
উত্তর কলকাতার কবি
২০২৫-এর ‘সাহিত্য অকাদেমি’ পুরস্কারের জন্য বাংলা থেকে নির্বাচিত হলেন কবি প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘‘দে’জ পাবলিশিং’’ থেকে প্রকাশিত তাঁর ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ বইটির জন্য। তাঁর সঙ্গে কথোপকথনে অভীক মজুমদার। সাক্ষী রইল ডাকবাংলা.কম।

২০২৫-এর ‘সাহিত্য অকাদেমি’ পুরস্কারের জন্য বাংলা থেকে নির্বাচিত হলেন কবি প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘‘দে’জ পাবলিশিং’’ থেকে প্রকাশিত তাঁর ‘শ্রেষ্ঠ কবিতা’ বইটির জন্য। তাঁর সঙ্গে কথোপকথনে অভীক মজুমদার। সাক্ষী রইল ডাকবাংলা.কম।

সুবিমল বসাকের প্রয়াণের পর, তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তাড়া-তাড়া চিঠি। সামান্য কয়েকটি ইতিপূর্বে প্রকাশিত হলেও, অধিকাংশই অপ্রকাশিত। অপ্রকাশিত চিঠির সেই ভাণ্ডার থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটি চিঠি নির্বাচন করে এই ধারাবাহিকের পরিকল্পনা। এই পর্বে ত্রিদিব মিত্র ও অরণি বসু।

২০২৫ সালের সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারের জন্য বাংলা থেকে নির্বাচিত কবি প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। ফিরে দেখা শ্রীজাত-র কণ্ঠে তাঁর কবিতাপাঠ…

‘ছায়া লেগে কেটে যায় তোমাদের আলোচনাগুলি।/ পাড়ার বকেয়া সন্ধে মিটিয়ে দিয়েছে স্বাতীলেখা—/ যে-ধারণা আবছায়া, তুমি তাকে ডেকেছ গোধূলি।/ এই ছোট ভালবাসা তোমারই ভ্রান্তির কাছে শেখা।’

কবিতার ভাষ্য, প্রকাশ, মায়া, লীলা— বারবার ফিরে এসেছে তাঁর শব্দে। দূরপাল্লার এই পর্বে, আবারও ফিরে দেখা, শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা, যেখানে রয়েছে সর্বগ্রাসী চেতনা, যা এড়ানো যায় না, যা মুক্তি দেয় না, নিয়ে যায়— অনন্ত কাব্যমায়ার স্রোতে…

‘জীবনানন্দ দূরের কবি নন। অনুভব করি। কলকাতার ভাড়াবাড়িতে থাকি। দু’মুঠো ফুটিয়ে খাই। পথ হাঁটি। সময় পেলেই পথ হাঁটি। মানিব্যাগে ওষুধ রাখা থাকে। টলে গেলে দ্রুত খেয়ে নিতে হবে। ক্লান্ত হয়ে নিঃসঙ্গ ঘুমিয়ে পড়ি।’

সচলের কথায় ফলত অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকে। কেউ আবার ভেবেছেন, এ আসলে কবির খামখেয়াল, উন্মাদনা। এই পথে সকলেই গেলে অনাসৃষ্টি কাণ্ড হতে পারে— এর গভীর ও সূক্ষ্ম তাৎপর্য সকলের পক্ষে আয়ত্ত করা অসম্ভব। তাই সচল তাঁর জীবনকালে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মপ্রধানদের কাছে ছিলেন বিপজ্জনক ব্যক্তি।

‘তোমার অনেক আগে সূক্ষ্ম হয়ে গেছি বলে/ এখন ক্রমশ ফের স্থূল হতে ইচ্ছে যায়।/
এখন কখনও ছুঁতে পারি কিছু-কিছু বই,/
তোমার বিছানা, হাত বুলিয়ে দিচ্ছি মাথার বালিশে।/ কতদিন মাথা রাখোনি এখানে তবুও মাথার দাগ/ অতিকায়, স্পষ্ট।’

‘সেই প্রবাদে আজও ওড়ে ফুলকি ও হেমন্ত/ আর কিছুদিন আগেও কত রঙিন ছিল মন তোর—/ রোজ একখানা মোমবাতি তোর হাতের পাতায় জ্বালতিস।’ নতুন কবিতা।

জনতার কাছে তাঁর গান আরামের মতো, আপ্যায়নের মতো, শুশ্রূষার মতো এসে পৌঁছয়। ধর্মীয় নেতাদের দেখানো ইসলামে তাঁর আস্থা নেই বোঝাই যায়, তিনি রুমির শিষ্য, মনসুর হাল্লাজের উত্তরপুরুষ, হাল্লাজের মতোই তিনি দৃঢ়ভাবে জানাতে পারেন, আমি-ই সব, আমরা-ই সমস্ত জুড়ে আছি, আমরা সবাই, সব আমি-ই আসলে তিনি।

তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম ‘বালি ও তরমুজ’। ‘উত্তর কলকাতার কবিতা’ থেকে ‘গুপ্ত দাম্পত্য কথা’ হয়ে ‘টুরিস্ট কাহিনী’— প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা মুখে-মুখে ফেরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে! তাঁর কবিতা যেন ‘অতিকাল’-এর অমোঘ উচ্চারণ! যেখানে নির্দিষ্ট অঞ্চল হয়ে উঠেছে— অন্তর্লীন জগত…

“ঈষৎ তির্যকভাবে একটি কবিতার শেষ প্রান্তে সুলতান বাহু লেখেন, আমার কিছু পাপ যদি না-ই থাকে তাহলে হে প্রভু, তুমি ক্ষমা করবে কী? যেন মনে হবে, আল্লাহ বা ঈশ্বরের একটি বহু-চর্চিত গুণকে প্রতিষ্ঠা দেওয়ার জন্যই কিছু মানবিক পাপ প্রয়োজন।”
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.