Kalighat সম্বন্ধে খুঁজে পাওয়া লেখাগুলি

জয়ন্ত দে

অলিগলির কালীঘাট : পর্ব ১৫

আমাদের বাংলা নতুন বছরের নড়াচড়া শুনি আগে থেকেই, যখন দেখি মোটা শিব, পটকা শিব, ভোটকা শিব, খেঁচা শিবরা সেজেগুজে বেরিয়ে পড়েছে। সবাই যাবে নকুলেশ্বর তলায়। বাবার কাছে গাজন হবে। কালীঘাটে সারা বছর কালীর চেলাদের বড় বাড়ন্ত। এই ক’টাদিন গেঁজুড়ে নন্দী-ভৃঙ্গিরা দখল করে।

জয়ন্ত দে

অলিগলির কালীঘাট : পর্ব ১৪

“কালীঘাট বাজারের সামনের রাস্তার ওপর হত গড়মিল সংঘের পুজো। আমাদের নিজেদের মধ্যে তেমন গড়মিল ছিল না। সংঘের নাম হয়েছিল ‘গড়মিল’ সিনেমা থেকে। পরে সেই পুজো ফরওয়ার্ড ক্লাবের দিকে চলে গিয়েছিল। তখন সেখানে ছিল কালীঘাট ফাঁড়ি। এখন সেটাই থানা। বেশ বড় কালীপুজো।”

জয়ন্ত দে

অলিগলির কালীঘাট : পর্ব ১৩

আমার এক বন্ধুর বাড়ি ছিল গঙ্গার ঘাট-লাগোয়া পাড়ায়। একতলা বাড়ি। ওদের চৌকির পায়া ছিল লম্বা লম্বা। বছরে বেশ কয়েকবার ভরা কোটালের জলের থেকে বাঁচতে ওদের ঘরসংসার উঠত চৌকির ওপর।

জয়ন্ত দে

অলিগলির কালীঘাট : পর্ব ১২

বিকেলের দিকে কালীঘাট রোডের ওপর বরফের গাড়ি ঘুরত। সেখানে বরফ থাকত লাল শালুতে মোড়া। সামনে কাঠ ঘষার রেঁদা। সেখানে বরফ ঘষলে ঝুরো ঝুরো হত, সেগুলো ছোট একটা গ্লাসের ভেতর ঢুকিয়ে লাল-সবুজ মিষ্টি সিরাপ দিয়ে একটা কাঠি গুঁজে দিত। খেতাম মাঝেসাঝে। কালীঘাট রোডের ওপর রকমারি খাবার জিনিস ঘুরত, যেমন সব তীর্থক্ষেত্রে ঘোরে। 

জয়ন্ত দে

অলিগলির কালীঘাট : পর্ব ১১

‘কালীঘাটে অনেক কালী! কালীময়! কালীচরণ পাণ্ডার কথা তো আগেই বলেছি। কালীদির চোলাইয়ের ঠেকও খুব বিখ্যাত। দিবারাত্রি খোলা। ব্লাডারে করে চোলাই আসত। দিন-রাত লোক বসে। সারা কালীঘাটের তাবৎ মাতাল কালীদির খদ্দের। দিবারাত্রি খোলা? শ্মশানযাত্রীরা খুঁজে খুঁজে ঠিক এখানে আসবে। তখন বিলাতি নয়, দেশিই চলত।’

জয়ন্ত দে

অলিগলির কালীঘাট: পর্ব ১০

‘টুকরে খেলত না, আমাদের সঙ্গে সঙ্গেই ঘুর-ঘুর করত। খুব কম কথা বলত। কিন্তু কোনও দিনই জানতে পারিনি ওর মধ্যে এত রাগ, এত তেজ জমে ছিল।’

