
নীলা-নীলাব্জ: পর্ব ৩০
নীলাব্জ: না। কিন্তু ক্ষমা ব্যাপারটা তো অপরাধের ওপর কিছুটা নির্ভর করে। মানে প্রেমে মিথ্যে কথা বলা আর ধর্মের নামে, ঈশ্বরের নামে জনসাধারণকে মিথ্যে বলা তো এক নয় তাই না? লেভেল আছে সব কিছুর। কোনটা ক্ষমার যোগ্য আর কোনটা…

নীলাব্জ: না। কিন্তু ক্ষমা ব্যাপারটা তো অপরাধের ওপর কিছুটা নির্ভর করে। মানে প্রেমে মিথ্যে কথা বলা আর ধর্মের নামে, ঈশ্বরের নামে জনসাধারণকে মিথ্যে বলা তো এক নয় তাই না? লেভেল আছে সব কিছুর। কোনটা ক্ষমার যোগ্য আর কোনটা…

নীলাব্জ: প্রতিটি চরমপন্থী দলই নিজেকে দুর্বলদের রক্ষাকর্তা ভাবে। দুর্বল না হলেও, প্রোপাগান্ডা করে বলে এরা দুর্বল! কেউ ধর্ম বাঁচায়, কেউ জাতি বাঁচায়, কেউ বিপ্লব বাঁচায়, কেউ গণতন্ত্র বাঁচায়। সবাই কিছু-না-কিছু বাঁচাতে গিয়ে শেষমেশ মানুষ মারে।

‘সব কেমন অন্ধকার হয়ে যায়। আকাশটা ধূসর। সারাদিন ঘুম পায়। জামাকাপড় শুকোয় না। অফিস যেতে কাদা। জুতো নষ্ট হয়। রাস্তা জ্যাম। তারপর ডেঙ্গু, মশা, জল জমা। এর মধ্যে আবার কেউ-কেউ বলে, ‘আহা, কী রোম্যান্টিক!’’

বন্ধুদের সঙ্গে হঠাৎ একদিন বেড়িয়ে পড়া শান্তিনিকেতনের উদ্দেশে। এই হঠাৎ ছুটির মেজাজেই এই গানটি তৈরি। কোনও পরিকল্পনা ছাড়া আচমকা বেড়াতে যাওয়ার আনন্দই এই গানের নেপথ্যের আসল গল্প।

‘প্রতি বছর প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে একটার পর একটা। লক্ষ-লক্ষ ছেলে-মেয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে। বছরের-পর-বছর ধরে ছাত্র-ছাত্রীরা প্রিপারেশান নিচ্ছে। তারপর দেখছে, প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গেছে। আবার অনিশ্চয়তা। এই সমাজে বড় হয়ে ওঠা তরুণপ্রজন্ম কী শিখছে? তাদের ভবিষ্যৎ বলে কিছু আছে? কেউ ভাবছে?’

মানুষ কি জেনেশুনে জন্মায়, যে তার জীবন কোন খাতে বইবে? নিজের অস্তিত্ব মানুষ কীভাবে নির্ধারণ করে? এই সমস্ত প্রশ্ন থেকেই ‘লটারির টিকিট’ গানটার জন্ম। এই গান আসলে সত্যের সঙ্গে কিছুটা বোঝাপড়া।

নীলাব্জ বলল, ‘আগে মানুষ মারা গেলে দুটো ছবি থাকত, কয়েকটা চিঠি থাকত। এখন মানুষ মারা গেলে চার টেরাবাইট ডেটা পড়ে থাকে। তবু মানুষটাই থাকে না। তুমি ভয় পাচ্ছ কারণ তুমি ভাবছ ডেটা নেই মানে তুমি নেই। কিন্তু তুমি তোমার ডেটা নও।’

এক বৈশাখেই তৈরি হয়েছিল ‘কালবৈশাখী’ গানটি। এই গানের ভেতরে কোনও ঝড় নেই, ঝড়ের আভাস আছে শুধু। ঝড় কি শুধু আবহাওয়ায়? মনের মধ্যেও তো ঝড়ের পূর্বাভাস থাকে মাঝে মাঝেই।

‘আমি বলছি, আমরা এখন সবকিছু অহেতুক জমাচ্ছি। হোর্ড করছি। ছবি জমাচ্ছি। আমার কাছে ৩০ জিবি ছবি আছে কিন্তু মনে তেমন কিছুই নেই! গান জমা করি। উফ! আমার কাছে ১০ টিবি গান আছে কিন্তু শুনি সেই ঘুরিয়ে ফিরয়ে পাঁচটা মতো!’

তিস্তান আসলে একটা বাড়ি, যে-বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে অজস্র স্মৃতি। প্রথম তিস্তান গানটি রীতিমতো জনপ্রিয় হয়। কিন্তু তিস্তান ২, তিস্তান ৩ না হলে গানের বৃত্তটা সম্পূর্ণ হয় না। আমার ফেলে আসা দিন ধরা আছে এই গানে।

নীলাব্জ এসে নীলার পাশে বসে পড়ল— কী ব্যাপার? নতুন প্রেম নাকি? নীলা একটু হাসল— প্রেম না। নতুন সঙ্গী।নীলাব্জ ভুরু কুঁচকে বলল— অমর সঙ্গী? দেখি! দেখি! কে সেই ভাগ্যবান? নীলা ফোনটা এগিয়ে দিল। স্ক্রিনে একটা চ্যাট উইন্ডো। ওপরে লেখা— AI Companion. নীলাব্জ হুব্বা হয়ে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইল— মানে… তুমি একটা অ্যাপের সঙ্গে কথা বলছিলে?

এই গান তৈরি হয়েছে জীবনের এক অদ্ভুত সময়ে। রোম্যান্টিকতা কতদিন বেঁচে থাকে মানুষের জীবনে? বয়স বাড়লে তার স্নিগ্ধতা কমে যায় কি? রোম্যান্টিক সত্তা ছিল বলেই এই গান লিখতে পেরেছিলাম।
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.