
ডেটলাইন: পর্ব ৫৬
২০০৮ সালে যে নাটোরে আমি গিয়েছিলাম ট্রাভেল শোয়ের শ্যুটিং-এ, তার সঙ্গে ২০২২ সালে ফের দেখা নাটোরের তফাত আকাশপাতাল বললেও কম বলা হয়। পরের বারের যাওয়াটা সরকারি আমন্ত্রণে, এপার বাংলার শিল্পী-বুদ্ধিজীবী-সাহিত্যিক দলের সফরসঙ্গী হয়ে।

২০০৮ সালে যে নাটোরে আমি গিয়েছিলাম ট্রাভেল শোয়ের শ্যুটিং-এ, তার সঙ্গে ২০২২ সালে ফের দেখা নাটোরের তফাত আকাশপাতাল বললেও কম বলা হয়। পরের বারের যাওয়াটা সরকারি আমন্ত্রণে, এপার বাংলার শিল্পী-বুদ্ধিজীবী-সাহিত্যিক দলের সফরসঙ্গী হয়ে।

এই বরিশাল শহরেই রয়েছে জীবনানন্দ দাশ সড়ক, যার আগে নাম ছিল বগুড়া রোড। তার ধারেই সর্বানন্দ ভবনে ১৯৪৬ সালে কলকাতা চলে যাওয়ার আগে পর্যন্ত থাকত জীবনানন্দের পরিবার। ঠাকুরদার নামে ছিল বাড়ির নাম। পরে মালিকানা বদল হলেও সেই বাড়ি পেল একেবারে জীবনানন্দীয় নাম ধানসিড়ি।

‘‘‘শিলাইদহ থেকে শান্তিনিকেতন’ তথ্যচিত্রের শুটিং-এ সাজাদপুরে পৌঁছে মনে হল, একটা ছোটগল্পের ভেতর ঢুকে পড়লাম। রবীন্দ্রনাথের প্রিয় ‘গল্পের দুপুরবেলা’ খুঁজে পেলাম দোতলার লাল মেঝের ঘরটার বড় জানালার শিকের ফাঁকে, যেখান থেকে নিচে তাকালে এখনও দেখা যায় একটা চৌকো চৌহদ্দি, পোস্ট-অফিসের স্মৃতি।’’

‘পদ্মাকে কাছে ধরে রাখার ইচ্ছেতেই সম্ভবত কুঠিবাড়ির পাঁচিল ঢেউখেলানো। আম-জাম-কাঁঠালের ছায়াঘেরা, দু’টি পুকুর সমেত দোতলা জমিদারবাড়ি বেশ যত্ন করে রেখেছে বাংলাদেশ সরকার।’

আমার সঙ্গে মাঝেমধ্যেই তর্ক হত। আমাকে বলত, ‘এত রাজনৈতিক কাজ কোরো না। ঝামেলায় পড়ে যাবে। আলোকচিত্র নিয়ে থাকো!’ কিন্তু মজার বিষয়, রঘু তার কাজে অন্তঃসলিলা রেখেছিল রাজনীতিকে। ইন্দিরা গান্ধীর মন্ত্রিসভার যে ছবি, যেখানে পিছন থেকে দেখা যায় ইন্দিরা গান্ধীকে, সেই ছবিতে সত্যি সত্যিই শক্তি কার কাছে, এটা খুব স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।

‘‘একজনকে চেনার জন্য তাঁর শৈশব ও কৈশোর যতটা গুরুত্বপূর্ণ, অন্য কিছু সেভাবে নয় বোধহয়। জীবন কোন পথে চলবে, তার একটা রূপরেখা, অনেকটাই তৈরি হয়ে যায় ওই বয়সের মধ্যে। এই বইয়ের ‘আমার শেকড়-বাকড়’ অংশটি সেই কারণেই এত আকর্ষণীয়।’’

‘‘একবার ভাবুন তো, কলকাতার ক্রীড়া-সংস্কৃতি ও ইতিহাস সম্পর্কে এই হিন্দুত্ববাদী আস্ফালনের ন্যূনতম সম্পর্ক রয়েছে কি না? আর কেনই-বা বিসিসিআই ক্রিকেট পরিচালনার ক্ষেত্রে এইসব অ-ক্রিকেটীয় ব্যতক্তিদের ‘হুমকিকে’ পাত্তা দেবে?’’

বাংলাদেশে জীবন্ত দগ্ধ করা হল দীপু দাসকে, ভারতে গণনিগ্রহে মৃত্যু হল আতাউর হুসেনের। সংখ্যাগুরুর আক্রমণের শিকার বারবার হবে সংখ্যালঘুরা, এটাই কি ক্রমে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে? গণিত কি এখন এটাই যে, সংখ্যাগুরুর নিয়মই হল কম ক্ষমতাবানকে আক্রমণ করা?

‘‘আন্দোলন বা অভ্যুত্থানের সঙ্গে গণহিংস্রতার তফাত ছিল, আছে এবং থাকবে। বাংলাদেশ যা প্রত্যক্ষ করছে, তা ভাবনাহীন, আদর্শহীন ‘মব জাস্টিস’।’’

“‘স্মৃতি’কে এপিক ফর্মের মাধ্যমে ছুঁতে চান ঋত্বিক। আমাদের মনে করাতে চান বিকল্প এক ‘আধুনিকতা’-র অবয়ব। মৃত্তিকালগ্ন অবয়ব। আত্মবীক্ষা আর আত্মশক্তির ‘আধুনিকতা’।”

যথেষ্ট মনের জোর এবং আঘাত সইবার মতো ক্ষমতা আছে, এমন মানুষের পক্ষেও সম্ভব নয় এই বই টানা পড়া/দেখা। প্রতিটি স্যুভেনির কানায় কানায় পূর্ণ চূড়ান্ত বিভীষিকা, নয়তো দুঃখ-দুর্দশার ধুনে নিরবচ্ছিন্ন ও নিঃশব্দ বয়ন।

‘পয়লা বৈশাখ আমাদের কাছে উৎসবের উপলক্ষ মাত্র। প্রত্যেকদিনের অসহনীয়তা থেকে আনমনা হওয়ার আরও একটি প্রকরণ!’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.