জয়ন্ত দে

অলিগলির কালীঘাট : পর্ব ৯

‘‘রিন্টুদা ছিল রোগা লম্বা, খাঁড়া নাক, বাঁটুল কার্টিং চুল। রিন্টুদা চিন্টুর জাঠতুতো দাদা। তখন দাদা-দিদিরা বেশ গাম্ভীর্যপূর্ণ হত, কেননা সিলেবাসে শরৎচন্দ্রের ‘মেজদা’ ছিল। সবাই মেজদা। রিন্টুদা আমাদের সঙ্গে কথা বলত না। আমরা ছোট, পুঁচকে, অর্বাচীন, গাধা, গরু, বলদ, নেংটি— আমাদের সঙ্গে কী কথা বলবে। ওই জাঠতুতো দাদা রিন্টুদা ছিল মহা গুলবাজ। পড়াশোনায় ভাল, কালীঘাটের কোনও দোষ পায়নি। কাগজে তামাক ভরে ঠোঁট বুলিয়ে বেশ কায়দা করে সিগারেট বানিয়ে খেত। তার আগে কাউকে অমনটি দেখিনি।’’

জয়ন্ত দে

অলিগলির কালীঘাট : পর্ব ৮

‘কালীঘাট বাজারে যে-কোনও বাজারের মতো আলু-পিঁয়াজের আলাদা দোকান ছিল। আলাদা দোকান ছিল ডিমের। আশ্চর্য লাগে, শুধু কুমড়ো বিক্রি করার জন্য একটা দোকান! শুধু কুমড়ো বিক্রি করে কি একটা পরিবার চলে যেত? এখন প্রশ্ন করলে উত্তর মেলে না।’

জয়ন্ত দে

অলিগলির কালীঘাট : পর্ব ৭

‘কালীমন্দির থেকে বেরিয়ে কালীঘাট বাজার পেরিয়ে ট্রামলাইনের দিকে যাওয়ার আগে দেবালয়ের ঘুড়ির দোকানের পরে একটা বিখ্যাত খাটাল ছিল। সেখানে সকাল-বিকেল অনেকেই ঘটি-ক্যান নিয়ে হাজির হত। জল ছাড়া দুধ নেওয়ার জন্য। মায়ের খুব ইচ্ছে ছিল— মাঝে-মাঝেই বলত, বোতলের দুধে কী থাকে, ছেলেটার গায়ে লাগে না।’

জয়ন্ত দে

অলিগলির কালীঘাট : পর্ব ৬

‘আমাদের পাড়ার অনেক মেয়ে বউ মুক্তাকে সন্দেহের চোখে দেখত। ওকে দেখলেই চোখ কুঁচকে তাকত। কিন্তু অনেকেই মুক্তাকে খুব পছন্দ করত। মুক্তা আসলে ছিল আমাদের অনেকের মা, দিদি ও পরিবারের মুশকিল আসান। ও তখন আমাদের সমবয়সি। কিন্তু মেয়ে বলে হয়তো চেহারায় গড়নে ও বেশ বড়-বড় মতো।’

জয়ন্ত দে

অলিগলির কালীঘাট : পর্ব ৫

‘২০৪ নম্বর বাসে করে সকাল হলে, সাদা পাতার মতো টুপটাপ বিদেশি মানে ফরেনাররা নেমে পড়ে। বিশেষত শীতের সকালে তো অগুনতি। ওই বাসস্টপ থেকে গৌর সেই ফরেনারদের ক্যাচ করে। তাদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে, টক করতে করতে কালীঘাট মন্দির পর্যন্ত আসে।’

Representative Image
জয়ন্ত দে

অলিগলির কালীঘাট: পর্ব ৪

‘‘এই দাদারা ছিলেন সব ‘কোনি’র ক্ষিদ্দা, এঁরা আমাদের স্বপ্ন দেখাতেন। কী স্বপ্ন দেখাতেন জানেন? আপনি কী ভাবছেন— ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগান দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন? ও-গুলো পরে, আগে ছিল ফার্স্ট ডিভিশনে কোনও ভাল ক্লাবে খেলা।’’