গুরুগম্ভীর রাজধানীতে পুতুলখেলা
২০১৯ সালে ওয়াশিংটনে বেড়াতে গিয়ে সেরা পাওনা কী? যদি এই প্রশ্ন কেউ করেন আমাকে, একমুহূর্ত না ভেবে বলব, দু’টি আড্ডা। দুই বিশিষ্ট মানুষের সঙ্গে। দু-জনেই আসলে আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে, তবে কিছুটা কার্যকারণ, কিছুটা যোগাযোগ আর কিছুটা অবশ্যই তাঁদের অসামান্য সৌজন্যবোধ মিলেমিশে সম্ভব হয়েছিল প্রত্যাশার বাইরে পাওয়াটা। প্রথমজনের নাম হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, দুঁদে কূটনীতিক, এখন রাজ্যসভার সদস্য। আর দ্বিতীয়জন রো খান্না, ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান, তুখড় কংগ্রেসম্যান। আফশোস একটাই, গুণীজন-সান্নিধ্যে আমাদের পোশাক যথাযোগ্য ছিল না। ছবিতে তার প্রমাণ রয়ে গেল আজীবন। আমাদের, মানে যে তিনজন ওয়াশিংটন অভিযানে গিয়েছিলাম আমি, আমার কন্যা আর্যাণী আর আমার কলেজ-জীবনের বন্ধু, বঙ্গসম্মেলনের সঞ্চালক বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়।
বাল্টিমোরে বঙ্গসম্মেলনের শেষে তাড়াহুড়ো করে দিদি ড. নূপুর লাহিড়ির গাড়িতে সুটকেস তুলে দিলাম, ক’দিন পরে ওর বাড়িতে যাওয়ার কথা। তাতেই চলে গেছে ভাল জামাকাপড়, যাকে বলে ফর্মাল ওয়্যারস। আমাদেরও দোষ নেই, কারণ এই দুটো অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া ছিল না। বঙ্গসম্মেলনে ‘সেরা বাঙালি’ (আদতে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং-এর লোক শ্রিংলা) পুরস্কার নিতে আসতে পারেননি সেই সময়ে আমেরিকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। আমরা ওয়াশিংটন যাচ্ছি বলে আমাদের ওপর দায়িত্ব পড়েছিল স্মারকটি ভারতীয় দূতাবাসে কোনও অফিসারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার। আর রোহিত খান্না, যিনি রো নামেই বেশি পরিচিত, তাঁর কথা, সত্যি বলছি, জানাই ছিল না। তার ওপরে ওয়াশিংটনের হোটেলভাড়ার বাড়াবাড়ি দেখে আমরা এক বন্ধুর পরামর্শে শহরতলি আর্লিংটনের একটা ছোট লজে ডেরা বেঁধেছিলাম। সেটার নামও মানানসই— ইকোনো লজ। বিপ্লব বলল, ‘আমাদের মতো লোকেদের ইকনমিক কন্ডিশনের কথা ভেবে নামটা রেখেছে।’
নিরিবিলি সেই আর্লিংটনে একটা রাত কাটিয়েই কেমন যেন অতি-ক্যাজুয়াল মুডে চলে গেলাম আমরা। ‘ফেলে যেতে চায় এই কিনারায় সব চাওয়া সব পাওয়া’। এই চালে পরদিন গুছিয়ে ব্রেকফাস্ট করে উবের ধরে হৃদয়পুর থেকে রওনা দিলাম রাজধানীর দিকে। এমন মারাত্মক একটা গাম্ভীর্য আছে ওয়াশিংটন ডিসির, একলহমায় বুঝিয়ে দেয়, হুঁ হুঁ বাওয়া, যেখানে সেখানে নয়, তুমি পা রেখেছ দুনিয়া শাসনের এপিসেন্টারে। ওদিকে হোয়াইট হাউস, তো এদিকে ক্যাপিটল, সেদিকে ন্যাশনাল মিউজিয়াম তো অন্যদিকে লিমন মেমোরিয়াল। ভেতরে ঢোকার আগেই থমকে দাঁড়াতে হয়, সবই এত বিশাল।
মার্কিন মুলুকের ড্রাগসাম্রাজ্যে শিহরণ জাগানো অভিজ্ঞতার গল্প!
