সৃজন ও প্রতিরোধ

‘নারী কে মান মে বসথে ধরম কে জ্যোতী,
দ্রৌপদী জহসন হিম্মত লে বদল জাথে কিসমত কে গোঠ’

এমনই তাঁর হিম্মত, এমনই তাঁর প্রগাঢ় ইচ্ছে পাণ্ডবাণী ধারার পারফর্ম্যান্স করার, যে তিনি বদলে দেন নিজের ‘কিসমত কে গোঠ’। নাম তীজন বাঈ। জন্ম ছত্তিসগড়ের গানিয়ারী গ্রামের পারধী নামের সম্প্রদায়ের একটি পরিবারে। ছত্তিশগড়ের লোকায়ত পারফর্ম্যান্স ধারার মধ্যে প্রসিদ্ধ একটি ধারা পাণ্ডবাণী, যেখানে একজন পারফর্মার, মহাভারতের গল্প বলেন, গান গেয়ে, তাঁর সঙ্গে থাকে একটি তাম্বুরা অথবা একতারা। তাঁকে সঙ্গত করেন সহশিল্পীরা— ঢোল, মঞ্জিরা, হারমোনিয়াম বাজিয়ে।

তীজন খুব ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছেন এই পাণ্ডবাণীর গল্প বলা, তিনি চান, তিনিও হবেন একজন পাণ্ডবাণীর শিল্পী। কিন্তু বাবা-মা বিশেষ সায় দেননি তাতে। তাঁরা ১২ বছর হতে না-হতেই বিয়ে দিয়ে দেন তীজনকে। কিন্তু নাছোড়বান্দা তীজন সাফ জানিয়ে দেন যে, তিনি পারফর্ম্যান্স ছাড়বেন না। এদিকে বাড়ির বউ সবার সামনে নেচে-গেয়ে বেড়াবে, এটা শ্বশুরবাড়ির লোকের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। ফলে, বেঘর হলেন তীজন। শুধু পরিবারই নন, তাঁর সমাজের বৃহত্তর মানুষ তাঁকে একঘরে করে দিল। হার-না-মানা তীজন একটি কুঁড়ে ঘর বানলেন, কয়েকজন সহানুভূতিশীল পড়শিদের মদতে কিছু জিনিসপত্র সংগ্রহ করে শুরু করলেন জীবনের নতুন অধ্যায়— পাশের নানা গ্রামে-গ্রামে গিয়ে গেয়ে-গেয়ে শোনাতে লাগলেন মহাভারতের কথা।

আরও পড়ুন : যে ফ্রিদা বাজারের ও যে ফ্রিদা রাজনৈতিক!
লিখছেন শ্রীতমা হালদার…

তীজন বাঈ

কিন্তু পারফর্ম্যান্স করতে গিয়ে সেখানেও ঘটল বিবাদ। সেখানেও নিজের মত, নিজের ইচ্ছার প্রকাশ থেকে পিছপা হলেন না তীজন বাঈ। পাণ্ডবাণী মূলত পুরুষপ্রধান পারফর্ম্যান্স বলেই গণ্য হত, যেখানে একজন পুরুষ হাতে তাম্বুরা নিয়ে মঞ্চ জুড়ে হাঁটাচলা করে গানের মধ্যে দিয়ে বর্ণনা করবেন মহাভারতের নানা অধ্যায়—কাপালিক শৈলী। যে মহিলারা এই ধারার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বসে থাকতে হবে মঞ্চের একটি নির্ধারিত জায়গায়, নড়াচড়া করার আজ্ঞা নেই তাঁদের। একে বলা হত— বেদামতী শৈলী। তীজন বাঈ এই বৈষম্যের ধার না-ধরে, মঞ্চে দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে পাণ্ডবাণী করেন। পাণ্ডবাণী ধারার মধ্যে এ এক মোড়বদল, যা শুধু তীজন বাঈকে একজন প্রতিবাদী এবং সাহসী শিল্পী হিসেবে দর্শকদের সামনে এনে দাঁড় করায় তাই নয়, সমাজের প্রতিটা স্তরে, বিশেষত একটি গ্রামীণ পরিসরে লিঙ্গ এবং জাতপাতের ভেদাভেদ এবং অত্যাচারের চিত্রটা আরেকবার স্মরণ করিয়ে দেয় আমাদের। পরিবার বা কর্মক্ষেত্র, শহর বা গ্রাম, দিন বা রাত, মহিলা এবং নীচু জাত, দ্বি-প্রান্তিক একজন মানুষ। দৃশ্যমানতার নাগাল থেকে একটু বাইরে থাকাই তাঁদের শ্রেয়— তাই নিজেদের কুঁচকে, গুটিয়ে, এককোনায় সরিয়ে নিয়ে কোনওপ্রকার দিন গুজরান তাঁদের। একেবারে দর্শকের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, উদাত্ত কন্ঠে গান গেয়ে মহাভারতের কাহিনি বর্ণনা করে তাই তীজন বাঈ তাঁর পারফর্ম্যান্সের মাধ্যমে প্রতিরোধ জানান সামাজের বৈষম্যকে, প্রশ্ন ছুড়ে দেন ক্ষমতার বিন্যাসের বিরুদ্ধে।

