
ডেটলাইন: পর্ব ৪৮
‘আমাদের দলে ছিল এক এক্সপার্ট ট্রাভেল ব্যবসায়ী, আগে বহুবার এসেছে ভেগাসে। সে দাবি করল, সে নাকি যতবারই ক্যাসিনোতে খেলেছে, ততবারই বিরাট টাকা জিতেছে। এরকম আমি আগে শুনেছি ভেগাস ফেরত লোকজনের মুখে, তাই বিশ্বাস করলাম না মোটেও।’

‘আমাদের দলে ছিল এক এক্সপার্ট ট্রাভেল ব্যবসায়ী, আগে বহুবার এসেছে ভেগাসে। সে দাবি করল, সে নাকি যতবারই ক্যাসিনোতে খেলেছে, ততবারই বিরাট টাকা জিতেছে। এরকম আমি আগে শুনেছি ভেগাস ফেরত লোকজনের মুখে, তাই বিশ্বাস করলাম না মোটেও।’

‘পরিক্রমা শেষ হলে মন ফেরে বিছানার কাছে/ শরীর তখন ঘুমে অচেতন। শিয়রে ঘড়িটি/ সাক্ষী থাকে ভ্রমণের, কাঁটা জ্বলে মুহূর্তের আঁচে…/ প্রতিটি মৃত্যুই জেনো নতুন ঘুমের জন্মতিথি।’

‘তবে গঙ্গার জল সরবরাহের ভূগর্ভের পাইপ-লাইনের অস্তিত্ব এখনও দেখা যায়। মহাজতি সদনের পিছনের গলিগুলোতে, কারবালা ট্যাঙ্ক লেনে, মানিকতলা অঞ্চলে চোখে পড়েছে।’

খ্যাপা খুঁজে ফেরে পরশপাথর! গালিব থেকে ভ্যান গঘ হয়ে রবীন্দ্রনাথ— অলিগলি পেরিয়ে কত স্মৃতি জুড়ে থাকে, কবির আবাসের ইঁট-কাঠ-পাথর! গুটি-গুটি পায়ে এগিয়ে যাওয়া কবির সময়ে, কবির যাপনে…

‘আমার আত্মীয়-পরিজন আমার এই রূপান্তর দেখে মাঝে-মাঝে যখন অবাক হয়ে যায়, আমি তৎক্ষণাৎ কোভিডকে দায়ী করি। কোভিড ব্যাটাই আমার মাথার ঘিলুকে কিলাইকে কাঁঠাল পাকাইয়া দিয়া। কিন্তু এ-ব্যাপারে অভিজ্ঞ বয়স্ক মহিলারা অন্য এক ভিলেনকে দোষ দিচ্ছেন। সে হল: মাঝবয়স।’

‘বউদি বাপের বাড়ি গেল। মহিলাদের মুখে পোয়াতি কথাটা শুনেছিলাম শৈশব থেকেই। মানেটাও বুঝতাম। পুরুষ গুরুজনরা বলত গর্ভবতী, দাদু বলতেন অন্তরাবর্তী। কিছুদিন পর বউদি ফিরল কোলে বাচ্চা নিয়ে। ছেলে হয়েছিল। পিসেমশাই নাম রাখলেন সুজিত।’

‘সে যাকগে, আমরা ফাটাকেষ্ট, হাতকাটা ছোটন, শ্মশান স্বপন, এসব নাম শুনে অভ্যস্ত। ওইসব সাহেবি অপরাধীদের নাম শুনিনি কস্মিনকালেও।’

‘‘মরিচঝাঁপির ঘটনা যখন ঘটে, তখন আমি সবে ‘পরিবর্তন’ পত্রিকায় যোগ দিযেছি। এর বছরদেড়েক বাদে ১৯৮০-র শেষে আমি যখন চম্বল যাই, তখন রায়পুরে নেমে মানা-র শরণার্থী শিবিরে যাই, আশপাশের অঞ্চলেও দিনতিনেক ঘুরি, মরিচঝাঁপি থেকে উৎখাত হওয়া উদ্বাস্তুদের হাল দেখতে। মানা-র উদ্বাস্তু পল্লিতে আমি দেখেছি নবজাতক শিশু কোলে মা-কে।’’

‘সে-রাতে, যতদূর মনে পড়ছে, উস্তাদ আশিস খানের সরোদের সঙ্গে বাজাবেন উস্তাদ জাকির হুসেন। জাকিরজি-কে ততদিনে বেশ কিছু আসরে সামনে ব’সে শোনার সৌভাগ্য হয়েছে, আশিস খানের বাজনা তখনও শুনিনি। এই দু’জন জোট বাঁধলে ধুন্ধুমার কাণ্ড হবেই নির্ঘাত! তাই ছাড়ার কোনও প্রশ্নই নেই।’

‘দক্ষিণ সুদানে কী ঘটছে বা নাইজিরিয়ায় কী নিগ্রহ চলছে, তা আমাদের খুব বিদ্ধ করে না। মানে, ভৌগোলিক অন্ধতাও আমাদের আছে। এমনিতে মূলস্রোতের খবরেই আমরা ভেসে বেড়াই, নিজের মতো বিশ্লেষণ করি বটে, কিন্তু খুব দলছুট ভাবে নয়।’

‘আমি বলছি, আমরা এখন সবকিছু অহেতুক জমাচ্ছি। হোর্ড করছি। ছবি জমাচ্ছি। আমার কাছে ৩০ জিবি ছবি আছে কিন্তু মনে তেমন কিছুই নেই! গান জমা করি। উফ! আমার কাছে ১০ টিবি গান আছে কিন্তু শুনি সেই ঘুরিয়ে ফিরয়ে পাঁচটা মতো!’

‘যে-অঙ্কগুলি আমি পারি না, ভাল ছেলেদের কাছে সে-সব জলভাত। জ্যামিতির যে-এক্সট্রা গুলো স্যর করাচ্ছেন, সে-সব আমার আয়ত্তের বাইরে। আমি লজ্জা পেতে লাগলাম। আমি ব্যাকবেঞ্চার হতে-হতে, লাস্টবেঞ্চার হয়ে গেলাম।’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.