
ডেটলাইন: পর্ব ৩৮
‘শেষ পর্যন্ত সবার পাত আলো করে পড়ে আছে ঐ বিচিত্র ডেলিকেসি। ভাগ্যিস আলো আঁধারিতে মালুম হচ্ছে না খাবার নষ্টের বহর! হোটেলে ফিরে চানাচুর খেতে-খেতে আমার বন্ধু বলেছিল, ’কী যে করে! এত দামী জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কী দরকার ছিল?’

‘শেষ পর্যন্ত সবার পাত আলো করে পড়ে আছে ঐ বিচিত্র ডেলিকেসি। ভাগ্যিস আলো আঁধারিতে মালুম হচ্ছে না খাবার নষ্টের বহর! হোটেলে ফিরে চানাচুর খেতে-খেতে আমার বন্ধু বলেছিল, ’কী যে করে! এত দামী জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কী দরকার ছিল?’

‘এসব গেল পুরাণের কথা। আধুনিক ইতিহাসে, ছত্রপতি শিবাজি এসব অঞ্চলের ভেতর দিয়েই গুটিগুটি হামলা চালাতেন দিল্লি ও আশপাশের মোঘল সেনাশিবিরগুলিতে। ভারতে গেরিলা যুদ্ধের প্রবর্তক তিনি। শিবাজির বাহিনীর গেরিলারা সবাই কি মহারাষ্ট্রে ফিরেছিল? খেতিখামারিতে, প্যার-মোহব্বতে চম্বলের জনজীবনে মিশে যায়নি তো?’

“ঈষৎ তির্যকভাবে একটি কবিতার শেষ প্রান্তে সুলতান বাহু লেখেন, আমার কিছু পাপ যদি না-ই থাকে তাহলে হে প্রভু, তুমি ক্ষমা করবে কী? যেন মনে হবে, আল্লাহ বা ঈশ্বরের একটি বহু-চর্চিত গুণকে প্রতিষ্ঠা দেওয়ার জন্যই কিছু মানবিক পাপ প্রয়োজন।”

বাংলাদেশে জীবন্ত দগ্ধ করা হল দীপু দাসকে, ভারতে গণনিগ্রহে মৃত্যু হল আতাউর হুসেনের। সংখ্যাগুরুর আক্রমণের শিকার বারবার হবে সংখ্যালঘুরা, এটাই কি ক্রমে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে? গণিত কি এখন এটাই যে, সংখ্যাগুরুর নিয়মই হল কম ক্ষমতাবানকে আক্রমণ করা?

“সামরিক কর্তা বলেছিলেন, ‘এটা দুর্দান্ত ও মহৎ, কিন্তু এটা যুদ্ধ নয়। পাগলামি।’ সমালোচকরা বলছেন, ইংল্যান্ড গত কয়েক বছর খুব দ্রুত রান তুলে ও ম্যাচকে দ্বিগুণ উত্তেজনাময় করে এবং কয়েকটা খেলা জিতে এতই আত্মসন্তুষ্ট হয়ে পড়েছে, বুঝতেই পারছে না, এই রগরগে ও হুট-মুগ্ধকারী ধরনটা আসলে আত্মঘাতী।”

ঔপনিবেশিক আমলে কলকাতার বুকে গড়ে ওঠা গির্জাগুলি আসলে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। কলকাতার প্রথম বিশপ থমাস মিডলটন বিশ্বাস করতেন, সকল গির্জা সুউচ্চ চূড়া যুক্ত হওয়া উচিত, যাতে সেগুলি খ্রিস্টীয় বিশ্বাসের সাক্ষ্য হিসাবে সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়।

অফিসে গেলেই কি সব সমাধান? অফিসে বাউন্ডারি থাকে? সারাদিন কাজ করে ফিরে, রাতে কল জয়েন করতে হয় না? অন্যদিকে ওয়ার্ক ফ্রম হোম কি আমাদের ক্রমশ অসামাজিক করে তুলছে? কী বলছে নীলা-নীলাব্জ?

‘দেখলাম, আমাদের বয়সি তরুণ কয়েজনের কাঁধে ঝুলছে বন্দুক। হাসাহাসি করছে তারা, ফুর্তিতে গড়িয়ে পড়ছে। আর বাসের ভেতরে সিটগুলির মাথায় হিন্দিতে লেখা রয়েছে, ‘ভরা বন্দুক লেকড় ন বৈঠ’। অর্থাৎ (গুলি) ভরা বন্দুক নিয়ে (বাসে) বসো না।’

‘দফায়-দফায় চাঁদা তুলে মূর্তি তৈরি তো হল, ১৮৮৪ সালে প্যারিসে সেটি তুলেও দেওয়া হল মার্কিন প্রতিনিধির হাতে। কিন্তু মূর্তির বেদী তৈরি হয়নি তখনও, ফান্ডও নেই। রীতিমতো ক্রাউডফান্ডিং করে টাকা তোলা হল। ১৮৮৬-র ২৮ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ক্লিভল্যান্ড জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করলেন স্ট্যাচু অফ লিবার্টি।’

অনুপ্রবেশকারীর প্রতি দরদী হওয়াই কি মানবিকতার নিদর্শন নয়? মানবিক না হওয়ার জন্য লজ্জিত হওয়া এখন আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। আমাদের প্রকৃত কর্তব্য তো অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোই। নৃশংসতাকে কি কখনও সঠিক বলে দাগানো যায়? আসলে এই সীমারেখা অতিক্রম করাই কি কাজ নয়?

‘জ্যোতিউজল বিড়ালী এক পাড়ামনিব,/ ডানা পোড়ায় সারাটা রাত চাঁদের পায়ে/ ক্ষতের প্রিয় বন্ধু জোটে সজল জিভ/ জ্যোৎস্নাকে সে তলব করে চুরির দায়ে।’

“আমরা আজ শাহ মাধো লাল হুসেইনকে নিয়ে কথা বলব— বিদ্যাপতির চেয়ে যিনি বয়সে বেশ কিছুটা ছোট— বিদ্যাপতির মৃত্যুর প্রায় একশো বছর পরে তাঁর জন্ম। পাঞ্জাবি ভাষার সুফি পরম্পরার কবি তিনি। কবিতা লিখেছেন প্রচলিত লোকায়ত সংরূপ ব্যবহার করে— পাঞ্জাবি সাহিত্যে সেগুলিকে ‘কাফি’ বলা হয়।”
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.