
বিলেদা
‘সবাই বলে, বিলেদার বাবা নকশাল ছিল। জুটমিলের শ্রমিকদের নিয়ে একটা বড় মাপের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, সেই সময়ে একদিন পুলিশ তুলে নেয়। আরও সবাই বলে, বিলেদার বাবা প্রিজনভ্যান থেকে পালিয়ে গেছিল কোনওভাবে। গুলিও চলেছিল নাকি কয়েক রাউন্ড।’

‘সবাই বলে, বিলেদার বাবা নকশাল ছিল। জুটমিলের শ্রমিকদের নিয়ে একটা বড় মাপের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, সেই সময়ে একদিন পুলিশ তুলে নেয়। আরও সবাই বলে, বিলেদার বাবা প্রিজনভ্যান থেকে পালিয়ে গেছিল কোনওভাবে। গুলিও চলেছিল নাকি কয়েক রাউন্ড।’

‘বুলডোজারের নাকের ওপর একটা লোককে হাত-পা বেঁধে বসানো। সপ্তর্ষি চিনতে পারল— এই আধবুড়ো লোকটাকেই একটু আগে প্রশ্ন করছিল। পুলিশের সহযোগী হয়ে ভিড় সামলাচ্ছিল যে। লোকটার মুখ বাঁধা। চোখ ঠিকরে আসছে। ভয়ে কাঁপছে থরথর করে।’

‘কুনুরের দরজা সর্বদা বন্ধ কেন, তার উত্তর দিতে ওরা প্রস্তুত নয়। ওরা আজ কোথায় ব্রেকফাস্ট করবে, কোথায় করবে লাঞ্চ, কেনই-বা কাউকে ওরা বলতে যাবে? কুনুর চায় কুনুরের মতো করে থাকতে। কোপাইয়ের মতো করে নয়। ওরা আরও চায়, কোপাই থাকুক কোপাইয়ের মতো। কুনুরের মতো করে নয়।’

‘যেমন ভাবা তেমনই কাজ। এরপর থেকে দুর্গের এদিকে ওদিকে ছোটবড় পাথরে নানা ঠাকুরের নাম লেখা হতে লাগল। মেহের আলি দূর থেকে দেখল, তেড়ে খিস্তি পর্যন্ত করল। কিন্তু যারা লিখছে তাদের হাতে দু-একবার চড়থাপ্পড় খাওয়ার পর গুটিয়ে গেল। দুর্গে লোকসমাগম বেড়ে গেল আরও।’

‘আর কে নারায়ণ নিজে যে কড়া ভিক্টোরীয় রীতিতে বাঁধা মিশিনারি স্কুলে পড়াশোনা করেছেন, সেখানে তাঁর অভিজ্ঞতা সুখের হয়নি কখনও। যে সর্বগ্রাসী পাঠপিপাসা তাঁর মধ্যে ছিল, গতে-বাঁধা পাঠ্যক্রমে পড়াশোনার প্রতি আকর্ষণ সেখানে এতটাই ফিকে হয়ে গিয়েছিল যে, পাঠ্যতালিকা উলটেও দেখতেন না তিনি।’

‘সেইদিনের পর থেকে আমরা পারতপক্ষে একসঙ্গে ওর টোটোতে উঠতাম না। যদিও কার্তিক আর আমার যোগাযোগ থেকেই গেছিল। মাঝে-মাঝে চায়ের দোকানে ও আসত। কথা হত। এভাবেই চলছিল। কোনও একটা অজ্ঞাত কারণে কার্তিকের ওপর আমার মায়া পড়ে গেছিল।’
গল্প।টোটো কোম্পানি

‘মুখের ওপর সত্যি বলতে মানুষের এত অসুবিধে কেন হয় গো ! খালি সান্ত্বনা, খালি সোনা পুতুল মিঠে পুতুল বলে ন্যাকামি ৷ লজ্জা করে না!’
গল্প। পাগল দু’নয়ন

‘মনে-মনে বউকে আদরসোহাগ করতে-করতে কখন যেন সরল শিশুর মতো ঘুমিয়ে পড়েছিল কাল্লা। হঠাৎ কাদের কথাবার্তার শব্দে ঘুম চটে গেল। তারই সঙ্গে কাঠকুটো পোড়ার কট্-কট্ শব্দ। ব্যাপারখানা কী?’

‘নিটোল গল্পপ্রত্যাশী পাঠক তাঁর গল্প পড়তে গিয়েই হতাশ হন। জ্যোতিরিন্দ্রের বেশিরভাগ গল্পের চরিত্ররা (actant) প্রচলিত ‘অ্যাকশনের’ চাইতে ঘণ্টার-পর-ঘণ্টা বসে শুধু কোনওকিছু ‘দেখে’। দেখে মানে প্রায় চোখ দিয়ে প্রকৃতিকে আকন্ঠ পান করে।’ জ্যোতিরিন্দ্র নন্দীর জন্মবার্ষিকীতে বিশেষ নিবন্ধ…

‘অদিশ ভয়ঙ্কর ভেঙে পড়েছিল; কয়েকমাস রীতিমতো ডিপ্রেশনে চলে যায়। দু’চোখে অন্ধকার দেখে, এমনকী শিশুপুত্রকেও অবহেলা করতে শুরু করে। তার গুটিকয়েক বন্ধু , কলিগ এবং সায়নীদি পাশে না দাঁড়ালে কী যে হত সে-সময়ে…’

‘সিনেমা একটা শিল্প। বহু শিল্পী মিলে কাজ করে একটা সিনেমা তৈরি হচ্ছে। সেই শিল্পকে মাপবার কোনও সিস্টেম মানুষ বানাতে পারেনি, পারবেও না। কারণ একটা কিছু অনুভূতি এভাবে মাপা সম্ভব নয়।’

‘বৃষ্টি একটা রূপকমাত্র। তুমি এই বৃষ্টির মধ্যে জীবনটা দ্যাখো নীলা। মুহূর্তগুলো চলে যাচ্ছে। কিছু পড়ে থাকবে না। তোমার প্রতিটা মুহূর্ত তোমার! শুধু তোমার। সব ঝরে যাচ্ছে। তুমি না বাঁচতে চাইলে সেগুলো বৃথা যাবে! নষ্ট হবে। তুমি দু’ফোঁটা গায়ে মেখে নাও।’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.