বিষ-রূপ দর্শন: অন্তিম পর্ব

Representative Image

ওষুধই যখন বিষ

সে-দিন সকালে আমাদের পাড়ার শপিংমলে, টুকটাক কেনাকাটা করতে গিয়ে টনিক ওয়াটারের খোঁজ পেলাম। স্ন্যাক্সের পাশেই বেভারেজ-সেকশন। সেখানেই দেখি, পরিচিত সব কোল্ডড্রিংঙ্ক্স, নন অ্যালকোহলিক বিয়ারের পাশে, টনিক-ওয়াটারের কয়েকটা ক্যানও শোভা পাচ্ছে। টনিক ওয়াটার কী জিনিস জানেন তো? কুইনাইন, সোডা-ওয়াটার আর সুগারের অনুপান। এর জন্ম কিন্তু ঔপনিবেশিক ভারতে। সে-সময়ে যে-সব সাহেবেরা এদেশে আসত কর্মসূত্রে, তাদের অনেকেই মারা যেত ম্যালেরিয়ায়। তখন যদিও ম্যালেরিয়ায় পরজীবী আবিষ্কার হয়নি, কিন্তু কুইনাইন যে ম্যালেরিয়ার অব্যর্থ ওষুধ, সেটা সকলেই জানতেন। তাই এ-দেশে কর্মরত ব্রিটিশ কর্মচারী ও তাঁর পরিবারকে কুইনাইনের পাচন গেলানো নিয়ম করে একপ্রকার বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হল। ম্যালেরিয়া হোক-না-হোক, কুইনাইনের বিষ-তেতো পাচন গিলতেই হবে। প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর।

বাচ্চাদের যেমন ওষুধ গেলনোর জন্য, তা লেবঞ্চুসের ভিতর পুরে দেওয়া হয়, এ-দেশের ব্রিটিশরাও কুইনাইনের পাচন গেলার জন্য, এক সুস্বাদু উপায় বার করে ফেলল। কুইনাইনের সঙ্গে মিশিয়ে দিল সোডা ওয়াটার, চিনির সিরাপ আর লেবুর রস। এই হল টনিক ওয়াটার। ঠেকায় পড়ে আবিস্কার হওয়া স্বাস্থ্যসম্মত পানীয়।

কুইনাইনের পাচন, আর বিরক্তির কারণ রইল না, টনিক ওয়াটারের কল্যাণে তা হয়ে উঠল আমেজি পানীয়।
বোশেখের ঠা-ঠা গরমে, ঘেমে-নেয়ে অস্থির হয়ে বাংলোয় ফিরেছে লালমুখো সাহেব। চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে খানসমাকে হুকুম পাড়লেন— ‘করিমবক্স, টনিক ওয়াটার লাও।’ কিংবা, অলস-মেজাজি মেম-সাহেবের, সন্ধে হলেই হয়তো গা-ম্যাজম্যাজ, মাথা ঢিবঢিব করে। তাই, পিয়ানোয় টুংটাং তুলতে-তুলতেই, গ্লাস থেকে কয়েক সিপ টনিক ওয়াটার নেন।

বিষের গুণে খুনের প্রমাণ লোপাট?
পড়ুন: বিষ-রূপ দর্শন পর্ব ৭

এ-দেশের ব্রিটিশদের হাতে পড়ে, টনিক ওয়াটার আর নিছক ম্যালেরিয়ার অনুপান রইল না। সারা বিশ্ব জুড়েই আড্ডার মেজাজে স্বাস্থ্যোদ্ধারের চমৎকার পন্থা হয়ে উঠল। চিৎপাত হয়ে ইনজেকশনের খোঁচা খাওয়ার চেয়ে, এ বড় উত্তম। ক্রমে টনিক ওয়াটারে কমতে থাকল কুইনাইনের পরিমাণ। তারপর বাণিজ্যিকরণ হয়ে, বোতলবন্দি টনিক ওয়াটার সহজলভ্য হয়ে উঠল সারা দুনিয়ায়। মূলত, ইউরোপ ও আমেরিকার দেশ গুলোতে, এমনকী ব্রিটিশদের উপনিবেশ গুলোতেও।

সাহেবরা আবার এক ধাপ এগিয়ে, জিনের সঙ্গে মিশিয়ে বানাল— বিখ্যাত ককটেল, জিন-টনিক। তবে, টনিক ওয়াটারের এমন ঝাঁঝালো টক-মিষ্টি-তেতোর বিচিত্র স্বাদের বাহারই— অনেক সুচতুর অপরাধীর অভীষ্ট পূরণকে অনেক সহজ করে দিয়েছিল। অমন বিচিত্র স্বাদের ককটেলে, বহু ডাকসাইটে বিষের স্বাদকে লুকিয়ে ফেলা যায়। ফলে, টনিক ওয়াটারের মধ্যে সে-সব বিষ মিশিয়ে দিলে, ভিক্টিম টেরও পাবে না। বিশেষ করে সে-সব যদি উদ্ভিজ বিষ হয়।

