১
অর্ধেক শরীরে কখনও পাব না তোমায়
তাকিয়ে দেখি নিজের বেড়ে চলা বয়েস
মা বাবা উড়াল দেয় আকাশে
অসুখে হাত কাঁপে ঘুমহীন একা-একা
মরে গেলে পচা শবে থাকবে তো বন্ধু-মাছি?
দুঃখের পর ঘুমোতে এসেছি হিম বিছানায়
আমাকে ডেকো না আর ওগো সকালের রোদ
২
অপমানে-অপমানে রাত জেগে বসে থাকি
কখনও জানলাম না কাকে বলে একসঙ্গে থাকা ও সংসার
গলার স্বর কোমল বলে মুচড়ে ধরেছ জলে
হাত নাড়লেই সব কেমন দেবদাসীর নাচ হয়ে যায়
ছেলে হয়ে কেন পারলি না ছেলে হতে
আয় তোকে পথঘাটে উপুড় করে নাচাই
ব্যথায় আমগাছ ককিয়ে ওঠে
বলে, মাগো, পরের জন্মে তোমার ছেলে হব
দুঃখ পেতে দেব না
মুকুল ফুটিয়েছি, অর্ধেক মন নিয়ে ঘুমোতে চলো
৩
আমি চলে যাচ্ছি রে সোনা
স্তনবৃন্ত আর কাঁদবে না তোর ঠোঁটের জন্য
ঘোড়ার ক্ষুরের মতো মাতৃহৃদয়
উলটে দিলি পানবরজে
তোকে কথা দিয়ে কথা দিয়ে বিরক্ত করেছি
আজ নীরবতার দাফনে নিজেকে লুকাই
শৈশবে দেখা আম্রশাখা
একা-একা চঞ্চল চাঁদ
মুসলমানপাড়ার মুরগি ধরে খায়
এই কাশবন, এই ছোট হল্ট স্টেশন
পীরের নামে সকলে কাঁচাদুধ ঢালে
আধেক বাঁশবন আধেক আতপচাল
তোর হাঁটুতে একটা ছাতারে পাখি বসেছে
আমি মুখের বিড়ি ফেলে বলছি
ওই যে দূরে ধানীজমি ওখানে আমাদের ভিটে ছিল
দুজন সহিস, কন্যাদায়ের পিতা, জলে ডোবা গুপ্তধন
তুই মুখনীচু, আনমনে খুঁটে তুলছিস প্রেমিকার নাম




