
শুধু কবিতার জন্য: পর্ব ৫০
‘সেই প্রবাদে আজও ওড়ে ফুলকি ও হেমন্ত/ আর কিছুদিন আগেও কত রঙিন ছিল মন তোর—/ রোজ একখানা মোমবাতি তোর হাতের পাতায় জ্বালতিস।’ নতুন কবিতা।

‘সেই প্রবাদে আজও ওড়ে ফুলকি ও হেমন্ত/ আর কিছুদিন আগেও কত রঙিন ছিল মন তোর—/ রোজ একখানা মোমবাতি তোর হাতের পাতায় জ্বালতিস।’ নতুন কবিতা।

জনতার কাছে তাঁর গান আরামের মতো, আপ্যায়নের মতো, শুশ্রূষার মতো এসে পৌঁছয়। ধর্মীয় নেতাদের দেখানো ইসলামে তাঁর আস্থা নেই বোঝাই যায়, তিনি রুমির শিষ্য, মনসুর হাল্লাজের উত্তরপুরুষ, হাল্লাজের মতোই তিনি দৃঢ়ভাবে জানাতে পারেন, আমি-ই সব, আমরা-ই সমস্ত জুড়ে আছি, আমরা সবাই, সব আমি-ই আসলে তিনি।

তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম ‘বালি ও তরমুজ’। ‘উত্তর কলকাতার কবিতা’ থেকে ‘গুপ্ত দাম্পত্য কথা’ হয়ে ‘টুরিস্ট কাহিনী’— প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা মুখে-মুখে ফেরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে! তাঁর কবিতা যেন ‘অতিকাল’-এর অমোঘ উচ্চারণ! যেখানে নির্দিষ্ট অঞ্চল হয়ে উঠেছে— অন্তর্লীন জগত…

“ঈষৎ তির্যকভাবে একটি কবিতার শেষ প্রান্তে সুলতান বাহু লেখেন, আমার কিছু পাপ যদি না-ই থাকে তাহলে হে প্রভু, তুমি ক্ষমা করবে কী? যেন মনে হবে, আল্লাহ বা ঈশ্বরের একটি বহু-চর্চিত গুণকে প্রতিষ্ঠা দেওয়ার জন্যই কিছু মানবিক পাপ প্রয়োজন।”

‘দেখলাম, আমাদের বয়সি তরুণ কয়েজনের কাঁধে ঝুলছে বন্দুক। হাসাহাসি করছে তারা, ফুর্তিতে গড়িয়ে পড়ছে। আর বাসের ভেতরে সিটগুলির মাথায় হিন্দিতে লেখা রয়েছে, ‘ভরা বন্দুক লেকড় ন বৈঠ’। অর্থাৎ (গুলি) ভরা বন্দুক নিয়ে (বাসে) বসো না।’

‘জ্যোতিউজল বিড়ালী এক পাড়ামনিব,/ ডানা পোড়ায় সারাটা রাত চাঁদের পায়ে/ ক্ষতের প্রিয় বন্ধু জোটে সজল জিভ/ জ্যোৎস্নাকে সে তলব করে চুরির দায়ে।’

‘তোমারও ঘুমের রং কফির মতোই নীল কড়া ও কাফের/ যেমন নাটক ছিল পাড়ার মলিন স্টেজে ছোটকাকাদের/ তেমনই তোমার মন দুটো ছোট হাততালি জড়িয়ে ঘুমোয়/ বিরহ রাহুল দেব গুলজার হয়ে এসে পাশ ফিরে শোয়’

‘আমাদের সময়ের কবি, সে-সময়ে সুপরিচিত ছিলেন; তিনি ছিলেন ওই নাবিক সংগঠনে। তবে তিনি নাবিক ছিলেন না। ওই সময়ে খিদিরপুর বন্দরে থামা একটি গ্রিক জাহাজ ঘুরে-ঘুরে দেখেছিলাম। দীপক ছবি তুলেছিলেন।’

‘অরুণ মিত্র পার্টি-অনুশাসন মেনে কবিতা লেখার নিদানকে মানতে পারেননি। ১৯৪০ থেকে ১৯৪৮ পর্যন্ত বাংলাদেশের বামপন্থী কবিগোষ্ঠীর একজন ছিলেন তিনি। পরে ধীরে-ধীরে নিজেকে একান্ত জগতে গুটিয়ে নেন। যদিও বামপন্থীদের সঙ্গে মনোমালিন্যের কোনও ইতিহাস নেই।’

কত বিচিত্র পথে হেঁটেছেন ফরিদ। জন্মস্থান থেকে কাবুল গেছেন ধর্মতত্ত্ব পড়তে— তাঁর গুরু ফকির কুতবুদ্দিন বখতিয়ার কাকি প্রথমে তাঁকে শিষ্য হিসেবে মেনে নেননি, বলেছিলেন আরও লেখাপড়া শিখে এসো বাপু, তবে ছাত্র করে নেব তোমায়। ফরিদ তাই গিয়েছিলেন কাবুল। কিছুকাল পড়াশোনা করে ফিরে আসেন। শিষ্যত্ব মেলে। ফরিদ দিল্লি এসেছেন অনেকবার।

উৎপলকুমার বসুর সংকেতময়, রহস্যগভীর কাব্যের কাছে বারবার ফিরে যেতে হয়..

প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত ‘জলপাই কাঠের এসরাজ’ বইটির কবিতাগুলি নিয়ে বেশ বুঝিয়েছিলেন, আমাকে আপন পথটি বেছে নিতে হবে। নানা ধরনের ব্যাপারে আমাকে সতর্কই করেছিলেন তিনি। তাঁর এসব কথা আমার দারুণ লেগেছিল। সে-সময়ে বিস্তর ভেবেছি।
সংবাদ মূলত কাব্য। পর্ব ২০
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.