মাত্র বছর তিরিশেক আগে, এমনই এক টনিক ওয়াটার হয়ে উঠেছিল খদ্দেরদের ত্রাস। সেটা কি নিছকই এক ‘সাইকোপ্যাথ’-এর খামখেয়াল? না কি, এক ঠান্ডা মাথার অপরাধীকৃত হত্যা-ষড়যন্ত্র মাত্র? এই উত্তর পেতে গেলে আগে কাহিনিটা শুনতে হবে।

ঘটনাটা এডিনবরার। খুব বেশিদিনের ঘটনা নয়। ১৯৯৪ সালের। সে-বছর আগস্টের শেষদিকে, এডিনবরা কাউন্টি পুলিশের নাওয়া-খাওয়া মাথায় উঠল। আগস্ট মাস, গ্রীষ্ম প্রায় শেষ হতে চলল। কোথায় পুলিশ অফিসাররা সন্ধের পর একটু হাল্কা মেজাজে চিল্ড বিয়ারের মগ হাতে মৌজ করবে, তা নয়, টনিক ওয়াটারের অভিযোগ সামলাতেই তাঁরা নাজেহাল। অফিস ঘরে নিরন্তর টেলিফোনের বিপদঘণ্টি। রিসিভার তোলার আগেই, অফিসাররা ভাবেন— ওই বোধহয় আবার কেউ অসুস্থ হল!

বিগত কয়েকদিন ধরে, এডিনবরা ও তার আশেপাশের এলাকা থেকে টনিক ওয়াটার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর আসছে। পুলিশ প্রথমে ভেবেছিল— প্র্যাঙ্ক কল, কেউ হয়তো মজা করে এমন ফোন করছে। কারণ টনিক ওয়াটার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা, কস্মিনকালেও কেউ শোনেনি। কিন্তু, পুলিশস্টেশনে একই দিনের মধ্যে, এমন দু’চারটে ফোন আসায়, অফিসাররা ব্যাপারটাকে আর হাল্কা ভাবে নিতে পারলেন না। তদন্ত নেমে তাঁরা দেখলেন, ব্যাপারটা নির্ভেজাল সত্যি! গত, দু’দিনে প্রায় পাঁচজন ব্যক্তি, টনিক-ওয়াটার খেয়ে অসুস্থ হয়েছেন। সংখ্যাটা সম্ভবত আরও বেশিই হবে। সবাই তো আর পুলিশে অভিযোগ জানায়নি! টনিক ওয়াটার খেয়ে কেউ চোখে সর্ষেফুল দেখে জ্ঞান হারিয়েছিলেন, কারও হৃদযন্ত্রে জগঝম্প। তদন্ত শুরু করে, পুলিশ তাজ্জব বনে গেল। যে-কজন ব্যক্তি টনিক ওয়াটার খেয়ে অসুস্থ হয়েছেন, প্রত্যেকে একই ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে টনিক ওয়াটার কিনেছিলেন! গরমের সময়ে ওই ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে অনেকেই টনিক ওয়াটার কেনেন, জিন-টনিক খাওয়ার লোভে, আর সেই স্টোরেই যত নষ্টের গোড়া!

