা আঁকড়ে ধরে আমি তো উত্তীর্ণ হয়ে যাব
ভুবন বিস্তৃত শূন্য থেকে, সূর্যনাভ
ঈশ্বরের পাশে গিয়ে সমধর্মী বন্ধুর মতন
দাঁড়াব।’
মানুষের সহায় ঈশ্বর। কথায় আছে, যার কেউ নেই তার ঈশ্বর আছেন— হিতাকাঙ্ক্ষী বন্ধুর মতো। মানুষ ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে, বিপদের সময় যেন তিনি তাদের পাশে দাঁড়ান। কিন্তু মানুষ বন্ধু হয়ে ঈশ্বরের পাশে দাঁড়ানোর স্পর্ধা পাবে কোথা থেকে? মানুষের অত ক্ষমতা কোথায়?
কিন্তু এই কবিতা সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে। কবিতাটি বলছে, কবি সমধর্মী বন্ধুর মতো ঈশ্বরের পাশে দাঁড়াবেন। এই লাইনগুলি আরও একবার— ঈশ্বরকে একান্ত নির্ভরযোগ্য মনে করেও, ঈশ্বরের অবিসংবাদী ক্ষমতাকে অস্বীকার করছে তো বটেই, তার থেকেও বড় কথা, এই লাইনগুলি যেন প্রমাণ করছে যে, ঈশ্বরও অসহায় হতে পারেন, তাঁরও প্রয়োজন হতে পারে মানুষের বন্ধুত্বের। তাহলে কবি কি ঈশ্বরকে মানুষের মতোই একাকী মনে করেন? কবি কি বিশ্বাস করেন, মানুষই সময়-পরিস্থিতির নিরিখে হয়ে উঠতে পারে ঈশ্বর বা শয়তান? আরও একটি কবিতায় তিনি ঈশ্বরের অসহায়তাকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন। ‘রাত্রির মন্দির’ কবিতার শেষাংশ এভাবে চলেছে—
‘…সব সেরে গেছে, সকলের ব্যাধি
আরোগ্য হয়েছে, এই রাত্রির মন্দিরে তুমি ছাড়া
কেউ তো অসুস্থ নেই ওরে অন্ধ মরণ বিলাসী,
ঈশ্বর তোমার বুকে তুমি বুঝি তাকিয়ে দেখবে না?’

আগের কবিতায় ঈশ্বরের একাকিত্ব এবং অসহায়তা এই কবিতার ক্ষেত্রেও পাঠকের নজর এড়াবে না। ঈশ্বরের আশীর্বাদে মন্দিরের রোগজর্জর দর্শানার্থীরা সকলে সুস্থ হয়ে উঠেছে, কিন্তু ঈশ্বর নিজেই অসুস্থ। নিজের রোগ নিরাময়ের দিকে হুঁশ নেই ঈশ্বরের। এই কবিতা ভীষণভাবে মনে করিয়ে দেয় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কোভিডকালীন অবস্থার কথা। প্রতিটি হাসপাতাল তখন দেবদেউল এবং সেখানে কর্মরত চিকিৎসকেরা স্বয়ং দেবতা! তাঁরা দিনরাত পরিশ্রম করে রোগ নিরাময় করে চলেছেন কোভিডে আক্রান্ত রোগীদের এবং সংক্রামিত হয়ে পড়ছেন নিজেরাই। নিজেদের অসুস্থতার পরোয়া না করে আরোগ্য দিয়ে চলেছেন মন্দিরের শরণাগতদের। অলোকরঞ্জন প্রয়াত হয়েছিলেন ২০২০ সালেই, ১৭ নভেম্বর, যখন কোভিড-দানব পৃথিবী-জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ভাবতে অবাক লাগে, কী অদ্ভুতভাবে এই গোটা পরিস্থিতির কথা লিখে গিয়েছেন কবি!
