উল্টো দূরবিন: পর্ব ২২

Representative Image

ছেলেবেলার ছেলেখেলা

‘হেয়ার স্কুল’-এর কথা পরে বলছি। আরও কিছু কথা মনে পড়ে গেল, যা এখনই বলে নিলে ভাল হয়। আমরা অনেকেই পুরনো বই কিনতাম, যারা ক্লাসে উঠবে, তাদের বলা থাকত। ওরা নতুন ক্লাসে উঠলে, ওদের বই হাফ-দামে পেয়ে যেতাম। কেউ-কেউ, হাফ-দামে কেনা বই, আবারও বিক্রি করত। সেটা দেখে নিতে হত। ওটা তখন আর ‘সেকেন্ড হ্যান্ড’ নয়, ‘থার্ড হ্যান্ড’ হয়ে গেছে। সুতরাং, দাম আরও কম।

অনেক বই ছিল, জলছবিতে ভরা। জলছবি দেখতে যত ভাল ছিল, তার চেয়ে, লাগানোতে মজা ছিল অনেক বেশি। জলছবির ব্যাপারটা উঠে গেছে অনেক আগেই। এ-সময়ের ছেলেমেয়েরা জলছবি কী জিনিস, বুঝতেই পারবে না। একটা বিশেষ ধরনের পাতলা কাগজের উপরে, ছবি ছাপা থাকত। সেই ছবির দিকটা, কোনও বই বা খাতার উপর চেপে, কাগজের উপর ফোঁটা-ফোঁটা জলে ভিজিয়ে, কিছুক্ষণ পরে ছবি-ছাপা কাগজের কোণটা ধরে, টেনে উঠিয়ে দিলে— ছবিটা কাগজের উপর বসে যেত। ‘ফুল’, ‘প্রজাপতি’, ‘পাখি’, ‘বাঘ’, ‘সিংহ’-র মুখ ছাড়াও, জোকারের ছবি থাকত। বোধ হয়, তখনও ‘মিকিমাউস’ আসেনি। জলছবির যুগ বোধ হয় আটের দশকেই শেষ হয়ে যায়। ’৯১-’৯২ সালে আমার পুত্র যখন শিশু, সবে স্কুলে, ওর জন্য কিনতে গিয়ে পাইনি।

কাগজের পোস্টারে লেখা হয়েছিল—  ‘ফেল করানো যাবে না!’
পড়ুন: ‘উল্টো দূরবিন’ পর্ব ২১…

একটা বেশ মজার ব্যাপার তখন অনেকেই করত। আমি একটা সেকেন্ড হ্যান্ড বইতে, প্রথম দেখি। বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠায়, যেখানে মালিকের নাম-ক্লাস-রোলনম্বর লেখাটাই দস্তুর, সেখানে নাম না লিখে, হেঁয়ালি। এখানে অনেকে তাদের কবিত্ব জাহির করত; যদিও এই কবিত্ব টোকা। অন্যের অনুকরণ। ব্যাপারটা অনেকটা এরকম— 

‘ক্লাস সিক্সে পড়ি আমি, বি সেকশন
আমার নামটা জানতে যদি ইচ্ছে করে মন,
১৬ পৃষ্ঠায় চলে যাও
আমার নামটা জেনে নাও।’

এবার ১৬ পৃষ্ঠার মাথায় লেখা—
 
‘এই পাতাতে হল না ভাই, 
২৩ পাতায় যাওয়া চাই।’ 

২৩ পৃষ্ঠায় চলে গেলে সেখানে হয়তো আছে, ‘কষ্ট করলে কেষ্ট মেলে নয় পাতাতে যাও চলে।’ নয় পাতার মাথায় লেখা, ‘আবার একটু কষ্ট করো, ৬২ পাতা তুলে ধরো।’ ৬২ পাতায় গেলে হয়তো দেখা যাবে, ‘আবার তুমি হলে বোকা, ১২ পাতায় যাও খোকা…।’ এরকম করে ১০-১২বার ঘোরানোর পর, যে-পাতায় একটু স্পেস, মানে ফাঁকা জায়গা আছে, ওখানে হয়তো দেখা গেল—