কীভাবে স্টোরের টনিক ওয়াটার এতজন খদ্দেরকে অসুস্থ করে তুলল, তা নিয়ে সুলুকসন্ধান করার আগে, পুলিশ ঢ্যাঁড়া পিটিয়ে, ওই স্টোরের সমস্ত ব্যাচের টনিক ওয়াটার বিক্রির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল। তবে, এতেও পুরো বিপদমুক্ত হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। ইতোমধ্যেই যে-সব খদ্দের টনিক ওয়াটার কিনেছেন, তাঁদের নাগাল পাওয়া দুরূহ। তাই, আরও কয়েকটি দুঃসংবাদের জন্য অপেক্ষা। তবে সে-অপেক্ষা অন্তহীন নয়, অপেক্ষার অবসান হল, দিন দু’য়েকের মধ্যেই; এক সন্ধেয়— মধ্যবয়সি কলেজ-শিক্ষিকা আলেকজেন্দ্রা আগাটার, সন্ধেবেলায় স্নান সেরে, একপেগ জিনটনিক নিয়ে— আয়েশ করে ইজি-চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু কয়েক সিপ জিন-টনিক নিতেই, চোখে হিজিবিজবিজ দেখে, জ্ঞান হারিয়েছেন। চোখ-মুখ লাল হয়ে গেছিল তার। মিসেস আগাটারের হাজবেন্ড, ডাক্তার ডেকেছিলেন। টি-টেবিলে আধখাওয়া জিন-টনিকের গ্লাস আর টনিক ওয়াটারের খোলা বোতল চোখে পড়তে, তিনিই পুলিশকে ঘটনাটি জানিয়েছেন। তবে, টনিক ওয়াটার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া অন্যান্য ব্যক্তির চেয়ে, মিসেস গাটারের অবস্থা বেশ সঙ্গীন। মিস্টার আগাটারও দিন দু’য়েক আগে, ওই একই স্টোর থেকে টনিক ওয়াটারের বোতল কিনেছিলেন। অতএব, টনিক ওয়াটার খাওয়ার ফলে গণঅসুস্থতার তালিকায়, আরও-একটি নতুন নাম যোগ হল। পুলিশ মিসেস আগাটারের বাড়িতে এসে, ওই আধখাওয়া জিন-টনিকের গ্লাস আর টনিক ওয়াটারের বোতলটা সংগ্ৰহ করল।

পুলিশ, অন্যান্য অসুস্থ ব্যক্তিদের কাছ থেকেও টনিক ওয়াটারের বোতলগুলো সংগ্রহ করেছিল। সেই সঙ্গে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের টনিক ওয়াটারের বোতলগুলোও বাজেয়াপ্ত করল। তারপর সব বোতলগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠাল। ফরেন্সিক পরীক্ষার রিপোর্ট আসতে, চক্ষু চড়কগাছ! প্রত্যেকটি টনিক ওয়াটারের বোতলেই পাওয়া গেছে অ্যাট্রোপিন! এমনকী, স্টোর থেকে বাজেয়াপ্ত অবিক্রীত কয়েকটি টনিক ওয়াটারের বোতলেও রয়েছে অ্যাট্রোপিন! সুতরাং, ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের কিছু টনিক ওয়াটারের বোতলে যে অ্যাট্রোপিন মেশানো হয়েছিল, সেটা নিশ্চিত।

ষোড়শ শতকে, সুইস চিকিৎসক ও অ্যালকেমিস্ট প্যারাসেলসাস বলেছিলেন— কোনও পদার্থের ‘বিষ’ রূপে আত্মপ্রকাশ সম্পূর্ণ নির্ভরশীল, পরিস্থিতি বিশেষে তার প্রয়োগমাত্রার উপর। অর্থাৎ, অতি দৈনন্দিন জীবনের অতি সাধারণ কোনও পদার্থও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে, নির্দিষ্ট কোনও প্রয়োগমাত্রায় হয়ে উঠতে পারে সম্ভাব্য বিষ। অ্যাট্রোপিনের ক্ষেত্রেও প্যারাসেলসাসের এই পর্যবেক্ষণ প্রযোজ্য।

অ্যালকেমিস্ট প্যারাসেলসাস

ওষুধ হিসেবে, অ্যাট্রোপিনের বহুল ব্যবহার রয়েছে। চোখের ডাক্তারবাবুরা অনেক সময়েই চোখ পরীক্ষার আগে, চোখের তারারন্ধ্র প্রসারিত করতে— অ্যাট্রোপিনের ড্রপ দেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে অ্যাট্রোপিনের প্ৰয়োগমাত্রা মানুষের সহনক্ষমতার মধ্যেই। চিকিৎসাবিজ্ঞান নির্ধারিত ডোজে, যে অ্যাট্রোপিন ওষুধ, অনাবশ্যক মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে থাকে, সে-ই সম্ভাব্য বিষ। শুনলে হয়তো আশ্চর্য লাগবে— সেরিন, ভিএক্স, নোভিচকের মতো যুদ্ধে ও গুপ্ত রাজনৈতিক হত্যায় ব্যবহৃত কুখ্যাত বিষাক্ত অরগ্যানোফসফেট জাতীয় ‘নার্ভ এজেন্ট’গুলোর অন্যতম প্রধান অ্যান্টিডোট এই অ্যাট্রোপিন। আবার প্রয়োগমাত্রা প্রয়োজনাতিরিক্ত হলেই, এই ‘অ্যান্টিডোট’-ই বিষ।

