
ধন্বন্তরি
‘‘ডাক্তারি পড়তে-পড়তে একটা কথা একজন শিক্ষক প্রায়ই বলতেন, ‘এখন তো ঘরে-ঘরে বিধান রায়!’ তখন ভাল বুঝতে পারিনি কথাটার অর্থ। সাড়ে তিন দশক ডাক্তারি করবার পর, আজ কথাটার মর্ম বুঝি হাড়ে-হাড়ে!’’

‘‘ডাক্তারি পড়তে-পড়তে একটা কথা একজন শিক্ষক প্রায়ই বলতেন, ‘এখন তো ঘরে-ঘরে বিধান রায়!’ তখন ভাল বুঝতে পারিনি কথাটার অর্থ। সাড়ে তিন দশক ডাক্তারি করবার পর, আজ কথাটার মর্ম বুঝি হাড়ে-হাড়ে!’’

বিষ নিয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে বিচিত্র কিস্সা। রোমাঞ্চকর সেই সব বিষ খুঁজে পাওয়া (আবিষ্কারের) গল্প, সেই বিষ দিয়েই মানুষ হত্যার গল্পও কম রোমহর্ষক নয়। পাশাপাশি রয়েছে কিছু করুণ কাহিনিও। এ-নিয়েই ধারাবাহিক, বিষ-রূপ দর্শন। এ-পর্বে কিউরারি বিষের কথা…

‘একদিকে যেমন দেখেছি সংখ্যালঘু আশাকর্মীকে তাঁর বর প্রত্যেকদিন কর্মস্থলে এসে টিফিন দিয়ে যান, আবার এও দেখেছি যে, পঞ্চায়েত সমিতির ইলেক্টেড মহিলা মেম্বারকে তাঁর বর মোবাইল ফোন পর্যন্ত ব্যবহার করতে দেয় না। এমন বৈপরীত্য এই বাংলার বুকেই বিদ্যমান।’

এখনও যখন মৃতপ্রায় একজন রোগী দেখি, সেই রাতের কথা মনে করি। ওইটা যদি সম্ভব হয়, তাহলে এটাও সম্ভব। অত সহজে মানুষের জীবন যায় না। সেই রাতে যাঁরা সাথী ছিলেন, তাঁরা এখন কোথায়, জানি না। সিস্টারদের তো কোনও খবরই নেই। কিন্তু সেই মুখগুলো মনে আছে।

“কিছুটা হাঁটার পর নদী পড়ল। আমি তো অবাক! পেরোব কী করে? নেপালি ভদ্রলোককে মোটেই বিচলিত দেখাল না। ওদের ভাষায় বলল, ‘আমার পিঠে উঠে পড়ুন ডাক্তার! চিন্তা নেই কোনও।’”

‘চিকিৎসকের সেই শিরশিরে অস্বস্তি, সেই উৎকণ্ঠা… প্রতিটি শব্দ নিক্তিতে মেপে উচ্চারণ করা, অথচ শব্দগুলো এমনভাবে বলতে হয় যেন একেবারেই স্বতঃস্ফূর্ত! মৃত্যুপথযাত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে রোজ এই একই অভিনয় চালিয়ে যাওয়া, এ-ও কি একপ্রকার ‘জরুরি অবস্থা’ নয়?’

মেয়েদের শরীর, মেয়েদের ব্যথা, মেয়েদের চিকিৎসার এককণাও মেয়েদের হাতে নেই। পুতুলনাচ হয় জানেন? সেইভাবে সুতো দিয়ে ঝোলে মানুষগুলো, তাদের বাঁধা হাত, বাঁধা শরীর, নাচে অঙ্গুলিহেলনে। বাড়ির ঠিকানা জানে না অনেকেই। জন্মতারিখ জানে না।

‘আজও রূপান্তরকামীরা শিক্ষিত সমাজের কাছে কৌতুকের পাত্র। অথচ তাঁরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে-অসম লড়াই চালিয়ে যান, চিকিৎসক হিসেবে আমি তার প্রত্যক্ষদর্শী। আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে আমার দায়িত্বটুকু পালন করেছি মাত্র…’

‘কত বছরই বা আগের কথা। বছর পনেরো-কুড়ি হবে। মফসসলের এক হাসপাতালের অপারেশন ঘর। অপারেশন টেবিলে লাইগেশন অপারেশন। রোগীর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ও মৃত্যু। সমস্ত হাসপাতালে দমবন্ধকর অবস্থা। অনিমেষের আহ্বানে সব ডিপার্টমেন্টের ডাক্তাররা ওটিতে হাজির।’

কবিতা লেখা একটা ডায়েরি আমাকে দিয়ে বলল, পড়বেন, ভুল মনে হলে কারেকশন করে দেবেন। আমি বললাম, পড়ব নিশ্চয়, কিন্তু কারেকশন করতে পারব না। বরং নেক্সট চেক-আপে যখন তুমি আসবে, কেমন লেগেছে কবিতাগুলো, তখন মতামত জানাব।

‘যাঁরা বলেন, ডাক্তারি বিজ্ঞান, তাঁরা আসলে ডাক্তারিটাকে গোটাটা বোঝেননি। ডাক্তারি বিজ্ঞান তো বটেই, কিন্তু তাও পুরোপুরি বিজ্ঞান নয়।’

‘বিকেলের দিকে ওই এমার্জেন্সিতে সেদিনের জন্য রাউন্ড দিতে গেছি। হঠাৎই দেখি, মহিলাদের ওই ওয়ার্ডের দরজায় পর্দা সরিয়ে এক মাঝবয়সি লোক ওই মহিলার শয্যার দিকে তাকিয়ে উঁকিঝুঁকি মারছে। আমি ওই লোকের চোখের দৃষ্টি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে না-হতেই দেখি লোকটি গায়েব।’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.