মহিলা রেফারিরা বিশ্বমঞ্চে নতুন কাহিনি লিখছেন। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু আকারে নয়, ভাবনাতেও সবচেয়ে বড়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো জুড়ে ৪৮ দলের এই মহাযজ্ঞে যেমন নতুন ফরম্যাট, তেমনি ঘটেছে আর-একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন— মহিলা রেফারিদের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি। এই বিশ্বকাপে মোট ৫২ জন রেফারি, ৮৮ জন সহকারী রেফারি এবং ৩০ জন ভিডিও রেফারির মধ্যে, ৬ জন মহিলা ম্যাচ-অফিসিয়াল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ-সিদ্ধান্ত শুধুই সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, এটি বিশ্বফুটবলের মানসিক পরিবর্তনেরও প্রতীক।
আটলান্টায় চেক বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজানো মাত্র— ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান টোরি পেনসো। বিশ্বের বৃহত্তর ফুটবল টুর্নামেন্টের সেন্টারস্টেজে একজন মহিলা। ছেলেদের বিশ্বকাপে মহিলা রেফারি। এর আগে একবারের বেশি এমন বিরল ঘটনার সাক্ষী থাকার সুযোগ পায়নি বিশ্বফুটবল। যার ফলে এই ম্যাচটি শুধুমাত্র আরও একটি গ্রুপ ম্যাচে সীমাবদ্ধ থাকেনি। দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে। সহকারী রেফারি ব্রুক মায়ো এবং ক্যাথরিন নেসবিটের সঙ্গে, দ্বিতীয় মহিলা রেফারি হিসেবে ছেলেদের বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, পেনসো। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে প্রথমবার এমন ঘটনার সাক্ষী ছিল বিশ্ব। প্রথম মহিলা রেফারি হিসেবে বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পান ফরাসি রেফারি স্টিফানি ফ্রাপার্ট।



‘ফিফা বিশ্বকাপ’-এর ৯০ বছরের ইতিহাসে, এর আগে কোনও মহিলা রেফারি ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পাননি। কিন্তু এবার বিশ্বকাপের এক সংস্করণে ছ’জন মহিলা রেফারি রয়েছেন। এই দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমেরিকান রেফারি, পেনসো। তাঁরাও যে কোনও অংশে কম নয়, সেটা প্রমাণ করার জন্য তৈরি। এটাই নারী-ক্ষমতায়নের আদর্শ বিজ্ঞাপন। সারা বিশ্ব জুড়ে নারী-স্বাধীনতা আন্দোলনের যে-জোয়ার বয়ে যাচ্ছে, ‘ফিফা’ও সামিল সেই যজ্ঞে। ‘যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে’— এই আপ্তবাক্যে বিশ্বাসী হয়েই ‘ফিফা’র এই উদ্যোগ। মোট ছ’জন মেয়ে রেফারি এবারের বিশ্বকাপে আছেন। এই ছ’জন রেফারির অন্যতম হলেন টোরি পেনসো। পুরুষদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তিনি হেড রেফারির জায়গা নিয়েছেন। ফ্রান্সের স্টেফানি ফ্রাপার্ট, কিংবা ব্রিটেনের রেবেকা ওয়েলচ যেমন আছেন, তেমনই আছেন ইউক্রেনের কাটারিন মঞ্জুলও। এছাড়াও দু’জন আছেন, যাঁরা নারী স্বাধীনতার যোগ্য প্রতিনিধি।



পুরুষ শাসিত ফুটবলে মহিলাদের উপস্থিতি অবশ্য নতুন নয়। যে-দিন থেকে মেয়েদের ফুটবল ‘ফিফা’র স্বীকৃতি পেয়েছে, সে-দিন থেকেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাঁশি মুখে মেয়েদের দাপট শুরু হয়ে গিয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৬। মহিলা রেফারিদের অগ্রযাত্রা। মেয়ে রেফারিদের জন্য এই পথ একদিনে তৈরি হয়নি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে, প্রথমবার মহিলা রেফারিরা পুরুষদের বিশ্বকাপে দায়িত্ব পান। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই ২০২৬ সংস্করণে তাঁদের উপস্থিতি আরও সুসংহত হয়েছে।
আরও পড়ুন: শুধু মাঠে নয়, গ্যালারিতেও ইতিহাস তৈরি করল কঙ্গো! লিখছেন অরিত্র মজুমদার…