সুতরাং, শুধুমাত্র ভিন্ন প্রয়োগমাত্রার কারণেই কখনও সে প্রাণদায়ী, কখনও প্রাণঘাতী। একই অঙ্গে ভিন্ন রূপ! ‘বিষাক্ততা’ অ্যাট্রোপিনের কোনও স্বতন্ত্র রাসায়নিক ধর্ম নয়। অ্যাট্রোপিন উদ্ভিদ উপক্ষার। সোলানাসি গোষ্ঠীর অনেক উদ্ভিদেই অ্যাট্রোপিন থাকে, যার অন্যতম বেলাডোনা। বেলাডোনার বিজ্ঞানসম্মত নামটি বড়ো চমৎকার— অ্যাট্রোপা বেলাডোনা। ‘অ্যাট্রোপা’ থেকেই ‘অ্যাট্রোপিন’। ‘অ্যাট্রোপা’ নামের উৎস, গ্রিক পুরাণের অ্যাট্রোপোস। গ্রিক পুরাণে, অদৃষ্টের নির্ধারক তিন ঈশ্বরীর উল্লেখ আছে। এরা তিন বোন। ছোটোটি আলো-আঁধারি সুতোয় জীবনপ্রবাহ বোনেন, মেজোটি সুতোর দৈর্ঘ্য অর্থাৎ আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করেন, সঙ্গ-সঙ্গে বড় বোনটি সুতোটি ছিন্ন করে, সেই আয়ুষ্কালেই সিলমোহর দেন, অর্থাৎ নশ্বর জীবনের সমাপ্তি ঘটান। এই বড় বোনটির নামই অ্যাট্রোপোস। আর, ইতালীয় ভাষায় ‘বেলাডোনা’-র অর্থ— লাস্যময়ী নারী।

বেলাডোনা উদ্ভিদ

রেনেসাঁ যুগে, ইউরোপীয় নারীরা বেলাডোনা ফলের রস চোখে লাগাত। সেই রসে থাকা অ্যাট্রোপিন, আঁখি-তারার প্রসারণ ঘটিয়ে, নয়নের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যকে মহিমান্বিত করত। পাখির নীড়ের মতো চোখে মৃত্যুর ভ্রূকুটি। ভয়ংকর সুন্দর।

মস্তিষ্ক, সুষুম্নাকাণ্ড, ১২ জোড়া করোটিয় স্নায়ু আর ৩১ জোড়া সুষুম্না স্নায়ু নিয়ে গঠিত আমাদের দেহের জটিল স্নায়ুতন্ত্র। আমাদের প্রেম-অপ্রেম, হর্ষ-বিষাদ, দ্বেষ-বিদ্বেষ, প্রেয়সীর প্রথম চুম্বন, তার শরীর বিভঙ্গে ‘এল-ডো-রাডোর’ খোঁজ, নক্ষত্রহীন রাতের নিবিড় একাকীত্ব— জীবনের যা কিছু চিরন্তন আবেগ, অনুভব কিংবা রিপুদের কোলাহল এই সবকিছুরই একমাত্র নিয়ন্ত্রক। সেই সঙ্গে এরা গুরুত্বপূর্ণ অপরিহার্য দৈহিক কার্যকলাপেরও মাস্টারমাইন্ড। এই করোটিয় ও সুষুম্না স্নায়ুদের মধ্যে নিদিষ্ট কয়েকটি করোটিয় ও সুষুম্না স্নায়ুর অন্তর্বর্তী বিশেষ কিছু স্নায়ুতন্তু-হৃদস্পন্দন, লালা নিঃসরণ, ঘাম নিঃসরণ, চোখের তারার সংকোচন-প্রসারণ, পরিপাকক্রিয়ার মতো আমাদের দেহতন্ত্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্বয়ংক্রিয় কার্যকলাপগুলো নিয়ন্ত্রণ করে।

দৈহিক স্বয়ংক্রিয় কার্যকলাপের নিয়ন্ত্রক এই স্নায়ুতন্তুদের মধ্যেও দলবাজি আছে। একদল সিম্প্যা থিটিক, অপর দল প্যারাসিম্প্যানথিটিক। এই দুই দলের কার্যকলাপ, পরস্পরের বিপরীতধর্মী। প্যারাসিম্প্যাথিটিকের দল যদি হৃদস্পন্দনের হার হ্রাস করে, লালা নিঃসরণ বৃদ্ধি করে, চোখের তারার সংকোচন ঘটায়, সিম্প্যাথিটিকের দল যেন গা-জোয়ারি করে ঠিক তার উল্টো কাজ গুলোই করবে। এ যেন ঠিক দুই জাঁদরেল অভিজাতবংশের জিইয়ে রাখা লড়াই।

