পঞ্চম পর্ব: শেষ যুদ্ধ শুরু আজ…
মূল রচনা
বের্টোল্ট ব্রেখট
বঙ্গীকরণ
নীহার ভট্টাচার্য
পরিমার্জনা ও সম্পাদিত নাট্যরূপ
অনির্বাণ ভট্টাচার্য, প্রতীক দত্ত

(নিজেরাই উলু দিতে-দিতে তিন মহিলা ঢোকে। গলায় মালা, কোমরে টিফিন বাক্স)
৩ মহিলা: এসে গেছি আমরা। কই, কে কোথায় আছ? বাবুকে খবর দাও।
মতি: এ কী, তোমরা আবার কারা! বাবু এখন ব্যস্ত আছেন। যাও চলে যাও।
চামেলি: এই শোন রে ব্যাটাছেলে,
তোর চাকরি চলে যাবে, কথাটা বাবুর কানে গেলে।
মালা: আমরা বাবুর হবু কনে, বাড়ির হবু মালকিন।
বাবুর সাথে বিয়ে হবে, আজ সে বিয়ের দিন।
চামেলি: তুই বাবুর কাছে গেলি?
বল এসেছে উফ্ চামেলি।
মতি: আরে এখন হবে না দেখা—
সুলেখা: বল এসেছে আহ্ সুলেখা।
মতি: বাবু এলে কিন্তু বিপদ বাড়বে,
তোমাদের সাথে সাথে আমাকেও ঝাড়বে।
তাই সময় থাকতে পালাও।
মালা: বল এসেছে আউচ্ মালা-ও।
সুলেখা: যাও তো ভাই ভেতরে যাও,
গিয়ে বাবুকে খবরটা দাও।
পন্তু: (নেপথ্য থেকে) টাকাগুলো কি মাড়িয়ে আসে নাকি শুয়োরের বাচ্চা?
চামেলি: এই, বাবুর গলা না?
সেইরকমই লাগল যেন!
মতি: না না, এ বাবু সে বাবু নয়,
যাকে তোমরা চেনো।
তাই ভাল কথা বলছি শোনো,
যে যার ঘরে ফিরে যাও।
না কি বাবু এসে দূর করে দিক এটাই তোমরা চাও?
(পন্তু ঢোকে, সঙ্গে চেয়ার নিয়ে দু’জন ঢোকে)
পন্তু: একটা চেয়ার হাত থেকে পড়লে তোমার বাবার পোঁদের চামড়া দিয়ে গদি বানাব শুয়োরের বাচ্চা। সোজা লাইন করে রাখ। মতি, এখানে এরা কারা?
৩ মহিলা: আজ্ঞে আমরা গো, আমরা।
ওই একটা রবি ছেড়ে, এসেছি পরের রবিবারে।
পন্তু: কী! নাম জানি না, মুখ চিনি না, ঢুকলি কোন আবদারে?
সুলেখা: ওই যে কথা বললে কত, মদ আনতে গিয়ে—
আমরা তোমার হবু বউ, আজ আমাদের বিয়ে।
পন্তু: মতি, এক্ষুনি এদের ভাগা।
সোজা কথায় কাজ না হলে পিঠে দু’ঘা লাগা।
যেন আর না আসার সাহস পায়।
তাড়াতাড়ি বিদায় করে, কাজ আছে, ভেতরে আয়। (চলে যায়)
মতি: শুনতে পেলে?
মদের ঘোরে বাবু ওরম অনেক কথাই বলে।
সেসব কথা কি আর এমন ধরে রাখলে চলে?
এবার ভালয় ভালয় এখান থেকে যাও।
সুলেখা: যাচ্ছি গো যাচ্ছি, আগে এতে খাবার ভরে দাও—
চামেলি: ডাল-ভাতটা দিও না ভাই, আর যা আছে দিও।
মালা: আমার জন্য মাছের পিসটা বড় দেখে নিও।
সুলেখা: আমি বাবা মাছ নেব না, অত কী আর ধরবে!
বেশি করে মাংস দিও, ঝোল না হলেও চলবে।
যাবার আগে এই উঠোনে বসি একটুখানি
মিছিমিছি বউ সেজেছি, সে তো আমরা জানি।

মালা: তুমি কি ভাই একটু সময় চাকর সাজতে পারবে?