‘রাত্রির রাজপথ’ কবিতাটি বলছে—
‘ট্রামলাইনের রাস্তা সারায় রাঙা লন্ঠন জ্বেলে
দুটি ঈশ্বর ছেলে
একটি অধিক ঈশ্বর, তাই হঠাৎ তার হাতুড়ি
রাতের যক্ষপুরী’
এই কবিতায় ‘দুটি ঈশ্বর ছেলে’ এই পঙক্তি এক সমকামী সম্পর্কের দিকে ইঙ্গিত করছে। ভালবাসার মানুষকে ‘ঈশ্বর’ জ্ঞানে দেখে মানুষ। তাই এই দুই ছেলে একে অপরের ঈশ্বর। ‘অধিক ঈশ্বর’ যে ছেলেটি, তার অভিজ্ঞতা বেশি৷ এই কবিতায় ‘হাতুড়ি’ শব্দের প্রয়োগের মধ্যে রয়েছে এক পুরুষালি শক্তি প্রদর্শন, একরকম ধাতব ধাক্কা। বুঝতে অসুবিধে হয় না, এখানে দুই পুরুষের দেহসঙ্গমের কথা বলা হয়েছে। তাই অন্য অনভিজ্ঞ ছেলেটি অভিজ্ঞ সঙ্গীকে—
‘বাধা দেয় তাকে বাধা দেয় কৌশলে।’
‘তুমি কি চেয়েছ শুধু নম্র নবনীত’ কবিতাটি শুরু হচ্ছে এভাবে—
‘ঈশ্বরের সঙ্গে এক বিছানায় শুলে
অনাচারী নাম যদি রটে তো রটুক’
এই কবিতাটিতেও আগের কবিতার মূল ভাবের অনুরণন দেখা যাচ্ছে। ঈশ্বর পুরুষ, তাই তাঁর সঙ্গে সহবাস করলে অনাচারী নাম রটবে, কারণ সমকাম সমাজস্বীকৃত নয়। কবিতার শেষে এসে বলা হচ্ছে—
‘…এ শুধুই তোমার দুরাশা,
আমি তো বিপথগামী কবিতার ভাষা
গুঁজে দেবো খুব সাধ্বী রমণীর চুলে
আর দয়া করে তুমি কোরো না তামাশা
দৈবাৎ হঠাৎ আমি ঈশ্বরকে ছুঁলে।’
কবি বলছেন, অত্যন্ত পবিত্র সতীসাধ্বী নারী বলেই যে পুরুষ তার প্রতি আকর্ষণ অনুভব করবে, এমনটা না-ও হতে পারে। পুরুষ আকর্ষিত হতে পারে ঈশ্বরের প্রতি। অর্থাৎ, অন্য পুরুষের প্রতি। নারীকে তাঁর অনুরোধ— কবি দৈবকৃপায় ঈশ্বরকে স্পর্শ করলে সে যেন কুন্ঠিত না হয়, কারণ প্রতিটি মানুষকে ঈশ্বর দেখা দেন ভিন্ন-ভিন্ন রূপে।
‘পুরোহিতের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর’ কবিতার অন্তিম অংশে বলা হচ্ছে—
‘কী বোঝো তুমি ঈশ্বরের ভাড়াটে সন্ন্যাসী?’
এই একটি লাইনে পাঠক বুঝে নিতে পারেন, ঈশ্বরের প্রতি অকারণ অন্ধভক্তি কবির স্বভাব নয়। ঈশ্বরকে তিনি বিশ্বাস করেন নিজের মতো করে। দৈবের নামে ভন্ডামি মেনে নেওয়া তাঁর পথ নয়। তাই ঈশ্বর অলোকরঞ্জনের কবিতায় প্রকট হন কখনও প্রেমিক পুরুষ রূপে, কখনো অসহায় একাকী কোনও অস্তিত্ব হয়ে, কখনও মানুষের ইচ্ছের কাছে নতশির দেবতারূপে, কখনও নরকের প্রবেশদ্বার উন্মুক্ত করা শয়তানবেশে, আবার কখনও তাঁর কবিতায় কোনও ভিখারিকে দেখতে লাগে অবিকল ঈশ্বরের মতো। মানুষ সেই ভিক্ষুকবেশী ঈশ্বরের কাছে গেলেও আসলে তাদের মধ্যে দূরত্বই বাড়ে, কারণ সে ভিখারি ভেবে দেবতাকে দূরে ঠেলে দেয়।
‘ভিখারি, আপেল হাতে, অবিকল ঈশ্বরের মত;
সম্ভাষণে কাছে আসি, কিন্তু ব্যবধান বেড়ে যায়’
অলোকরঞ্জন ঈশ্বরকে দেখেছেন প্রধানত মানুষরূপেই এবং তাঁর নিজের কবিতাই সে-কথা বারবার প্রমাণ করেছে। তাই তাঁর ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞ নন অনেকক্ষেত্রেই। কবির ঈশ্বর রয়েছেন কবির নাগালের মধ্যেই। ঈশ্বর সময়বিশেষে কবিরই ইচ্ছের রঙে রঞ্জিত হয়ে বিভিন্নরূপে ধরা দিয়েছেন তাঁর কাছে। ঈশ্বরকে তিনি নিজের ইচ্ছেমতো চালিত করেছেন, তাঁর মূল্য নির্ধারণ করেছেন নিজের চিন্তার মাপকাঠিতে। তাই অলোকরঞ্জনের কলম এমন বাক্যও লিখতে পেরেছে সাবলীল স্বাচ্ছন্দ্যে—
‘প্রদর্শনীর মধ্যে দুর্মূল্য সেসব ছবি দেখে
ভাবলাম ঈশ্বর প্রাপ্য জলের মতন ফ্যালনা দামে!’ (‘এঁকে যাও, আন্তনিও’)
মনে পড়ে যাচ্ছে মার্কিন কবি স্টিভেন কুকের কবিতা ‘The Importance of Pomposity’—
“God for sale,
And the greenback will mop the saint’s brow.”




