
ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক
“ফ্রিদার অন্য অনেক ছবির মতোই, ‘দ্য টু ফ্রিদাজ’-ও তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বিশ্বাসের খতিয়ান, এবং, রেতাবলো-র মতোই, এই ছবি তাঁর ব্যক্তিগত ইতিহাস ও বিচ্ছেদের বেদনার সঙ্গে লড়াইয়ের খতিয়ান।”

“ফ্রিদার অন্য অনেক ছবির মতোই, ‘দ্য টু ফ্রিদাজ’-ও তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বিশ্বাসের খতিয়ান, এবং, রেতাবলো-র মতোই, এই ছবি তাঁর ব্যক্তিগত ইতিহাস ও বিচ্ছেদের বেদনার সঙ্গে লড়াইয়ের খতিয়ান।”

‘‘আদৌ যে বড় হয়ে কিছু একটা হতে হয় সকলকে, সেটাই জানা নেই তখন। অনেকেই আঁকার খাতা দেখে বলছেন, ‘এ নির্ঘাত আঁকিয়ে হবে, মিলিয়ে নিও!’ কিন্তু সেসবও আমার মাথায় নেই। আঁকছি তো অনাবিল আনন্দ পাচ্ছি বলে, কিছু হওয়ার জন্য তো নয়।’’

‘১৯৩৬-এর শুরু থেকেই হাসান শাহিদ সুরাবর্দিকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় বুধমণ্ডলীতে। মনে রাখতে হবে, যামিনী রায় তখনও সে-আড্ডার সক্রিয় সদস্য নন, যদিও তাঁর অনুপস্থিতিতেই উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার আড্ডায় তাঁকে নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চলেছে দিনের পর দিন— প্রধানত সুধীন্দ্রনাথ ও সুরাবর্দির আগ্রহেই।’

‘‘গ্রন্থের শিরোনাম ‘পটে লিখা’, তার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যঞ্জনাময় সাব-টাইটেল— ‘রূপ, অরূপ আর স্মৃতির কথন’, লেখক মনসিজ মজুমদার। গ্রন্থনাম আর গ্রন্থকার একত্রে এই বইয়ের অন্দরমহল জুড়ে মুহূর্তে বিপুল আগ্রহ তৈরি করে দিল। সে বইখানা নিয়েই আজ দু’-চার কথা, না একে গম্ভীর শব্দবন্ধে গ্রন্থসমালোচনা কখনওই বলা চলে না। এ যেন চায়ের পেয়ালা হাতে শিল্পিত অবসর যাপন।’’

‘জ্যোতিরিন্দ্রনাথের ড্রয়িংগুলির সহজ স্বাভাবিকতার সঙ্গে মেলাতে গেলে যেতে হবে ড্যুরার এবং হলবাইনের কাছে। ড্যুরার মানে আলব্রেখট ড্যুরার, রেনেসাঁ যুগের জার্মান শিল্পী। আর হলবাইন, হান্স হলবাইনও জার্মান, ড্যুরারেরই সমসাময়িক। ড্রয়িং-এ দুজনেরই ছিল আশ্চর্য দক্ষতা।’

‘ক্ষুধার আর একটি রেখাচিত্র তিনি এঁকেছিলেন ৬.৪.১৯৪৬ তারিখে। মাঝখানে শীর্ণ নদী। ওপাশে বনে পিকনিক করছে ধনী ও সম্ভ্রান্ত ছেলেমেয়েরা। এপারে কয়েকটি ক্ষুধার্ত শিশু করুণ শরীরে তাকিয়ে আছে সেদিকে। এই হলেন নন্দলাল, যিনি আদর্শ ও বাস্তবকে মিলিয়েছিলেন তাঁর শিল্পযাত্রায়।’

নারী-পুরুষের নগ্নতা অশ্লীলতা পেরিয়ে যেভাবে কোনও নান্দনিক মুহূর্তকে ছুঁয়ে ফেলে, তা সৃষ্টি করা রবীন্দ্রনাথ ছাড়া কারও পক্ষে বোধহয় অসম্ভব। নগ্নতার মধ্যে কোনও যৌন উত্তেজনা নেই, আছে শুধু জ্যামিতিক বিমূর্ততার মধ্যে দিয়ে এক তীব্র প্যাশনের বার্তা।

‘কলকাতার আরেকটা ব্যাপার হল, ওখানে সবার সাথে খুব ভালোভাবে মেশা যায়। তাই আমি ওখানে যাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই ক্যালকাটান হয়ে গেছিলাম। কফি হাউসের, দেশপ্রিয় পার্কের, সুতৃপ্তির কথা এখনও মনে পড়ে। দশটা বছর ছিলাম, প্রায় প্রতিদিনই এসব জায়গায় যেতাম। ওখানকার মূল স্রোতে মিশে গেছিলাম।’ সাক্ষাৎকার। মনু পারেখ

‘তিনি লিখছেন, অন্যায়ের মোকাবিলা করে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা দেখাতে গিয়ে, মন্দের ওপরে ভালর জয় দেখাতে গিয়ে অনেক সময়েই ছোটদের গল্পে খল চরিত্রগুলোর শেষ পরিণতি বেশ ভয়াবহ করেই দেখানো হয়। তাদের কৃতকর্মের ফল ভোগ করাতে গিয়ে নরম মনের ওপরে যে কড়া ক্ষত তৈরি হতে পারে, সে-কথাটাও ভেবে দেখে প্রয়োজন।’

‘ছবিটি উল্লম্বভাবে তিনটি স্তরকে স্পর্শ করে আছে। প্রথমটি মাটি বা জমি। তারই সম্প্রসারণে জনতা এবং দেবীমূর্তি। অন্ধকার থেকে আলোর বৃত্ত এবং অবয়বের স্পষ্টতা। তারপর, আধো আলো-আঁধারিতে দ্বিতল-ত্রিতল বাড়ি এবং বারান্দায় দাঁড়ানো নারীমূর্তি। তারপর, তৃতীয় স্তরে চাঁদ-সহ আকাশ।’

‘একদিন তিনি মেডিক্যাল কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে, ট্রাকবোঝাই মৃতদেহ নামানো হচ্ছে, চোখে পড়ে যায় অপূর্ব সুন্দরী মধ্যবয়সি এক মহিলার নগ্ন মৃতদেহ ভূমিতে শোয়ানো। বুকের ওপর অস্ত্রের আঘাতে রক্তের দাগ তখনও জ্বলজ্বল করছে। গণেশ পাইন পরে বলেছিলেন, এ-নৃশংস বাস্তবতা ছবিতে আঁকা যায় না।’

‘আপাদমস্তক বন্দিত তিনি নন, কোনওক্ষেত্রে সুযোগসন্ধানী ও ঘৃণিত। তবু মরজাগতিক এই পরিবেশে, যেখানে যুদ্ধ বিনোদন, পুতুলনাচ অবলুপ্ত, হাতঘড়ি মেলানো একমাত্র শৃঙ্খলা, সেখানেও গগ্যাঁর শিল্প আমাদের মুক্তি দেয়।’
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.