
খেলা আসলে রাজনৈতিক
ফিফা। অরাজনৈতিক ক্রীড়া সংগঠন। ‘ফুটবল ইউনাইটস্ দ্য ওয়ার্ল্ড’। পেজটি ঘুরে এলে মনে হয়, পৃথিবী সত্যিই নয়নাভিরাম, অনিন্দ্যসুন্দর এক বধ্যভূম। পুঁজি ও প্রচারের কী অমোঘ পরাক্রম!

ফিফা। অরাজনৈতিক ক্রীড়া সংগঠন। ‘ফুটবল ইউনাইটস্ দ্য ওয়ার্ল্ড’। পেজটি ঘুরে এলে মনে হয়, পৃথিবী সত্যিই নয়নাভিরাম, অনিন্দ্যসুন্দর এক বধ্যভূম। পুঁজি ও প্রচারের কী অমোঘ পরাক্রম!

তবু, নেইমার এসে যায়। ‘কোন ক্ষ্যাপা শ্রাবণ ছুটে এল, আশ্বিনের এই আঙিনায়’— তারপর এলোমেলো করে দেয় সব৷ মেসির বুকে আছড়ে পড়ে গোল ক’রে।

‘ইরানে যেহেতু ফুটবল মাঠে মেয়েদের প্রবেশ নিষেধ, তাই ছেলের সাজপোশাকে মেয়েটি স্টেডিয়ামে ঢুকেছে। পুলিশি চোখ-রাঙানি এড়িয়ে। ইরান বনাম বাহারিনের ম্যাচ দেখবে সে। স্টেডিয়ামের নাম, আজাদি। যে অপ্রেসড, সে আজীবন থাকবে না। প্রকৃতির নিয়মই তাই।’

‘কলম্বিয়ার এক নম্বর ডিফেন্ডার প্রায় মনস্থিরও করে ফেলেছিলেন, ইতালি যাওয়ার ব্যাপারে। গ্যালোঁ ভাইরা তাকে হত্যা করে শেষ করে দিয়েছিল কলম্বিয়া ফুটবলের ভবিষ্যতের একটা বড় সম্ভাবনা। সেই সঙ্গে শেষ হয়ে যায় ওই সোনালি প্রজন্মের অধ্যায়।’

শুধু মাঠের লড়াই নয়, গ্যালারির গর্জন, কোটি মানুষের প্রত্যাশা, স্নায়ুর অসহনীয় চাপ— সবই যেন আর্জেন্টিনার পক্ষে। আর ওপারে? মাত্র কয়েক লক্ষ মানুষের এক দ্বীপরাষ্ট্র। ঐতিহাসিক এক ম্যাচের পর ফিরে দেখলে, স্কোরবোর্ড হয়তো মিথ্যে প্রমাণিত হবে।

‘একটা জাপটে ধরা আমাদের বুক উথালপাথাল করে দেয় লুকা মদ্রিচ। আপনারা জানেন না। আপনি না। আপনার বন্ধুও না। আপনাদের বন্ধুত্বের রং আমাদের ঘুমের গায়ে আঁচড় কাটে সারারাত। ঘুমোতে দেয় না।’

‘‘তাঁরাও যে কোনও অংশে কম নয়, সেটা প্রমাণ করার জন্য তৈরি। এটাই নারী-ক্ষমতায়নের আদর্শ বিজ্ঞাপন। সারা বিশ্ব জুড়ে নারী-স্বাধীনতা আন্দোলনের যে-জোয়ার বয়ে যাচ্ছে, ‘ফিফা’ও সামিল সেই যজ্ঞে। ‘যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে’— এই আপ্তবাক্যে বিশ্বাসী হয়েই ‘ফিফা’র এই উদ্যোগ।’’

‘কিন্তু কঙ্গোর গল্প শুধু দুর্ভোগের নয়। এটা ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পও। যেখানে যুদ্ধ ছিল, সেখানে মানুষ গান গেয়েছে। যেখানে দারিদ্র্য ছিল, সেখানে মানুষ স্বপ্ন দেখেছে। আর যেখানে হতাশা ছিল, সেখানে ফুটবল হয়ে উঠেছে আশার ভাষা।’

আফ্রিকার দলগুলো এই বিশ্বকাপে হয়তো সবাই ট্রফি জিতবে না। কিন্তু তারা একটা কাজ করে ফেলেছে। তারা প্রমাণ করেছে, আফ্রিকান ফুটবল আর কোনও ‘চমক’ নয়। এটা এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী বাস্তবতা। বিশ্ব ফুটবল এখন আর মাত্র কয়েকটি দেশের কুক্ষিগত নয়।

‘‘মেসি কি আবার বিশ্বজয়ী হবেন? অঙ্কের বিচারে নিঃসন্দেহে অত্যন্ত কঠিন কাজ। আধুনিক ফুটবলে পরপর দু’বার বিশ্বজয়ের নজির প্রায় কোনওদলেরই নেই। তাই মেসি জিতুক বা না-জিতুক, ‘মেসি-প্রজেক্ট’ কিন্তু নিঃশব্দে বিশ্বের কাছে হয়ে থাকছে উদাহরণ।’’

‘কিন্তু ’৯৪ বিশ্বকাপের এফিড্রিন? মারাদোনা শেষ পর্যন্ত অস্বীকার করে গিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোকেন সেবনের যতই অভিযোগ থাক, মারাদোনা কোনওদিন ডোপ করে বা কোনও উদ্দীপক নিয়ে মাঠে নেমেছেন, এমন অভিযোগ স্পেন বা ইতালি— তাঁর ক্লাব-ফুটবল জীবনে ওঠেনি।’

‘‘কিন্তু কৃষ্ণাঙ্গ সেই গোলকিপারের নির্বাসন-মুক্তি হয়নি। একদিন একটি দোকানে কিছু পণ্য কিনতে গিয়ে বারবোসা শুনতে পেলেন, এক যুবতী তাঁকে দেখিয়ে নিজের কিশোর পুত্রকে বলছেন, ‘এই লোকটাই আমাদের সবাইকে কাঁদিয়েছিল।’’’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.