তপশ্রী গুপ্তর কলমে ‘ডেটলাইন’ পর্ব ৪৩…
ম্যাসাচুসেটস অ্যাভিনিউতে দূতাবাসের ঠিক উল্টোদিকে গান্ধীমূর্তির সামনে একটু দাঁড়ালাম। ডান্ডি মার্চের এগিয়ে চলার ভঙ্গি, বেদিতে লেখা ‘মাই লাইফ ইজ মাই মেসেজ’। কলকাতার ভাস্কর গৌতম পালের তৈরি ব্রোঞ্জ মূর্তিটির আবরণ উন্মোচন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী আর প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন, ২০০০ সালে। ২০২০ সালে কে জানে কেন. ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনের সময় কারা মূর্তিটি ভেঙে দেয়। পরে অবশ্য ঠিক করা হয়েছে।

এমব্যাসিতে ঢোকার আগে মাথায় একটু দুষ্টু বুদ্ধি খেলল। জিনস, সামার জ্যাকেট, স্নিকার্স মিক্স অ্যান্ড ম্যাচে হাঁসজারু টাইপের চেহারা ধরে রাখা দরকার ক্যামেরায়। বিপ্লব আর আর্যাণীকে বললাম, ‘এত ইম্পর্ট্যান্ট একটা জায়গায় ঢুকবে। তোমাদের ছবি তুলে রাখি।’ ওরা সর লমনে দাঁড়াল। পরে যখন ওই ছবি ফেসবুকে দিয়ে ক্যাপশন লিখেছিলাম, ‘হেমন্তের ওয়াশিংটনে দুই সেলসম্যান’ (মার্জনা করবেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়), ওরা খেপে লাল। অবিকল মনে হচ্ছিল, দু-জনে বাড়ি-বাড়ি জিনিসপত্র গছাতে বেরিয়েছে।
আমরা ঢুকলাম ভারতীয় দূতাবাসে। এর আগে আমি বিদেশে দু-একবার দূতাবাসে গেছি, কিন্তু ওয়াশিংটনে ভারতীয় দূতাবাসের যে আভিজাত্য, যে অন্দরসজ্জা, যে আবহ, তার সঙ্গে আর কোথাকার তুলনা চলে, আমার সে-অভিজ্ঞতা নেই। একজন অফিসার আমাদের বসালেন, চা খাওয়ালেন। ঢুকেই স্মারকটি টেবিলের ওপর রেখেছিলাম আমরা। বিদায় নিতে যাব, হঠাৎ একটি ফোন এল অফিসারের কাছে। ‘ইয়েস স্যর, শিওর স্যার’ জাতীয় কথা বলেই উনি আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘হিজ এক্সেলেন্সি আপনাদের দেখা করতে বললেন।’
আমরা তো অবাক, মেঘ না চাইতে জল বাস্তবেও হয় তাহলে! অফিসারই পথ দেখিয়ে নিয়ে গেলেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলার কাছে। চেয়ার ছেড়ে উঠে এগিয়ে এলেন, আন্তরিক গলায় বললেন, ‘দেশ থেকে এসেছেন। আছি যখন অফিসে, দেখা না করে চলে যাবেন কেন?’
আবার চা পর্ব, এবং চমৎকার আড্ডা। মেমেন্টো হাতে দিতে আফশোসের গলায় বললেন, ‘বঙ্গসম্মেলন মিস করলাম। কত গুণী মানুষের সঙ্গে দেখা হত।’ আর্যাণী লেখক শুনে খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে জানতে চাইলেন কী ধরনের বই লেখে। ভাগ্যিস আর্যাণীর কাছে ছিল একটি বইয়ের কপি, দিতে চায় শুনে ডেকে পাঠালেন দূতাবাসের অফিশিয়াল ফোটোগ্রাফারকে। বললেন, ‘এই ঘরের মধ্যে নয়, লবিতে ভারতের পতাকার সামনে ছবি ভাল হবে।’


সেই ছবি চিরজীবনের সম্পদ।
একদিনের জন্য এটাই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু দূতাবাস থেকে বেরতে না-বেরতেই ফোন এল স্বদেশদার। স্বদেশদা বলছি বলে ভাববেন না সাধারণ কেউ। পদ্মভূষণ স্বদেশ চ্যাটার্জি, প্রথম ভারতীয় আমেরিকান, যিনি ‘পাবলিক অ্যাফেয়ার্স’ ক্যাটেগরিতে এই সম্মান পেয়েছেন। ভারত-আমেরিকা মৈত্রী আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে। পরিচয় হলেই হাসিমুখে বলেন, ‘আরে বাবা, আমি কলকাতা আর যাদবপুর ইউনিভার্সিটির ছেলে (পদার্থবিদ্যায় বিএসসি, তারপর ইঞ্জিনিয়ারিং)। আমার নাম স্বদেশ, থাকি বিদেশে। আর কিছু বলব?’