‘প্রবীর গুঁই আমার নাম
পুরলো তো মনস্কাম
নামটা আমার জেনে গেলে
আজ থেকে বন্ধু হলে
তোমার সঙ্গে মজা করলাম,
একটু ক্ষমা চেয়ে নিলাম।’

ক্ষমার ‘ক্ষ’ লিখতে কষ্ট হত বলে, অনেক সময়ে “‘মাফ’ আমি চেয়ে নিলাম” লেখাটাই সুবিধেজনক ছিল। এইরকম বয়ানই এদিক-ওদিক করে লেখা হত। আমিও লিখেছি।

পুরনো বই কিনলে, প্রথম কাজটি ছিল, পুরনো মালিকের নামটি নিষ্ঠুরভাবে ধ্বংস করা। একটা কাগজে, নিজের নামটি লিখে, আঠা দিয়ে কাগজটি সাঁটিয়ে দেওয়া। পুরনো বইয়ে যদি এই ধরনের ‘নাম-খেলা’ হয়েই থাকে, সেগুলো তো কাটা যায় না, বইটা নোংরা হয়ে যাবে। তবে যেখানে নিজের নামটা ডিক্লেয়ার করা হয়েছিল, সেখানে নতুন মালিকের নামটা সদর্পে সাঁটানো হত। পুরনো বইয়ের একটা সুবিধা ছিল। ‘IMP’, ‘VIMP’, ‘VVIMP’, ‘VVV’, ‘IMP’— এইসব দাগানো থাকত। ইম্পরট্যান্ট এর বিভিন্ন মাত্রা, স্টার-ডবলস্টার— ইত্যাদি। তবে ক্লাস এইটের ইতিহাস বইতে, ঠকেছিলাম। মাঝে-মাঝেই দু’একটা পৃষ্ঠা উঠাও ছিল; মানে, এগুলো ছিঁড়ে, পূর্বতন মালিক পরীক্ষার হলে নিয়ে গিয়েছিল।

আমাদের শৈশবে, প্রতিটি ক্লাসের সঙ্গে জড়িত একটা অন্তরঙ্গ ‘ওয়ান-লাইনার’ ছিল। এবং প্রায় সর্বত্রই স্বীকৃত ছিল, ‘ওরিয়েন্টাল স্কুল’-‘বাগবাজার স্কুল’, ‘ভবানীপুর মিত্র ইনস্টিটিউশন’— সর্বত্রই এই বয়ানটি প্রচলিত ছিল। মেয়েদের কিছু স্কুলেও সংক্রমিত হয়েছিল।

ক্লাস ওয়ান— পায়খানার দারোয়ান 
ক্লাস টু— ভগবানের বন্ধু 
ক্লাস থ্রি— খায় বিড়ি 
ক্লাস ফোর— জুতো চোর 
ক্লাস ফাইভ— জলের পাইপ 
ক্লাস সিক্স— খায় কিসমিস 
ক্লাস সেভেন— ভিক্ষা দেবেন 
ক্লাস এইট— টিউবলাইট 
ক্লাস নাইন— পাঁচ টাকা ফাইন 
ক্লাস টেন— সোনার চেইন।

ক্লাস ফোর এর উপর কেন এত নিষ্ঠুরতা, এর কোনও ব্যাখ্যা পাইনি। আবার, ক্লাস টু-র সঙ্গে জুড়তে দেখেছি, ‘খায় গু’। ভগবানের বন্ধু হলে, ক্লাস টু-এর ব্যথার মলম।

