
দূরপাল্লা: পর্ব ৪০
বইমেলা ধুলো মেখে, স্মৃতিতে পাড়ি। দেখতে-দেখতে বইমেলা ৫০-এর চৌকাঠের কাছে চলে এল; হামাগুড়ি দিয়ে যার পথ চলা শুরু, সে আজ বটবৃক্ষ-ন্যায় ছায়া দিয়ে চলেছে। যে-বৃক্ষর ডালে আসে কত লেখক-শিল্পী বন্ধুরা… স্মৃতির অতলে এ এক আশ্চর্য বইরাজ্য!

বইমেলা ধুলো মেখে, স্মৃতিতে পাড়ি। দেখতে-দেখতে বইমেলা ৫০-এর চৌকাঠের কাছে চলে এল; হামাগুড়ি দিয়ে যার পথ চলা শুরু, সে আজ বটবৃক্ষ-ন্যায় ছায়া দিয়ে চলেছে। যে-বৃক্ষর ডালে আসে কত লেখক-শিল্পী বন্ধুরা… স্মৃতির অতলে এ এক আশ্চর্য বইরাজ্য!

“কুয়োর ওপাশে ব্রাহ্মণ পরিবারটির অনেকে কৌতূহলী উঁকিঝুঁকি দিচ্ছিলেন আমাদের দেখে। বিশেষত বালক, কিশোররা। সম্ভবত, এরা তলফিরামের নাতিপুতি। ‘আইয়ে আইয়ে’ বলে মুন্নারাই ডেকে এনে বসাল ওদের। ছয়ের দশকে বিনোবা ভাবে এসে রাজপুত ঠাকুর আর ব্রাহ্মণ পরিবারটির মিটমাট ঘটিয়ে দিয়েছেন। এদিনও আমার সামনেই মুন্না সিং রাঠোর আর দৌলতরাম করমর্দন করল।”

‘ছবির সঙ্গে গন্ধের স্মৃতিও পেতে থাকি। হজমিওলা। হজমি-মশলার গন্ধ। বিকেলের তেলেভাজার গন্ধ। গ্যালিফ স্ট্রিট ট্রাম ডিপোয় ট্রামের গন্ধ। ট্রামের থাকে। সবুজ গদির ফার্স্টক্লাস আর কাঠের বেঞ্চিরও কি আলাদা-আলাদা গন্ধ ছিল?’

অন্যায় মেটাবে বড় মস্তান? ইরানে শাসকরা এই মুহূর্তে যে অন্যায় করে চলেছেন, তা থামাতে পারে শুধু আমেরিকার শাসকের হুমকি? যে আমেরিকার অন্যায় থামাতে পারছে না অন্য কেউ? শুভবুদ্ধিসম্পন্ন জোট নয়, মানবাধিকার সংগঠন নয়, বদ ছোট মাছকে সামলে রাখবে রাক্ষুসে বড় মাছ?

‘জুলাইয়ের ফুরফুরে বিকেল। যে-বিকেল ফুরোয় না। আমরা পুবের লোক। আমাদের দেশে ছ’টা-সাড়ে ছ’টায় অফিসবাবুর মতো নিয়ম মেনে সূর্য অস্ত যায়। যত পশ্চিমে যাই, ঘড়ির কাঁটা আটটা ছুঁলেও সূয্যি ডোবে না, এ আবার কেমন অনাচার?’

‘আইনস্টাইন কিন্তু যুদ্ধের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন, নিউক্লিয়ার অস্ত্র নিয়ে অনুশোচনা করেছিলেন। সেটা কি রাজনীতি নয়? স্লোগান দিলেই রাজনীতি ছোট হয়ে যায় আর চুপ করে ল্যাবরেটরিতে থাকলেই মানুষ বড়— এটা কার বানানো ধারণা?’

‘‘অট্টালিকার মাথায় ময়ূর, ঝূপড়ি ঘরের চালে ময়ূর। নীল-বেগনি ময়ূরের ইতিউতি সংখ্যায় অল্প গাঢ় খয়েরি, যেন হতশ্রী ময়ূরও দেখেছি। তবে ওই নীল বেগনির বর্ণময় ময়ূর, আহা কী সুন্দর! ‘ময়ূর, বুঝি-বা কোনও সূ্র্যাস্তে জন্মেছো।’’’

জনতার কাছে তাঁর গান আরামের মতো, আপ্যায়নের মতো, শুশ্রূষার মতো এসে পৌঁছয়। ধর্মীয় নেতাদের দেখানো ইসলামে তাঁর আস্থা নেই বোঝাই যায়, তিনি রুমির শিষ্য, মনসুর হাল্লাজের উত্তরপুরুষ, হাল্লাজের মতোই তিনি দৃঢ়ভাবে জানাতে পারেন, আমি-ই সব, আমরা-ই সমস্ত জুড়ে আছি, আমরা সবাই, সব আমি-ই আসলে তিনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প শেখালেন, ক্ষমতার চক্ষুলজ্জা থাকতে নেই। তিনি দেখিয়ে দিলেন, হত্যায় অভিযুক্তকেস সরাসরি হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানো যায়। এ থেকে কি আমরা বুঝতে পারি যে, শাসক নিজের সুবিধার্থে যে-কোনও অপরাধীকেও তার আঙিনায় ঠাঁই দিতে পারে?

‘‘কথার কিন্তু নড়চড় হয়নি একদিনও। যত জটিলই হোক সেই কাগজ তৈরির পদ্ধতি, নিউ ইয়র্ক-কলকাতা-নিউ ইয়র্ক-লং আইল্যান্ড চেন ছিল পারফেক্ট। নিউ ইয়র্কে বসে লেখা হচ্ছে খবর, তোলা হচ্ছে ছবি, পাঠানো হচ্ছে কলকাতায় ‘আজকাল’ দপ্তরে লে আউটের জন্য।’’

তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম ‘বালি ও তরমুজ’। ‘উত্তর কলকাতার কবিতা’ থেকে ‘গুপ্ত দাম্পত্য কথা’ হয়ে ‘টুরিস্ট কাহিনী’— প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা মুখে-মুখে ফেরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে! তাঁর কবিতা যেন ‘অতিকাল’-এর অমোঘ উচ্চারণ! যেখানে নির্দিষ্ট অঞ্চল হয়ে উঠেছে— অন্তর্লীন জগত…

একটি ধানের শীষের ওপর…অনেকগুলো পাহাড়বিন্দু। পাহাড়বিন্দু, না কি আলোকবিন্দু? দার্জিলিং-মায়ায় সব ধূসর রঙিন হয়ে ওঠে। যেন আলো হয়ে জ্বলে ওঠা স্রোত… বন্ধুতা, স্মৃতি সবই শৈলশহরে মিলেমিশে একাকার…
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.