
মেঘে মেঘে বেলা : পর্ব ৪
একসময় সিঁড়ি ভাঙা ছিল জীবনেরই একটা অংশ— দু’ধাপ একসঙ্গে লাফিয়ে ওঠা, দেরি হয়ে গেলে হুড়মুড় করে চারতলা উঠে যাওয়া, তারপরও হাঁপ না ধরা। এখন সিঁড়ির সামনে দাঁড়ালেই হাঁটু আগে সতর্ক করে: আগে ভাবো, তারপর ওঠো।

একসময় সিঁড়ি ভাঙা ছিল জীবনেরই একটা অংশ— দু’ধাপ একসঙ্গে লাফিয়ে ওঠা, দেরি হয়ে গেলে হুড়মুড় করে চারতলা উঠে যাওয়া, তারপরও হাঁপ না ধরা। এখন সিঁড়ির সামনে দাঁড়ালেই হাঁটু আগে সতর্ক করে: আগে ভাবো, তারপর ওঠো।

‘আমার আত্মীয়-পরিজন আমার এই রূপান্তর দেখে মাঝে-মাঝে যখন অবাক হয়ে যায়, আমি তৎক্ষণাৎ কোভিডকে দায়ী করি। কোভিড ব্যাটাই আমার মাথার ঘিলুকে কিলাইকে কাঁঠাল পাকাইয়া দিয়া। কিন্তু এ-ব্যাপারে অভিজ্ঞ বয়স্ক মহিলারা অন্য এক ভিলেনকে দোষ দিচ্ছেন। সে হল: মাঝবয়স।’

পরের বার যদি কোনও মাঝবয়সি মহিলা আপনার সামনে রেগে যান, দয়া করে ভাববেন না— ‘উফ, আবার মেনোপজ!’ ভাবুন— ‘হয়তো এই মানুষটা এতদিন অনেক সহ্য করেছে!’ আর সেই সময় ভুলেও বলবেন না, ‘আরে ঠিক আছে ঠিক আছে, এখন শান্ত হও’, বা ‘তুমি বড্ড বাড়িয়ে ভাবছ।’

সময়ের বদলে পরিবার নামক তথাকথিত যৌথতাকে পাশ কাটিয়ে মেয়েরাই যখন নিতে চাইছে একক সিদ্ধান্তে মা হওয়ার দায় এবং দায়িত্ব, তখন সেটা হয়ে দাঁড়াচ্ছে তার সম্মত নির্বাচন; অভিমান, কুৎসা বা করুণা কোনও কিছু দিয়েই হেয় করা যাচ্ছে না তাকে।

অদৃশ্য হওয়া মানে তাই শুধু চোখে না পড়া নয়। অদৃশ্য হওয়া মানে গল্প থেকে বাদ পড়া— সিনেমা, বই, খবর, আলোচনায় অনুপস্থিত থাকা। অদৃশ্য হওয়া মানে সিদ্ধান্তের টেবিল থেকে সরিয়ে দেওয়া— পরিবারে, অফিসে, সমাজে। অদৃশ্য হওয়া মানে আকাঙ্ক্ষাকে অবৈধ ঘোষণা করা।

‘সমসাময়িক নারীবাদী ও সামাজিক আলোচনায় অনেকেই বলেন, প্রিন্সেস ট্রিটমেন্ট ভালবাসার ভাষাই নয়, কেবল এমন একটি সাংস্কৃতিক জট, যা প্রায়ই শ্রেণি, লিঙ্গ, যৌনতা এবং শ্রমের জটিল বাস্তবতাগুলির সুপরিকল্পিত সরলীকরণ করে, আমাদের ভুলিয়ে দিতে চায়, নারীমুক্তির স্লোগান কেন উঠেছে প্রথম।’

আফগানিস্তানে তালিবান নতুন আইন আনছে— স্বামী স্ত্রীকে পেটাতে পারবে, যতক্ষণ না হাড় ভাঙছে বা খোলা ক্ষত দেখা যাচ্ছে। তার মানে, গার্হস্থ্য হিংসাকে আইনি বৈধতা দেওয়া হল। স্ত্রীকে স্বামীর সম্পত্তিই ঘোষণা করা হল। অন্য বড় দেশগুলো কিন্তু বিরাট তিরস্কার করছে না, বরং দিব্যি ব্যবসায়িক বা কূটনৈতিক সম্পর্ক রাখছে।

‘গৃহ’ নামক প্রবন্ধে মেয়েদের বাড়ি বা নিজের স্পেস নিয়ে যাবতীয় দোটানার কথা তিনি লিখছেন, সেই দ্বিধাদ্বন্দ্বের কাহিনি মিলে যায় ‘ডেলিসিয়া হত্যা’-র উপন্যাসের সঙ্গে। এই সাদৃশ্য plagiarism নয়, বরঞ্চ রোকেয়া ইঙ্গিত করছেন, যাকে আমরা এখন বলি, ‘ফেমিনিস্ট সিস্টারহুড’।

‘তিনি লিখছেন, অন্যায়ের মোকাবিলা করে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা দেখাতে গিয়ে, মন্দের ওপরে ভালর জয় দেখাতে গিয়ে অনেক সময়েই ছোটদের গল্পে খল চরিত্রগুলোর শেষ পরিণতি বেশ ভয়াবহ করেই দেখানো হয়। তাদের কৃতকর্মের ফল ভোগ করাতে গিয়ে নরম মনের ওপরে যে কড়া ক্ষত তৈরি হতে পারে, সে-কথাটাও ভেবে দেখে প্রয়োজন।’

‘যে যুগে হিন্দু মহিলাদের শিক্ষা গ্রহণ ছিল এক বিরল ঘটনা, সেই সময়ে কামিনী রায় শুধু যে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে ছিলেন তাই নয়, শিক্ষাক্ষেত্রে এবং সামাজিক উন্নয়নে তাঁর অবদান কিছু কম ছিল না। এরই সঙ্গে কবিতা রচনার পাশাপাশি তিনি হয়ে উঠেছিলেন একজন সাহসী নারীবাদী লেখিকা।’

‘রাজনৈতিক রণাঙ্গণে বহু রক্তপাত ঘটিয়ে, অনেক অশ্রুপাতে মুখ থুবড়ে পড়েছে যাবতীয় বৈপ্লবিক প্রচেষ্টা। কিন্তু মেয়েরা বাংলার সমাজক্ষেত্রে একটি নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে বিগত তিন-চারটি দশকে।’
‘সংবাদ মূলত কাব্য’। পর্ব ১৯

কবি বিজয়া মুখোপাধ্যায়ের এক লুকনো ডানা ছিল, যা কবিতার আকাশে নির্বিঘ্ন উড়াল মেলত…
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.