পাণ্ডবাণী পারফর্ম্যান্সের এই স্থানিক বিন্যাসের আলোচনায়, একজন কত্থক নাচিয়ে হিসেবে আমার এখানে বলতে ইচ্ছে করছে কত্থকের ‘বৈঠকী’ আঙ্গিকের কথা। এই আঙ্গিক আজকাল প্রায় দেখাই যায় না। একজায়গায় বসে বসে গান গেয়ে, অঙ্গভঙ্গি আর অভিনয়ের মাধ্যমে কত্থক পরিবেশনার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গি যোগ ছিল বাঈজিদের। অত্যন্ত দক্ষ এবং ক্ষুরধার সেইসব বাঈজিরা ইতিহাসের নানা সন্ধিক্ষণে, নানান সামাজিক-রাজনৈতিক কারণে, ভদ্রসমাজে স্থান পাননি, তারা বরাবরই ‘নষ্ট’ মেয়ে, তাই ব্রাত্য মানুষ। বর্তমানের কত্থকে যে-যে বৈশিষ্ট্য সেই তালিকায় প্রায় বাদ পড়েছে এই ‘বসে’ পারফর্ম্যান্স, দাঁড়ানোই সেখানে দস্তুর। শুধু তাই নয়, কত্থকের মুলধারার ইতিহাস চর্চা, অনুশীলন এবং শিক্ষণপদ্ধতিতে এই বাঈজিদের অবদান নিয়ে রয়ে গেছে একটা পরিকল্পিত নীরবতা, শুদ্ধবাদের দোহাই দিয়ে। অ্যাকাডেমিক পরিসরে এই বিকল্প ইতিহাস আর নৃত্যচর্চার নির্দশন অবশ্যই মেলে। কিন্তু এই আলোচনা এই লেখার পরিধির বাইরে, তাই সেই বিষয়ে আর কথা বাড়ালাম না। যে-কারণে এই প্রসঙ্গের উল্লেখ করলাম, তা হল, এক একটা নির্দিষ্ট শৈলীতে, তার স্থানিক বিন্যাসের সঙ্গে পারফর্মারের সম্পর্ক কীভাবে বৃহত্তর সমাজের লিঙ্গ-শ্রেণি-ধর্ম–জাতভিত্তিক পরিচয়ের বিন্যাসকে অদ্ভুতভাবে তুলে ধরে, পারফর্ম্যান্স বারবার সেই রাজনীতির পাঠের দিকে আমাদের সচেতন করে তোলে।

অভিনয়, সংলাপ, গান, নাচ, পা মেরে শব্দ করা, তাম্বুরা-একতারা বাজানো, নাটকীয়ভাবে গল্প বলা, এইসব কিছুর সমন্বয় তীজন বাঈ নিজের পারফর্ম্যান্সকে তৈরি করেন। কত্থক, অর্জুন-ভীম–দ্রৌপদী, জনৈক গায়িকা—একটা থেকে আর-একটা  চরিত্রে অবলীলায় চলে যান কখনও কণ্ঠস্বরের বৈচিত্রে, কখনও গানের সুরে, কখনও নানারকম অঙ্গভঙ্গিমায়, কখনও বা সংলাপে। হাতের তাম্বুরা হয়ে ওঠে prop— কখনও তা ভীমের গদা, কখনও বা অর্জুনের হাতের তির-ধনুক। কথকতা নতুন মাত্রা পায় তাঁর পারফর্ম্যান্স-এ। শুধুই মহাভারতের ১৮খানা পর্বে আটকে থাকে না এই পাণ্ডবাণী। জয়েস বি ফ্লুকিগার তাঁর, ‘জেন্ডার এন্ড জনরা ইন দ্য ফোকলোর অফ মিডল ইন্ডিয়া বইতে পাণ্ডবাণীর প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন, যে প্রতিটা পারফর্ম্যান্সেই মহাকাব্যিক বাতাবরণে, তীজন ঢুকিয়ে দেন, তাঁর সমসাময়িক গ্রামের ঘটনা, প্রাত্যহিক রাজনীতি, কখনও বা হাস্যরস। ইম্প্রোভাইজেশন এই পারফর্ম্যান্সের প্রাণকেন্দ্র। মহাভারতের আখ্যান কোনও অনড়-অচল টেক্সট নয়, বরং প্রতিটা পারফর্ম্যান্সে শিল্পী এবং দর্শকের বোঝাপড়ায় নিজেদের চারপাশের ধারাবিবরণীর চেহারা নেয় এই মহাকাব্য।