‘ফিফা’র রেফারিং প্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা বলেন, ‘ছ’জন মহিলা ম্যাচ অফিসিয়ালকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটা ২০২২ সালে শুরু হওয়া একটা ধারারই ধারাবাহিকতা। আমরা মহিলাদের রেফারিং আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’
এবারের বিশ্বকাপে ১০৪টি ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে, নারী-পুরুষ সকলের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করে ‘ফিফা’। আটলান্টা সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী ছিল। বিশ্বমঞ্চ, ‘অল-উইমেন রেফারি’ দলের সাক্ষী থাকে। এটি শুধু একটি ম্যাচ নয়। এটি একটি বার্তা। যা প্রমাণ করে, দক্ষতা লিঙ্গভিত্তিক নয়।

টোরি পেনসো এখন বিশ্বফুটবলে সবচেয়ে আলোচিত মহিলা রেফারি। ২০২৬ বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রথম মহিলা রেফারি। তাঁর যাত্রা ছিল একেবারেই আলাদা। শুরুতে তিনি বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজ করতেন। পরে ধীরে-ধীরে রেফারিংয়ে মন দেন। বাড়তি টাকা কামানোর লক্ষ্যে রেফারিং শুরু করেন পেনসো। পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার কথা ভাবেননি। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম এবং দায়বদ্ধতা-সহ বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে যান মার্কিন রেফারি। পেনসো এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি বুঝেছিলাম, রেফারিং শুধু অস্থায়ী কাজ নয়। এটা এমন কিছু, যা আমাকে সারা পৃথিবীকে চিনতে সাহায্য করবে।’ তিনি আরও জানান, ‘একজন নারীকে প্রথমবার অ্যাথলিট হিসেবে দেখা, আমার দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে দিয়েছিল।’ ২০২৩ মেয়েদের বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনার অভিজ্ঞতা, তাঁকে এই আসরে নির্বাচিত হতে সাহায্য করেছে।
বিশ্বকাপে বাঁশি হাতে আরও একজনকে বিশ্বমঞ্চে দেখা গিয়েছে। তিনি মেক্সিকোর কাতিয়া ইতজেল গার্সিয়া। ২০২৬ বিশ্বকাপের আর-একজন মহিলা রেফারি। তাঁর নির্বাচন শুধু ব্যক্তিগত গণ্ডিতে আটকে নেই। মেক্সিকোর জন্যও একটি গর্বের বিষয়। ‘CONCACAF’ (‘কনফেডারেশন অফ নর্থ, সেন্ট্রাল আমেরিকা অ্যান্ড ক্যারিবিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল’) অঞ্চলের ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ভাল পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন। কঠিন ম্যাচ পরিচালনার দক্ষতার জন্য পরিচিত।

বিশ্বকাপে মহিলা রেফারিদের তালিকায় রয়েছেন ক্যাথরিন নেসবিট (সহকারী রেফারি, যুক্তরাষ্ট্র), ব্রুক মায়োও (সহকারী রেফারি, যুক্তরাষ্ট্র)। ক্যাথরিন নেসবিট ২০২৬ বিশ্বকাপে একজন গুরুত্বপূর্ণ সহকারী রেফারি। পেশায় একজন চিকিৎসাবিজ্ঞান গবেষক ছিলেন। সেখান থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে উঠে আসা— একটি অনন্য গল্প। নেসবিট, মাঠে তাঁর নির্ভুল অফসাইড সিদ্ধান্ত এবং দ্রুত বিচারবোধের জন্য পরিচিত। ব্রুক মায়ো মাত্র ১৩ বছর বয়সে প্রথম রেফারিং শুরু করেন। দূরদর্শী ছিলেন। জানান, ‘২০২৩ সালে যখন বুঝলাম বিশ্বকাপে আসার সুযোগ আছে, তখন থেকেই আমি নিজেকে প্রস্তুত করা শুরু করি।’ কঠোর পরিশ্রম তাঁকে বিশ্বকাপের মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে আরও কয়েকজন মহিলা অফিশিয়াল রয়েছেন, যাঁরা সহকারী রেফারি বা VAR (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) হিসেবে কাজ করছেন। এই সম্মিলিত উপস্থিতি প্রমাণ করে, মহিলাদের রেফারিং আর ‘ব্যতিক্রম’ নয়— এটি এখন ব্যবস্থার অংশ।
