স্বপ্নময় চক্রবর্তী

Representative Image
স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন:পর্ব ১৮

‘বাগবাজারের বসু বাড়িটা বড় বিখ্যাত। বিরাট-বিরাট থামওয়ালা বাড়ি, বাড়ির লাগোয়া জমি অনেকটা। ওই মাঠ এখন আর নেই। বাগবাজার মাল্টিপারপাস গার্লস স্কুল হয়েছে। যখন স্কুল হয়নি, মাঠ, ওই মাঠে নেতাজি জয়ন্তীতে অনুষ্ঠান হত।’

Representative Image
স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন: পর্ব ১৭

‘জলে ভাসত ট্রামের হলুদ টিকিট, লক্ষ্মীবিলাস তেলের কাগজের বাক্স, ঢোল কোম্পানির মলমের চ্যাপ্টা কৌটো। নন্দলাল বসু স্ট্রিটে ছিল, জজের বাড়ি। জজসাহেবকে কখনও দেখিনি আমি, কিন্তু ছোট্ট গাড়ি-বারান্দাওয়ালা বাড়িটাকে সবাই বলত জজের বাড়ি।’

স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন: পর্ব ১৬

‘তবে গঙ্গার জল সরবরাহের ভূগর্ভের পাইপ-লাইনের অস্তিত্ব এখনও দেখা যায়। মহাজতি সদনের পিছনের গলিগুলোতে, কারবালা ট্যাঙ্ক লেনে, মানিকতলা অঞ্চলে চোখে পড়েছে।’

স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন: পর্ব ১৫

‘বউদি বাপের বাড়ি গেল। মহিলাদের মুখে পোয়াতি কথাটা শুনেছিলাম শৈশব থেকেই। মানেটাও বুঝতাম। পুরুষ গুরুজনরা বলত গর্ভবতী, দাদু বলতেন অন্তরাবর্তী। কিছুদিন পর বউদি ফিরল কোলে বাচ্চা নিয়ে। ছেলে হয়েছিল। পিসেমশাই নাম রাখলেন সুজিত।’

Representative Image
স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন: পর্ব ১৩

‘বড়পিসেমশাই ঘরের ছাগলদের নিয়ে যেতেন হিসি করাতে। বাচ্চাদের হিসি করানোর সময়ে মায়েরা যেমন জিভে শিস্‌ধ্বনির মতো এক ধরনের আওয়াজ করে,  যে-আওয়াজটা অক্ষর সাজিয়ে বলা যাবে না, তেমন আওয়াজই করতেন এবং আশ্চর্য— ছাগলেরা হিসিও করত।’

Representative Image
স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন: পর্ব ১২

‘আমাদের ঘরে মাখন আসত না কখনও। কাকামণি ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পর চাকরি পেল, তখন রবিবার করে মাংস হত। ঠাকুর্মা কাকামণিকে দিয়ে মাখন আনিয়েছিল। আমাদের ঘরে মাখনের টিন এল। গরম ভাতে আলুসেদ্ধ আর মাখন। নিজেদের মাখন। কিন্তু কাকামণি তো পৃথিবীতেই রইল না।’

Representative Image
স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন পর্ব: ১১

‘রঙিন কাগজ কেটে কালি বানিয়ে তার উপর গোল করে আঠা দিয়ে জুড়ে শিকল করা হত। সেই শিকল টাঙানো হত। রঙিন কাগজের ফুলও তৈরি করা হত। ঠাকুর সাজানোর জন্য যে যতটা পারে প্রতিভার বিকাশ ঘটাত।’

স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন: পর্ব ১০

‘ওঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে, আমি খুব তোতলাতাম। হ্যাঁ, বলা হয়নি, আমি খুব ছোটবেলায় তোতলা ছিলাম। এতে আমার একটা সুবিধা ছিল, স্কুলে স্যারেরা পড়া ধরতেন না। কলেজে ঢুকে একটু এসএফআই করতাম, বক্তৃতাও দিতাম, তখনই তোতলামিটা চলে যায়।’

স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন: পর্ব ৯

‘একবার রেঙ্গুন থেকে দু’জন এল, ওদের কলকাতা দেখাতে নিয়ে যাওয়া হবে। কেন কে জানে, আমাকেও নিয়ে গেলেন। তখনও পিসেমশাইয়ের গাড়ি ছিল না। কোনওভাবে একটা গাড়ি জোগাড় করেছিলেন, কিম্বা ভাড়া নিয়েছিলেন।’

স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন: পর্ব ৮

‘এর আগে বাঙাল-ঘটি সম্পর্কে জ্ঞান হয়ে গেছে। একটা মুদি দোকান ছিল মারহাট্টা ডিচ লেন-এ। ফটিকদার দোকান। আমি দাদুর সঙ্গে মুদি দোকানে যেতাম। কখনও হাতে কাঁসার বাটি, কখনও অ্যালুমিনিয়ামের বাটি। বাটিতে গুড় কিম্বা ডালডা। দাদু গেলে ফটিকদা বলতেন— এই যে বাঙালদাদু এসে গেছে।’ 

স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন: পর্ব ৭

‘‘ইন্‌জেকশনের ব্যবস্থা কুটুদিই করে রেখেছিল। একটা ছোট্ট শিশিতে জল, আর-একটা ড্রপার। শিশি থেকে ড্রপারের একটু জল টেনে নেওয়া হল। কুটুদি এবার বলল— আমার তো জ্বর হয়েছে, তুই আমাকে দেখবি। আগে জ্বর দেখবি বগলে ‘থার্মেটার’ দিয়ে। একটা পেন্সিল বের করল। বলল, এই নে ‘থার্মেটার’।’’

স্বপ্নময় চক্রবর্তী

উল্টো দূরবিন : পর্ব ৬

‘বিছের কামড়ের জন্য নানাবিধ টোটকা প্রচলিত ছিল। যেমন পেঁয়াজের রসের প্রলেপ দেওয়া, হিং আর মধুর প্রলেপ দেওয়া ইত্যাদি। বড়দের কামড়ালে সরষে-পরিমাণ আফিম খাইয়ে দেওয়া হত। তখন আফিমের দোকান ছিল। অনেকে আফিমের নেশা করত।’