অতি দৈনন্দিন জীবনের অতি সাধারণ কোনও পদার্থও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে, নির্দিষ্ট কোনও প্রয়োগমাত্রায় হয়ে উঠতে পারে সম্ভাব্য বিষ

তবে, এহেন গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব যে খারাপ, এমনটা নয়। বরং, এই দুই স্নায়ুতন্তুদলের ক্রিয়াকলাপ পরস্পরের বিপরীতধর্মী হওয়ায়, আমাদের হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস, লালা নিঃসরণ, পরিপাকের মতো অগুনতি স্বয়ংক্রিয় শারীরবৃত্তীয় কার্যকালাপগুলো একটা ভারসাম্য, একটা সাধারণ স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে পারে। প্যারাসিম্প্যাথিটিক স্নায়ুতন্তুর প্রধান নিউরোট্রান্সমিটার হল, অ্যাসিটাইলকোলিন, যা গুরুত্বপুর্ণ নির্দেশ বিভিন্ন অঙ্গের মাস্কারিনিক রিসেপ্টরে বহন করে নিয়ে যায়। এভাবেই প্যারাসিম্প্যাথিটিকের দল, তাদের দায়িত্ব সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে পারে।

অ্যাট্রোপিন মহা ধড়িবাজ ‘অ্যান্টাগোনিস্ট’। সে, অ্যাসিটাইলকোলিনের পয়লা নম্বর প্রতিদন্দ্বী। অ্যাট্রোপিন দেহে প্রবেশের পর, দেহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির মাস্কারিনিক রিসেপ্টরে জৈবরাসায়নিক কারসাজি করে, সেখানে গিয়ে চেপে বসে। যার ফলে, নিউরো-ট্রান্সমিটার অ্যাসিটাইলকোলিন মাস্কারিনিক রিসেপ্টরে সংযুক্ত হতে পারে না, এবং প্যারাসিম্প্যাথিটিক স্নায়ুতন্তুদের স্বাভাবিক কার্যকলাপে ব্যাঘাত ঘটে। আর, মাত্রাতিরিক্ত বিপদ্জনক মাত্রার অ্যাট্রোপিন যখন দেহে প্রবেশ করে, তখন উপরোক্ত কর্মকাণ্ডই ব্যাপক আকারে বিবর্ধিত রূপে সংঘটিত হয় এবং প্যারাসিম্প্যাথিটিকের প্রভাবও উল্লেখযোগ্যভাবে স্তিমিত হয়ে যায়। যার ফলে, প্যারাসিম্প্যাথিটিক ও সিম্প্যাথিটিক এই দুই স্নায়ুতন্তুদের পরস্পর বিরোধী প্রভাবের মধ্যে, সাম্যবস্থাটিই মোটের উপর বিনষ্ট হয়। বিরোধী দল যথেষ্ট শক্তিশালী না হলে, শাসকের দৌরাত্ম্যই একচ্ছত্র হয়। গণতন্ত্র কী দেহতন্ত্র, সবেতেই এই নিয়ম।

এক্ষেত্রেও সিম্প্যাথিটিক স্নায়ুতন্তুদের প্রভাবকে সামাল দেওয়ার জন্য— কোনোও জোরালো বিপরীতমুখী প্রভাব প্রায় না থাকায়, সিম্প্যাথিটিকদের একক সক্রিয়তার প্রভাবই প্রকট হয়ে ওঠে। যার ফলে— হৃৎস্পন্দন হারের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপ, লালা নিঃসরণ কমে গিয়ে, মুখের ভেতর শুকিয়ে খটখটে হয়ে যাওয়া, প্রচণ্ড তৃষ্ণা, চোখের তারারন্ধ্র প্রসারিত হওয়ায়, ঝাপসা দৃষ্টি, মাথা ঘোরা, বমি-বমি ভাব, ত্বকের অস্বাভাবিক শুষ্কতা, ঝলসানো রক্তিম ত্বক ইত্যাদি নানা লক্ষণ প্রকাশ পায়। এছাড়াও, অ্যাসিটাইলকোলিন মাস্কারিনিক রিসেপ্টেরের সঙ্গে সংযুক্ত হতে না পারায়, ঘাম নিঃসরণও কমে যায়, অর্থাৎ দেহের তাপ নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়াটি বিঘ্নিত হয়। দেহের ‘কুলিং মেকানিজম’ বিগড়ে যাওয়ায়, উষ্ণ পরিবেশে দেহ তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। দেহের অভ্যন্তরীণ তাপও নিয়ন্ত্রিত হয় না। ফলস্বরূপ, দেহ-তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে বলে হাইপারথার্মিয়া।