স্কুলসংলগ্ন মাঠটার এক কোণে, টিফিনবেলায় ‘গুলি’ এবং ‘ডাংগুলি’ খেলা হত। এই দুটো বালক প্রিয় খেলাই এখন প্রায় শেষ। শহর-শহরতলিতে চোখেই পড়ে না। গ্রামাঞ্চলে টিকে আছে কি না, জানি না। ‘গুলি’ খেলা নানারকমের ছিল। একটা খেলা ছিল, যেখানে হেরে গেলে, ‘খাটান খাটতে হত।’ হেরে যাওয়া খেলোয়াড়, যে কিনা হেরো, তার গুলিটা মেরে দূরে পাঠিয়ে দেওয়া হত, যেখানে গুলিটা পাঠানো হয়েছে, হেরো ওই অকুস্থলে গিয়ে, ‘পিল’-এ ফেরত পাঠাবে গুলিটা। ‘পিল’-এ না ফেলতে পারলে, আবার মেরে দূরে পাঠাবে। এইভাবে খাটতে হত। একবার দু’বার খাটলে, কোনও উপাধি জুটত না। তিন থেকে জুটে যেত। তিন-এ, ‘তিলেখচ্চর’ চার-এ ‘চোর’ পাঁচ-এ ‘প্যাঁচা’, ছয়-এ ‘ছ্যাঁচড়া’— এমনি করে ১০-এ ‘বিয়ে’, ১১-য় ‘এক ছেলের বাপ’, ১২য় ‘দুই ছেলের বাপ’— ইত্যাদি। যে জিতত, তার পরাজিতের গুলির উপর অধিকার বর্তাতো। এক প্যাকেটভর্তি গুলি নিয়ে, পকেট বাজত ঝমঝম।

আমি গুলি খেলতাম না খুব একটা, কারণ আমার টিপ ছিল না। অপেক্ষাকৃত দুর্বলের সঙ্গেই খেলতাম। আরেকটা খেলা ‘ডাংগুলি’। খেলাটার মধ্যে বেশ একটা ‘রৌদ্ররস’ ছিল। এই খেলাটা বোধহয় ক্রিকেটের আদিপুরুষ, ‘ডাংগুলি’-র আরেকটা নাম, ‘ডাংগুটি’। ডাং মানে একটা ‘ডান্ডা’। ব্যাট যেমন। বলটা, পটলাকৃতি। উইকেটের পরিবর্তে, একটা গর্ত, যার আরেক নাম ‘পিল’। ‘গুলি’-খেলাতেও ‘পিল’ ছিল, যেটা হল খেলাটার কন্ট্রোল-পয়েন্ট। ‘পিল’টাকে কেউ-কেউ উইকেট-গর্তও বলতো; আর ‘ডাং’টাকে ব্যাট। ‘ডাং’ হচ্ছে, একটা শক্তপোক্ত দেড় দুই ফুটের ডান্ডা। পটলাকৃতি গুলিটার এক প্রান্তে বাড়ি মারলে, গুলিটা লাফিয়ে উঠত। গুলিটা যখন শূন্যে, তখনই ডান্ডাটা দিয়ে গুলিটাকে মেরে দূরে পাঠাতে হত। যদি একবারের বার কিছুটা উঠিয়ে, দু’বারের বার মারা যেত, পয়েন্ট ডবল হয়ে যেত। তিনবার এই সুযোগ ছিল। ‘এসিও’, ‘দোমিও’, ‘তেমিও’। ‘পিল’ থেকে যে যত দূরে পাঠাতে পারত, তার তত বেশি পয়েন্ট হত। যখন গুলিটা শুন্যে, তখন কেউ লুফে নিতে পারলে, ডাংম্যান বা ব্যাটসম্যান আউট। এই ‘গুলি’-‘ডাংগুলি’ ইত্যাদি খেলার নিয়ম, পাড়াভেদে আলাদা হতে পারত। যেমন আমেরিকায় রাজ্যে-রাজ্যে আলাদা সংবিধান, আলাদা আইন।

স্কুলসংলগ্ন মাঠটার এক কোণে, টিফিনবেলায় ‘গুলি’ এবং ‘ডাংগুলি’ খেলা হত। এই দুটো বালক প্রিয় খেলাই এখন প্রায় শেষ। শহর-শহরতলিতে চোখেই পড়ে না। গ্রামাঞ্চলে টিকে আছে কি না, জানি না। ‘গুলি’ খেলা নানারকমের ছিল। একটা খেলা ছিল, যেখানে হেরে গেলে, ‘খাটান খাটতে হত।’ হেরে যাওয়া খেলোয়াড়, যে কিনা হেরো, তার গুলিটা মেরে দূরে পাঠিয়ে দেওয়া হত, যেখানে গুলিটা পাঠানো হয়েছে, হেরো ওই অকুস্থলে গিয়ে, ‘পিল’-এ ফেরত পাঠাবে গুলিটা। ‘পিল’-এ না ফেলতে পারলে, আবার মেরে দূরে পাঠাবে। এইভাবে খাটতে হত।

