স্বপ্নময় চক্রবর্তী

স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন: পর্ব ২৪

‘ঠাকুর্মা মেয়ে সন্তানদের তুলনায় ছেলে সন্তানদের বেশি খাতির করছেন। নাতনিদের চেয়ে নাতিদের খাতির বেশি! এটা তো সবসময়েই দেখেছি। মাছের লেজাটা, ছোট টুকরোগুলো সব মেয়েদের। টানাটানির সংসার হলেও, আম আসত ঝুড়ি ভরা, পচা-টচা দাগি আমগুলো মেয়েদের।’

Representative Image
স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন: পর্ব ২৩

‘ওরা আমাদের কয়েকজনকে, ওদের ড্রেজারে নিয়ে গিয়েছিল। যেখানে গঙ্গা থেকে পলিমাটি তোলা হয়। পাহাড়ের কাছে বেঁধে রাখা অন্য একটা জাহাজ থেকে সেই পলিমাটি ঠেলে পাঠানো হতো সল্টলেকে। খাল বরাবর লালরঙের লোহার মোটা পাইপ, খাল বরাবর সল্টলেকের জলাভূমিতে গিয়ে পড়ত।’

Representative Image
স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন: পর্ব ২২

‘‘পুরনো বই কিনলে, প্রথম কাজটি ছিল, পুরনো মালিকের নামটি নিষ্ঠুরভাবে ধ্বংস করা। একটা কাগজে, নিজের নামটি লিখে, আঠা দিয়ে কাগজটি সাঁটিয়ে দেওয়া। পুরনো বইয়ে যদি এই ধরনের ‘নাম-খেলা’ হয়েই থাকে, সেগুলো তো কাটা যায় না, বইটা নোংরা হয়ে যাবে।’’

Representative Image
স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন: পর্ব ২১

‘‘বাবা নিজে স্কুলের শিক্ষক হয়েও, এটা বুঝতে পারলেন না যে— বেশি ভালর দঙ্গলে, আমি হারিয়ে যেতে পারি! ‘অতি বেশি ভাল’র দলে, আমার মতো ‘অত ভাল নয়’, মোটেই পাত্তা পাবো না।’’

Representative Image
স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন: পর্ব ২০

‘আজ থেকে কয়েক বছর পর কি এরকম অঙ্ক আসতে পারে যে, কোন ক্ষমতাশালী মানুষ, চাকরির বিনিময়ে এত টাকা ঘুষ নেন। সেই ঘুষের টাকা থেকে, শতকরা এত এখানে, শতকরা এত ওখানে কাটমানি দিতে হয়। এতজন যদি চাকরি পায়, ক্ষমতাশালীর পকেটে কত টাকা আসবে?’

Representative Image
স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন: পর্ব ১৯

‘আমাদের স্কুলব্যাগ বলে কিছু ছিল না। বইপত্র নিতাম হাতে। আমার বাবার আমলে নাকি একটা চটের ব্যাগে ভরে একটা বসার আসন, স্লেট, খড়ি বই নিয়ে পাঠশালায় যেতে হত। এই চটের ব্যাগটাকে বলা হত, দপ্তর।’

Representative Image
স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন:পর্ব ১৮

‘বাগবাজারের বসু বাড়িটা বড় বিখ্যাত। বিরাট-বিরাট থামওয়ালা বাড়ি, বাড়ির লাগোয়া জমি অনেকটা। ওই মাঠ এখন আর নেই। বাগবাজার মাল্টিপারপাস গার্লস স্কুল হয়েছে। যখন স্কুল হয়নি, মাঠ, ওই মাঠে নেতাজি জয়ন্তীতে অনুষ্ঠান হত।’

Representative Image
স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন: পর্ব ১৭

‘জলে ভাসত ট্রামের হলুদ টিকিট, লক্ষ্মীবিলাস তেলের কাগজের বাক্স, ঢোল কোম্পানির মলমের চ্যাপ্টা কৌটো। নন্দলাল বসু স্ট্রিটে ছিল, জজের বাড়ি। জজসাহেবকে কখনও দেখিনি আমি, কিন্তু ছোট্ট গাড়ি-বারান্দাওয়ালা বাড়িটাকে সবাই বলত জজের বাড়ি।’

স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন: পর্ব ১৬

‘তবে গঙ্গার জল সরবরাহের ভূগর্ভের পাইপ-লাইনের অস্তিত্ব এখনও দেখা যায়। মহাজতি সদনের পিছনের গলিগুলোতে, কারবালা ট্যাঙ্ক লেনে, মানিকতলা অঞ্চলে চোখে পড়েছে।’

স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন: পর্ব ১৫

‘বউদি বাপের বাড়ি গেল। মহিলাদের মুখে পোয়াতি কথাটা শুনেছিলাম শৈশব থেকেই। মানেটাও বুঝতাম। পুরুষ গুরুজনরা বলত গর্ভবতী, দাদু বলতেন অন্তরাবর্তী। কিছুদিন পর বউদি ফিরল কোলে বাচ্চা নিয়ে। ছেলে হয়েছিল। পিসেমশাই নাম রাখলেন সুজিত।’

Representative Image
স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন: পর্ব ১৩

‘বড়পিসেমশাই ঘরের ছাগলদের নিয়ে যেতেন হিসি করাতে। বাচ্চাদের হিসি করানোর সময়ে মায়েরা যেমন জিভে শিস্‌ধ্বনির মতো এক ধরনের আওয়াজ করে,  যে-আওয়াজটা অক্ষর সাজিয়ে বলা যাবে না, তেমন আওয়াজই করতেন এবং আশ্চর্য— ছাগলেরা হিসিও করত।’

Representative Image
স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন: পর্ব ১২

‘আমাদের ঘরে মাখন আসত না কখনও। কাকামণি ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পর চাকরি পেল, তখন রবিবার করে মাংস হত। ঠাকুর্মা কাকামণিকে দিয়ে মাখন আনিয়েছিল। আমাদের ঘরে মাখনের টিন এল। গরম ভাতে আলুসেদ্ধ আর মাখন। নিজেদের মাখন। কিন্তু কাকামণি তো পৃথিবীতেই রইল না।’