‘ছ’জন মহিলা ম্যাচ অফিসিয়ালকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটা ২০২২ সালে শুরু হওয়া একটা ধারারই ধারাবাহিকতা। আমরা মহিলাদের রেফারিং আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।’
এবারের বিশ্বকাপে ১০৪টি ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে, নারী-পুরুষ সকলের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করে ‘ফিফা’।
২০২২ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের স্টেফানি ফ্রাপার্ট ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। প্রথম মহিলা হিসেবে পুরুষদের বিশ্বকাপ ম্যাচ পরিচালনা করেন। ১৩ বছর বয়সে রেফারিং শুরু করা ফ্রাপার্ট, ধাপে ধাপে উঠে এসে এই সাফল্য অর্জন করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আশা করি, আমার এই পথচলা ভবিষ্যতে মহিলা রেফারি এবং ছোট মেয়েদের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।’ তাঁর পথ অনুসরণ করেই আজকের রেফারিরা এগিয়ে যাচ্ছেন।
সংখ্যার বিচারে ২০২৬ বিশ্বকাপে মহিলা রেফারিদের সংখ্যা কম। মোট রেফারির সংখ্যা ৫২। তার মধ্যে মহিলা রেফারি ২ জন। মহিলা সহকারী এবং অন্যান্য কাজে নিযুক্ত ৪ জন। মোট মহিলা ম্যাচ অফিসিয়াল ৬ জন। এখনও সংখ্যায় কম হলেও, প্রতীকী গুরুত্ব অনেক বেশি। বড় মঞ্চ, বড় দায়িত্ব। ২০২৬ বিশ্বকাপ, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল ম্যাচের আয়োজন। ৪৮টি দল এবং ১০৪টি ম্যাচ। এই বিশাল আয়োজন, পরিকাঠামোয় রেফারিদের ওপর চাপও অনেক বেশি। ‘ফিফা’ জানিয়েছে, নির্বাচিত রেফারিদের তিন বছরের বেশি সময় ধরে মূল্যায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি শারীরিক এবং মানসিক প্রস্তুতির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
মহিলা রেফারিদের পথ কখনও মসৃণ ছিল না। লিঙ্গভিত্তিক মন্তব্য, সিদ্ধান্ত নিয়ে অতিরিক্ত সমালোচনা, শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবুও তাঁরা নিজেদের দক্ষতা দিয়ে সব বাধা অতিক্রম করেছেন। টোরি পেনসোর কথায়— ‘মাঠে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, এবং সাহসিকতার সঙ্গে দাঁড়ানো— এই দক্ষতাগুলোই আমাকে আজ এখানে পৌঁছে দিয়েছে।’
‘ফিফা’র লক্ষ্য স্পষ্ট। এক, প্রতিভা অনুযায়ী নির্বাচন করা। দুই, লিঙ্গভিত্তিক পার্থক্য কমানো। ২০২৬ বিশ্বকাপ সেই ভবিষ্যতের দিকে এক বড় পদক্ষেপ।
এ-জায়গায় পৌঁছতে টোরি পেনসো, ক্যাথরিন নেসবিট, ব্রুক মায়োদের কতটা কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে, তার কিছুটা আভাস দেন ‘ফিফা’ রেফারি এবং ‘এএফসি’র ‘এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন’-এর রেফারি-ইন্সট্রাক্টর মারিয়া রেবেলো। অতীতে ভারতের মেয়েদের দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে ‘এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন’-এর সঙ্গে যুক্ত। মারিয়া বলেন, ‘পেনসো বিশ্বের সেরা রেফারিদের মধ্যে একজন। তবে এই জায়গায় পৌঁছতে, ওকে কতটা পরিশ্রম করতে হয়েছে জানি। শুনলে হয়তো অবাক লাগবে, তবে বিশ্বকাপে রেফারিং করার ডাক পেতে এতটাই পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় যে, একটা ছোট পিকনিকেও যোগ দেওয়ার মতো অবস্থা বা পরিস্থিতি থাকে না। প্রতিনিয়ত ফিটনেস মাপা বা পর্যবেক্ষণ করা হয়। তবে শুধু শারীরিক প্রস্তুতিই নয়, ফুটবলের পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান থাকা জরুরি। সারা বিশ্ব দেখবে। তাই ভুলের কোনও জায়গা নেই। তারপর সঠিক মানসিকতা থাকা দরকার। কঠোর ট্রেনিংয়ের মধ্যে দিয়ে ফিটনেস অর্জন