আরেকটা বাল্যখেলা এখন লুপ্ত। ‘লাট্টু’। একটা ছিল ‘হাতলাট্টু’। ওটার একটা অন্য সফিস্টিকেটেড নাম হল, ‘ইয়ো ইয়ো’। গোল সুতো প্যাঁচানো চাক্‌তিটাকে, আঙুলের টানে টেনে, ছেড়ে দেওয়া। এই লাট্টুটাকে ডানপিটেরা বলত— ধুস্‌! এটা তো মেয়েদের লাট্টু! আসল লাট্টু হল— ‘ভূঁই লাট্টু’। এটা কাঠের, প্রায় শঙ্কুআকৃতি। তলায় একটা ছুঁচলো পিন। একটা দড়িতে, লাট্টুটার তলার দিকটাকে বেশ শক্ত করে জড়িয়ে নিয়ে, দড়ির একটা দিক হাতে রেখে, বেশ জোরের সঙ্গেই ছেড়ে দিতে হয়। বিশেষ কায়দা আছে। এটা একটা গুরুমুখী বিদ্যা। দু-তিন দিনের ট্রেনিং দরকার। কেউ-কেউ, তুখোড় লাট্টুবাজ হত; ভূঁয়ে লাট্টু খেলিয়ে, লেত্তি জড়িয়ে, উঠিয়ে নিয়ে— হাতের তালুর উপর ছেড়ে দিতে পারত। লাট্টু প্যাঁচানোর দড়িটাকে বলা হত, ‘লেত্তি’। একটা আধুনিক গান বেশ জনপ্রিয় ছিল সে-সময়ে। ‘এই দুনিয়ায় ভাই সবই হয়, সব সত্যি।/ ঘুরিয়ে দুনিয়ার লাট্টু, ভগবান হারিয়েছে লেত্তি। সব সত্যি।’ এই ‘লেত্তি’ শব্দটাই হারিয়ে গেছে। ওস্তাদ লাট্টুবাজ, এখন আর পাত্তা পাবে না। তবে লাট্টু উঠে যায়নি। স্প্রিংয়ের ব্যাটারিচালিত লাট্টু দেখা যায় এখন। ‘কাশিমবাজার স্কুল’-এ, এরকম লাট্টুবাজ কয়েকজন ছিল। টুটলে, অন্যতম। ‘ধন্যিমেয়ে’ ধরনের দু-এক পিস মেয়েকে, ‘গুলি’ খেলতে দেখেছি। কিন্তু ‘ডাংগুলি’ বা লাট্টু খেলতে দেখিনি। মেয়েরা, ‘রান্নাবাটি’, ‘এলাডিং বেলাডিং’, ‘এক্কাদোক্কা’, ‘বুড়ি-বাসন্তী’ ইত্যাদি খেলা খেলত মূলত। তবে, ‘চু-কিত্-কিত্’ও খেলত। ছেলেরা এই খেলাকে ‘হাডুডু’ বলত।