চামেলি: একটু সময় আমাদেরকে ম্যাডাম বলে ডাকবে?
মতি: (সফিস্টিকেটেড, ওয়েটারদের মতো) ম্যাডাম আপনারা প্লিজ বাইরে একটু অপেক্ষা করুন। এগুলো আমায় দিন, আমি এক্ষুনি আপনাদের অর্ডারগুলো পাঠিয়ে দিচ্ছি।… হয়েছে? নাও এবার যাও।
৩ মহিলা: (হাসতে-হাসতে) থ্যাঙ্ক ইউ গো থ্যাঙ্ক ইউ… (চলে যায়)
(উকিল, কমিশনার, সাংসদ, পুরোহিত ঢোকে)
উকিল: থ্যাঙ্ক ইউ সো মাচ ফর কামিং… (ফোন ধরে) হ্যালো, এখন ফোন ক’রো না, ফর গডস্ সেক! আপনার এত মূল্যবান সময় থেকে কিছুটা সময় বের করে এই যে আপনি এলেন, বিরাট পাওনা। কী হয়েছে? ও আচ্ছা, পরিচয় করিয়ে দিই— ইনি আমাদের সাংসদ, এই হচ্ছেন মেইন টেম্পল-এর পুরোহিত। আরে আপনারা বসুন না, বসুন প্লিজ। এই যে আপনারা এলেন, এই বিরাট প্রাপ্তি…
কমিশনার: আয়ান কোথায়?
উকিল: আয়ান হাগতে গেছে। কী করে যে বোঝাব! এই যে বিরাট আনন্দ—
কমিশনার: পন্তুবাবু কোথায়?
উকিল: হ্যাঁ, পন্তুবাবু আসছেন। বিরাটভাবে আসছেন। এইত্তো, বিরাটভাবে পন্তুবাবু এসে গেছেন।
পন্তু: হ্যাঁ, কমিশনারটা কে?
উকিল: এই যে, এই মালটা।
পন্তু: এই চেহারায় চাকরিটা পেলেন কী করে?
কমিশনার: একটু ঘুষ দিতে হয়েছিল…
পন্তু: ও সবাইকেই দিতে হয়। আরে এই যে, ভাল আছেন তো? বাহ্। আরে ঠাকুরমশাই, গলা ভাল আছে?
পুরোহিত: না, ব্যাথা আছে।
(কমিশনার, সাংসদ ও পুরোহিত নিজেদের মধ্যে কথা বলে চলে)
উকিল: (ফোন ধরে) হ্যালো, হ্যাঁ আধার কার্ডটা লাগবে। আরে আমার আধার দিয়ে তোর চলবে কী করে! না না, আধার কার্ড ছাড়া হবে না। এই বাঁড়া, আর কোনওদিন ফোন করবি না…
(ট্রেতে করে ওয়াইন ও খাবার নিয়ে দু’দিক থেকে দু’জন ঢোকে)
উকিল: ওহ, পোর্ট ওয়াইন। (ফোন ধরে) হ্যালো, আরে কী হলটা কী! কী? ফাক্ ইওর অ্যাস। অ্যাঁ? মানে বাঁড়া পোঁদ মারাও, পোঁদ মারাও—
সাংসদ: কনগ্র্যাচুলেশনস পন্তুবাবু। আগামী নির্বাচনে আপনি যে বিপুল ভোটে জিতলেন, ভবিষ্যতে কেউ কোনওদিন তা পারেনি। কনগ্র্যাচুলেশনস!
পন্তু: তাই নাকি?
পুরোহিত: অফকোর্স। We are so proud of you, Mr. Laha. আপনাকে অনেক শুভকামনা জানাই। বাট পুরোহিত হিসেবে I must thank almighty ভগবান।
পন্তু: নিশ্চয়ই।
পুরোহিত: উনি আপনার মতো মানুষকে লাহাপুরের দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন। আর আপনি সেই দায়িত্ব ঠিক নেভাবেন, আমরা জানি।
পন্তু: আপনারা পাশে থাকবেন, নেভাতে সুবিধে হবে।
কমিশনার: অবশ্যই আমরা আপনার পাশে আছি। আপনার যখন যা প্রয়োজন, জানাবেন।
পন্তু: হ্যাঁ।
কমিশনার: লেকিন একটা খুব খারাপ ব্যাপার লেগে গেল পন্তুবাবু—
পন্তু: কী ব্যাপার?