এহেন মাটির মানুষকে দাদা ছাড়া আর কী বলা যায়! স্বদেশদা ফোনে বললেন, ‘ক্যাপিটলে রো খান্না তোমাদের জন্য অপেক্ষা করবে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান। একদম ফায়ারব্র্যান্ড। ইন্টারভিউ করে এসো। ভাল লাগবে।’

এদিকে মাথার ওপর গনগনে রোদ, খিদেতে পেট চুঁই-চুঁই। এই এলাকায় পথের ধারে ছোটখাটো ক্যাফে-জাতীয় কিছুই নেই। হাঁটছি তো হাঁটছিই। বেশ কিছুক্ষণ পর একটা মাঝারিমাপের রেস্তরাঁ পাওয়া গেল। কোনও মতে বার্গার গলাঃধকরণ করে উবের ধরে ছুটলাম ক্যাপিটল, আমেরিকার সংসদ বলা যায় যাকে। এই আইকনিক গম্বুজওয়ালা ভবনের বয়স ২২৬। ততক্ষণে গুগল সার্চ করে দেখা হয়ে গেছে রো খান্নার প্রোফাইল। মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস-এর সদস্য, সদ্য চল্লিশ পেরনো, পেশায় সফল অ্যাটর্নি, বারাক ওবামার আমলে বাণিজ্য দপ্তরে দায়িত্বশীল পদে কাজ করে আসা রোহিত ছাত্রবয়স থেকে রাজনীতি করছেন। বছরছয়েক পর এখন গুগলে দেখলাম, ২০২৮ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়তে পারেন রো। ২০১৯ সালে আমাদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি ব্যস্ত ছিলেন পরিবেশ নিয়ে। গ্রিন এনার্জি রেসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সওয়াল করছিলেন পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তির সপক্ষে। ঘণ্টাখানেকের সাক্ষাৎকার পর্বের পর রো আমাদের বললেন, ‘ক্যাপিটলের একটা ভিজিটর সেন্টার আছে। ঘুরে দেখতে পারেন। ভাল লাগবে।’
সত্যি দেখার মতো। সবচেয়ে সুন্দর হল সূর্যের আলো ঢোকার ব্যবস্থা। জিজ্ঞেস করে জানলাম, এখানে নাকি লাখখানেক স্কাইলাইট আছে, যেখান দিয়ে ওপরের গম্বুজ স্পষ্ট দেখা যায়। বিশাল স্ট্যাচু অফ লিবার্টি থেকে ডেমোক্র্যাসি ল্যাব, অজস্র লাইফসাইজ স্ট্যাচু থেকে ক্যাফেতে গম্বুজ আকারের পেস্ট্রি, চমকের পর চমক। আর যদি সেই সময় কংগ্রেসের অধিবেশন চলে, কোনও কংগ্রেসম্যানের থেকে পাস নিয়ে দেখতে পারেন সেটাও। ঠিক যেমন দিল্লিতে দেখা যায় সংসদ অধিবেশন।
ক্যাপিটল থেকে বেরিয়ে চওড়া ফুটপাত ধরে এলোমেলো হাঁটছিলাম তিনজন। এত ঘটনাবহুল দিন হজম করছিলাম শেষ বিকেলের ফুরফুরে হাওয়ায়। হঠাৎ একটা স্যুভেনির শপের সামনে দাঁড়িয়ে বিপ্লব ইউরেকা স্টাইলে চেঁচিয়ে উঠল, ‘পেয়েছি, পেয়েছি।’




তাকিয়ে দেখি, শো-উইন্ডোতে সারসার সাজানো পুতুল, মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ক্যারিকেচার। জর্জ ওয়াশিংটন থেকে জেমস বুকানন, বারাক ওবামা থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প, একলাইনে হাজির। কোনও কোনওটার আবার মাথা নড়ে, যেমন আমরা কিনতাম ছোটবেলায় রথের মেলা থেকে। সেগুলোর মত অবশ্য মাটির তৈরি নয় এই দামি পুতুলগুলো, ভিনাইল জাতীয় কিছুর তৈরি। তবে যার তৈরি হোক না