কয়েকটি কবিতা
১
আমাদের কড়িকাঠে লেগে থাকে অশ্রুতের ডানা
কথা তার নিয়ে গেছে বন্দরের প্রাচীন রেডিয়ো
ধরা যদি পড়ে যায়, দিতে হবে স্মৃতি-জরিমানা
তুমি তাকে অন্যথায় শহুরে কবিতা এনে দিয়ো।
২
তারাটি সেলাই করা আঁচলে, সে আকাশ পরেছে।
রাত হলে জ্বলে ওঠে, সমগ্র শরীর ছায়াপথ…
সুতো-কারিগর, সেও উল্কা থেকে ছোট চুমকি চেঁছে
শেষবিন্দু ফোঁড় দেয়। আমাদের মৃত্যু। ভবিষ্যৎ!
৩
পাখিটি ওড়েনি ব’লে তার ডানা মিথ্যে, সে তো নয়।
বরং ওড়ার ইচ্ছে জমে জমে সেখানে স্ফটিক।
আকাশ সূর্যাস্ত-সহ নেমে আসে, এমনই প্রণয়
তাকে আঁজলা ভরে দেয় শূন্যতা। যা ওড়ার অধিক।
৪
দেশে দেশে চলে লোক, লোকের ভিতরে চলে দেশ
কোন কাঁটাতার বাইরে, ভিতরে সে কেমন সেলাই…
নিয়ম মিথ্যের মুখ। মানচিত্র মাটির ছদ্মবেশ।
আমরা রোজ নিজেদের যতবার পার হয়ে যাই!
৫
সে যেন মৃত্যুর পর তারকাখচিত সমাবেশ।
সে যেন শোকের প্রতি সমর্পিত নীল সানগ্লাস।
সে যেন কফির কাপে দু’চামচ অতীতের শ্লেষ—
কত রঙে সেজে ওঠে আমাদের প্রয়াণের মাস!
৬
তোমার হৃদয় ছিল শুক্রবার, পূর্ণ প্রেক্ষাগৃহ।
রুপোলি পর্দায় মোড়া হৃৎপিণ্ড, তীক্ষ্ণ ওঠাপড়া।
দর্শকের করতালি সমবেত। একক সমীহ।
ভালবাসা দীর্ঘ হলে সে-জয় হারের চেয়ে কড়া।
৭
আমার প্রত্যেক হাঁটা খাদের সেলাই করা ধার।
নীচে, বহু নীচে স্রোত, ঝাঁপ দিলে মৃত্যু বহমান
আমার প্রত্যেক দৃষ্টি অন্যপাশে উদ্ধত পাহাড়…
এরই মাঝে চুপ সুর। যাত্রাপথে সে আনন্দগান।
৮
পড়া করে আসোনি যে, বোঝা যায়। খাতাদের নীচে
নদী ছুটছে তিরতির, জঙ্গলে চড়ুইভাতি দল…
ওই তো কাবেরী বসু সদ্য কফি ঢাললেন পিরিচে।
না-পারা অঙ্কের গুচ্ছ প্রশ্ন করে, ‘যাবি কি না বল?’