কমিশনার: আমাদের সবার হাতে মদের গ্লাস আর আপনার হাত খালি!
উকিল: এই না না না না… ফর গডস্ সেক, পন্তুবাবুর বিরাট পেট খারাপ।
কমিশনার: মদের সাথে পেটের কোনও সম্পর্ক নেই। আমার অনারে একটা, প্লিজ—
পন্তু: গঙ্গা—
উকিল: নো পন্তুবাবু, (ফোন ধরে) হ্যালো, হ্যাঁ, আরে বোকাচোদা ফোনটা রাখো না—নো পন্তুবাবু—
(মদের বালতি ঢোকে)

কমিশনার: ওটা কীসের গ্লাস পন্তুবাবু? ওটায় কী মদ আছে?
পন্তু: ঘরে আর কিছু নেই বোধহয়, তাই এটায় দিয়েছে।
কমিশনার: সারা জামানা, দারু কা দিওয়ানা…
উকিল: আমার একটা আর্জি আছে উকিল হিসেবে। একজন উকিল হিসেবে সমাজে আমার যা কর্তব্য, সেখান থেকে বলতে পারি, লাহাপুরে একটি ট্যুরিস্ট স্পট দরকার। ভারতবর্ষের কোথাও পাওয়া যাবে না, এমন একটা কিছু বানাতে হবে। পন্তুবাবুর একটি মূর্তি বানানোই যেতে পারে, কিন্তু উকিল হিসেবে আমার তাতে কোনও ইন্টারেস্ট নেই। বরং, আমাদের রাধামাধব মন্দিরটি রুইন্ড হয়ে পড়ে আছে বহুদিন। পুরুষমশাই বলুন না… এই ক্যালানে…
পুরোহিত: হ্যাঁ হ্যাঁ, রাধে রাধে।
উকিল: হ্যাঁ, পন্তুবাবু যখন বিধায়ক হলেন, তখন ওই মন্দিরটি যদি রেনোভেট করে বিধানসভার আদলে তৈরি করা যায়, তবে সেটা কিন্তু লাহাপুরের একটা ইউনিক অ্যাট্রাকশন পয়েন্ট হতে পারে। এটা কিন্তু কোথাও নেই।
সাংসদ: মানে মন্দিরটা দেখতে হবে বিধানসভার মতো, ভেতরে রাধামাধবের মূর্তি?
উকিল: হ্যাঁ, হ্যাঁ, ঠিক।
সাংসদ: গুড ! এটা কিন্তু একটা ভাল প্রোপোজাল। কী বলেন কমিশনার সাহেব?
কমিশনার: আমি পুলিশের লোক, আমি এ বিষয়ে কী বলব! তবে একজন পুলিশ কমিশনার হিসেবে লাহাপুরে এসেই আমার মনে হয়েছে, লাহাপুরে আমগাছ খুব কম। যে-ক’টা আছে, সব ল্যাংড়া। যদি সেদিকে একটু নজর দেওয়া হয়, আরও ভ্যারাইটির আমগাছ লাগানো হয়, তাহলে অটোমেটিক্যালি ব্যাঙ্কের সুদটা একটু বাড়বে, ফলে এলাকায় জলের কোনও ক্রাইসিস থাকবে না।
উকিল: (ফোন ধরে) তুমি গান্ডু আর একটাও কথা বলবে না। ফোন করলেই পুলিশে দেব।
কমিশনার: পুলিশের লোক হয়ে আর কী বলব মোনা ডার্লিং ?
সাংসদ: হ্যাঁ, এটা করেও দেখা যেতে পারে।
পুরোহিত: আমি ভাবছিলাম, মা গঙ্গাকেই যদি লাহাপুরের ওপর দিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়… গঙ্গে-গঙ্গোত্রিনাশিনী … তাহলে মহিলাদের নিরাপত্তার ব্যাপারটা আরও মজবুত হয়।
সাংসদ: হ্যাঁ, এটা কিন্তু পুরোহিতমশাই দারুণ বলেছেন। গঙ্গার প্রস্তাবটা কিন্তু আমরা পরবর্তী মিটিংয়ে পেশ করতে পারি। ‘গঙ্গা বইবে লাহাপুরে’… কী বলেন পন্তুবাবু?
