
থিয়েটার, শিল্প, শাসক
‘রাষ্ট্রশক্তি সবসময় সৎ শিল্পকে ভয় পায়। কেন পায়? কারণ সে সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায় বলে। কিন্তু যে-দেশে শিল্পীরাই বিকিয়ে যেতে থাকে প্রতিদিন ক্ষমতার কাছে, অর্থের কাছে, সেই দেশে কি আদৌ এইরকম কোনও আইনের প্রয়োজন আছে?’

‘রাষ্ট্রশক্তি সবসময় সৎ শিল্পকে ভয় পায়। কেন পায়? কারণ সে সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করায় বলে। কিন্তু যে-দেশে শিল্পীরাই বিকিয়ে যেতে থাকে প্রতিদিন ক্ষমতার কাছে, অর্থের কাছে, সেই দেশে কি আদৌ এইরকম কোনও আইনের প্রয়োজন আছে?’

‘আসলে শান্তিদেব তো গান করতেন না, গানের মূর্তি গড়তেন। সেদিক থেকে যতটা-না গায়ক, তার থেকেও বলা চলে কারিগর। গান গাওয়া যে একটা ভাস্কর্য বা স্থাপত্য নির্মাণ, সেটা ওঁকে শুনলে বেশ বোঝা যায়। সেখানে উঁচু-নীচু, খোঁচ-খাঁজ, সোজা-বাঁকা কত কী স্পষ্ট।’

‘ক্ষিতিমোহন কাশীতে জীবনের প্রথমভাগের অনেকটা সময় অতিবাহিত করেছিলেন। তাঁর শাস্ত্রশিক্ষাও সম্পন্ন হয়েছিল মূলত কাশীর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে। কাশীর আবহ তাঁকে রক্ষণশীল শাস্ত্রী বানায়নি, বরং একজন গ্রহিষ্ণু উদার চিত্তের মানুষ হিসেবে তাঁর জীবনেররসদ জুগিয়েছিল।’

‘রবীন্দ্রনাথ যেমন করে তাঁর বাবাকে পেয়েছিলেন, তার থেকে রথীন্দ্রনাথ আর তাঁর বিশ্ববিখ্যাত পিতার সম্পর্ক ঠিক কোথায় কতদূর আলাদা হয়ে গেল?’

‘আমার মনে হয়, সলিল চৌধুরীকে বুঝতে গেলে, সবচেয়ে জরুরি এটা বোঝা— তিনি কীভাবে এখানকার ভোকাল মেলোডিকে ভেঙে, সম্পূর্ণ নতুন একটা রূপ দিলেন। এমনকী পাশ্চাত্যেও সুরের কতগুলো নির্দিষ্ট সরলরৈখিক চলন আছে, কিন্তু সলিল সেটাকে আত্তীকরণের সময়ে সরলরৈখিক রাখলেন না।’

“মেয়েদের এই বিশেষ ক্রিকেটের পরিকাঠামো, জনপ্রিয়তা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, নিজেদের গ্রামীণ পরিবারের সচ্ছলতার অভাব— সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে, এই বিশ্বজয় মনে করিয়ে দেয় সেই বিখ্যাত গানটির লাইন, ‘তু জিন্দা হেয় তো জিন্দেগি কে জিত পেয় ইয়েকিন কর…’”

“নির্বাক থেকে ক্রমশ সবাক হয়ে উঠছে চলচ্চিত্র। নতুন শিক্ষাকে সাদরে গ্রহণ করলেন দেবকী। বুঝলেন, নির্বাক চলচ্চিত্রের যুগ শেষ। সিনেমা তৈরি করতে হলে শুধু আলো-ছবি নয়, তাকে সাজিয়ে দিতে শব্দ, সুর আর ছন্দের লাবণ্যে।”

‘তাঁর জীবন ও লেখালেখিতে বাঙালির রেনেসাঁস প্রদীপের আলো ও তার তলার অন্ধকার— দুটোই বড্ড স্পষ্ট। প্যারীচাঁদের চরিত্রের যে-স্ববিরোধ, তা নিয়ে হুতোম ব্যঙ্গ করলেও আমরা সেটিকে তাঁর স্বভাবের বৈচিত্র্য হিসেবে দেখব;’

‘আধুনিক বাংলা কবিতা সত্যিই নিজেকে পালটাতে-পালটাতে অনেক দূরে চলে গেছে। সলিলের কবিতা সে-পথে যায়নি। কিন্তু সলিল কি আদৌ কবি হতে চেয়েছিলেন?’

“সলিল চৌধুরী তখন বাসু চ্যাটার্জিকে বলেছিলেন, ‘ছবিটা আমাকে দিন, আমি ১০,০০০ টাকায় করে দেব।’ এরপরেই চুক্তি পাকাপোক্ত হয়ে যায়। সলিল আগ্রায় গিয়ে লোকেশন দেখেন এবং ব্রজভাষার কয়েকটি লোকগান রেকর্ড করে আনেন, যা পরে ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরে ব্যবহৃত হয়।”

সলিল চৌধুরী যেভাবে আমাদের দেশের সংগীতের সঙ্গে পশ্চিমি সংগীতের মেলবন্ধন ঘটাতে পেরেছিলেন, তার ফলে সৃষ্টি হয়েছিল একটা ‘তৃতীয় ধারা’।

‘আমরা যদি আজকের শিশুদের দিকে তাকাই, তাহলে অদ্ভুত এক জটিল প্রহেলিকার সামনে দাঁড়িয়ে পড়তে হয়। জন্মের কিছু পর থেকেই, মানবশিশু বড় হতে থাকে দৃশ্যের মধ্যে দিয়ে, সঙ্গে থাকে নানারকম শব্দ বা আওয়াজ। এই দু’য়ের সমন্বয়ও সে করে ফেলে, অল্প সময়ের মধ্যেই।’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.