কয়েকটি কবিতা

১
তরিবত করি মন। পাকেচক্রে কেটে যায় শিরা।
যে-বিছানা ভাসমান, তাতে পাতা অন্তিম চাদর।
জখমে নখর রাখে কলহকাকলি বান্ধবীরা—
তাদের কঙ্কাল থেকে নেমে আসে মাংসাশী ভোর…

২
কুকুরপ্রত্যাশী এই মধুবন। দন্তনখশোভা
তার বড় পছন্দের। গলার পট্টিটি খুলে দিলে
যে-হুংকার লাফ দেয়, তাকে চাই ভীষণ। অথবা
শরীরে শরীর দুমড়ে পিষে নিতে চাই অন্ত্যমিলে।

৩
তুমি যত ট্যারান্টিনো, আমি তত জাফর পানাহি।
রক্তভরা পাত্র দিলে আমি তাতে রুটিটি ভেজাই।
খিদে ও হিংসার মধ্যে একটি ঘোড়া, চিরশববাহী…
আমি এ-সফর শেষে তুমি নয়। তাকে পেতে চাই।

৪
এ-শরীর টেরাকোটা। পোড়ামাটি। হাতুড়ি ও ছেনি।
পাথরে ডাকাতি হওয়া প্রাণগহনা। খোদাই করো হে।
আজ অবধি যারা এল, তারা কেউ শিল্পকে বোঝেনি
আমি মিশে যেতে চাই তোমাদের পোশাকি বিদ্রোহে!

৫
তরকারি কাটার ছুরি মিথ্যে বলে। শাস্তি রাখো রোদ।
ফুলের গাছের নীচে পুঁতে রাখো শান্তি-অপরাধ।
কে তোমাকে দিয়েছিল জন্মদিনে, ফিতে-বাঁধা ক্রোধ?
সে-রাগে ফুটেছে ঘৃণা। অরণ্যের প্রাচীন প্রবাদ।

৬
আমার এই ভাঙাচোরা পাঁজর তো রাস্তা। পিলগ্রিমেজ।
ডান্ডি ভাড়া পাওয়া যায়। ছোট বাধ্য টাট্টু ঘোড়া চলে…
ফুসফুসে বরফ জমা। অন্ধকারে ঠিকরে ওঠে তেজ…
তোমার এই শেষ তীর্থ দেখো যেন না যায় বিফলে।

৭
আগে তো কাঁদোনি? আজ ক্রন্দনে এমন পুষ্প কেন?
সাজিয়েছ চোখ যেন ফুলভারে বিকল নৌকাটি।
যে-পাখি উড়ালে অন্ধ, পাছে ভেঙে যায় তার ধ্যানও,
দু’চোখে পা ফেলে আমি কান্নারঙা সাবধানে হাঁটি…

৮
পাবলিক তোমার স্পৃহা খেয়ে নেবে। ছিবড়ে ধূমকেতু
আকাশে পাপোশ হয়ে ভেসে থাকবে। কোনও গ্রহযান
মৃত হা-হুতাশ দেখলে পাশ কাটিয়ে পালায় যেহেতু,
মহৎ হবে না জেনো তোমার ওই জন-অপমান।