পন্তু: গঙ্গা… গঙ্গা—
(আয়ান-রাধা, শাকিল-মিঠুন নাচ-গান করতে-করতে ঢোকে। নাচ শেষ হলে পন্তু বলে)
পন্তু: দুনিয়ার মজদুর এক হও— কী হল কী! কখন থেকে খালি গ্লাস নিয়ে বসে আছি, কারও কোনও হুঁশ নেই! গঙ্গা— (কমিশনারকে) এই হারামজাদা, তুমি এখানে দাঁড়িয়ে কী করছ? যাও, ভেতরে গিয়ে যমুনাকে ডেকে আনো।
কমিশনার: মজাক করছেন?
উকিল: হ্যাঁ, মজাক করছেন। পন্তুবাবু আর না। আর মদ না। ফর গড’স সেক। পরে হবে। বিয়েটা হয়ে যাক, তারপর না হয়…
পন্তু: বিয়ে! কার সাথে কার বিয়ে?!
উকিল: ওহ গড! পন্তুবাবু, রাধার বিয়ে। রাধা— আপনার মেয়ে। ভোটের আগে ওর সাথে দারোগা আয়ানের বিয়ে? দারোগা আয়ান ঘোষ। ভোটের আগে বিয়ে। এই যে দেখুন, কমিশনার সাহেব, আর ওই আপনার মেয়ে-জামাই।
আয়ান: (একটু এগিয়ে এসে) বাবা—
পন্তু: ইইইইইই… এটা কী পোশাক!
আয়ান: আপনার দেওয়া বিয়ের শেরওয়ানি বাবা।
পন্তু: দুরাচার শাসকের পোশাক পরা, কে, ও কে? অত্যাচারী আওরঙ্গজেব! বাবরের ভাই, আকবরের শত্রু। আমার বন্দুকটা কোথায়?
আয়ান: রাধা, চলো আমরা ভেতরে যাই—
রাধা: তুমি বরং এটা খুলে ফেলো।
আয়ান: খুলে ফেলব? ঠিক আছে। (গঙ্গা আসে)
পন্তু: গঙ্গা, গঙ্গা— কোথায় থাকিস? যুদ্ধ কি তোর জন্য অপেক্ষা করবে?
গঙ্গা: রান্নার ওখানে ছিলাম।
পন্তু: রান্না! রান্না পরে হবে। এদিকে সব লুঠ করে নিয়ে চলে যাচ্ছে ওরা। সবক’টা ডাকাত। কলোনিয়াল ডেকয়েটস। ওই দ্যাখ, হারামজাদিকে দ্যাখ। ও নাকি সাংসদ! ওর বরের নামে আটটা খুনের মামলা চলছে। আর ওই দ্যাখ পুরুত। ও ছোট-ছোট মেয়েদের মন্দিরে ডেকে প্রসাদ দেবার নাম করে গায়ে হাত বোলায়। আর এই হারাজাদাকে যে কে পুলিশ কমিশনারের কাজ দিয়েছে! ওর চেহারা দেখে তো চোরের বাচ্চা মনে হয়।
কমিশনার: পন্তুবাবু জুবান পে লাগাম দিজিয়ে—
পন্তু: চুপ করো চুলকুমারী। এই গঙ্গা, এক্ষুনি আমার সেনাপতি সুরেনকে খবর দে— ও যেন আমার সব কমরেডসদের নিয়ে এক্ষুনি চলে আসে।
পুরোহিত: পন্তুবাবু, এদিকে দেখুন না, আয়ান রাধাকে পাশে নিয়ে কী সুন্দর দাঁড়িয়ে আছে, সাক্ষাৎ রাধাগোবিন্দ!
পন্তু: চুপ কর চেঙ্গিজ। গোবিন্দর পাশে কখনো রাধা দাঁড়ায় না, দাঁড়ায় রবিনা ট্যান্ডন, সবক’টা ডাকাত। লাহাপুর লুঠ করতে এসেছে। রাধা, এদিকে চলে আয়। রক্তগঙ্গা বয়ে যাবে আজ লাহাপুরে। দেশের জন্য প্রাণ দেবে আমার কমরেডসেরা। ওই দsখ, ঈশান কোনে শয়তানের নৃত্য চলছে, ডান্স অফ ডেভিল! ওই দ্যাখ কথাকলি! এই, তোমরা যাবে এখান থেকে, না আমি নতুন-নতুন খিস্তি দেব?