অ্যাট্রোপিনের বিষক্রিয়ায়, এইসব শারীরিক অসুস্থতা থেকেই ক্রমে আসে অনিমিয়িত হৃদস্পন্দন, হার্ট-ফেইলিওরের সম্ভাবনা, হ্যালুসিনেশন, চিত্তবিভ্রম বা ডেলিরিয়াম, কোমা এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুও। আসল হিটস্ট্রোকের লক্ষণসমূহর সঙ্গে উপরোক্ত প্রায় অনেক লক্ষণেরই সাদৃশ্য আছে। তাই, বহুক্ষেত্রেই হিটস্ট্রোকের সঙ্গে অ্যাট্রোপিনের বিষক্রিয়ার ফারাক করা দায়। আর ভারতের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে, এই সুযোগেরই সদ্ব্যবহার করেছে অনেক বুদ্ধিমান অপরাধী। ১৯১১ নাগাদ, মিরাটের অগাস্টা ফুল্যাম ও তাঁর ডাক্তার প্রেমিক হেনরি ক্লার্ক, অগাস্টার স্বামী এডওয়ার্ডকে খুনের চেষ্টায় ব্যবহার করেছিল তাদের বানানো রহস্যময় ‘হিট-স্ট্রোক মিক্সচার’। যা খেলে ভিক্টিম হিটস্ট্রোক সদৃশ্য লক্ষণে মারা যাবে। আর মিরাটের ঠা-ঠা গরমে, হিটস্ট্রোক খুবই স্বাভাবিক, তাই কেউ সন্দেহও করবে না। সেই কেস ডিটেলস ঘাঁটলে দেখা যায়, এই ‘হিট-স্ট্রোক মিক্সচার’এর প্রধানতম উপাদান ছিল অ্যাট্রোপিন।

অ্যাট্রোপিনের মতো উপক্ষার জাতীয় বিষের মস্ত কিছু সুবিধা আছে— অজৈব বিষের তুলনায়, এই ধরনের জৈব বিষ অনেক বেশি কার্যকরী। প্রায় কোনোওরকম চিহ্ন না-রেখেই উদ্দেশ্য সাধনে সক্ষম। এই ধরনের বিষে মৃত্যু ঘটলে, শরীর অভ্যন্তরীণ উল্লেখযোগ্য কোনও পরিবর্তন পোস্টমর্টেমে ধরা পড়ে না। উপরন্তু, মৃত্যুর পর বিভিন্ন উৎসেচক ও অনুজীবীদের ক্রিয়াকলাপে এই ধরনের বিষের মৃতদেহে খুব দ্রুত বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাই মৃতব্যক্তির দেহাংশে বিষের টিকি মেলাও ভার। সুতরাং, এসব ক্ষেত্রে, অপরাধ প্রমাণ করাও শক্ত। অথচ, কার্যসিদ্ধির সম্ভাবনাও ষোলো আনা।
তবে, উপক্ষার জাতীয় বিষের নিদারুণ অসুবিধাও একটা আছে। এর স্বাদ ভয়ানক তেতো। কার্যসিদ্ধির আগেই ভিকটিমের টের পেয়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। তাই, ভিক্টিমকে অ্যাট্রোপিন খাওয়াতে গেলে, টক দিয়ে করতে হবে তেঁতোর বাজিমাত, নয়তো টনিক ওয়াটারের মতো তিতকুটে স্বাদের কোনও পানীয়ে, মেশাতে হবে অ্যাট্রোপিন। কিন্তু, ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের টনিক ওয়াটারের বোতলে অ্যাট্রোপিন মেশানোর এ দুষ্কর্মটি কার? টনিক ওয়াটার কোম্পানির কোনও কর্মচারীর? নাকি স্টোরের কোনও কর্মচারীর? এ কি কোনও গূঢ় ষড়যন্ত্রের চূড়া মাত্র? নাকি নিছকই কোনও খ্যাপাটে খুনের হত্যা-স্পৃহা?