কেন, অসাধারণ ডিটেলিং, বিশেষ করে মুখের অভিব্যক্তি। আর প্রেসিডেন্টের গদিতে কখনও না বসলেও যে দুই নারী বেস্টসেলার, তাঁরা হলেন হিলারি ক্লিন্টন আর মিশেল ওবামা। বিদেশসচিব হিসেবে শুধু ভারত কেন, গোটা বিশ্বেই জনপ্রিয় ছিলেন হিলারি। আর কৃষ্ণাঙ্গ ফার্স্ট লেডি মিশেল তাঁর ব্যক্তিত্বে, লেখনীর গুণে আলাদা। বিপ্লব গোটাচারেক বাক্সবন্দি হোয়াইট হাউসের বিখ্যাত বাসিন্দা হাতে নিয়ে হাসিমুখে বেরোল দোকান থেকে। ও হ্যাঁ, বলতে ভুলে গেছি, ওয়াশিংটনে পা রেখেই আমরা সেরে ফেলেছিলাম ‘তীর্থদর্শন’। সত্যি বলছি, রেলিং-এর এপার থেকে (ভেতরে ঢোকার অনুমতি ছিল না) তেমন কিছু মহত্বপূর্ণ লাগেনি হোয়াইট হাউসকে। বরং অবাক হয়েছি বাইরে স্থায়ী ধরনা তাঁবু দেখে। ‘হোয়াইট হাউস পিস ভিজিল’, ১৯৮১ সাল থেকে নাকি চলছে এই পরমাণু অস্ত্রবিরোধী বিক্ষোভ। পালা করে তাঁবু পাহারা দেন আন্দোলনকারীরা। এমনকী, বেড়াতে এসেও সমমনস্ক টুরিস্টরা প্রতিবাদ জানিয়ে যান। কোনও এক সবজান্তা অবশ্য মন্তব্য করল, ‘ট্রাম্প খুব চালাক (তখন ট্রাম্প প্রথম দফায় প্রেসিডেন্ট)। ইচ্ছে করলে এক মিনিটে এইটুকু তাঁবু ভেঙে দিতে পারে। কেন করে না জানো? প্রমাণ করতে যে, আমেরিকা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। সারা পৃথিবীর লোক আসে হোয়াইট হাউস দেখতে। আশ্চর্য হব না, যদি এও জানি যে এই বিক্ষোভটা আসলে সরকারি ইন্সটলেশন!’

সারাদিন এতসব বিরাট ব্যাপারের মধ্যে থেকে কান-মাথা ভোঁ-ভোঁ করছিল। এবার ‘মন চলো নিজ নিকেতনে’। আসলে আমরা তিনজনই খুব ভালবেসে ফেলেছিলাম সিধেসাদা আর্লিংটনকে। আধঘণ্টা দূরে মাত্র, তবু যেন ওয়াশিংটনের তুলনায় এক ‘দারুচিনি দ্বীপ’। ফাঁকা রাস্তা ধরে হেঁটেই চল, পথে পড়বে শান্তিনিকেতনের মতো বাগানঘেরা একতলা বাড়ি, নির্জন বৃদ্ধাবাস, ক্কচিৎ একটা টার্গেট ডিপার্টমেন্টাল স্টোর। কটামাত্র যাত্রী নিয়ে পাশ দিয়ে চলে যাবে লাল টুকটুকে বাস, যেখানে-সেখানে হাত দেখালে তুলেও নেবে। আমরা তো সারা সন্ধে বসে রইলাম একটা পেট্রলপাম্পের সামনের ফুটপাথে। এক বন্ধুর ডাকে কাছেই পুরনো শহর আলেকজান্দ্রিয়ায় যাওয়ার লোভ হয়েছিল বটে, এক ট্যাক্সি ড্রাইভারকে বললামও, কিন্তু সে যখন সসংকোচে জানাল, আজ তার মেয়ের জন্মদিন বলে বাড়ি যাওয়ার তাড়া আছে, আমরা তখুনি প্ল্যান বাতিল করলাম।
বেশি রাতে অবশ্য যেতেই হল পোটোম্যাক নদীর ধারে এক প্রবাসী বাঙালির বাড়িতে নেমন্তন্নে। সে ভারি মজার জায়গা। নদীর উতল হাওয়ায় মন উড়ে যায়। সাপ থেকে হরিণ, প্যাঁচা থেকে ব্যাং যখন তখন গেট ক্র্যাশ করে ঢুকে পড়ে বাগানে। মাঝরাতে ফেরার বেলায় উবেরচালক মাঝবয়সি মহিলাও এই পোটোম্যাকের বাতাসের মতোই ফুর্তিবাজ। জানালা দিয়ে মুখ বের করে বিপ্লবকে বলল, ‘কাম অন হানি।’ আর আমাদের দু-জনের দিকে তাকিয়ে চোখ মারল, ‘ইউ স্টে ব্যাক বানিস।’