সমাজবিজ্ঞানী সঞ্জয় শ্রীবাস্তব তাঁর প্রবন্ধ, ‘দ্য ভয়েস অফ দ্য নেশন অ্যান্ড দ্য ফাইভ ইয়ার প্ল্যান হিরো: স্পেকিউলেশন্স অন জেন্ডার, স্পেস এন্ড পপুলার কালচার’-এ আলোচনা করেছেন, উত্তর-ঔপনিবেশিক স্বাধীনতা-উত্তর ভারতের মূলধারার হিন্দি ফিল্মে কী করে ‘পুরুষত্ব’ এবং ‘নারীত্বের’ সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয় জাতীয়তাবাদী এবং উন্নয়নবাদী আদর্শের নিরিখে, সে প্রসঙ্গে। উনি লিখছেন যে চারের দশকের শেষ থেকে শুরু করে পাঁচের দশক ধরে লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠস্বর কীভাবে আদর্শ ‘মহিলা প্লেব্যাক’ কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে, সেখানে পরিশীলন, পরিমিতি, মিষ্টত্ব এইগুলো আদর্শ মহিলা কণ্ঠের বৈশিষ্ট্য হিসেবে নির্ধারিত হবে। একটু খতিয়ে দেখলে বোঝা যায় যে একটা উচ্চশ্রেণি, উচ্চবর্ণ, শহুরে মহিলার কথাই বলা হচ্ছে এই সংজ্ঞায়নের মাধ্যমে।

তীজন বাঈ এখানেও ব্যাতিক্রমী। তাঁর কণ্ঠ শুধু উদাত্ত তাই নয়, তথাকথিত লক্ষ্মী মেয়েসুলভ মিষ্টতা তাঁর কণ্ঠে নেই।তাঁর কন্ঠস্বর গভীর এবং গম্ভীর, একধরনের রাফনেসে ভরা, উঁচু এবং নীচু— দুই স্বরগ্রামে অনায়াস আছে। যে ভারতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য আর তার উৎস সন্ধানে আমরা সদাব্যস্ত, সেই ভারতের উচ্চবর্ণ-উচ্চশ্রেণির বাইরে যে প্রান্তিক জনগোষ্টীর দেশ, বর্ণময় এবং বিস্তৃত দেশ, তীজন সেই বিস্তৃতিকেই সারা জীবন ধারণ করেছেন নিজের শরীরে। তাঁর কন্ঠস্বর পৌঁছে গেছে নানা দেশে।

সাতের দশকে, বিশিষ্ট ভারতীয় নাট্যকার হাবীব তনভীর (তৎকালীন) মধ্যপ্রদেশে (এখন সেই অংশ ছত্তিশগড়ে) তীজন বাঈয়ের পারফর্ম্যান্স দেখে মুগ্ধ হন। তারপর তিনি দিল্লিতে তীজন বাঈয়ের একটা পারফর্ম্যান্সের ব্যবস্থা করে দেন, যেখানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর উপস্থিতিতে তীজন বাঈ পারফর্ম করেন। তারও পরবর্তী সময়ে চিত্রপরিচালক শ্যাম বেনেগাল নির্দেশিত ‘ভারত এক খোঁজ’ সিরিজেও কাজ করেন তিনি। টেলিভিশন পর্দায় তীজনের পারফর্ম্যান্সের দরুন তাঁর কথা ছড়িয়ে পড়ে বিশাল-সংখ্যক মানুষের মধ্যে। একাধিক ছাত্র-ছাত্রীকে তিনি দিয়েছেন পাণ্ডবাণীর তালিম। দেশের সর্বোচ্চ সম্মান পদ্মবিভূষণ প্রদান করা হয় ওঁকে ২০১৯ সালে। একটা লোকায়ত পারফর্ম্যান্স ট্র্যাডিশনকে, তাঁর গ্রাম, তাঁর রাজ্য, তাঁর দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যান তীজন বাঈ। সরলা শর্মার বই, ‘পাণ্ডবাণী অঊর তীজন বাঈ, বাচ্চাদের জন্য লেখা লাবণী কার্তিকের লেখা ‘দ্য গার্ল হু লাভড টু সিং এবং সাম্প্রতিককালে প্রকাশিত ধর্মেন্দ্র নির্মলের লেখা জীবনী ‘তীজন গাথা’ বইয়ে দীর্ঘ আলোচনা পাওয়া যায় তীজন বাঈয়ের জীবনের এক-একটি অধ্যায় নিয়ে।

