১
ঘোর ওই সামান্য বালকের, অফুরান করেছে আমায়
পথচলতি অন্যমন, বিলম্বিত লয়ে ফিরি— কার ঘরে
আমিও জানি না। শীত রাতে পিকনিক, টুবাইদের বাড়ি,
জিন্দেগি অওর কুচ ভি নেহি… সুদৃশ্য ছাতা আর দূরে
আগুন-পোহানো দোকানি, কুকুর। বেমালুম ভুলে যাওয়া
গত এক বছরে দেশ ও বিদেশে হত্যা, কেজি দরে বিক্রি
আর এক টাকা বেশি পেতে ঝগড়া তুমুল। মাঝে মাঝে
গৌরীতলার দিকে চলে যাব ভাবি, এমন জীবন…
তবু
অফুরান করেছে আমায়, ওই অসামান্য লোক
২
কী ভাবছ, ফিরে যাবে?
মোহিনী মায়ায় পুঁতবে চারাগাছ, নবীন নিটোল?
বড়জোর দোষ হবে, জানাজানি হলে পরে।
বড়জোর খুন চড়বে মাথায়, আর তৎক্ষণাৎ এক হাত ওলটপালট।
আবক্ষ খড়ের প্রতিমা ওই, পরাণপুতলি, বিসর্জিত মুহূর্তক্ষণে এমন নবসাজ।
দেখেছ কি আগে?
দেখেছ প্রবল সাধ, নিয়ত অবাধ্য যে, বাধ্যতা তার,
‘নিবা মাঝি লগে?’
কে কার উপনিবেশ
কে কার প্রশ্নাধিক প্রেম-প্রস্তাব..
৩
বিচ্ছেদ ব্যতীত কিছুই কি সম্ভাবনা ছিল?
যেমন রাতের ফুলে ভরে ওঠে সাজি
সেই যত্ন করোনি আমাকে
মন গেছে দ্রুত, গানে
খেয়াল করোনি
আমিই সেই লোক যে প্রতিবার
মঞ্চে তুলে দিই হারমোনিয়াম
৪
কবিতা হল না আমার
ঘন-ঘন জ্বর মাপছি
আর এর-ওর লেখা পড়ে ঈর্ষায় ছত্রখান
তবু তো উত্তর এল না
নিজেই বসে আছি, নিজেই বাড়াচ্ছি ইট
পথ এঁকে মুছে দিচ্ছি
কী ছাই প্রকল্পে আমি উদ্বোধক
৫
এবার অসুখ করলে নিয়ম করে
ওষুধ খাব। অপেক্ষা করব না
বলল কি না কেউ
এইমাত্র শুনলাম প্লেনের শব্দ
আতঙ্ক তজ্জনিত, আজকাল
বাসা বাঁধছে খুব।
সার্চলাইটের টনটনে আলোয়
যে-ব্যথা দেখা যায় না তার পাশে বসে আছে কেউ