কালপ্রিট যে-ই হোক, এডিনবরাবাসীর মনে ভয় ধরাতে সে সফল। তাঁরা জানের টানে এতদিনের পানীয়ের অভ্যাস বেমালুম বদলে ফেলল। অন্যান্য ডিপার্টমেন্টাল স্টোরেও টনিক ওয়াটারের বিক্রিবাট্টা তলানিতে ঠেকল। আর, এত বড় ক্রিমিনাল এখনও অধরা থাকায়, পুলিশের বাপ-বাপান্তও চলতে থাকল। এই শোরগোলের মধ্যেই, পুলিশ ডিটেকটিভ ম্যাকগ্রেগর বাজেয়াপ্ত টনিক ওয়াটারের বোতলগুলোর ফরেনসিক রিপোর্টের মধ্যে, ছোট্ট একটা ব্যতিক্রম লক্ষ করলেন। আলেকজেন্দ্রা আগাটারের টনিক ওয়াটারের বোতল ও জিন-টনিকের গ্লাসে যে-পরিমাণ অ্যাট্রোপিন পাওয়া গেছে, তা অন্যান্য বোতল গুলোর তুলনায় অনেকটাই বেশি। আরও স্পষ্ট করে বলতে গেলে— অন্যান্য অসুস্থ ব্যক্তিদের এবং স্টোরের অবিক্রিত টনিক ওয়াটারের বোতল গুলোতে যে-পরিমাণ অ্যাট্রোপিন পাওয়া গেছে, তাতে কোনও ব্যক্তি শুধুমাত্র অসুস্থ হতে পারে, মৃত্যুর বিশেষ সম্ভাবনা নেই। কিন্তু মিসেস আগাটারের টনিক ওয়াটারের বোতলে এবং জিন-টনিকের গ্লাসে অ্যাট্রোপিনের পরিমাণ, প্রায় মারণমাত্রার সমান। বাকি সব বোতলে, অ্যাট্রোপিনের পরিমাণ ১১ থেকে ৭৪ মিলিগ্রামের মধ্যে, কিন্তু মিসেস অগাটারের বোতলে সেই পরিমাণ প্রায় ৩০০ মিলিগ্রামের কাছাকাছি। মিস্টার আগাটার যদি একই স্টোর থেকে টনিক ওয়াটার কেনেন, তবে শুধুমাত্র সেই বোতলেই অ্যাট্রোপিনের পরিমাণের এতটা ফারাক হয় কী করে! এ যদি কোনও সাইকোপ্যাথ সিরিয়াল কিলারের কাজই হত, তাহলে সে সকলকেই বিষ খাইয়ে মারার চেষ্টা করত। এত হিসেব করে বিষের ডোজের পার্থক্য করত না।

পল আগাটার সম্পর্কিত প্রতিবেদন, বিবিসি নিউজ

পুলিশের সামনে ক্রমে গোটা চিত্রটা পরিস্কার হতে লাগল। মিসেস আগাটার সম্ভবত আর পাঁচজন ভিক্টিমের একজন নয়। তিনিই হয়তো এই খেলার আসল ‘টার্গেট’। সিরিয়াল কিলিঙের মতো এক আবহ সৃষ্টি করে, সেই আবহের ফায়দা নিয়ে সকলের অলক্ষ্যে, ‘টার্গেট’কে নিকেশ করাই হয়ত আসল উদ্দেশ্য, যাতে ‘টার্গেট’কেও বাকি ভিক্টিমদের একজন বলেই সকলের বোধ হয় এবং সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহে তাঁর আলাদা করে কোনও গুরুত্ব না থাকে।

এইভাবে আসল ‘টার্গেট’ আর পাঁচজন ভিক্টিমের ভিড়ে মিশে গেলেই, তার থেকে সবার নজর ঘুরিয়ে দেওয়া সম্ভব। তাহলে আসল অপরাধীও ফাঁকেতালে বেঁচে যাবে, এইসব ঘটনাকে কোনও সাইকোপ্যাথ খুনির কাজকারবার মনে করে, তাকে আর কেউ সন্দেহও করবে না। সুতরাং, মিসেস গাটারই এ-খেলার মধ্যমণি। তার দিক থেকে নজর ঘোরাতেই, তাকে নিকেশ করতেই বাকিদের অসুস্থ করে তোলা এবং তার জন্য একই স্টোরের একাধিক টনিক ওয়াটারের বোতল বিষিয়ে দেওয়া। তাহলে সম্ভাব্য খুনি কে? ডিটেক্‌টিভ গ্রেগর প্রত্যেক ভিক্টিম ও তাঁদের পরিবার সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ খবর করলেন। তাতেই তাঁর নজর কাড়ল আলেকজেন্দ্রা আগাটারের স্বামী মিঃ পল আগাটার। তার ব্যক্তিগত প্রোফাইল বেশ আগ্রহব্যঞ্জক। পল অগাটারের পড়াশুনা বায়োকেমিস্ট্রি নিয়ে। পরে, মলিকুলার বায়োলজি নিয়ে পিএইচডি করার পর, নেপিয়ার ইউনিভার্সিটিতে লেকচারার হিসেবে যোগদান, আলেকজেন্দ্রার সঙ্গে প্রেম ও বছর কয়েক আগে বিয়ে।

