
কবির সঙ্গে দেখা: পর্ব ৬২
বাংলা কবিতার এক অবিস্মরণীয় স্বর, কবি পিনাকী ঠাকুর। তাঁকে অকালে হারিয়েছে বাংলা-কবিতা জগত। কিন্তু এমনই দৃপ্ত তাঁর স্বর, পাঠক হিসেবে বারবার ফিরে আসতে হয় তাঁর কবিতার কাছে!

বাংলা কবিতার এক অবিস্মরণীয় স্বর, কবি পিনাকী ঠাকুর। তাঁকে অকালে হারিয়েছে বাংলা-কবিতা জগত। কিন্তু এমনই দৃপ্ত তাঁর স্বর, পাঠক হিসেবে বারবার ফিরে আসতে হয় তাঁর কবিতার কাছে!

‘সে-রাতে, যতদূর মনে পড়ছে, উস্তাদ আশিস খানের সরোদের সঙ্গে বাজাবেন উস্তাদ জাকির হুসেন। জাকিরজি-কে ততদিনে বেশ কিছু আসরে সামনে ব’সে শোনার সৌভাগ্য হয়েছে, আশিস খানের বাজনা তখনও শুনিনি। এই দু’জন জোট বাঁধলে ধুন্ধুমার কাণ্ড হবেই নির্ঘাত! তাই ছাড়ার কোনও প্রশ্নই নেই।’

‘ভাস্কর স্যার ও-পথে কখনও যাননি। তাঁর মোক্ষম অস্ত্র ছিল একটিই। শ্লেষ। পড়া না পারলে, ভুলভাল উত্তর দিলে, বা হোমটাস্ক না করে এলে বকুনি বা মারধর, কোনওটাই তাঁর ধরন ছিল না। বরং এমন একখানি বাক্যবাণ ছুড়ে দিতেন, শুনে মনে হত এর চেয়ে নিল ডাউন করিয়ে রাখলে ভাল হত।’

ঝলমলে শহরে, কোনও এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। দেখা হয়ে যায় তারুণ্যের সঙ্গে। সেই দেখাটুকু যে কোনওদিন চিরতরে অতীত হয়ে যাবে, সে-কথা স্বপ্নেও কল্পনা করা যায় না। দূরপাল্লা নামটুকুতে দূরের হাতছানি থাকলেও, কিছু বন্ধু-আবেশে তা বড় কাছের ভ্রমণ হয়ে থাকে। রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের সেই বন্ধু…

কথায় বলে, কবি তাঁর লেখায় সময়ের চিহ্ন ধরে রাখেন। এই সময়-ই, শব্দের উপর ভর করে, এগিয় চলে যুগ-যুগ ধরে। পৌলমী সেনগুপ্তর কবিতা তেমনভাবেই নয়ের দশকের প্রতিচ্ছবি ধরে রাখে।

২০২৫ সালের সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারের জন্য বাংলা থেকে নির্বাচিত কবি প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। ফিরে দেখা শ্রীজাত-র কণ্ঠে তাঁর কবিতাপাঠ…

আর যেখানেও যাও-না-কেন, প্যারিস অবশ্যই যেও!— বলেছিলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। ভেতরে থাকা ভ্রমণপিপাসু মনের স্ফুলিঙ্গ বারবার আগুন হয়ে ছড়িয়ে গিয়েছে জীবন-জিজ্ঞাসায়। প্রথমবারের ইউরোপ ভ্রমণ নিয়ে তেমনই কিছু স্মৃতিচূর্ণ…

একটি ধানের শীষের ওপর…অনেকগুলো পাহাড়বিন্দু। পাহাড়বিন্দু, না কি আলোকবিন্দু? দার্জিলিং-মায়ায় সব ধূসর রঙিন হয়ে ওঠে। যেন আলো হয়ে জ্বলে ওঠা স্রোত… বন্ধুতা, স্মৃতি সবই শৈলশহরে মিলেমিশে একাকার…

বাংলা কবিতার পাঠকদের কাছে তিনি খুব একটা পরিচিত নন। আটের দশকের কবি তিনি, অকালপ্রয়াত। এ-যাবৎ একটাই কাব্যগ্রন্থ তাঁর, ‘একটি তারার তিমির’। ‘কবির সঙ্গে দেখা’র এই পর্বে রইল কবি অচ্যুত মণ্ডলের কবিতা..

‘আমিও ঢাকের কাঠি থেকে হাত সরিয়ে নিয়েছি অনেকদিন হল। মনে-মনে কত কী বিসর্জন দিতে হল এই ক’বছরে, আর কানে-কানে শুনতে পেলাম সেই ম্লান ঢাকের বাদ্যি, সে আর বলার না। বিষণ্ণতা আসলে এক শেষ-না-হতে-চাওয়া পূজা পর্যায়, আর দূর থেকে ভেসে আসা ঢাকের আওয়াজ আসলে হেমন্তকালের ডাক।’

উৎপলকুমার বসুর সংকেতময়, রহস্যগভীর কাব্যের কাছে বারবার ফিরে যেতে হয়..
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.