
সুরপঞ্চম
সংগীতের যে আবহে বড় হয়েছিলেন রাহুল দেববর্মন, তার প্রেক্ষিতে কলকাতায় তাঁর সুরকার বা গায়ক হিসেবে পদার্পণ মোটেই অস্বাভাবিক নয়। তাছাড়া এই শহর তো তাঁর একান্ত আপনার— এ শহর জানে তাঁর প্রথম সব কিছুই !

সংগীতের যে আবহে বড় হয়েছিলেন রাহুল দেববর্মন, তার প্রেক্ষিতে কলকাতায় তাঁর সুরকার বা গায়ক হিসেবে পদার্পণ মোটেই অস্বাভাবিক নয়। তাছাড়া এই শহর তো তাঁর একান্ত আপনার— এ শহর জানে তাঁর প্রথম সব কিছুই !

‘ওই চারচৌকো ঘরই আমাদের রংমহল হয়ে উঠল। মজলিসের জন্যে যে বৈভব লাগে না, লাগে ভালবাসা, সেটা ভাগ্যিস আমরা ওই বয়সেই বুঝতে পেরেছিলাম!’

‘সে-রাতে, যতদূর মনে পড়ছে, উস্তাদ আশিস খানের সরোদের সঙ্গে বাজাবেন উস্তাদ জাকির হুসেন। জাকিরজি-কে ততদিনে বেশ কিছু আসরে সামনে ব’সে শোনার সৌভাগ্য হয়েছে, আশিস খানের বাজনা তখনও শুনিনি। এই দু’জন জোট বাঁধলে ধুন্ধুমার কাণ্ড হবেই নির্ঘাত! তাই ছাড়ার কোনও প্রশ্নই নেই।’

সিঙ্গল্স-এর মধ্যে অনেকগুলো গানের একসঙ্গে হেরে যাওয়ার ভয় নেই। এই তুলনাটা করা যায়, রেসের মাঠে যাওয়া মানুষের সঙ্গে। যারা বারবার হেরে যাওয়ার পরেও মাঠে যায়, তাদের সঙ্গে পার্থক্যটা এখানেই, সিঙ্গল্স একবারের তুক্কা খেলা। একবার বিফল হলে আবার নতুন করে তার সূচনা, শুরু থেকে।

‘‘রাহুলদেব বর্মণের সংগীতে যে-ছন্দের বৈচিত্র্য, কণ্ঠের ব্যবহার, পরীক্ষার সাহস— সেটা সম্ভব হয়েছিল কারণ তিনি নিজে যেমন অসাধারণ প্রতিভাবান ছিলেন, তেমনই আশা ভোঁসলেও ছিলেন তাঁর এক বিশাল শক্তি। আশা শুধু গায়িকা ছিলেন না, তিনি ছিলেন ‘রিসোর্স’, এক সৃষ্টিশীল সঙ্গী…’’

‘সায়গল একটা আপত্তিকর কথা বলেছিলেন গান শুরু করার আগে যেটা সরাসরি রেডিয়োতে সম্প্রচারিত হয়ে যায়। এই ঘটনার পরে অল ইন্ডিয়া রেডিয়ো আর সায়গলের গান সম্প্রচার করেনি সরাসরি, রেকর্ডে তাঁর গান বাজত রেডিয়োতে, কিন্তু রেডিয়োতে তাঁকে আর ডাকা হয়নি।’

‘রবীন্দ্রগানের রেকর্ডিং-এর ইতিহাস বা তার পেছনের কাহিনি নিয়ে বাংলায় একাধিক বই লেখা হয়েছে। সেসবের ভিড়েও এই বই আলাদা জায়গা করে নেবে। কেন?’

‘ভারতের একমাত্র শিল্পী, যিনি একসঙ্গে দু’টি কণ্ঠে ধ্রুপদী সংগীত গাইতে পারতেন— তাঁর নাম অনাথনাথ বসু। মহিলাকণ্ঠে ঠুমরি গাইতেন, পুরুষকণ্ঠে গাইতেন খেয়াল।’

‘আজ আমরা যে রবীন্দ্রসংগীতকে কেবল কৃত্রিম শিল্পচর্চার স্বরলিপি গ্রন্থ বলে গ্রহণ করি না, জীবনচর্চার গায়ত্রীরূপে গ্রহণ করি, সেই শিক্ষা দিনেন্দ্রনাথের।’

‘সুধীন দাশগুপ্ত এবং সলিল চৌধুরী, জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের সংগীত জীবনের দু’টি ‘কী নোট’। সুধীন দাশগুপ্তর সুর-সৃষ্টির সমগ্র প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে গিয়েছিলেন জটিলেশ্বর। গুরুর প্রভাব তাঁর গানে যে বিশেষ মাত্রা এনে দিয়েছিল তা বলাই বাহুল্য।’

‘আমাদের দেশের আরও বহু শিল্পী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌঁছেছেন তাঁদের নিজেদের ক্ষমতায় এবং যোগ্যতায়। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতীয় সংগীতকে সফলভাবে পৌঁছে দিয়েছেন প্রথমে উদয়শঙ্কর এবং তারপরে আরও বিস্তৃত পরিসরে রবিশঙ্কর।’

‘জন তাঁর হত্যার দিনে প্রোডিউসার লরি কে-কে বলেছিলেন যে, মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তার কাজ পূর্ণতা পাবে না। তবে কি জনের হত্যাই জনের তত্ত্বকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে?’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.