গানের ওপারে: ফিরে দেখা

Representative Image

বাইরে অঝোর বৃষ্টি। দুটো ছেলেমেয়ে হাত ধরে ছুটে চলেছে অনাবিল আনন্দে। খানিক আগেই শেষ হয়েছে— ‘আমি তোমার প্রেমে হব সবার কলঙ্কভাগী’ গানের রেশ। ওরা গোরা আর পুপে। পুপে এই প্রথম খালি পায়ে রাস্তায় হাঁটল। গোরা তার কাছে এক নতুন দুনিয়া খুলে দিচ্ছে। বিশেষ করে পুপে যে তথাকথিত ‘রবীন্দ্রআবহ’-তে মানুষ হয়েছে, তার কাছেই রবীন্দ্রগানের এক নতুন অর্থ উন্মোচিত হচ্ছে। সে-বুঝতে পারছে, নিয়মের বেড়াজাল নয়, রবীন্দ্রনাথ এক মুক্তির আকাশ! ‘বাংলা সিরিয়াল’ও এক নতুন দুনিয়া দেখেছিল ২০১১ সালে— ঋতুপর্ণ ঘোষ, প্রজেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে।

‘কৃতি’ আর ‘ফেব্‌লওয়ার্কস’-এর সৌজন্যে এই ধারাবাহিকের আমেজ ফিরে আসবে আবার। তাঁদের ‘রংমশাল’ শীর্ষক তিনদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের আজ প্রথম দিন। ‘জি ডি বিড়লা সভাঘর’-এ ‘গানের ওপারে’-র বিভিন্ন গান ও মুহূর্ত ধরে রাখা হবে আজকের সন্ধ্যায়। পাঠে অগ্নিজিৎ সেন ও মঞ্জিমা, গানে স্যমন্তক ও শ্রাবণী সেন।

আরও পড়ুন: কৃতি ও ফেব্‌লওয়ার্কস আয়োজিত গান ও সুরের মিলনমেলা রংমশাল!

রবীন্দ্রজন্মের সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে এই বিশেষ ধারাবাহিকের পরিকল্পনা করেছিলেন ঋতুপর্ণ। রবীন্দ্রগান ঐতিহ্য অনুসারে গাওয়া হবে? না কি, আধুনিক যন্ত্রানুসঙ্গে? প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের দ্বন্দ্বর কথা উঠে এসেছিল এই ধারাবাহিকের হাত ধরে। একদিকে শুধু তানপুরা-এসরাজে রবীন্দ্রগান, আরেকদিকে গিটার-ড্রাম সহযোগে রবীন্দ্রগানের ম্যাশআপ! কোনটাকে গ্রহণ করবে মানুষ? এহেন স্বতন্ত্র এক বয়ানে এই ধারাবাহিকের কাহিনি বুনেছিলেন ঋতুপর্ণ।

ধারাবাহিকের কাহিনি অনুযায়ী একদিকে প্রথাগত রবীন্দ্রসংস্কৃতি, যার ধারক-বাহক ‘সোনার তরী’ নামক বাড়ির প্রত্যেক সদস্য, আরেকদিকে গোরা-র মতো উড়নচণ্ডী বাউন্ডুলে, যে-স্বরলিপির ধার ধারে না, ‘মাচা সংস্কৃতি’তেও রবীন্দ্রগান নিয়ে যেতে যার কুণ্ঠা নেই। কাঁধে গিটার ঝুলিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয় সে রবীন্দ্রনাথকে। ধারাবাহিকের প্রোমোতে যে-গানটি শোনা যায়, সেটার একটি লাইন, ‘তবু যদি গান দিয়ে মন তোমায় ছুঁতে পারে…’ এই অনুষ্ঠানের প্রতিটি গানই সে গোরারই হোক বা পুপের, মানুষের মন ছুঁয়ে গিয়েছিল। তাই বোধ হয় ‘বাংলা সিরিয়াল’ শুনলে যে-শ্রেণি নাক সিঁটকান, তাঁরাও ‘গানের ওপারে’-র সোনালি দিনগুলো ফিরে দেখেন বারবার। সেই ধারাবাহিকের মূল চরিত্রদের তো আর ফিরিয়ে আনা যাবে না, নতুন আঙ্গিকে এই ধারাবাহিকের প্রতি একটি সবিনয় নিবেদন উপস্থাপন করছে ‘কৃতি’ ও ‘ফেব্লওয়ার্কস’।

সামগ্রিক অনুষ্ঠানটির চিত্রনাট্য লিখেছেন রোহিত-সৌম্য। সেখানেই পাঠ-অভিনয় করবেন অগ্নি ও মঞ্জিমা। রোহিত বললেন, আজ থেকে ১৫ বছর আগে, যে-সময়ে ‘গানের ওপারে’ সম্প্রচরিত হচ্ছে, সে-সময়ে তাঁদের প্রেমের ধারণার উপর ‘গানের ওপারে’-র সরাসরি প্রভাব ছিল। এই অনুষ্ঠানে ‘গানের ওপারে’-র গল্প খানিক স্বতন্ত্র, মৌলিক। এভাবেই ‘ট্রিবিউট’ দিতে চেয়েছেন তাঁরা। ‘গানের ওপারে’-র রি-কন্সট্রাকশন নয়, একধরনের রি-ক্রিয়েশন করতে চেয়েছেন সামগ্রিক টিম।
এই অনুষ্ঠানের সূত্র ধরে এই শ্রাবণ সন্ধ্যায় রবীন্দ্রনাথ থেকে ঋতুপর্ণ— এক সাংস্কৃতিক অভিযাত্রা ফিরে দেখা হবে।
আজ সন্ধ্যা সাতটা থেকে জি ডি বিড়লা সভাঘরে অনুষ্ঠান। সাড়ে তিনটে থেকে পাওয়া যাবে টিকিট।