
সংবাদ মূলত কাব্য: পর্ব ৩৯
‘সেই কবে ১৯৭৪ সালে তমলুকে শ্যামলকান্তিদের কবিসম্মেলনে, তুষারকান্তি ঘোষকে সে-কথা বলেছিলাম, আর এটা ১৯৮৩ সাল! হতবাক হয়ে গেলাম আমি। এমন মানুষই তো পারেন, চার্চিলের ঠোঁট থেকে চুরুট টেনে নিতে!’

‘সেই কবে ১৯৭৪ সালে তমলুকে শ্যামলকান্তিদের কবিসম্মেলনে, তুষারকান্তি ঘোষকে সে-কথা বলেছিলাম, আর এটা ১৯৮৩ সাল! হতবাক হয়ে গেলাম আমি। এমন মানুষই তো পারেন, চার্চিলের ঠোঁট থেকে চুরুট টেনে নিতে!’

‘ওরা আমাদের কয়েকজনকে, ওদের ড্রেজারে নিয়ে গিয়েছিল। যেখানে গঙ্গা থেকে পলিমাটি তোলা হয়। পাহাড়ের কাছে বেঁধে রাখা অন্য একটা জাহাজ থেকে সেই পলিমাটি ঠেলে পাঠানো হতো সল্টলেকে। খাল বরাবর লালরঙের লোহার মোটা পাইপ, খাল বরাবর সল্টলেকের জলাভূমিতে গিয়ে পড়ত।’

‘প্রতি বছর প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে একটার পর একটা। লক্ষ-লক্ষ ছেলে-মেয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। বছরের-পর-বছর ধরে ছাত্র-ছাত্রীরা প্রিপারেশান নিচ্ছে। তারপর দেখছে, প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গেছে। আবার অনিশ্চয়তা। এই সমাজে বড় হয়ে ওঠা তরুণপ্রজন্ম কী শিখছে? তাদের ভবিষ্যৎ বলে কিছু আছে? কেউ ভাবছে?’

‘স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলা তথা সমগ্র ভারতে, গণেশ পাইন একজন অবিস্মরণীয় শিল্পী। ছয়ের দশক পরবর্তী চিত্রকলায়, তাঁর প্রধান অবদান এই যে— ছবিতে তিনি ঐতিহ্য অন্বিত একদেশীয় আত্মপরিচয় সন্ধান করেছিলেন।’

‘খবরে তো হরদম শুনি, স্কুলে, রেস্তরাঁয়, শপিং মলে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে একরাশ লোক মেরে ফেলার খবর। বন্দুকবাজ ধরা পড়লেই বলা হয় সে নাকি মানসিক রোগী। বড়লোকের দেশটার সর্বস্তরে এত সাইকো থাকলে, রিহ্যাব কি কম পড়িয়াছে?’

ইতালির প্রথম সারির খবরের কাগজ, খেলার পত্রিকাগুলোও জবরদস্ত সব হেডলাইন করেছিল। কেউ বলেছে তৃতীয় ‘অ্যাপোক্যালিপ্স’, কারও কপি জুড়ে করুণ-ভায়োলিন। আহা রে, গ্রীষ্মের ছুটিতে গোটা ইউরোপ যখন মার্কিন মুলুকে ভিড় জমাবে, আমাদের তখন— ‘কোথাও যাওয়ার নেই, কিচ্ছু করার নেই।’

‘শারীরিক মৃত্যুর অনেক আগেই, উপেক্ষা আর অবহেলায় শিল্পীরা খুন হয় প্রতিনিয়ত। নিজের শিল্পের ব্যর্থতার দায়ভারে, শিল্পী আত্মহনন করে। রোজ। মরা হাতির শরীরে তখন ব্যবসায়ীদের অধিকার।’

‘‘মেসি চলে যাবেন। রোনাল্ডো চলে যাবেন। শুনছি। মানছি। বারবার যাব-যাব করেও যেন যাচ্ছে না। খেলে চলেছে। অপ্রাসঙ্গিক হতে-হতেও হচ্ছে না। জেন-জি তারকাদের বিশ্বকাপে, সুমনের গান— ‘তিনি বৃদ্ধ হলেন, বনস্পতির ছায়া দিলেন সারাজীবন’— যেন বদলে যাচ্ছে দ্বিবচনে।’’

‘আজ থেকে কয়েক বছর পর কি এরকম অঙ্ক আসতে পারে যে, কোন ক্ষমতাশালী মানুষ, চাকরির বিনিময়ে এত টাকা ঘুষ নেন। সেই ঘুষের টাকা থেকে, শতকরা এত এখানে, শতকরা এত ওখানে কাটমানি দিতে হয়। এতজন যদি চাকরি পায়, ক্ষমতাশালীর পকেটে কত টাকা আসবে?’

‘কালীঘাট গেলে, অল্প বয়স থেকেই আমি মৃত্যুর খবর পাই। কাউকে চিনি, কাউকে শত চেষ্টা করেও মনে করতে পারি না। তবে একটা ব্যাপারে আমি নিশ্চিত— গলির যে-সব ছেলেমেয়েরা ছেলেবেলায় আমার সঙ্গীসাথী ছিল, তারা কেউই বেঁচে নেই। চল্লিশ পর্যন্ত ওদের কোটা। ওরা বুড়ো বা বুড়ি হয় না।’

‘আর আমেরিকান নাগরিকের মৃত্যুসংখ্যা? অগুনতি! এমিলি জেনেছেন, সম্প্রতি মিনেসোটায়, অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ মিছিল থেকে প্রশ্ন উঠেছিল— কোনও অভিবাসীর আপাতকালীন নিরাপত্তার ছাড়পত্রটি, কেন সরকার খারিজ করে দিতে চাইছে?’

‘পালাবদলের পরে-পরেই পুলিশ প্রশাসন অতি-তৎপর হয়ে আটকে দিচ্ছিল যাবতীয় মাটির লরি। ফলে, মাটি এসে পৌঁছচ্ছিল না কুমোরটুলিতে। বায়না নেওয়াও বন্ধ রেখেছিলেন কারিগররা। কারণ, বায়না নিলেই সময়ে মূর্তি গড়ার তাগিদ থাকবে। মাটির এই অভাবনীয় সংকটে প্রতিমা গড়া চলবে কী করে?’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.