এই মুহূর্তে স্মৃতির অতল থেকে দুজন কিংবদন্তি মহিলা পারফর্মারের নাম উঠে আসছে। একজনের একক পরিবেশনায় মহাভারতের গল্প অবলম্বনে তৈরি নাটক ভারতের পারফর্ম্যান্সে এ একটি মাইলফলক— শাঁওলী মিত্র অভিনীত নাটক ‘নাথবতী অনাথবৎ’। বহু বছর আগে উত্তম মঞ্চে একটি ফেস্টিভ্যালে সেই নাটক দেখার স্মৃতি আজও আমার কাছে অমলিন। আরেকটি হল মণিপুরের কলাক্ষেত্র-র প্রযোজনায়, মহাশ্বেতা দেবীর গল্প অবলম্বনে, সাবিত্রী হেইসনাম অভিনীত ‘দ্রৌপদী’ নাটক। এই নাটকটিও একটি মাইলফলক। এটাও প্রায় দু-দশক আগে দেখেছিলাম একটি থিয়েটার ফেস্টিভ্যালে।

‘দ্রৌপদীর চিরহরণ’, তীজন বাঈয়ের রেপার্টয়ারের মধ্যে একটি বিশেষ অংশ। তাঁর অভিনয় দিয়ে, দ্রৌপদীর আখ্যানে, তাঁর সমসাময়িক সমাজের মেয়েদের, বিশেষত প্রান্তিক গোষ্ঠীর মহিলাদের চিরাচরিত অবমাননার কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দিতেন তীজন। আমি যখন শাঁওলী মিত্রর ‘নাথবতী অনাথবৎ’ নাটক দেখেছিলাম তখনও সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের জীবনের অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে ওঠেনি। সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রতিদিন উপচে পড়া ধর্ষণ বা লিঙ্গ-জাত-ধর্ম ভিত্তিক সহিংসতার খবর দেখার অভ্যাস তখনো হয়নি আমাদের। কিন্তু সেদিনও, শাঁওলী মিত্রর হাসি, কান্না, আর্তনাদ, রাগে ভরা দ্রৌপদীকে দেখতে-দেখতে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠেছিল। সাবিত্রী হেইসনামের প্রতিটা অঙ্গভঙ্গিতে গলার কাছে কী যেন পাকিয়ে আসছিল, আজও পরিষ্কার মনে পড়ে।

আজ, ঠিক এই মুহূর্তে যখন বসে লিখছি এই লেখাটা, আমাদের রাজ্যে ঘটে গেছে আর-একটা ধর্ষণ, আর-একটা নির্মম হত্যা। তীজন বাঈয়ের দ্রৌপদীর চিরহরণ যেন আর-একবার একটা অভিঘাত নিয়ে আসছে আমাদের কাছে।

ছত্তিশগড়কে বলা হয়ে থাকে বিকাশমান রাজ্য। এটি একটি সম্পদসমৃদ্ধ রাজ্য। মূলত কয়লা, বিস্তৃত বনাচ্ছাদন আর জঙ্গলের জন্য। একইসঙ্গে, ছত্তিশগড় বললেই এখন আমাদের অনেকেরই মনে হয়, ‘ডিস্টার্বড এলাকা’। পিছিয়ে পড়া আদিবাসীদের বাস যেখানে সুসভ্যতার আলোক ঠিক এসে পৌঁছয়নি। উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন উচ্ছেদ। কী-ই বা এসে যায় কতগুলো নীচু শ্রেণির আদিবাসীকে তাদের জল-জঙ্গল-জমিন থেকে উৎখাত করলে? আমার আবার স্মরণে চলে আসছে ছত্তিশগড়ের বস্তারের মানুষের কথা, নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো হাজার-হাজার মানুষের কথা, সোনি সোরির কথা, যাঁকে জেলের মধ্যে পুলিশ পাশবিক যৌন অত্যাচার করেছিল, অ্যাসিড ছুড়ে মেরেছিল তাঁর মুখে। কিন্তু তাঁদের প্রতিরোধ বন্ধ করা যায়নি। মহাভারতের ‘যুদ্ধ পর্বে’, ‘দুঃশাসনবধ পর্বে’ বা ‘দ্রৌপদীর চিরহরণ’ পর্বে, তীজন বাঈয়ের সংলাপ উচ্চারণে যে ধর্ম-অধর্মের কথা, তা কোথাও গিয়ে আমাদের কাছে, ওঁকে, এই বস্তারের মতো অসংখ্য বাস্তুহারা এবং প্রান্তিক মানুষের প্রতিনিধি করে তোলে। তীজন বাঈয়ের জীবন প্রতিরোধের স্বাক্ষর বহন করে, তাঁর পারফর্ম্যান্স আমাদের উদ্বুদ্ধ করে চলে নিজেদের হিম্মতে, নিজেদের ‘কিসমতের গোঠ’ বদলে দেওয়ার সাহস জুগিয়ে।