
মেঘে মেঘে বেলা: পর্ব ১২
হয়তো চশমাটাকে শত্রু না ভেবে বন্ধু বানানোই ভাল। চশমা পরব। নিজের মুখ দেখব। একটা রেখা বেশি দেখলে দেখব। দুটো বেশি হলে আরও দেখব। তারপর হাসব। কারণ মুখে একটা রেখা থাকা মানে এই নয় যে যৌবন চলে গেছে।

হয়তো চশমাটাকে শত্রু না ভেবে বন্ধু বানানোই ভাল। চশমা পরব। নিজের মুখ দেখব। একটা রেখা বেশি দেখলে দেখব। দুটো বেশি হলে আরও দেখব। তারপর হাসব। কারণ মুখে একটা রেখা থাকা মানে এই নয় যে যৌবন চলে গেছে।

কেন সব কিছু সামলানোর দায়িত্ব শুধু আমার? আর তার পরের প্রশ্নটি আরও বিপজ্জনক— আমি যে জীবনটা বাঁচছি, সেটা কি সত্যিই আমার নিজের পছন্দের জীবন? গ্লোরিয়া স্টেইনেমের গুরুত্ব এখানেই।

যখন নারীবাদী বয়ানমাত্রই মূল স্রোতের রাজনীতির সমান্তরালে বা বিপ্রতীপে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে, সেখানে একজন মূল স্রোতের নেতার মুখে এত বড় একটি ‘স্টেটমেন্ট’ অবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু তারপরে?

ছবিটা বেশ কেতায় তোলা, গতিশীল, চমক দিতে আগ্রহী, দেখতে ভাল। সমাজ, আইন ও ব্যক্তির (বিশেষত নারীর) বেপরোয়াপনার পারস্পরিক সম্পর্ক হলিউডি ছবির চেনা ছকেই চলে, কিন্তু ফ্র্যাংকেনস্টাইনের কাহিনিটাকে এখানে এনে ফেলার মধ্যে একটা বিস্ময় আছে।

পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ মনে করে মেয়েরা জন্মগতভাবে কাস্টমার কেয়ার এগজিকিউটিভ। প্রত্যেক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, প্রত্যেক সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা করা, প্রত্যেক কাজের কারণ জানানো— তাদের ফুলটাইম চাকরির অঙ্গ।

“মারজেনের লেখনীতে যা বারবার উঠে আসে, তা হল ‘পার্সপেক্টিভিজম’। গল্প বলার সঙ্গে-সঙ্গে এই গল্প কীভাবে বলা হচ্ছে, এবং কে এই সামগ্রিক ঘটনাবলি অবলোকনের পর এই গল্পকে নথিভুক্ত করছেন, তা সমান গুরুত্ব পায় মারজেনের সৃষ্টিতে।”

একসময় সিঁড়ি ভাঙা ছিল জীবনেরই একটা অংশ— দু’ধাপ একসঙ্গে লাফিয়ে ওঠা, দেরি হয়ে গেলে হুড়মুড় করে চারতলা উঠে যাওয়া, তারপরও হাঁপ না ধরা। এখন সিঁড়ির সামনে দাঁড়ালেই হাঁটু আগে সতর্ক করে: আগে ভাবো, তারপর ওঠো।

‘আমার আত্মীয়-পরিজন আমার এই রূপান্তর দেখে মাঝে-মাঝে যখন অবাক হয়ে যায়, আমি তৎক্ষণাৎ কোভিডকে দায়ী করি। কোভিড ব্যাটাই আমার মাথার ঘিলুকে কিলাইকে কাঁঠাল পাকাইয়া দিয়া। কিন্তু এ-ব্যাপারে অভিজ্ঞ বয়স্ক মহিলারা অন্য এক ভিলেনকে দোষ দিচ্ছেন। সে হল: মাঝবয়স।’

পরের বার যদি কোনও মাঝবয়সি মহিলা আপনার সামনে রেগে যান, দয়া করে ভাববেন না— ‘উফ, আবার মেনোপজ!’ ভাবুন— ‘হয়তো এই মানুষটা এতদিন অনেক সহ্য করেছে!’ আর সেই সময় ভুলেও বলবেন না, ‘আরে ঠিক আছে ঠিক আছে, এখন শান্ত হও’, বা ‘তুমি বড্ড বাড়িয়ে ভাবছ।’

সময়ের বদলে পরিবার নামক তথাকথিত যৌথতাকে পাশ কাটিয়ে মেয়েরাই যখন নিতে চাইছে একক সিদ্ধান্তে মা হওয়ার দায় এবং দায়িত্ব, তখন সেটা হয়ে দাঁড়াচ্ছে তার সম্মত নির্বাচন; অভিমান, কুৎসা বা করুণা কোনও কিছু দিয়েই হেয় করা যাচ্ছে না তাকে।

অদৃশ্য হওয়া মানে তাই শুধু চোখে না পড়া নয়। অদৃশ্য হওয়া মানে গল্প থেকে বাদ পড়া— সিনেমা, বই, খবর, আলোচনায় অনুপস্থিত থাকা। অদৃশ্য হওয়া মানে সিদ্ধান্তের টেবিল থেকে সরিয়ে দেওয়া— পরিবারে, অফিসে, সমাজে। অদৃশ্য হওয়া মানে আকাঙ্ক্ষাকে অবৈধ ঘোষণা করা।

‘সমসাময়িক নারীবাদী ও সামাজিক আলোচনায় অনেকেই বলেন, প্রিন্সেস ট্রিটমেন্ট ভালবাসার ভাষাই নয়, কেবল এমন একটি সাংস্কৃতিক জট, যা প্রায়ই শ্রেণি, লিঙ্গ, যৌনতা এবং শ্রমের জটিল বাস্তবতাগুলির সুপরিকল্পিত সরলীকরণ করে, আমাদের ভুলিয়ে দিতে চায়, নারীমুক্তির স্লোগান কেন উঠেছে প্রথম।’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.