(পুরোহিত, কমিশনার, উকিল, সংসদ সবাই একে একে কেটে পরে)
পন্তু: সময় চলে যাচ্ছে গঙ্গা, সংগ্রামী হয়ে ওঠ।
গঙ্গা: আমি তো জানি না, আমি তো কখনও সংগ্রাম করিনি।
পন্তু: আরে সে তো আআআমিও-ও করিনি। তাতে কী? তুই মনে-মনে নিজেকে সংগ্রামী ভাব। ভেবেছিস?
গঙ্গা: হ্যাঁ।
পন্তু: আরে একটু আওয়াজ করে ভাব?
রাধা: আরে বলে দে না বন্দে মাতরম।
গঙ্গা: বন্দে মাতরম।
পন্তু: গুড। প্রতিদিন একদিন করে যুদ্ধ পিছিয়ে যাচ্ছে। এই দস্যুগুলোকে তাড়াতে না পারলে… নাহ্, তাড়ালে হবে না, আবার আসবে। সবক’টাকে একসাথে খতম করে দিতে হবে। যা, তুই এক্ষুনি গিয়ে… না, তুই না… এই, তুমি যাও (আয়ানকে)। যদি পোঁদে গুলি খেয়ে ওদের সাথে মরতে না চাও, তাহলে যাও শুধু কমরেড সুরেনকে ডেকে নিয়ে এসো। এক্ষুনি, ফাস্ট, মুভ—
আয়ান: যাচ্ছি বাবা।
পন্তু: সোজা সুরেনের কাছে যাবে। লাহাপুরের ভেতরে, সীমান্তে, গাছের ডালে, বাড়ির চালে, মন্দিরের মাথায় সব জায়গায় কিন্তু আমার কমরেডরা পাহারা দিচ্ছে। পালাতে চাইলেই কী হবে জানো তো?
আয়ান: জানি বাবা।
পন্তু: কী?
আয়ান: গুলি।
পন্তু: কোথায়?
আয়ান: অ্যাসে।
পন্তু: সেটা আবার কোথায়?
আয়ান: পোঁদে।
পন্তু: ও! ইয়েস। যাও, ফাস্ট, মুভ— (আয়ান বেরিয়ে যায়)
গঙ্গা: এখন আমার কি কোনও কাজ আছে?
পন্তু: আমার কাজ আবার কী গঙ্গা? যুদ্ধের কাজে আমি-তুমি নেই, সবটাই দেশের কাজ। তোকে তো এক্ষুনি একজন সংগ্রামী হতে বললাম!
গঙ্গা: সে তো হয়েছি।
পন্তু: গুড। তাহলে যা, শুধু মতিকে ডেকে নিয়ে আয়। সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পরতে হবে যমুনা। যা, যা—
(গঙ্গা বেরিয়ে যায়)

পন্তু: কাঁদিস না, এই অ্যাম্বার দাও… কাঁদিস না রাধা…
রাধা: আমি কাঁদলাম কোথায়?
পন্তু: চুপ কর। কাঁদিস না… মনকে শক্ত কর। এখন আর পিছিয়ে গেলে চলবে না। ইটস্ টাইম। এবেলা যুদ্ধটা সেরে ফেলে ওবেলাই তোর খোঁড়া বাপ নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তোর বিয়ে দেবে। সব ঠিক হয়ে যাবে। রক্তঝরা বিপ্লবের ক্ষেত্র ঠিক গোবরলেপা উঠোন হয়ে যাবে। কিন্তু তার জন্য তো রক্ত ঝরাতেই হবে, বল? তুই কাঁদিস না। যুদ্ধের পরেই হবে তোর মিলন। কিন্তু তার আগে একটু চা খেলে ভাল হত। আমার বাগানের চা।
(সুরেন ঢোকে। সুরেনকে দেখেই পন্তু মাটিতে পড়ে যায়। আয়ান তুলে ধরে)