এখন পল নেপিয়ার ইউনিভার্সিটিতেই টক্সিকোলজি রিসার্চ গ্রূপের অন্যতম সদস্য। ইউনিভার্সিটির টক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতেও তার অবাধ যাতায়াত। তবে, পল আর আলেকজেন্দ্রার বৈবাহিক জীবন বাইরে থেকে দেখে সুখী দাম্পত্য মনে হলেও, তাতে ঘুণ ধরেছে বেশ কিছুদিন। পল, আর্থিক সমস্যায় ভুগছে, মানসিক সমস্যাতেও জর্জরিত। আর এসব থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে, পল কিছুদিন হল তাঁর হাঁটুর বয়সি এক ছাত্রীর প্রেমে মজেছেন। পল, তাঁর প্রেমিকার মধ্যেই তাঁর নিজের জীবনের শেষ আশার আলো দেখছেন। সুতরাং, এবার প্রয়োজন আলেকজেন্দ্রার থেকে মুক্তি লাভ, অর্থাৎ আলেকজেন্দ্রারই ছুটি করিয়ে দেওয়া। সবদিক ভেবে দেখলে, মিঃ অগাটারেরই মোটিভ ও সুযোগ দুইই আছে। ডিটেক্টিভ ম্যাকগ্রেগর তাঁর দলবল নিয়ে আগাটারের বাড়ি গেলেন। প্রথমে পল সব অভিযোগই সটান অস্বীকার করছিল। কিন্তু পুলিশে ছুঁলে আঠারো ঘা। তাই শেষমেষ স্বীকার করতে বাধ্য হল।

পল অগাটার

পল, অসম্ভব বুদ্ধিমান। ভাল দাবাড়ুও। তাই আলেকজেন্দ্রাকে খুনের ছক সে করেছিল কয়েক চাল এগিয়েই।
আলেকজেন্দ্রার হত্যাকে কোনও সাইকোপ্যাথ কিলারের খামখেয়ালিপনার রূপ দিতেই, সে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে গোপনে বেশ কিছু টনিক ওয়াটারের বোতল সরিয়ে ফেলে। তারপর সে-গুলোতে অল্প করে অ্যাট্রোপিন মিশিয়ে, আবার রেখে আসে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে। শুধুমাত্র একটা বোতল সে নিজের কাছে রেখে দেয়। আর তাতে মিশিয়ে রাখে মারণমাত্রার অ্যাট্রোপিন। পল, তাঁর প্রায় নিখুঁত পরিকল্পনায় ছোট্ট একটা ভুল করে ফেলেছিল। ওই তাঁর একমাত্র ভুল। সে-দিন সন্ধ্যায়, মরণাপন্ন আলেকজেন্দ্রার জন্য ডাক্তার ডাকার আগে টনিকের বোতল আর জিন-টনিকের গ্লাসটা সরিয়ে ফেলতে ভুলে গেছিল পল। ওগুলো সরিয়ে ফেললে কিংবা ওই টনিক ওয়াটারের বোতল বদলে দিয়ে, অল্প অ্যাট্রোপিন মেশানো টনিক ওয়াটারের কোনও একটা বোতল রেখে দিলেই— পলকে ধরা হয়তো অসম্ভব হত। বিচারে পলের বছর বারোর জেল হল। আলেকজেন্দ্রা সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছিলেন। সুস্থ হয়ে পলের সমস্ত কর্মকাণ্ড শুনে, কিছুতেই তিনি বিশ্বাস করছিলেন না। কিন্তু পুলিশ, সমস্ত তথ্যপ্রমাণ তার সামনে হাজির করতে, সে-সব অবিশ্বাসের আর কোনও উপায় রইল না। পলের জেল-বন্দিদশাতেই আলেকজেন্দ্রা, পলকে ডিভোর্স দিলেন। পলের হাঁটুর বয়সি প্রেমিকা, সেও পলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করল। আর পল জেলে লাইব্রেরিয়ান হয়েই কাটিয়ে দিল।

ক্রাইম নেভার পেইজ। বিষ, নিছকই তো রসায়নিক। তার তো স্বতন্ত্র কোনো বুদ্ধিবৃত্তি নেই। তার ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ মানুষের শুভ অথবা অশুভ চিন্তাধারার উপর নির্ভরশীল। তাই মানুষেতেই সুরাসুর। এই-ই তো বিষ-রূপ দর্শনের অন্তরের কথা।