করা যায়। ম্যাচের নিয়মকানুনও পড়াশোনা করে জানা যায়। কিন্তু মানসিকতা প্র্যাকটিস করে রপ্ত করা যায় না। এটা নিজের মধ্যে থাকতে হবে। সবকিছুই নিজের হাতে। বা বলা যায়, নিজের মনে। সর্বোচ্চ পর্যায় এটাই পার্থক্য গড়ে দেয়। এই বিশ্বকাপে মহিলা রেফারিরা দারুণ দক্ষতার সঙ্গে ম্যাচ পরিচালনা করছেন। স্ট্যান্ডার্ড বাড়িয়ে দিচ্ছেন; যা প্রমাণ করছে, বিশ্বমঞ্চেও মহিলারা নিখুঁতভাবে ম্যাচ পরিচালনা করতে পারে। ছেলেদের খেলায় মেয়েদের রেফারিং করা মোটেই সহজ নয়। তবে পেনসোরা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, এটাও সম্ভব। আমার বিশ্বাস, ভবিষ্যতেও ছেলেদের বিশ্বকাপে মহিলা রেফারিদের ম্যাচ পরিচালনা করতে দেখা যাবে। পেনসো-সহ বাকিরা সেটা নিশ্চিত করেছে।’

মারিয়া রেবেলোর সঙ্গে একমত কুন্তলা ঘোষদস্তিদার। ১৯৮১ মেয়েদের বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। কিন্তু তখনও ‘ফিফা’ মেয়েদের ফুটবলকে অনুমোদন বা স্বীকৃতি না দেওয়ায়, সমীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত নয়। পরবর্তীতে কোচিংয়ের পাশাপাশি রেফারিংও করেন। বিশ্বকাপে ছেলেদের সঙ্গে কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে মহিলা রেফারিদের সমানতালে ম্যাচ পরিচালনায় অভিভূত ভারতের প্রাক্তন ফুটবলার। দাবি, ‘আমরাই নারী, আমরাই পারি।’ কুন্তলা ঘোষদস্তিদার বলেন, ‘মহিলারা যে একনম্বরে থাকার যোগ্য, সেটা প্রমাণিত হল। আগে আমাদের প্রাধান্য দেওয়া হত না, এখন দেওয়া হচ্ছে। মেয়েরা কোথায় এগিয়ে যাচ্ছে ভাবা যায় না। বিশ্বকাপে যখন একজন মহিলাকে ২২টা প্লেয়ারকে কন্ট্রোল করতে দেখছি, আমার খুবই গর্ব হচ্ছে। এদের দেখে ভবিষ্যতে আরও মহিলা রেফারিরা আসবে।’


ছেলেদের বিশ্বকাপে মেয়েদের ম্যাচ পরিচালনা করা কতটা কঠিন? কী ধরনের চ্যালেঞ্জ আসে? বা কেমন প্রস্তুতি দরকার পড়ে? কুন্তলা ঘোষ দস্তিদার বলেন, ‘একেবারেই কঠিন না। যে-পড়াশোনা একজন ছেলে করে, একই একজন মেয়েও করে। আমরা যখন রেফারিং শিখতে আসি, ছেলে এবং মেয়েদের মধ্যে কোনও পার্থক্য করা হয় না। একই ট্রেনিং চলে। ফিজিক্যাল টেস্টও একই। আলাদা করে হয় না। রেজাল্ট নির্ভর করে একজনের মানের ওপর। ছেলে-মেয়ের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। আসল পরিচয় রেফারি।’
এই পর্যায়ে পৌঁছতে একটি বড় জায়গা দখল করেছে মহিলা রেফারিদের পেশাদারিত্ব। এর কৃতিত্ব প্রাপ্য ‘ফিফা’র। হাই ইনটেনসিটি ট্রেনিং, একাধিক ওয়ার্কশপ এবং বেশ কয়েক বছরের মেন্টরশিপে এই জায়গায় পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে। সর্বোপরি মহিলা রেফারিদের ওপর বিশ্বাস রাখা। প্রথমে মেয়েদের ফুটবলে মহিলা রেফারিদের দেখা মিলত। পরে বেয়ারা ফুটবলরদের শাসন করতে, এবং মাঠের মধ্যে অশ্রাব্য গালিগালাজ বন্ধ করতে মেয়েরা বাঁশি মুখে মাঠে নামেন। কর্তৃপক্ষের আশা ছিল, রমনীয় টাচে ফুটবল মাঠের শালীনতা ফেরানোর। শালীনতা ফিরেছে তা হল্ফ করে বলতে না পারলেও, আন্তর্জাতিক, বিশেষ করে বিশ্বকাপে মহিলা রেফারিদের অন্তর্ভুক্তি যে নতুন দিগন্তের দ্বার খুলে দেবে তা বলাই বাহুল্য।
২০২৬ বিশ্বকাপে মহিলা রেফারিদের অংশগ্রহণ শুধু পরিসংখ্যান নয়, একটি সামাজিক পরিবর্তনের প্রতিফলন। টোরি পেনসো, কাতিয়া গার্সিয়া, ব্রুক মায়োর মতো ব্যক্তিত্বরা প্রমাণ করেছেন, সাহস, দক্ষতা এবং অধ্যবসায় যে-কোনও বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। ফুটবল মাঠ এখন শুধু খেলোয়াড়দের নয়— এখানে বিচারকের আসনেও বৈচিত্র্য বাড়ছে। হয়তো ভবিষ্যতে এমন সময় আসবে, যখন মহিলা রেফারিদের উপস্থিতি আর ‘খবর’ হবে না, হবে স্বাভাবিক বাস্তবতা।




