
বিন্দাসিনী: পর্ব ৭
এই দেশে বোর্ড-পরীক্ষার ফলই পরবর্তীর জীবন আর চাকরি নির্ধারক অথচ এ বছরের পরীক্ষার্থীরা এক নিরালম্ব অবস্থায়। তাদের ১২ বছরের তপস্যায় নির্দিষ্ট ইতি পড়ল না। পরীক্ষা বাতিল মানে ভবিষ্যৎ বাতিল?

এই দেশে বোর্ড-পরীক্ষার ফলই পরবর্তীর জীবন আর চাকরি নির্ধারক অথচ এ বছরের পরীক্ষার্থীরা এক নিরালম্ব অবস্থায়। তাদের ১২ বছরের তপস্যায় নির্দিষ্ট ইতি পড়ল না। পরীক্ষা বাতিল মানে ভবিষ্যৎ বাতিল?

‘ভোরবেলা সাত তলায় যে-মেয়েটা এক্সারসাইজ করে, তার শুধুমাত্র হাতদুটো চোখে পড়ে। আমার একেবারে উল্টোদিকের জানলায় যারা থাকে, তাদেরই একমাত্র চিনি। ও-বাড়ির একজন মহিলা মাঝে মাঝেই জানলায় এসে এদিক-ওদিক কী সব খোঁজেন। অন্য ফ্ল্যাটগুলোয় যারা থাকে, চিনি না।’ প্রতিবেশীর গল্প।

‘ছুটির দিনগুলোতেই খেলা হত বেশি, মনে আছে। স্কুল থাকলে পড়ি কি মরি করে ফিরে বাড়িতে ব্যাগটা নামিয়েই মাঠে, আর না-থাকলে সাড়ে তিনটে বেজেছে কি বাজেনি, পাড়ায় ক্রিকেট বাহিনীর টহল শুরু। একে-তাকে বাড়ি থেকে ডেকে ডেকে বার করা, তারপর মাঠে হাজির।’ ছোটবেলার ক্রিকেট।

‘…ভারতীয় খাওয়াদাওয়াকে যদি মহাকাব্যের সঙ্গে তুলনা করা যায়, তবে বিরিয়ানিই তার অবিসংবাদিত নায়ক, আদতে মুসলিম রান্না হলেও সে-ই আমাদের ‘ন্যাশনাল ডিশ’, সে আজ মুঘলসরাই ধাপ্পা দিয়ে নিজেকে ‘দীনদয়াল উপাধ্যায়’ বলে চালানোর যতই চেষ্টা করুক না কেন।’ বাঙালির পাতে মুঘল খানার ঋণ।

এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী আর কিছু লড়াই যদি হেরেও যাই, তবুও সবারএই বিশ্বাস দরকার যে, এই অতিমারীর বিরুদ্ধে আমরা ভিতরের যুদ্ধ যেন চালিয়ে যেতে পারি। ফের কোভিডের হানা, আতঙ্কের দীর্ঘস্থায়ী সময়

‘মাঝেমধ্যে রশীদও এক-দু’লাইন বলতে চেষ্টা করেন, কিন্তু শক্তিদা বলে ওঠেন, ‘অ্যাই অর্বাচীন, চুপ! আমার কবিতা আমার থেকে ভাল তুই আবৃত্তি করবি? হবে না! পারবি না!’ আমি তখন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনছি, দেখছি, সবটা নিজের মধ্যে জমিয়ে রাখছি।’ শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের গল্প।

‘গোড়ালিতে ঘুংরুর নিচে ওই একই প্যাটার্নের চওড়া নুপূর, এবং হাতে ও পায়ে জটিল নকশায় আলতার চিহ্ন। তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপে, কোমরবন্ধ-নুপূর-ঘুংরু-বালা-চুড়ি সব একে অপরের সঙ্গে লেগে ঝনাৎ-ঝনাৎ আওয়াজ তুলতে লাগল, যেন ব্যান্ডপার্টি!’ উদ্ভট নাচ।

করোনায় মৃত্যু হয়ে জলে ভাসছে এক-একটা লাশ। আর সেসব দেখছে ছানা-মাছ, বাবা-মাছ, মা-মাছ এবং তাদের আত্মীয়স্বজনরা। ছানার আনন্দ, কিন্তু বড়দের ভয়, যদি ওতে বিষ থাকে? সেই সূত্র ধরেই মাছেদের কথালাপ শুরু হয়। উঠে আসে মানুষের দেশ-কাল-সংস্কৃতির নানা ঘটনা।

‘গত বছর দর্শকশূন্য মাঠ, এ বছর বায়োবাবলে আটকে থেকে নিজেদের প্রস্তুত করা। খেলা শেষে একা মাইক ধরে ইন্টারভিউ দেওয়া, ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলন। সায়েন্স ফিকশনের চেয়ে কম কী! কে বলতে পারে, এর পর কী নতুন ধরন আসতে চলেছে।’ ক্রিকেটে বদল।

‘২০২১ সালে দাঁড়িয়ে আবার নিজেদের একটা অচেনা লড়াইয়ে যোগদান করতে হয়েছে। সেই যুদ্ধ আমরাই ডেকে এনেছি হয়তো। তবে যুদ্ধের ময়দানে যাঁদের সামনে থেকে আশ্বাস জাগানোর কথা ছিল, তাঁরা নিভৃতে, নিরাপদে। শুধু নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য আজ এই চিৎকার করে গলা ফেটে যাচ্ছে।’ অচেনা লড়াই।

‘এই গ্রামে যে-পাহাড়, সে কোন উপকথার নাতি/ যে-মেঘ আসে প্রান্তরে, কোন সমীকরণ শোনায়/
সান্ধ্য জমায়েতের মাথায় ঠান্ডা সড়কবাতি/ বাকিটা যাক কোলাহলে এবং আবর্জনায়।/ সরে দাঁড়াও। ঘর ভাঙো। তার জানলা খুলে ওড়াও/বাতাস কেবল ছুড়ো না ওই ক্ষুধার্তদের দিকে…’ নতুন কবিতা।

‘শেষে যখন হাল ছেড়ে দেওয়ার অবস্থা, অরুণবাবু বললেন— ‘একটা লাস্ট ট্রাই নেওয়া যাক, আমাকে একটা টেবিল জোগাড় করে দে।’ টেবিল এল, তাতে চড়ে অরুণবাবুর সে কী নাচ আর গান! সঙ্গে নানা রকম অঙ্গভঙ্গি। লোকাল আর্টিস্টরা হেসে খুন, হাততালির হররা, ওকে টেক।’ অ্যাসিস্ট্যান্টের কথা।
This Website comprises copyrighted materials. You may not copy, distribute, reuse, publish or use the content, images, audio and video or any part of them in any way whatsoever.
©2026 Copyright: Vision3 Global Pvt. Ltd.