‘হাডুডু’ বা ‘কবাডি’, এখন জাতে উঠে গেছে। কারণ এই খেলার জাতীয় স্তরে প্রতিযোগিতা হয়। ‘এশিয়াড’-এও ‘কবাডি’ একটা আইটেম হিসেবে ছিল। এখন কলকাতায় ‘কবাডি’ একেবারেই কমে গেছে। মফস্‌সলে হয়তো হালকা ভাবে বেঁচে আছে। আগে স্কুলের, বা পাড়ার ফাঁকা-জমিতে, দূর থেকে ‘কবাডি’-র ছড়া বা জিংগেল শোনা যেত। ফুসফুস ভর্তি বাতাস নিয়ে। একনাগাড়ে একটা ছড়াজাতীয় কিছু বলতে-বলতে, বিপক্ষ-দলের কাউকে ছুঁয়ে, নিজের এলাকায় ফিরে আসতে হয়।  ছড়াটা বলতে-বলতে, কোনও শ্বাস নেওয়া যাবে না। এখনকার ‘র‍্যাপ গান’, বা ‘ব্রিদ্‌লেস’ যেমন। কিংবা বলা যায়, ‘ভ্রামরী প্রাণায়াম’। এক নিঃশ্বাসে বলার এরকম কয়েকটা ছড়া— স্মৃতি চুলকে মনে এলো। ‘চুরে চুরে গাই, মধু কোথা পাই’ কিম্বা, ‘হাডুডু খেলতে গিয়ে, কুড়িয়ে পেলাম বেল, বেলের ভিতর লেখা আছে, হাডুডু খেল।’ কিম্বা, ‘আটুপুটু আটুপুটু হাডুডু হাডুডু’। ‘হাডুডুডু’ বা ‘কিত্-কিত্-কিত্-কিত্’ বলতে-বলতেও, এগিয়ে যাওয়া যেত।

যখন ‘কাশিমবাজার স্কুল’-এ পড়তাম, তখন আমার এক বন্ধু প্রদীপ সেনগুপ্ত থাকত গঙ্গার ধারে, বঙ্গা সেন লেনে। মারহাট্টা খালের ওপারে। খালপুলটা পার হয়ে, গুদাম এলাকাগুলির ভিতরে একটা গলি, ‘বঙ্গা সেন লেন’। প্রদীপের ঠাকুরদাদার নামে গলি। একটা প্রাচীন বাড়িতে ওরা থাকত। প্রদীপের মাধ্যমেই ওই এলাকার কয়েকটি ছেলের সঙ্গে আমার আলাপ এবং ভালবাসা হয়। ওই পাড়াটার এক পাশ দিয়ে, রেললাইন চলে গেছে চিৎপুর রেলইয়ার্ডে। ওখানে মালগাড়ি থেকে মালপত্র খালাস করে, গুদামে ঢোকানো হত। ওদিকে ছিল পরপর সব গুদাম, এই গুদাম-এলাকার মধ্যেই, কয়েকটি আবাসিক বাড়ি ছিল। এইসব বাড়িতে, তপন নন্দী, মান্তু, শিবাজি, নিপু, অসিত, তাপু গোপাল, ভেবলো— এইসব ছেলেরা ছিল। আমার সঙ্গে এদের এত ভাব হয়ে গেল যে, ওদের ঘরের ভিতরে অনায়াসে চলে যাওয়া যেত। ওখানে সুজয় দত্ত নামে আমার বয়সি একটা ছেলে ছিল। ওর বাবা ছিলেন, চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের একজন সৈনিক। সূর্য সেনের শিষ্য। নাম, বিনোদবিহারী দত্ত। তাঁর কাছে কত কথা শুনেছি। সূর্য সেন, টেগরা বল, অনন্ত সিংহ, অম্বিকা চক্রবর্তী, নগেন সেন — এঁদের কথা।

চট্টগ্রামের অস্ত্রাগারটি দখল করার আগে, উনি টেলিফোন আর টেলিগ্রাফ লাইনগুলি কেটে দেবার দায়িত্ব পেয়েছিলেন। কীভাবে তারগুলো কেটেছিলেন, সে-সব বলতেন। গোপন মিটিংগুলি কোথায় হত, কীভাবে মুরগির ডিমের ঝুড়িতে, সংবাদ পাচার হত— এইসব বলতেন।

আমি যখন ‘আকাশবাণী’তে, বিনোদবিহারী দত্তকে নিয়ে এসেছিলাম সাক্ষাৎকারের জন্য। কিন্তু ততদিনে অনেক কিছুই তাঁর বিস্মৃতির অতলে। এ-ভাবে ইতিহাসের কত খুঁটিনাটি হারিয়ে যায়। এই যে আমি আমার বাল্যকালটা লিখছি, এখন না লিখলে কোথায় হারিয়ে যেত! পরে কি আর মনে থাকত? এখনই তো কত ছবি দেখি মনে-মনে, জীবনের স্মৃতি। ক্যাপশন দিতে পারি না…